দিল্লি সালতানাত

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান - | NCTB BOOK

2.5k
দিল্লি সালতানাত

দিল্লি সালতানাত মূলত পাঁচটি প্রধান রাজবংশের শাসনের সমষ্টি। এই শাসনের সূচনা করেন কুতুবুদ্দিন আইবেক, যিনি ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ ঘুরির সেনাপতি। প্রথম রাজবংশটি 'দাস বংশ' নামে পরিচিত (১২০৬–১২৯০)। এই বংশের উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সুলতান ইলতুতমিশ (যাকে সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়) এবং সুলতানা রাজিয়া ( দিল্লির সিংহাসনে প্রথম নারী শাসক)। এরপর পর্যায়ক্রমে খিলজি বংশ (জালালুদ্দিন ও আলাউদ্দিন খিলজি), তুঘলক বংশ (গিয়াসুদ্দিন, মোহাম্মদ বিন ও ফিরোজ শাহ তুঘলক), সৈয়দ বংশ এবং সর্বশেষ লোদী বংশ দিল্লি শাসন করে। ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে বাংলার সাথে দিল্লির রাজনৈতিক সংযোগ তৈরি হয়। ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের মাধ্যমে বাংলা স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত অধিকাংশ সময় বাংলা দিল্লির অধীনে ছিল। ১৫২৬ সালে মুঘল সম্রাট বাবর ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করলে দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটে।

Content added By
Content updated By

দাস বংশের ইতিহাস ( ১২০৬ - ১২৯০ খ্রিস্টাব্দ ) দাস বংশের ইতিহাস শুরু কুতুবউদ্দিন আইবকের হাত ধরে । কুতুবউদ্দিন আইবক ( ১২০৬ - ১২১০ খ্রিস্টাব্দ ) মহম্মদ ঘোরীর দাস ছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবক। নিঃসন্তান ঘোরীর মৃত্যুর পর তার বিশ্বস্ত সেনাপতি তথা দাস কুতুবউদ্দিন আইবক ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন নরপতি ঘোষণা করেন। আইবক কথাটির অর্থ হলো দাস। কুতুবউদ্দিন  আইবক ছিলেন দিল্লির প্রথম সুলতান ও ভারতে দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা।

Content added By

কুতুবউদ্দিন আইবেক মুহম্মদ ঘুরীর একজন ক্রীতদাস হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি মুহম্মদ ঘুরীর অনুমতিক্রমে ভারত বিজয়ের পর দিল্লীতে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন ১২০৬ সালে। উপমহাদেশে স্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক। ১২০৬ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ৩০০ বছর ধরে ভারতে শাসনকারী একাধিক মুসলিম সাম্রাজ্যসমূহ দিল্লি সালতানাত নামে পরিচিত।

জেনে নিই

  • কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন তুর্কিস্তানের অধিবাসী।
  • উপমহাদেশে প্রথম স্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা, তার রাজধানী ছিল দিল্লি।
  • দানশীলতার জন্য তাঁকে লাখবক্স' বলা হত।
  • কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুবমিনার (সুউচ্চ মিনার) নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
  • 'আড়াই দিনকা পড়া' মসজিদ নির্মাণ করেন- আজমিরে।
  • দিল্লীর বিখ্যাত সাধক কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকির নামানুসারে এর নাম রাখা হয় কুতুবমিনার
  • কুকুরউদ্দিন আইবেক ও তাঁর উত্তরাধিকারদের শাসনামলকে প্রাথমিক যুগের তুর্কী শাসনও বলা হয়।
Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ (১২১১-১২৩৬ খ্রি.) কে দিল্লির সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। ভারতে মুসলমান শাসকদের মধ্যে তিনিই প্রথম মুদ্রা প্রচলন করেন। ইলতুৎমিশ ১২২৯ খ্রি. বাগদাদের খলিফা আল মুনতাসির বিল্লাহ কর্তৃক 'সুলতান-ই-আজম' উপাধিতে ভূষিত হন। সুলতান ইলতুৎমিশ চল্লিশজন তুর্কি ক্রীতদাসদের নিয়ে একটি দল গঠন করেন যা ইতিহাসে 'বন্দেগান-ই-চেহেলগান' বা চল্লিশ চক্র নামে পরিচিত।

