নাসির উদ্দীন মুহাম্মদ হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৪০)

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান - | NCTB BOOK

1.3k

সম্রাট বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ সালের ডিসেম্বরে হুমায়ূন পিতার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হন। ১৫৩৮ সালে তিনি বাংলার গৌড় অধিকার করেন। গৌড় নগরের অপরূপ সৌন্দর্য তাকে বিমোহিত করে ফলে এর নাম রাখেন 'জান্নাতাবাদ'। হুমায়ূন কনৌজের যুদ্ধে ১৫৪০ সালে শেরশাহের নিকট পরাজিত হয়ে দিল্লি ত্যাগ করেন। ১৫৪০-১৫৫৫ খ্রি: পর্যন্ত শেরশাহের নেতৃত্বে ভারতবর্ষে শুরশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫৫৫ সালে ১৫ বছর পর হুমায়ুন পুনরায় পারস্য সাম্রাজ্যের সহায়তায় মুঘল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

হুমায়ুন ছিলেন সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র। ১৫৩০ সালে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। 'হুমায়ুন' শব্দের অর্থ 'ভাগ্যবান', কিন্তু অদ্ভুতভাবে তাঁর পুরো জীবনই ছিল প্রতিকূলতায় ভরা। একদিকে তাঁর নিজের ভাইদের (কামরান, আসকারি ও হিন্দাল) অসহযোগিতা, অন্যদিকে আফগান নেতা শেরশাহ সূরীর ক্রমবর্ধমান শক্তি তাঁর শাসনকালকে অস্থির করে তোলে। ১৫৪০ সালে শেরশাহের কাছে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়ে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর যাযাবরের মতো নির্বাসিত জীবন কাটান। অবশেষে ১৫৫৫ সালে পারস্যের শাহর সহায়তায় তিনি পুনরায় দিল্লি পুনরুদ্ধার করেন, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে তার পরের বছরই গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পড়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শেরশাহের সাথে প্রধান যুদ্ধসমূহ:

১. চৌসার যুদ্ধ (১৫৩৯): এই যুদ্ধে শেরশাহের কাছে হুমায়ুন পরাজিত হন। কোনোমতে গঙ্গা নদী পার হয়ে তিনি প্রাণ রক্ষা করেন। এই জয়ের পর শের খাঁ 'শেরশাহ' উপাধি ধারণ করেন।

২. কনৌজ বা বিলগ্রামের যুদ্ধ (১৫৪০): এটি ছিল হুমায়ুনের জীবনের সবচেয়ে বিপর্যয়কর যুদ্ধ। এই যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর তিনি দিল্লি ও আগ্রার ক্ষমতা হারিয়ে পারস্যে (ইরান) পালিয়ে যান এবং ভারতে সাময়িকভাবে মুঘল শাসনের অবসান ঘটে।

হুমায়ুনের প্রত্যাবর্তন ও মৃত্যু:

১৫ বছর নির্বাসনে থাকার পর, ১৫৫৫ সালে 'সরহিন্দের যুদ্ধে' আফগানদের পরাজিত করে হুমায়ুন পুনরায় দিল্লির সিংহাসন দখল করেন। কিন্তু তাঁর এই দ্বিতীয় দফার শাসনকাল ছিল মাত্র কয়েক মাসের। ১৫৫৬ সালে দিল্লির 'দীন-পানাহ' প্রাসাদের গ্রন্থাগারের (শের মণ্ডল) সিঁড়ি থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। ঐতিহাসিক লেনপুল তাঁর সম্পর্কে বলেছেন— “হুমায়ুন সারাজীবন হোঁচট খেয়েছেন এবং হোঁচট খেয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।”

Quick Notes:

  • পুরো নাম: নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ হুমায়ুন।

  • বোন ও সাহিত্য: তাঁর বোন গুলবদন বেগম তাঁর জীবনী 'হুমায়ুননামা' রচনা করেন।

  • স্থাপত্য: তিনি দিল্লিতে 'দীন-পানাহ' (ধর্মের আশ্রয়) নামে একটি নতুন শহর গড়ে তুলেছিলেন।

  • হুমায়ুনের সমাধি: এটি দিল্লিতে অবস্থিত এবং মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। এটি তাঁর স্ত্রী হামিদা বানু বেগমের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছিল। এই সমাধিকে 'তাজমহলের পূর্বসূরী' বলা হয়।

  • বাংলার নাম: গৌড় বিজয়ের পর সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি গৌড়ের নাম রেখেছিলেন 'জান্নাতাবাদ'

হুমায়ুনের শাসনকাল:

বিষয়তথ্য
বংশমুঘল
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীশেরশাহ সূরী
নির্বাসন কাল১৫৪০–১৫৫৫ (১৫ বছর)
মৃত্যু১৫৫৬ (সিঁড়ি থেকে পড়ে)

হুমায়ুনের এই ১৫ বছরের নির্বাসনকালে ভারতে যে শক্তিশালী রাজবংশ শাসন করেছিল, সেটি হলো সূর বংশ

জেনে নিই

  • ১৫৪০ সালে কনৌজের যুদ্ধে শের শাহের কাছে পরাজিত হয়ে সাম্রাজ্য হতে বিতাড়িত হন।
  • ১৫৩৮ সালে বাংলার নামকরণ করেন জান্নাতাবাদ।
  • বাবরের জ্যৈষ্ঠ পুত্রের নাম হুমায়ুন। হুমায়ূন শব্দের অর্থ ভাগ্যবান।
  • চৌসার যুদ্ধ হয় ১৫৩৯ সালে শের শাহের সাথে।
  • হুমায়ুন পুনরায় সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন ১৫৫৫ সালে ।
  • হুমায়ুন মৃত্যুবরণ করেন গ্রন্থাগারের সিঁড়ি হতে পড়ে ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...