সুলতান গিয়াসউদ্দিন বিদ্যোৎসাহী ও গুণীজনের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। শান্তি শৃঙ্খলার জন্য 'রক্তপাত ও কঠোর নীতি' (Blood & Iron Policy) অবলম্বন করেন। 'মহান শাসক' উপাধি লাভ করেন তিনি। "ভারতের তোতা পাখি' (বুলবুল-ই-হিন্দু) নামে পরিচিত আমীর খসরু বলবনের দরবার অলংকৃত করতেন।
গিয়াসউদ্দিন বলবন ছিলেন দিল্লি সালতানাতের দাস বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং কঠোরতম শাসক। তিনি সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০ বছর এবং পরবর্তীতে সুলতান হিসেবে ২১ বছর শাসন করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল সুলতানের মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং বিশৃঙ্খলা দমন করা। তিনি অত্যন্ত কঠোর হস্তে তুর্কি অভিজাতদের শক্তিশালী সংগঠন 'চল্লিশ চক্র' (বন্দেগান-ই-চাহেলগান) ধ্বংস করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সুলতান হলেন পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি (জিলুল্লাহ), তাই তিনি দরবারে 'সিজদা' (সুলতানকে মাথা নত করে অভিবাদন) এবং 'পায়বোস' (সুলতানের পদচুম্বন) প্রথা প্রবর্তন করেন। অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষায় তিনি একটি অত্যন্ত দক্ষ ও শক্তিশালী গোয়েন্দা বাহিনী গঠন করেন এবং 'রক্ত ও লৌহ নীতি' (Blood and Iron Policy) অনুসরণের মাধ্যমে মেওয়াটি দস্যু ও বিদ্রোহ দমনে চরম কঠোরতা প্রদর্শন করেন। তাঁর সময়েই বাংলার সুবাদার তুঘরিল খাঁ বিদ্রোহ করলে বলবন নিজে বাংলায় এসে বিদ্রোহ দমন করেন।
Read more