কুতুব মিনার

অবস্থান: দিল্লি, ভারত।

নির্মাতা : কুতুবউদ্দিন আইবেক নির্মাণ কাজ শুরু করলেও সমাপ্ত করেন তাঁর জামাতা সুলতান ইলতুৎমিশ।

নামকরণ: দিল্লির বিখ্যাত সাধক কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকির নামানুসারে।

সুলতান ইলতুতমিশকে দিল্লী সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কুতুবউদ্দিন আইবেকের জামাতা ছিলেন ইলতুতমিশ। শামসুদ্দিন ইলতুতমিশের উপাধি সুলতান-ই আজম। তিনি বন্দেগান-ই-চেহেলগান বা চল্লিশ চক্র নামে দল গঠন করেন তুর্কি দাস নিয়ে। ভারতে মুসলমান শাসকদের মধ্যে তিনি প্রথম মুদ্রা প্রচলন করেন। তিনি কুতুবমিনারের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করেন।

Content added By
Content updated By

ইলতুতমিশের কন্যা ছিলেন সুলতানা রাজিয়া। ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি ছিলেন দিল্লীর মসনদে আরোহণকারী প্রথম মুসলমান নারী।

সুলতানা রাজিয়া ছিলেন দাস বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ-এর সুযোগ্য কন্যা। ইলতুতমিশ তাঁর পুত্রদের অযোগ্যতা বিবেচনা করে রাজিয়াকে তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান, যা ছিল তৎকালীন সময়ে একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। ১২৩৬ সালে সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি 'সুলতানা' উপাধি গ্রহণ করেন (যদিও তিনি নিজেকে 'সুলতান' বলতেই পছন্দ করতেন)। তিনি একজন দক্ষ যোদ্ধা এবং দূরদর্শী শাসক ছিলেন। পর্দার অন্তরালে না থেকে তিনি পুরুষের পোশাক পরিধান করে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে এবং রাজদরবারে উপস্থিত হতেন। প্রশাসনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি তুর্কি অভিজাতদের (চল্লিশ চক্র বা বন্দেগান-ই-চাহেলগান) একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করার চেষ্টা করেন। তিনি অ-তুর্কি জাবাশী ক্রীতদাস জালালুদ্দিন ইয়াকুতকে উচ্চপদে আসীন করলে তুর্কি আমিররা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। বিদ্রোহী নেতা আলতুনিয়ার কাছে পরাজিত হয়ে তিনি বন্দি হন, কিন্তু কৌশলে আলতুনিয়াকে বিবাহ করে পুনরায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেন। তবে ১২৪০ সালে কৈথালের কাছে এক যুদ্ধে তিনি পরাজিত ও নিহত হন।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সুলতান নাসিরউদ্দিন অত্যন্ত ধর্মভীরু লোক ছিলেন। সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের জন্য তিনি ফকির বাদশাহ নামে পরিচিত। তিনি কুরআনের প্রলিপি ও টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নাসির উদ্দিন মাহমুদ ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুতমিশের কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি দিল্লির সিংহাসনে প্রায় ২০ বছর রাজত্ব করেন। তবে ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি ছিলেন একজন নামমাত্র শাসক বা 'পুতুল সম্রাট'। শাসনের প্রকৃত ক্ষমতা ছিল তাঁর প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান সেনাপতি গিয়াসউদ্দিন বলবনের হাতে। নাসির উদ্দিন মাহমুদ তাঁর অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনের জন্য ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত। প্রচলিত আছে যে, রাজকোষ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ না করে তিনি কুরআন নকল করে এবং টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ কারণে তাঁকে অনেক সময় 'দরবেশ সুলতান' বা 'ফকির সুলতান' হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁর সময়ে শাসনকার্যে বলবনের একক আধিপত্যের কারণে তুর্কি অভিজাতদের (চল্লিশ চক্র) মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যা দমন করার দায়িত্ব বলবনই অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করেন। ১২৬৬ সালে সুলতানের মৃত্যুর পর তাঁর কোনো উত্তরাধিকারী না থাকায় বলবন নিজেই দিল্লির সুলতান হিসেবে সিংহাসনে বসেন।

