মেগাস্থিনিস ছিলেন একজন প্রাচীন গ্রীক ইতিহাসবিদ, কূটনীতিবিদ এবং হেলেনিস্টিক যুগে ভারতীয় নৃতত্ত্ববিদ ও অনুসন্ধানকারী। তিনি প্রাচীন গ্রিস এর একজন পর্যটক এবং ভূগোলবিদ। সিরিয়ার রাজা প্রথম সেলুকাসের দূত হিসেবে ভারতীয় রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এর রাজদরবারে আসেন। তিনি যখন ভারতে আসেন তখন চন্দ্রগুপ্তের রাজদরবার ছিল ভারতের পাটালিপুত্র নামক স্থানে।
বিখ্যাত গ্রন্থ: তাঁর লিখিত বিশ্ববিখ্যাত বইটির নাম 'ইন্ডিকা' (Indica)। যদিও মূল বইটি বর্তমানে বিলুপ্ত, তবে আরিয়ান ও স্ট্রাবোর মতো পরবর্তী গ্রীক লেখকদের উদ্ধৃতি থেকে এর তথ্যগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিচয়: তিনি ছিলেন প্রাচীন গ্রীক ইতিহাসবিদ ও কূটনীতিবিদ। তাঁকে 'ভারতীয় ইতিহাসের জনক' (Father of Indian History) বলা হয়।
আগমনকাল: ৩৩৫-৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে তিনি সিরিয়ার রাজা প্রথম সেলুকাস নিকেটরের দূত হিসেবে ভারত ভ্রমণ করেন।
রাজদরবার: তিনি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজদরবারে এসেছিলেন।
সপ্ত-জাতিতত্ত্ব: মেগাস্থিনিস তাঁর বর্ণনায় তৎকালীন ভারতীয় সমাজকে ৭টি শ্রেণিতে বা ভাগে বিভক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
এগুলো হলো:
- দার্শনিক
- কৃষক (সবচেয়ে বড় শ্রেণি)
- পশুপালক ও শিকারি
- কারিগর ও শিল্পী
- যোদ্ধা বা সামরিক বাহিনী
- পরিদর্শক বা গুপ্তচর।
- অমাত্য বা মন্ত্রণাদাতা।
পৌর প্রশাসন: পাটলিপুত্র শহরের শাসন পরিচালনার জন্য ৩০ জন সদস্যের একটি পরিষদ ছিল, যারা ৬টি কমিটিতে (প্রতিটিতে ৫ জন) বিভক্ত হয়ে কাজ করত।
দাস প্রথা: তাঁর মতে, ভারতে কোনো দাস প্রথা ছিল না। যদিও আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, গ্রীক দাসদের তুলনায় ভারতীয় দাসদের অবস্থা অনেক ভালো হওয়ায় তিনি হয়তো তাদের পার্থক্য করতে পারেননি।
নামকরণ: তিনি পাটলিপুত্র শহরকে 'পালিবোথরা' (Palibothra) নামে বর্ণনা করেছিলেন।
ধর্মীয় উল্লেখ: তিনি তাঁর বর্ণনায় 'ডায়োনিসাস' (শিব) এবং 'হেরাক্লেস' (কৃষ্ণ) নামক দুই দেবতার উল্লেখ করেছিলেন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more