দুর্বল ও অকর্মণ্য মুঘল সম্রাট মুহম্মদ শাহ এর আমলে (১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে) পারস্যের নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করেন। নাদির শাহ ভারত হতে মহামূল্যবান কোহিনুর হীরা, ময়ূর সিংহাসন এবং প্রচুর ধনরত্ন পারস্যে নিয়ে যান।
সম্রাট মুহাম্মদ শাহ (১৭১৯–১৭৪৮)
তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের ১২তম সম্রাট ছিলেন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তাঁর দীর্ঘ ২৯ বছরের শাসনামলে সেই ভাঙন আরও ত্বরান্বিত হয়।
১. উপাধি ও চরিত্র:
রঙ্গিলা (Rangila): তিনি অত্যন্ত বিলাসপ্রিয় এবং আমোদ-প্রমোদে মত্ত থাকতেন বলে ইতিহাসে তাঁকে 'মুহাম্মদ শাহ রঙ্গিলা' বলা হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে নাচ-গান ও শিল্পকলার প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল বেশি।
২. সাম্রাজ্যের ভাঙন ও স্বাধীন রাজ্যের উত্থান:
তাঁর দুর্বল শাসনের সুযোগে মুঘল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশ স্বাধীন হতে শুরু করে:
বাংলা: মুর্শিদকুলি খাঁর নেতৃত্বে বাংলা কার্যত স্বাধীন হয়ে যায়।
হায়দ্রাবাদ: নিজাম-উল-মুলক হায়দ্রাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
অযোধ্যা (Awadh): সাদাত খাঁ স্বাধীন শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
৩. নাদির শাহের আক্রমণ (১৭৩৯):
মুহাম্মদ শাহের আমলের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হলো পারস্যের শাসক নাদির শাহের ভারত আক্রমণ।
কারনালের যুদ্ধ (Battle of Karnal): ১৭৩৯ সালে নাদির শাহ মুঘল বাহিনীকে পরাজিত করে দিল্লি দখল করেন।
লুণ্ঠন: নাদির শাহ দিল্লি থেকে প্রচুর ধনসম্পদ লুট করেন, যার মধ্যে ছিল বিশ্ববিখ্যাত কোহিনূর হীরা এবং শাহজাহানের তৈরি ময়ূর সিংহাসন। এর ফলে মুঘলদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যায়
Quick Notes:
সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়ের পতন: মুহাম্মদ শাহ নিজাম-উল-মুলকের সহায়তায় ক্ষমতাধর 'সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়কে' (যাঁদের কিং মেকার বলা হতো) ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করেন।
উর্দু ভাষা: তাঁর শাসনামলে উর্দু ভাষা ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা পায় এবং এটি রাজদরবারের ভাষায় পরিণত হতে শুরু করে।
আহমদ শাহ আবদালী: তাঁর রাজত্বের শেষ দিকে (১৭৪৮ সালে) আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালী প্রথমবার ভারত আক্রমণ করেছিলেন।
একনজরে মুহাম্মদ শাহ:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আসল নাম | রওশন আখতার |
| উপাধি | রঙ্গিলা |
| প্রধান বিপর্যয় | নাদির শাহের আক্রমণ (১৭৩৯) |
| লুণ্ঠিত সম্পদ | ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনূর হীরা |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more