Content added By
Content updated By

সুলতান গিয়াসউদ্দিন বিদ্যোৎসাহী ও গুণীজনের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। শান্তি শৃঙ্খলার জন্য 'রক্তপাত ও কঠোর নীতি' (Blood & Iron Policy) অবলম্বন করেন। 'মহান শাসক' উপাধি লাভ করেন তিনি। "ভারতের তোতা পাখি' (বুলবুল-ই-হিন্দু) নামে পরিচিত আমীর খসরু বলবনের দরবার অলংকৃত করতেন।

গিয়াসউদ্দিন বলবন ছিলেন দিল্লি সালতানাতের দাস বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং কঠোরতম শাসক। তিনি সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০ বছর এবং পরবর্তীতে সুলতান হিসেবে ২১ বছর শাসন করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল সুলতানের মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং বিশৃঙ্খলা দমন করা। তিনি অত্যন্ত কঠোর হস্তে তুর্কি অভিজাতদের শক্তিশালী সংগঠন 'চল্লিশ চক্র' (বন্দেগান-ই-চাহেলগান) ধ্বংস করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সুলতান হলেন পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি (জিলুল্লাহ), তাই তিনি দরবারে 'সিজদা' (সুলতানকে মাথা নত করে অভিবাদন) এবং 'পায়বোস' (সুলতানের পদচুম্বন) প্রথা প্রবর্তন করেন। অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষায় তিনি একটি অত্যন্ত দক্ষ ও শক্তিশালী গোয়েন্দা বাহিনী গঠন করেন এবং 'রক্ত ও লৌহ নীতি' (Blood and Iron Policy) অনুসরণের মাধ্যমে মেওয়াটি দস্যু ও বিদ্রোহ দমনে চরম কঠোরতা প্রদর্শন করেন। তাঁর সময়েই বাংলার সুবাদার তুঘরিল খাঁ বিদ্রোহ করলে বলবন নিজে বাংলায় এসে বিদ্রোহ দমন করেন।

Content added By
Content updated By

১২৯০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর প্রাথমিক তুর্কী সালতানাতের অবসান ঘটে। এরপর শুরু হয় খলজী বংশের শাসন। খলজীগণ ভারতে আসার আগে দীর্ঘদিন আফগানিস্তানে বসবাস করে। এজন্য কোন কোন ঐতিহাসিক তাদেরকে পাঠান বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে তারা ছিলেন তুর্কী। জালালউদ্দীন ফিরোজ খলজী ছিলেন এই বংশের প্রথম সুলতান। তিনি ছিলেন দুর্বল প্রকৃতির শাসক। তাঁকে হত্যা করে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা আলাউদ্দীন খলজী সুলতান হন। তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী ও শক্তিশালী শাসক। খলজী বংশের সকল গৌরব বস্তুত: আলাউদ্দীনেরই প্রাপ্য। রাজ্য বিস্তার, সাম্রাজ্যে সুশাসন প্রবর্তন, মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্থাপত্য শিল্পের বিকাশ ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই আলাউদ্দীন তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখেন। খলজী বংশ মোট ত্রিশ বছর শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। তার মধ্যে বিশ বছরই শাসন করেন আলাউদ্দীন খলজী (১২৯৬-১৩১৬)। আলাউদ্দীন খলজীর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীগণ তাঁর রেখে যাওয়া বিশাল সাম্রাজ্য কিংবা শাসনব্যবস্থা কোনটাই ধরে রাখতে পারেননি। ফলে আমীরগণ আবার শক্তিশালী হয়ে উঠেন। খলজী বংশের পর তুঘলক বংশ শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।

