মাহমুদ শাহ

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান -

2k

মাহমুদ শাহ এর দুর্বলতার সুযোগে ১৩৯৮ সালে তৈমুর ভারত আক্রমণ করে দিল্লি অধিকার করেন। তৈমুর ছিলেন মধ্য এশিয়ার সমরকন্দের অধিপতি। শৈশবে তাঁর একটি পা খোড়া হয়ে যায় বলে তিনি তৈমুর লঙ নামেও অভিহিত। তার পিতার নাম আমির তুরঘাই।

তুঘলক বংশের শেষ সুলতান ছিলেন মাহমুদ শাহ। ১৩৯৮ সালে তৈমুর ভারত আক্রমণ করেন মাহমুদ শাহ এর আমলে। বিখ্যাত তুর্কি বীর তৈমুর ছিলেন মধ্য এশিয়ার সমরকদের অধিপতি। শৈশবে তাঁর একটি পা খোড়া হয়ে যায় বলে তিনি তৈমুর লঙ নামে পরিচিত।

নিচে তাঁদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলো:

১. সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪৩৫–১৪৫৯)

তিনি বাংলার পরবর্তী ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং অত্যন্ত সফল একজন শাসক ছিলেন।

  • বংশ পুনরুদ্ধার: রাজা গণেশ ও তাঁর বংশধরদের শাসনের পর তিনি ইলিয়াস শাহী বংশের গৌরব পুনরায় উদ্ধার করেন।

  • রাজধানী পরিবর্তন: তিনি পান্ডুয়া থেকে রাজধানী পুনরায় গৌড়ে স্থানান্তর করেন।

  • খান জাহান আলীর সমসাময়িক: বিখ্যাত সেনাপতি ও সাধক খান জাহান আলী তাঁর রাজত্বকালেই দক্ষিণ-বঙ্গে (বাগেরহাট) খলিফাতাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

  • স্থাপত্য: তাঁর সময়ে গৌড়ের বিখ্যাত 'ষাট গম্বুজ মসজিদ' (খান জাহান আলী কর্তৃক), 'নিন্টু গম্বুজ মসজিদ' ও 'দারাসবাড়ি মসজিদ' নির্মিত হয়।

  • বিখ্যাত উপাধি: তাঁকে 'খলিফাতুল্লাহ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

২. সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৫৩৩–১৫৩৮)

তিনি ছিলেন বাংলার হোসেন শাহী বংশের সর্বশেষ সুলতান।

  • ক্ষমতা হারানো: তাঁর শাসনামলেই বিখ্যাত আফগান নেতা শেরশাহ সূরী বাংলা আক্রমণ করেন।

  • মুঘল সংযোগ: শেরশাহের আক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনি মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সাহায্য চেয়েছিলেন।

  • ইতিহাসের মোড়: ১৫৩৮ সালে শেরশাহের কাছে তাঁর পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের (২০০ বছরের স্বাধীনতা) অবসান ঘটে এবং বাংলা মুঘল ও আফগান দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।

৩. সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ (দিল্লি সালতানাত)

ইনি ছিলেন দিল্লির দাস বংশের শাসক (১২৪৬-১২৬৬), যাঁর সম্পর্কে আপনি আগে জেনেছেন। তাঁকে 'দরবেশ সুলতান' বলা হতো এবং তাঁর নামেই 'তাবাকাত-ই-নাসিরি' গ্রন্থটি রচিত।

Content added By
Content updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...