দিল্লির সুলতানগণ (১৩৩৮-১৫৩৮) এ দুইশত বছর বাংলাকে তাদের অধিকারে রাখতে পারেনি। এ সময় বাংলার সুলতানরা স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করেন। ১৩৩৮ সালে সোনারগাও এর শাসক বাহরাম খানের মৃত্যু হলে তার বর্মরক্ষক 'ফখরা' সুযোগ বুঝে নিজে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ নামধারণ করে সোনারগাওয়ের সিংহাসন দখল করেন।
বাংলার ইতিহাসে ১৩৩৮ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে স্বাধীন সুলতানি আমল বলা হয়। এই দীর্ঘ ২০০ বছর বাংলা দিল্লির সুলতানদের নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। এই যুগটি বাংলার রাজনৈতিক ঐক্য, সাহিত্য, স্থাপত্য এবং সামাজিক সংহতির জন্য এক অনন্য অধ্যায়।
১. স্বাধীনতা ঘোষণা ও ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ (১৩৩৮–১৩৪৯)
বাংলার স্বাধীনতার সূচনা হয় সোনারগাঁওয়ে।
প্রতিষ্ঠাতা: ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁওয়ে দিল্লির শাসন অস্বীকার করে নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ।
অবদান: তিনি 'ফখরুদ্দিনী' মুদ্রার প্রচলন করেন। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা তাঁর শাসনামলে (১৩৪৬ সালে) বাংলায় এসেছিলেন। তিনি চাটগাঁ থেকে সোনারগাঁও পর্যন্ত একটি দীর্ঘ রাস্তা ও অসংখ্য সরাইখানা নির্মাণ করেন।
২. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ও ইলিয়াস শাহী বংশ (১৩৪২–১৪১৪)
ইলিয়াস শাহকে বলা হয় 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্থপতি'।
বাংলার ঐক্য: তিনি লখনৌতি, সোনারগাঁও এবং সাতগাঁও—এই তিনটি অংশকে একত্রে জয় করে একটি অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
উপাধি: বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ করার কারণে তিনি প্রথম 'শাহ-ই-বাঙালা' বা 'সুলতান-ই-বাঙালা' উপাধি ধারণ করেন। তখন থেকেই এ দেশের মানুষের পরিচয় হয় 'বাঙালি' হিসেবে।
স্থাপত্য: তাঁর আমলে আদিনা মসজিদ (পান্ডুয়া) নির্মাণের কাজ শুরু হয়, যা সেই সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ ছিল।
৩. রাজা গণেশ ও জালালুদ্দিন মুহাম্মদ শাহ
মাঝখানে কিছু সময়ের জন্য শাসন ক্ষমতা হিন্দু জমিদার রাজা গণেশের হাতে চলে যায়। তবে তাঁর পুত্র যদু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জালালুদ্দিন মুহাম্মদ শাহ নামে সিংহাসনে বসেন। তাঁর সময় থেকে বাংলা ভাষায় রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি পায়।
৪. হোসেন শাহী বংশ (১৪৯৩–১৫৩৮)
এটি ছিল স্বাধীন সুলতানি আমলের শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ: তিনি এই বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতান। তাঁকে 'নৃপতি তিলক' এবং 'জগৎভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
সাহিত্য ও ধর্ম: তাঁর সময়ে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ছিল। তিনি বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করেন (যেমন: মালাধর বসুকে 'গুণরাজ খান' উপাধি প্রদান)। শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব ধর্ম আন্দোলন তাঁর সময়েই বিকশিত হয়।
ছোট সোনা মসজিদ: তাঁর শাসনামলে ওয়ালী মুহাম্মদ কর্তৃক গৌড়ে বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ নির্মিত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
খরউদ্দিন মুবারক শাহের পূর্বনাম ফখরা। তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান। তিনি সোনারগাঁয়ের শাসন ক্ষমতা দখল ও স্বাধীনতা ঘোষণা করেন- ১৩৩৮ সালে । স্বাধীন সুলতান হিসাবে তিনি উপাধি গ্রহণ করেন ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ। তিনি চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত রাজপথ নির্মাণ করেন। ইবনে বতুতা তার আমলে (১৩৪৬) সালে বাংলায় আসেন।
বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা হয়েছিল যাঁর হাত ধরে, তিনি হলেন ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ। তাঁর শাসনকাল (১৩৩৮–১৩৪৯ খ্রি.) বাংলার ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
১. স্বাধীনতার ঘোষণা ও সূচনা
পরিচয়: তিনি ছিলেন দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের নিযুক্ত সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খাঁ-এর বর্মরক্ষক বা দেহরক্ষী।
ক্ষমতা দখল: ১৩৩৮ সালে বাহরাম খাঁ-এর মৃত্যুর পর তিনি সোনারগাঁওয়ের ক্ষমতা দখল করেন এবং নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন।
উপাধি: তিনি 'ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ' নাম ধারণ করেন এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে নিজের নামে মুদ্রা (ফখরুদ্দিনী মুদ্রা) জারি করেন।
২. সামরিক সাফল্য ও রাজ্য বিস্তার
চট্টগ্রাম বিজয়: ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ প্রথম মুসলিম শাসক যিনি চট্টগ্রাম জয় করেন। তিনি চাটগাঁ জয় করে সেখানে শাসনের সুবিধার্থে একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী মোতায়েন করেন।
নৌযুদ্ধ: তাঁর সময়ে দিল্লির সুলতানরা বাংলাকে পুনরায় দখলের চেষ্টা করলেও তাঁর শক্তিশালী নৌবাহিনীর কারণে তারা সফল হতে পারেনি।
৩. পর্যটক ইবনে বতুতার আগমন (১৩৪৬ খ্রি.)
তাঁর শাসনামলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা হলো বিখ্যাত মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণ।
বাংলার বর্ণনা: ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে বাংলাকে 'দোযখপুর-ই-পুর নেয়ামত' (নেয়ামতে ভরপুর দোজখ) বলে অভিহিত করেছেন। কারণ এখানে প্রচুর ধনসম্পদ ও সস্তা খাবার ছিল, কিন্তু এখানকার আবহাওয়া ছিল আর্দ্র ও অস্বস্তিকর।
দ্রব্যমূল্য: ইবনে বতুতা লিখেছিলেন যে, তখন ১ দিরহামে ৮টি মুরগি এবং ২ দিরহামে ১টি ভালো মানের দাস কেনা যেত।
৪. জনকল্যাণ ও স্থাপত্য
সড়ক নির্মাণ: তিনি চাঁদপুর থেকে চাটগাঁ (চট্টগ্রাম) পর্যন্ত একটি দীর্ঘ মহাসড়ক নির্মাণ করেন।
সরাইখানা: রাস্তার ধারে পথিক ও ব্যবসায়ীদের বিশ্রামের জন্য তিনি অসংখ্য সরাইখানা ও মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।
মেঘনা নদীর বাঁধ: বন্যা প্রতিরোধের জন্য তিনি মেঘনা নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আলীবর্দী খাঁ
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি
সিরাজউদ্দৌলা
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ অবিভক্ত বাংলার প্রথন মুসলিম স্বাধীন সুলতান ছিলেন এবং ইলিয়াস শাহী বংশের করেন। ইলিয়াস শাহী বংশ ১৩৪২ সাল থেকে ১৪১৫ সাল পর্যন্ত একটানা ৭৩ বছর ধরে অবিভক্ত বাংলা শাসন করে।
বাংলার ইতিহাসে সুলতান শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্থপতি' বলা হয়, কারণ তিনিই প্রথম বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোকে একত্রিত করে 'বাঙালা' নামক একটি অখণ্ড রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন।
১. ক্ষমতার আরোহণ ও অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠা
পরিচয়: তিনি ছিলেন মূলত সিজিস্তানের একজন তুর্কি বীর। লখনৌতির সুলতান আলাউদ্দিন আলী শাহকে পরাজিত করে ১৩৪২ সালে তিনি সিংহাসনে বসেন।