খলজীদের ক্ষমতারোহণ

বলবনের পর তাঁর পৌত্র কায়কোবাদ দিল্লীর সুলতান হন। যৌবনকাল পর্যন্ত তাঁকে অত্যন্ত কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে লালন-পালন করা হয়েছিল। সুলতান হওয়ার পর তিনি অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠেন। মাত্র দু'বছরের মধ্যে তিনি পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হন। আমীরগণ তখন তাঁকে সিংহাসনচ্যুত করেন। তাঁর স্থলে তাঁর পুত্র কায়মুরসকে সুলতান করা হয়। কায়মুরসের বয়স তখন মাত্র তিন বছর। এই সময় খলজী মালিকগণ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। খলজীগণ তুর্কিস্তানের লোক। তুর্কিস্ত ান থেকে এসে তারা দীর্ঘদিন আফগানিস্তানে বসবাস করে। সেখান থেকে আসে ভারতে। আফগানিস্ত ান থেকে আসার কারণে জিয়াউদ্দীন বারণী প্রমুখ ঐতিহাসিক তাদেরকে আফগান বলেছেন। তবে প্রকৃতপক্ষে তারা ছিলেন তুর্কী। খলজী মালিকগণ কায়মুরসকে সরিয়ে জালালউদ্দীন ফিরোজ খলজীকে সিংহাসনে বসান।

Content added By

জালালউদ্দিন খলজি (ফিরুজ) ছিলেন খলজি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম সুলতান। এই বংশ ১২৯০ থেকে ১৩২০ সাল পর্যন্ত দিল্লির সুলতানি শাসন করে। জালালউদ্দিন মামলুক (কৃতদাস) রাজবংশের আধিকারিক হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এটি দিল্লি সালতানাত শাসনকারী দ্বিতীয় রাজবংশ। এটি ছিল তুর্কি-আফগান বংশোদ্ভূত মুসলিম রাজবংশ। ১২৯০ থেকে ১৩২০ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই রাজবংশ দক্ষিণ এশিয়ার বিরাট অংশ শাসন করে। ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি ছিলেন খলজি বংশেরই বংশধর। ১৩২০ সালে পাঞ্জাবের শাসনকর্তা গাজী মালিক সিংহাসন দখল করেন।

Content added || updated By

আলাউদ্দীন খলজি (১২৯৬-১৩১৬ খ্রি.) প্রথম মুসলমান শাসক হিসাবে দাক্ষিণাত্য জয় করেন। দাক্ষিণাত্য অভিযানে নেতৃত্ব দেন সুলতানের সেনাপতি মালিক কাফুর। তিনি দক্ষিণ-ভারতের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত মুসলিম বিজয় পতাকা উড্ডীন করেন। সুলতান জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের উপর হস্তক্ষেপ করেন এবং প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য নির্দিষ্ট হারে বেধে দেন। সেলতান ফ্রান্সের রাজা চর্তদশ লুই এর ন্যায় ঘোষণা করেন, "আমিই রাষ্ট্র।”

আলাউদ্দিন খলজী (১২৯৬-১৩১৬ খ্রিস্টাব্দ) পর্যটক ইবনে বতুতা আলাউদ্দিন খলজীকে দিল্লীর শ্রেষ্ঠ সুলতান বলে অভিহিত করেছেন। আলাউদ্দিন খলজী জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য দ্রব্যের মূল্য নির্দিষ্ট করে দেন। দিল্লির বিখ্যাত আলাই দরওয়াজা তাঁরই কীর্তি। ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারনী, কবি আমির খসরু প্রমুখ গুণীজন তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন । মুসলমান শাসক হিসাবে দক্ষিণ ভারত জয় করেন। চতুদর্শ লুইয়ের মত আলাউদ্দিন খিলজি ঘোষনা করেন আমিই রাষ্ট্র। তিনি ১৩০৬ খ্রিস্টাব্দে দেবগিরির রাজারাদের দিল্লীর আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করেন। আলাউদ্দিন খিলজির সময় খিলজিরা সফলভাবে মোঙ্গল আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়।

