সমুদ্র গুপ্তের শাসনকাল ছিল ৩৪০-৩৮০ খ্রিস্টাব্দ। গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক সমুদ্রগুপ্ত সমগ্র বাংলা জয় করেন। তাঁকে প্রাচীন ভারতের "নেপোলিয়ন" বলা হয়। সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা জয় করা হলেও সমতট ছিল করদ রাজ্য।
সমুদ্রগুপ্ত (৩৪০-৩৮০ খ্রি.) ছিলেন গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। তাঁকে 'প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন' বলা হয়। গুপ্ত অধিকৃত বাংলার রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর।
ভারতের নেপোলিয়ন: সমুদ্রগুপ্তের বীরত্ব এবং অপ্রতিহত সামরিক বিজয়ের কারণে ঐতিহাসিক ভি. এ. স্মিথ তাঁকে 'ভারতের নেপোলিয়ন' বলে অভিহিত করেছেন।
এলাহাবাদ প্রশস্তি: তাঁর সভাকবি হরিষেণ সংস্কৃত ভাষায় 'এলাহাবাদ প্রশস্তি' বা 'প্রয়াগ প্রশস্তি' রচনা করেন। এটি সমুদ্রগুপ্তের দিগ্বিজয় জানার প্রধান উৎস।
উপাধি: তিনি 'কবিরাজ', 'অশ্বমেধ পরাক্রম', 'পরাক্রমাঙ্ক' এবং 'সর্বরাজোচ্ছেত্তা' উপাধি ধারণ করেছিলেন।
রাজ্যজয়ের নীতি: তিনি উত্তর ভারতের জন্য 'উন্মূলকরণ' (রাজ্য দখল) এবং দক্ষিণ ভারতের ১২ জন রাজার ক্ষেত্রে 'গ্রহণ-মোক্ষ-অনুগ্রহ' (রাজ্য জয় করে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া) নীতি গ্রহণ করেন। একে 'ধর্মবিজয়' বলা হয়।
ধর্মীয় সহনশীলতা: তিনি নিজে পরম বৈষ্ণব হলেও বৌদ্ধ পণ্ডিত বসুবন্ধু তাঁর দরবারে উচ্চপদে আসীন ছিলেন। সিংহলের রাজা মেঘবর্মণ তাঁর অনুমতি নিয়ে গয়ায় বৌদ্ধ মঠ নির্মাণ করেছিলেন।
মুদ্রা: তিনি স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেছিলেন যা 'দিনার' নামে পরিচিত ছিল। তাঁর মুদ্রায় অশ্বমেধ যজ্ঞের ছবিও পাওয়া যায়।
Read more