অখণ্ড বাংলা: তখন বাংলা তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত ছিল— লখনৌতি (উত্তর বাংলা), সোনারগাঁও (পূর্ব বাংলা) এবং সাতগাঁও (দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলা)।
১৩৪২ সালে তিনি লখনৌতি দখল করেন।
১৩৪৬ সালে সাতগাঁও জয় করেন।
১৩৫২ সালে সোনারগাঁওয়ের ইখতিয়ার উদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে সমগ্র বাংলার অধিপতি হন।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: তিনিই প্রথম অখণ্ড বাংলার শাসক হিসেবে 'শাহ-ই-বাঙালা' এবং 'সুলতান-ই-বাঙালা' উপাধি ধারণ করেন। এর মাধ্যমেই এই ভূখণ্ডের নাম স্থায়ীভাবে 'বাঙালা' এবং অধিবাসীদের পরিচয় 'বাঙালি' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. দিল্লির সুলতানের সাথে যুদ্ধ ও একডালা দুর্গ
ইলিয়াস শাহের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ঈর্ষান্বিত হয়ে ১৩৫৩ সালে বাংলা আক্রমণ করেন।
একডালা দুর্গ: দিল্লির বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে ইলিয়াস শাহ কৌশল হিসেবে দিনাজপুরের সুরক্ষিত 'একডালা দুর্গে' আশ্রয় নেন।
ফলাফল: ফিরোজ শাহ তুঘলক দীর্ঘ সময় দুর্গ অবরোধ করেও ইলিয়াস শাহকে পরাজিত করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি সন্ধি করতে বাধ্য হন এবং ইলিয়াস শাহের স্বাধীনতা মেনে নিয়ে দিল্লি ফিরে যান। এই যুদ্ধের পর থেকেই মুঘল আক্রমণের আগ পর্যন্ত বাংলা প্রায় ২০০ বছর স্বাধীন ছিল।
৩. সাহিত্য, স্থাপত্য ও জনকল্যাণ
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা: তাঁর সময়ে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ উচ্চপদে নিয়োজিত ছিল। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
স্থাপত্য: তিনি পান্ডুয়ায় বিখ্যাত আদিনা মসজিদ (তৎকালীন উপমহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ) এবং একডালা দুর্গ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য পরিচিত।
নগর পত্তন: তিনি বিহারের হাজিপুর শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
জেনে নিই
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ পুরো বাংলা অধিকার করেন।
- প্রাচীন জনপদগুলোকে একত্রিত করে নাম দেন 'বাঙ্গালাহ'।
- তার উপাধি 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' বা ‘শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান’।
- তিনিই প্রথম উপাধি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলা রাষ্ট্রের পরিচয় তুলে ধরেন।
- ইলিয়াস শাহ বাংলার রাজধানী গৌড় থেকে পান্ডুয়া নগরীতে স্থানান্তর করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পাণ্ডুয়ার আদিনা মসজিদ সিকান্দার শাহের অমর কীর্তি। তিনি সবচেয়ে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা সুলতান। সুলতান সিকান্গৌদার শাহ গৌড়ের কোতয়ালী নরজা নির্মাণ করেন।
শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহের সুযোগ্য পুত্র সুলতান সিকান্দার শাহ ছিলেন ইলিয়াস শাহী বংশের দ্বিতীয় এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন শাসক। তাঁর দীর্ঘ ৩২ বছরের শাসনকাল বাংলার ইতিহাসে স্থাপত্য এবং সামরিক সাফল্যের জন্য চিরস্মরণীয়।
১. দিল্লির সুলতানের সাথে দ্বিতীয় যুদ্ধ (১৩৫৯)
পিতার মতো সিকান্দার শাহকেও দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের আক্রমণের মোকাবিলা করতে হয়েছিল।
একডালা দুর্গ: ১৩৫৯ সালে ফিরোজ শাহ তুঘলক পুনরায় বাংলা আক্রমণ করলে সিকান্দার শাহ কৌশলগত কারণে একডালা দুর্গে আশ্রয় নেন।
সন্ধি: দীর্ঘকাল অবরোধের পরও দুর্গ জয় করতে না পেরে ফিরোজ শাহ তুঘলক সিকান্দার শাহের সাথে সন্ধি করেন। দিল্লির সুলতান তাঁকে একটি স্বর্ণমুকিট ও অনেক উপঢৌকন দিয়ে বাংলার স্বাধীনতাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন।