Content added By
Content updated By
তুঘলক বংশ (১৩২০-১৪১৩ খ্রি:)

১৩১৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দীন খলজীর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর মাত্র চার বছরের মধ্যে খলজী বংশের অবসান ঘটে। এই বংশের শেষ সুলতান কুতুবউদ্দীন মুবারককে হত্যা করে খসরু মালিক নামক একজন আমীর ক্ষমতা দখল করেন। জন্মসূত্রে তিনি নিম্নবর্ণের হিন্দু। সিংহাসনে বসার পরও তিনি নীচ-স্বভাব ও মনোবৃত্তি ত্যাগ করতে পারেন নি। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি অপ্রিয় হয়ে পড়েন। তাঁর অত্যাচার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমীরগণ ঐক্যবদ্ধ হন। পাঞ্জাবের শাসনকর্তা গাজী মালিক এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধে খসরু মালিক পরাজিত ও নিহত হন। আমীরদের বিশেষ অনুরোধে গাজী মালিক সিংহাসনে বসতে রাজী হন। সিংহাসনে বসার সময় তিনি গিয়াসউদ্দীন তুঘলক উপাধি গ্রহণ করেন। এভাবে তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠা হয়। গিয়াসউদ্দীন তুঘলক, মুহম্মদ বিন-তুঘলক এবং ফিরোজশাহ তুঘলক এই বংশের তিনজন বিখ্যাত সুলতান। মুহম্মদ বিন-তুঘলকের পরিকল্পনাসমূহ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। ফিরোজশাহ তুঘলক জনপ্রিয় সুলতান ছিলেন। তাঁর শাসনব্যবস্থাকে 'মাতামহীসুলভ শাসনব্যবস্থা' বলা হয়। ফিরোজশাহ তুঘলকের শাসনামল থেকেই তুঘলক বংশের পতন শুরু হয়। তৈমুর লং ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে ভারত আক্রমণ করেন। তাঁর আক্রমণের ফলে তুঘলক বংশের জীবন প্রদীপ এক ফুৎকারে নিভে যায়। তুঘলক আমলে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি ঘটে। এ যুগে ইতিহাস, দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা, ভ্রমণকাহিনী প্রভৃতি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বহু গ্রন্থ রচিত হয়।

Content added By

তুঘলক সাম্রাজ্যের সূচনা হয়েছিল গিয়াসউদ্দিন তুগলকের মাধ্যমে। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে মুহাম্মদ বিন তুগলক ক্ষমতায় আসীন হন। তিনিই তুগলক সাম্রাজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছিলেন। তারপরও মুহাম্মদ বিন তুগলক তা দূর্বল রাজ্যনীতি, অসহিঞ্চুতা এবং রহস্যময় আচরনের কারণে সমালোচিত ছিলেন। তাই বাংলা এবং উর্দুতে তুগলকি কান্ড বলতে আজব এবং অবান্তর কান্ড-কারখানাকে বুঝায়।

Content added By

মুহম্মদ বিন তুগলক (১৩২৫-১৩৫১ খ্রি.) রাজ্য শাসনের প্রত্যক্ষ অসুবিধা দূর করার জন্য কেন্দ্রীয় রাজধানী দিল্লি থেকে দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। তিনি সোনা ও রূপার মুদ্রার পরিবর্তে প্রতীক তামার মুদ্রা প্রচলন করে মুদ্রামান নির্ধারণ করে দেন। মুহম্মদ বিন তুগলক কৃষির উন্নয়নের জন্য 'দিওয়ান-ই-কোহী' নামে স্বতন্ত্র কৃষি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন 'আমির কোহী'।

