কাশিম খান জুয়ানি

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান - | NCTB BOOK

1.4k

কাশিম খান জুয়ানি সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রথম সুবেদার। পর্তুগিজদের অত্যাচারের মাত্রা চরমে পৌঁছলে সম্রাট শাহজাহানের আদেশে কাসিম খান তাদেরকে শক্ত হাতে দমন করেন।

বাংলার সুবাদারদের তালিকায় কাসেম খাঁ জুয়ানি (১৬৩২–১৬৩৫ খ্রি.) ছিলেন সম্রাট শাহজাহানের নিযুক্ত অন্যতম বিশ্বস্ত প্রশাসক। তিনি সুবাদার কাসেম খাঁ (ইসলাম খাঁর ভাই)-এর সাথে বিভ্রান্তি এড়াতে 'জুয়ানি' নামে পরিচিত। তাঁর শাসনামলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো হুগলি থেকে পর্তুগিজদের বিতাড়ন

১. পর্তুগিজ দমন ও হুগলি বিজয় (১৬৩২)

কাসেম খাঁ জুয়ানির শাসনামলের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো বাংলায় পর্তুগিজদের ক্রমবর্ধমান দৌরাত্ম্য বন্ধ করা।

  • কারণ: পর্তুগিজরা হুগলিতে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের নামে দুর্গ তৈরি করেছিল এবং সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করত। এছাড়াও তারা মুঘলদের রাজস্ব ফাঁকি দিত এবং মগ জলদস্যুদের সাথে হাত মিলিয়ে লুণ্ঠন চালাত।

  • অভিযান: সম্রাট শাহজাহানের নির্দেশে ১৬৩২ সালে কাসেম খাঁ জুয়ানি এক বিশাল বাহিনী নিয়ে পর্তুগিজদের প্রধান ঘাঁটি হুগলি আক্রমণ করেন।

  • ফলাফল: দীর্ঘ তিন মাস যুদ্ধের পর পর্তুগিজরা পরাজিত হয়। প্রায় ১০,০০০ পর্তুগিজ নিহত হয় এবং কয়েক হাজারকে বন্দি করে আগ্রায় পাঠানো হয়। এর ফলে বাংলায় পর্তুগিজদের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটে।

২. প্রশাসনিক দক্ষতা

  • তিনি একজন অত্যন্ত কঠোর ও সুশৃঙ্খল প্রশাসক ছিলেন। তাঁর সময়ে বাংলার অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় ছিল।

  • তিনি বাংলায় মুঘল নৌবাহিনীকে (নওয়ারা) শক্তিশালী করেছিলেন যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বিদেশি দস্যু আক্রমণ করতে না পারে।

৩. সাহিত্য ও সংস্কৃতি

  • কাসেম খাঁ জুয়ানি কেবল একজন বীর সেনাপতিই ছিলেন না, তিনি নিজেও একজন সুপণ্ডিত এবং কবি ছিলেন।

  • তিনি ফার্সি ভাষায় কাব্যচর্চা করতেন। তাঁর শাসনামলে রাজদরবারে জ্ঞানী-গুণীদের কদর ছিল।

Content added By
Content updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...