ফলাফল: এই যুদ্ধের পর থেকে পরবর্তী প্রায় ২০০ বছর দিল্লির কোনো সুলতান বাংলা দখলের চেষ্টা করেননি।
২. স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠত্ব: আদিনা মসজিদ
সিকান্দার শাহের নাম বাংলার স্থাপত্য ইতিহাসে অমর হয়ে আছে তাঁর নির্মিত আদিনা মসজিদের জন্য।
অবস্থান: এটি তৎকালীন রাজধানী পান্ডুয়ায় (বর্তমানে ভারতের মালদহ জেলায়) অবস্থিত।
বৈশিষ্ট্য: ১৩৬৯ সালে নির্মিত এই মসজিদটি ছিল তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ। এর বিশালতা এবং কারুকার্য তৎকালীন বাংলার সমৃদ্ধি ও সুলতানের শৌর্য প্রকাশ করে।
অন্যান্য স্থাপত্য: তিনি পাণ্ডুয়ায় একটি চমৎকার বাগান ও জলাশয় নির্মাণ করেছিলেন যা 'সিকান্দার দিঘি' নামে পরিচিত।
৩. বিচারব্যবস্থা ও শাসন
সিকান্দার শাহ অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। কথিত আছে, তাঁর এক বিচারক (কাজী) স্বয়ং সুলতানের বিরুদ্ধেই সমন জারি করেছিলেন এবং সুলতান সাধারণ নাগরিকের মতো আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছিলেন।
বিশেষ তথ্য:
বিখ্যাত স্থাপত্য: আদিনা মসজিদ (পান্ডুয়া)।
দিল্লির কোন সুলতান তাঁকে আক্রমণ করেন? — ফিরোজ শাহ তুঘলক।
একডালা দুর্গ: এই দুর্গটি দুবার দিল্লির আক্রমণ থেকে বাংলাকে রক্ষা করেছিল (প্রথমবার ইলিয়াস শাহকে, দ্বিতীয়বার সিকান্দার শাহকে)।
পারিবারিক ট্র্যাজেডি: তাঁর শেষ জীবন ছিল দুঃখজনক। তাঁর প্রিয় পুত্র গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সাথে তাঁর বিরোধ তৈরি হয় এবং ১৩৯০ সালে সোনারগাঁওয়ের কাছে 'গোয়ালপাড়া'র যুদ্ধে পুত্রের বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত অবস্থায় তিনি নিহত হন।
একনজরে সুলতান সিকান্দার শাহ:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| শাসনকাল | ১৩৫৮–১৩৯০ খ্রিস্টাব্দ |
| রাজবংশ | ইলিয়াস শাহী বংশ |
| প্রধান অর্জন | দিল্লির স্বীকৃতি লাভ ও আদিনা মসজিদ নির্মাণ |
| রাজধানী | পান্ডুয়া (ফিরোজাবাদ) |
| মৃত্যু | ১৩৯০ (পুত্রের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে) |
সবচেয়ে জনপ্রিয় সুলতান ছিলেন গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। আজম শাহ বাংলা ভাষার পরম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর সময়ে ইউসুফ জোলেখা রচনা করেন কবি শাহ মুহম্মদ সগীর । এ সময় কৃত্তিবাসের রামায়ণ বাংলা অনুবাদ করা হয়। পারস্যের কবি হাফিজের সাথে তিনি পত্রালাপ করতেন।
বাংলার ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতানদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়, ন্যায়পরায়ণ এবং বিদগ্ধ শাসক ছিলেন গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। তাঁর শাসনামল (১৩৯০–১৪১১ খ্রি.) যুদ্ধবিগ্রহের চেয়ে সাহিত্য, কূটনীতি এবং ন্যায়বিচারের জন্য বেশি পরিচিত।
১. ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ তাঁর প্রখর ন্যায়বিচারের জন্য ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। এ বিষয়ে একটি বিখ্যাত কাহিনী প্রচলিত আছে:
একবার সুলতানের নিক্ষিপ্ত তীরে এক বিধবার পুত্র মারা গেলে, ওই বিধবা কাজী সিরাজুদ্দিনের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন।
কাজী সুলতানকে আদালতে তলব করেন। সুলতান সাধারণ নাগরিকের মতো আদালতে হাজিরা দেন এবং কাজীর দণ্ডাদেশ মেনে নিয়ে বিধবাকে ক্ষতিপূরণ দেন।
বিচার শেষে সুলতান কাজীকে বলেছিলেন, "আপনি যদি বিচারে শিথিলতা করতেন তবে আমি তলোয়ার দিয়ে আপনার মাথা কেটে ফেলতাম।" কাজীও তাঁর লাঠি দেখিয়ে বলেছিলেন, "আপনি যদি আইন অমান্য করতেন তবে আমি এই লাঠি দিয়ে আপনার পিঠ ভেঙে দিতাম।"
