সম্রাট জাহাঙ্গীরের পরে মুঘল সাম্রাজ্যের ৫ম শাসক হন শাহজাহান। Prince of Builders বলা হয় স্থাপত্য শিল্পের অবদান ও আগ্রহের কারনে। তাজমহল ও ময়ূর সিংহাসনসহ বিভিন্ন স্থাপত্য তার শ্রেষ্ঠ নির্মানশৈলী। ১৬৩৩ সালে ইংরেজদের প্রথম বাণিজ্য কুঠি (পিপিলাই) স্থাপন করার অনুমতি দেন শাহজাহান। শাহজাহান' উপাধি প্রদান করেন তার পিতা সম্রাট জাহাঙ্গীর।
মুঘল সাম্রাজ্যের পঞ্চম সম্রাট শাহজাহান (যাঁর বাল্যনাম ছিল খুররম) তাঁর শাসনামলকে মুঘল স্থাপত্য ও আভিজাত্যের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অমর করে রেখেছেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর ১৬২৮ সালে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন।তাঁর শাসনকালের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. মুঘল স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ
শাহজাহানকে ইতিহাসের 'রাজপুত্র স্থপতি' (Prince of Builders) বলা হয়। তাঁর সময়ে নির্মিত স্থাপনাগুলো আজও বিশ্বের বিস্ময়:
তাজমহল: তাঁর প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে এটি নির্মাণ করেন (১৬৩২–১৬৫৩)। এর প্রধান স্থপতি ছিলেন ওস্তাদ আহমেদ লাহোরী।
লাল কেল্লা (Red Fort): দিল্লির এই বিশাল দুর্গটি তিনি নির্মাণ করেন। এর ভেতরে দেওয়ান-ই-আম এবং দেওয়ান-ই-খাস নামক দুটি অপূর্ব কক্ষ রয়েছে।
জামে মসজিদ: দিল্লির বিখ্যাত জামে মসজিদটিও তাঁর অন্যতম প্রধান স্থাপত্য।
ময়ূর সিংহাসন (Peacock Throne): তিনি জহরত খচিত একটি অসাধারণ সিংহাসন তৈরি করেছিলেন, যার চূড়ায় দুটি ময়ূর বসানো ছিল। এটি তৈরিতে বিখ্যাত কোহিনূর হীরা ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করে এটি পারস্যে নিয়ে যান।
২. প্রশাসনিক ও সামরিক বিজয়
রাজধানী পরিবর্তন: তিনি ১৬৩৮ সালে রাজধানী আগ্রা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তর করেন এবং দিল্লির নাম রাখেন 'শাহজাহানাবাদ'।
দাক্ষিণাত্য বিজয়: তিনি আহমেদনগর জয় করেন এবং বিজাপুর ও গোলকুন্ডাকে মুঘলদের বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করেন।
পর্তুগিজ দমন: ১৬৩২ সালে পর্তুগিজরা হুগলিতে দস্যুবৃত্তি শুরু করলে তিনি তাদের কঠোরভাবে দমন করেন।
৩. বাংলার ইতিহাস ও শাহজাহান
রাজকুমার সুজা: শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজা দীর্ঘ সময় বাংলার সুবাদার ছিলেন। তাঁর সময়ে রাজমহল ছিল বাংলার রাজধানী।
স্থাপত্য: ঢাকার বড় কাটরা এবং কুমিল্লা ও চাটগাঁর কিছু মসজিদ শাহজাহানের আমলের স্থাপত্যরীতির প্রভাব বহন করে।
Quick Notes:
বাল্যনাম: খুররম (খুররম শব্দের অর্থ— আনন্দদায়ক)।
উপাধি: শাহজাহান (দুনিয়ার মালিক)। তিনি 'শাহানশাহ' উপাধিও গ্রহণ করেছিলেন।
মমতাজ মহল: তাঁর আসল নাম ছিল আরজুমান্দ বানু বেগম।
বিদেশী পর্যটক: তাঁর সময়ে ফরাসি পর্যটক বার্নিয়ার, টাভার্নিয়ার এবং ইতালীয় পর্যটক ম্যানুচি ভারত ভ্রমণ করেন।
শেষ জীবন: ১৬৫৮ সালে তাঁর পুত্র আওরঙ্গজেব তাঁকে বন্দি করেন। জীবনের শেষ ৮ বছর তিনি আগ্রা দুর্গের 'শাহবুরুজ'-এ বন্দি অবস্থায় কাটান এবং যমুনার তীরে তাজমহল দেখে সময় কাটাতেন।
শাহজাহানের শাসনকাল:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | ১৫৯২ (লাহোর) |
| শ্রেষ্ঠ কীর্তি | তাজমহল ও ময়ূর সিংহাসন |
| প্রিয় পুত্র | দারা শিকোহ |
| সমাধি | তাজমহল (আগ্রা) |
শাহজাহানের চার পুত্রের (দারা, সুজা, মুরাদ ও আওরঙ্গজেব) মধ্যে সিংহাসন নিয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বা 'উত্তরাধিকার যুদ্ধ' ইতিহাসে খুব বিখ্যাত।
জেনে নিই
- আগ্রার তাজমহল ও ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ।
- ময়ূর সিংহাসন লুট করেন ১৭৩৮ সালে ইরানের নাদির শাহ।
- ময়ূর সিংহাসনের শিল্পী ছিলেন পারস্যের বেবাদল খান।
- দেওয়ানে আম ও দেওয়ানে খাস নির্মাণ করেন।
- দিল্লি জামে মসজিদ নির্মাণ ও দিল্লির লালকেল্লা (দুর্গ) নির্মাণ।
- আগ্রায় মতি মসজিদ নির্মাণ।
- লাহোরে সালিমার উদ্যান নির্মাণ।
- খাসসমহল ও শীর্ষমহল নির্মাণ।
- ঢাকার হোসনী দালান তার আমলের স্থাপত্যকীর্তি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more