মুহম্মদ বিন তুঘলক অত্যন্ত প্রতিভাবান ও শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন।তিনি রাজধানী দিল্লি থেকে দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। উত্তর ভারতে মঙ্গলদের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তিনি রাজধানী দিল্লিতে ফেরত আনেন।তিনি সোনা ও রূপার মুদ্রার পরিবর্তে প্রতীক তামার মুদ্রা প্রচলন করেন। তিনি কৃষির উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করেন দেওয়ান-ই- কোহি নামে কৃষিবিভাগ।

গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র জুনা খাঁ 'মোহাম্মদ বিন তুঘলক' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে বসেন। তিনি একাধারে গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তাঁর শাসনকাল ছিল দুঃসাহসিক সব প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রচেষ্টায় ভরপুর। তবে বাস্তবজ্ঞানের অভাব, অতি-উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং পারিপার্শ্বিক অসহযোগিতার কারণে তাঁর অধিকাংশ পরিকল্পনা হিতে বিপরীত হয়। তাঁর সময়েই দিল্লি সালতানাত ভৌগোলিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করেছিল, কিন্তু তাঁর শাসনকালেই আবার বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহের মাধ্যমে সালতানাত ভাঙতে শুরু করে। বিখ্যাত মরক্কান পর্যটক ইবনে বতুতা তাঁর সময়েই ভারতে আসেন এবং আট বছর দিল্লির কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিফল হওয়া ৫টি প্রধান পরিকল্পনাঃ

১. রাজধানী পরিবর্তন (১৩২৭ খ্রি.): মঙ্গোল আক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং দক্ষিণ ভারত শাসনের সুবিধার্থে তিনি রাজধানী দিল্লি থেকে ৭০০ মাইল দূরে দেবগিরিতে (নাম পরিবর্তন করে রাখেন দৌলতাবাদ) স্থানান্তর করেন। দিল্লির পুরো জনবসতিকে সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। পরে ব্যর্থতা স্বীকার করে তিনি পুনরায় দিল্লিতে ফিরে আসেন।

২. প্রতীকী তাম্র মুদ্রার প্রচলন (১৩২৯ খ্রি.): সোনা ও রূপার অভাব মেটাতে তিনি তামার তৈরি 'প্রতীকী মুদ্রা' (Token Currency) চালু করেন, যার মান রূপার মুদ্রার (তঙ্কা) সমান ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় মানুষ ঘরে ঘরে তামা দিয়ে জাল মুদ্রা তৈরি শুরু করে, যা অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় নিয়ে আসে।

৩. দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি: গঙ্গা ও যমুনার মধ্যবর্তী উর্বর দোয়াব অঞ্চলে তিনি কর বৃদ্ধি করেন। দুর্ভাগ্যবশত তখন সেখানে দুর্ভিক্ষ চলছিল। কৃষকরা কর দিতে না পেরে বিদ্রোহ শুরু করলে তিনি কঠোর হস্তে তা দমন করেন।

৪. খোরাসান অভিযান: পারস্যের খোরাসান জয়ের নেশায় তিনি ৩ লক্ষ ৭০ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী গঠন করেন এবং তাদের এক বছরের অগ্রিম বেতন দেন। কিন্তু পরে রাজনৈতিক সমীকরণে যুদ্ধ না হওয়ায় রাজকোষের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

৫. কারাজল অভিযান: হিমালয়ের পাদদেশে কুমাউনের উপজাতি দমনের জন্য তিনি বিশাল বাহিনী পাঠান। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক কারণে এই অভিযানে তাঁর প্রায় সব সৈন্য মারা যায়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মাহমুদ শাহ এর দুর্বলতার সুযোগে ১৩৯৮ সালে তৈমুর ভারত আক্রমণ করে দিল্লি অধিকার করেন। তৈমুর ছিলেন মধ্য এশিয়ার সমরকন্দের অধিপতি। শৈশবে তাঁর একটি পা খোড়া হয়ে যায় বলে তিনি তৈমুর লঙ নামেও অভিহিত। তার পিতার নাম আমির তুরঘাই।