২. সাহিত্য ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা
তিনি কেবল একজন শাসকই ছিলেন না, বরং সাহিত্যের সমঝদার ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
পারস্যের মহাকবি হাফিজ: সুলতান আজম শাহ পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজ শিরাজিকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। হাফিজ আসতে না পারলেও সুলতানের পাঠানো কবিতার চরণের জবাবে একটি বিখ্যাত গজল লিখে পাঠিয়েছিলেন।
শাহ মুহাম্মদ সগীর: তাঁর রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কবি শাহ মুহাম্মদ সগীর বিখ্যাত কাব্য 'ইউসুফ-জুলেখা' রচনা করেন। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
৩. কূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক
তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিলেন।
চীনের সাথে সম্পর্ক: তাঁর আমলে চীনের মিং রাজবংশের সম্রাট ইয়ং লো-এর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। চীনের দূত মা হুয়ান তাঁর দরবারে এসেছিলেন এবং বাংলার রেশম, মসলিন ও সমৃদ্ধির প্রশংসা করেছিলেন।
মক্কা-মদিনায় অনুদান: তিনি পবিত্র মক্কা ও মদিনায় দুটি মাদরাসা নির্মাণ করেন এবং সেখানে পানির নহর বা কূপ খননের জন্য প্রচুর অর্থ দান করেছিলেন, যা 'মাদরাসা-ই-গিয়াসিয়া' নামে পরিচিত ছিল।
Quick Notes:
উপাধি: গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করলেও তিনি অত্যন্ত সফল শাসক ছিলেন)।
রাজধানী: তাঁর রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।
ইবনে বতুতা না মা হুয়ান? — মনে রাখবেন, ইবনে বতুতা এসেছিলেন ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের আমলে, আর মা হুয়ান এসেছিলেন গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের আমলে।
বিখ্যাত বন্ধু: পারস্যের কবি হাফিজ।
বিচারক: তাঁর সময়কার বিখ্যাত কাজীর নাম ছিল সিরাজুদ্দিন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্য সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ। তাকে বলা হয় বাংলার আকবর, তার শাসনামলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়। হুসাইন শাহের আমলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড় । তিনি সংগ্রাম থেকে আরাকানীদের বিতাড়িত করেন। হুসাইন শাহের রাজত্বকালে শ্রীচৈতন্য বৈষ্ণব আন্দোলন (বৃন্দাবন) গড়ে তোলেন। হুসাইন শাহের সেনাপতি কবীন্দ্র পরমেশ্বর বাংলা ভাষায় মহাভারত রচনা করেন। বিপ্রদাস, বিজয়গুপ্ত, যশোরাজ খান প্রমুখ সাহিত্যিকগণ তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। হুসেন শাহী আমলে বাংলা গজল ও সুফী সাহিত্যের সৃষ্টি হয়। তাঁর শাসনামলে গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ ও গুমতিদ্বার নির্মিত হয়।
বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের ইতিহাসে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৩–১৫১৯ খ্রি.) ছিলেন সবচেয়ে সফল, জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী শাসক। তাঁর শাসনকালকে বাংলার ইতিহাসের 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়। তিনি হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
১. ক্ষমতা লাভ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন মূলত আরবের মক্কার অধিবাসী। তিনি বাংলার আবিসিনীয় (হাবশী) সুলতান শামসুদ্দিন মোজাফফর শাহের উজির ছিলেন। হাবশী শাসনের চরম অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে ১৪৯৩ সালে তিনি বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
২. ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সামাজিক সম্প্রীতি
হোসেন শাহের শাসনকাল হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
উচ্চপদ অর্পণ: তাঁর প্রশাসনের উচ্চপদে অনেক যোগ্য হিন্দু ব্যক্তি নিয়োজিত ছিলেন। যেমন— তাঁর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন গোপীনাথ বসু (পুরন্দর খাঁ) এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন মুকুন্দ দাস। তাঁর দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান ছিলেন কেশব ছত্রী।
শ্রীচৈতন্যদেব: তাঁর শাসনামলেই বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর ভক্তি আন্দোলন প্রচার করেছিলেন। সুলতান হোসেন শাহ শ্রীচৈতন্যদেবের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
৩. বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা
বাংলা ভাষার বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক কালজয়ী কাব্য রচিত হয়।
মালাধর বসু: তাঁর নির্দেশে মালাধর বসু 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। সুলতান তাঁকে 'গুণরাজ খান' উপাধিতে ভূষিত করেন।
অনুবাদ সাহিত্য: তাঁর সময়েই মহাভারত ও ভাগবতের বাংলা অনুবাদের কাজ শুরু হয়।
বিজয়গুপ্ত ও বিপ্রদাস: তাঁর রাজত্বকালেই মনসামঙ্গলের বিখ্যাত কবি বিজয়গুপ্ত ও বিপ্রদাস পিপিলাই তাঁদের কাব্য রচনা করেছিলেন।
৪. স্থাপত্য ও লৌকিক ধর্ম
ছোট সোনা মসজিদ: তাঁর শাসনামলে ওয়ালী মুহাম্মদ গৌড়ে বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন (এটি বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত)।
লৌকিক ধর্ম: তাঁর সময়ে হিন্দু ও মুসলমানদের সমন্বয়ে 'সত্যপীর' নামক এক লৌকিক আরাধনা পদ্ধতির ব্যাপক প্রচলন ঘটে।
Quick Notes:
উপাধি: তাঁকে 'নৃপতি তিলক' এবং 'জগৎভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
বাংলার আকবর: উদার ও দূরদর্শী শাসনের জন্য ঐতিহাসিকরা তাঁকে 'বাংলার আকবর' বলে অভিহিত করেন।
রাজধানী: তাঁর রাজধানী ছিল একডালা (মতান্তরে গৌড়)।
বিখ্যাত স্থাপত্য: ছোট সোনা মসজিদ।
সীমানা বিস্তার: তিনি কামরূপ (আসাম) এবং ওড়িশার একাংশ জয় করেছিলেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বখতিয়ার খলজি
সম্রাট শাহজাহান
হুসেন শাহ
সম্রাট বাবর
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
গৌড়ের বিখ্যাত বড় সোনা মসজিদ (বারদুয়ারি মসজিদ) নির্মাণ করে। সুলতান নাসির উদ্দিন নুসরাত শাহের অমরকীর্তি- কদম রসুল। তার সময়ে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহের সুযোগ্য পুত্র নাসিরুদ্দিন নুসরাত শাহ ছিলেন হোসেন শাহী বংশের দ্বিতীয় এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী সুলতান। তাঁর শাসনামল (১৫১৯–১৫৩২ খ্রি.) শিল্পকলা, স্থাপত্য এবং কূটনৈতিক দূরদর্শিতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
১. স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন: বড় সোনা মসজিদ
নুসরাত শাহের নাম বাংলার স্থাপত্য ইতিহাসে অমর হয়ে আছে তাঁর নির্মিত বিশাল ও রাজকীয় স্থাপনাগুলোর জন্য।
বড় সোনা মসজিদ (গৌড়): ১৫২৬ সালে তিনি গৌড়ে এই বিশাল মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি তৎকালীন বাংলার বৃহত্তম মসজিদগুলোর মধ্যে একটি এবং এর বিশালত্বের কারণে একে 'বারোদুয়ারী' মসজিদও বলা হয়।
কদম রসূল: তিনি গৌড়ে 'কদম রসূল' নামক একটি ভবন নির্মাণ করেন, যেখানে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পদচিহ্ন সংবলিত একটি পাথর সংরক্ষিত ছিল।
