বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্য সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ। তাকে বলা হয় বাংলার আকবর, তার শাসনামলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়। হুসাইন শাহের আমলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড় । তিনি সংগ্রাম থেকে আরাকানীদের বিতাড়িত করেন। হুসাইন শাহের রাজত্বকালে শ্রীচৈতন্য বৈষ্ণব আন্দোলন (বৃন্দাবন) গড়ে তোলেন। হুসাইন শাহের সেনাপতি কবীন্দ্র পরমেশ্বর বাংলা ভাষায় মহাভারত রচনা করেন। বিপ্রদাস, বিজয়গুপ্ত, যশোরাজ খান প্রমুখ সাহিত্যিকগণ তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। হুসেন শাহী আমলে বাংলা গজল ও সুফী সাহিত্যের সৃষ্টি হয়। তাঁর শাসনামলে গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ ও গুমতিদ্বার নির্মিত হয়।
বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের ইতিহাসে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৩–১৫১৯ খ্রি.) ছিলেন সবচেয়ে সফল, জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী শাসক। তাঁর শাসনকালকে বাংলার ইতিহাসের 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়। তিনি হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
১. ক্ষমতা লাভ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন মূলত আরবের মক্কার অধিবাসী। তিনি বাংলার আবিসিনীয় (হাবশী) সুলতান শামসুদ্দিন মোজাফফর শাহের উজির ছিলেন। হাবশী শাসনের চরম অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে ১৪৯৩ সালে তিনি বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
২. ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সামাজিক সম্প্রীতি
হোসেন শাহের শাসনকাল হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
উচ্চপদ অর্পণ: তাঁর প্রশাসনের উচ্চপদে অনেক যোগ্য হিন্দু ব্যক্তি নিয়োজিত ছিলেন। যেমন— তাঁর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন গোপীনাথ বসু (পুরন্দর খাঁ) এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন মুকুন্দ দাস। তাঁর দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান ছিলেন কেশব ছত্রী।
শ্রীচৈতন্যদেব: তাঁর শাসনামলেই বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর ভক্তি আন্দোলন প্রচার করেছিলেন। সুলতান হোসেন শাহ শ্রীচৈতন্যদেবের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
৩. বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা
বাংলা ভাষার বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক কালজয়ী কাব্য রচিত হয়।
মালাধর বসু: তাঁর নির্দেশে মালাধর বসু 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। সুলতান তাঁকে 'গুণরাজ খান' উপাধিতে ভূষিত করেন।
অনুবাদ সাহিত্য: তাঁর সময়েই মহাভারত ও ভাগবতের বাংলা অনুবাদের কাজ শুরু হয়।
বিজয়গুপ্ত ও বিপ্রদাস: তাঁর রাজত্বকালেই মনসামঙ্গলের বিখ্যাত কবি বিজয়গুপ্ত ও বিপ্রদাস পিপিলাই তাঁদের কাব্য রচনা করেছিলেন।
৪. স্থাপত্য ও লৌকিক ধর্ম
ছোট সোনা মসজিদ: তাঁর শাসনামলে ওয়ালী মুহাম্মদ গৌড়ে বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন (এটি বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত)।
লৌকিক ধর্ম: তাঁর সময়ে হিন্দু ও মুসলমানদের সমন্বয়ে 'সত্যপীর' নামক এক লৌকিক আরাধনা পদ্ধতির ব্যাপক প্রচলন ঘটে।
Quick Notes:
উপাধি: তাঁকে 'নৃপতি তিলক' এবং 'জগৎভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
বাংলার আকবর: উদার ও দূরদর্শী শাসনের জন্য ঐতিহাসিকরা তাঁকে 'বাংলার আকবর' বলে অভিহিত করেন।
রাজধানী: তাঁর রাজধানী ছিল একডালা (মতান্তরে গৌড়)।
বিখ্যাত স্থাপত্য: ছোট সোনা মসজিদ।
সীমানা বিস্তার: তিনি কামরূপ (আসাম) এবং ওড়িশার একাংশ জয় করেছিলেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more