অন্যান্য স্থাপত্য: তিনি তাঁর পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে গৌড়ে একটি চমৎকার সমাধি এবং বাঘায় (রাজশাহী) একটি বিশাল মসজিদ ও দিঘি নির্মাণ করেন।
২. মুঘল ও আফগানদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক
নুসরাত শাহের শাসনামল ছিল ভারতীয় ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ, যখন দিল্লিতে মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটছে (পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, ১৫২৬)।
বাবরের সাথে চুক্তি: মুঘল সম্রাট বাবর যখন ভারত আক্রমণ করেন, নুসরাত শাহ তখন অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন। পরবর্তীতে বাবরের সাথে তাঁর একটি মৈত্রী চুক্তি হয়, যার ফলে বাংলা মুঘল আক্রমণের হাত থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা পায়।
আফগানদের আশ্রয়: তিনি মুঘলদের ভয়ে পালিয়ে আসা আফগান নেতাদের বাংলায় আশ্রয় দিয়েছিলেন, যা বাংলার সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল।
৩. সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা
পিতার মতো তিনিও বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ অনুরাগী ছিলেন।
মহাভারত অনুবাদ: তাঁরই নির্দেশে কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারতের একটি অংশ বাংলা অনুবাদ করেন।
লৌকিক উৎসব: তাঁর সময়ে গ্রামীণ ও লোকজ মেলা ও উৎসবগুলো রাজকীয় সমর্থন লাভ করত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান ছিলেন গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ। ১৫৩৮ সালে শেরশাহ গৌড় দখলের মাধ্যমে বাংলায় স্বাধীন সুলতানী যুগের অবসান ঘটে।
বাংলার হোসেন শাহী বংশের সর্বশেষ সুলতান এবং স্বাধীন সুলতানি আমলের (১৩৩৮–১৫৩৮) চূড়ান্ত শাসক ছিলেন গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ। তাঁর শাসনামল (১৫৩৩–১৫৩৮ খ্রি.) ছিল যুদ্ধবিগ্রহ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় পূর্ণ।
১. হোসেন শাহী বংশের পতন
গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ ছিলেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র এবং নুসরাত শাহের ভাই। তিনি তাঁর ভাইপোকে (নুসরাত শাহের পুত্র) হত্যা করে ক্ষমতায় বসেছিলেন, যা তাঁর শাসনামলের শুরুতেই এক ধরণের অস্থিতিশীলতা তৈরি করে।
২. শেরশাহ সূরীর আক্রমণ ও বাংলার পতন
তাঁর শাসনামলের সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো আফগান বীর শেরশাহ সূরীর সাথে সংঘাত।
গৌড় অবরোধ: ১৫৩৮ সালে শেরশাহ সূরী বাংলার রাজধানী গৌড় আক্রমণ ও দখল করেন।
পরাজয়: গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ শেরশাহের কাছে পরাজিত হন। তিনি পর্তুগিজদের সহায়তা নিয়েও নিজের সিংহাসন রক্ষা করতে পারেননি।
৩. স্বাধীন সুলতানি আমলের অবসান
১৫৩৮ সালে শেরশাহের কাছে গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় ২০০ বছরের স্বাধীন সুলতানি আমলের (যা ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ শুরু করেছিলেন) চিরস্থায়ী অবসান ঘটে। এরপর বাংলা দিল্লির আফগান শাসনের (সূরী বংশ) অধীনে চলে যায়।
Quick Notes:
উপাধি: সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ।
মর্যাদা: তিনি স্বাধীন সুলতানি আমলের সর্বশেষ সুলতান।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: তাঁর পতনের মাধ্যমেই মধ্যযুগীয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং আফগান শাসনের সূচনা হয়।
পর্তুগিজদের প্রভাব: তাঁর সময়েই পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি চেয়েছিল এবং তাঁকে সামরিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more