তুঘলক বংশের শেষ সুলতান ছিলেন মাহমুদ শাহ। ১৩৯৮ সালে তৈমুর ভারত আক্রমণ করেন মাহমুদ শাহ এর আমলে। বিখ্যাত তুর্কি বীর তৈমুর ছিলেন মধ্য এশিয়ার সমরকদের অধিপতি। শৈশবে তাঁর একটি পা খোড়া হয়ে যায় বলে তিনি তৈমুর লঙ নামে পরিচিত।

নিচে তাঁদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলো:

১. সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪৩৫–১৪৫৯)

তিনি বাংলার পরবর্তী ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং অত্যন্ত সফল একজন শাসক ছিলেন।

  • বংশ পুনরুদ্ধার: রাজা গণেশ ও তাঁর বংশধরদের শাসনের পর তিনি ইলিয়াস শাহী বংশের গৌরব পুনরায় উদ্ধার করেন।

  • রাজধানী পরিবর্তন: তিনি পান্ডুয়া থেকে রাজধানী পুনরায় গৌড়ে স্থানান্তর করেন।

  • খান জাহান আলীর সমসাময়িক: বিখ্যাত সেনাপতি ও সাধক খান জাহান আলী তাঁর রাজত্বকালেই দক্ষিণ-বঙ্গে (বাগেরহাট) খলিফাতাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

  • স্থাপত্য: তাঁর সময়ে গৌড়ের বিখ্যাত 'ষাট গম্বুজ মসজিদ' (খান জাহান আলী কর্তৃক), 'নিন্টু গম্বুজ মসজিদ' ও 'দারাসবাড়ি মসজিদ' নির্মিত হয়।

  • বিখ্যাত উপাধি: তাঁকে 'খলিফাতুল্লাহ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

২. সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৫৩৩–১৫৩৮)

তিনি ছিলেন বাংলার হোসেন শাহী বংশের সর্বশেষ সুলতান।

  • ক্ষমতা হারানো: তাঁর শাসনামলেই বিখ্যাত আফগান নেতা শেরশাহ সূরী বাংলা আক্রমণ করেন।

  • মুঘল সংযোগ: শেরশাহের আক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনি মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সাহায্য চেয়েছিলেন।

  • ইতিহাসের মোড়: ১৫৩৮ সালে শেরশাহের কাছে তাঁর পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের (২০০ বছরের স্বাধীনতা) অবসান ঘটে এবং বাংলা মুঘল ও আফগান দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।

৩. সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ (দিল্লি সালতানাত)

ইনি ছিলেন দিল্লির দাস বংশের শাসক (১২৪৬-১২৬৬), যাঁর সম্পর্কে আপনি আগে জেনেছেন। তাঁকে 'দরবেশ সুলতান' বলা হতো এবং তাঁর নামেই 'তাবাকাত-ই-নাসিরি' গ্রন্থটি রচিত।

Content added By
Content updated By

খানজাহান আলী ছিলেন একজন মুসলিম ধর্মপ্রচারক। খানজাহান আলীর উপাধি উল্লুগ খান খান-ই-আজম। খান জাহান আলী তুঘলক সেনাবাহিনীতে সেনাপতির পদে যোগদান করেন- ১৩৮৯ সালে। তিনি রাজা গণেশকে পরাজিত করে বাংলার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন। তিনি বাগেরহাট জেলায় বিখ্যাত ষাটগম্বুজ মসজিদ (১৪৩৫-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ) নির্মাণ করেন। মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও মসজিদে গম্বুজ মোট ৮১টি তবে মসজিদের ভিতরে ষাটটি স্তম্ভ আছে। এটি বাংলাদেশের মধ্যযুগের সবচেয়ে বড় মসজিদ। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।

১. পরিচয় ও শাসনকাল

খান জাহান আলী ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত একজন সেনাপতি এবং সুফি সাধক। তিনি সুলতানি আমলে (বিশেষ করে সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের রাজত্বকালে) দক্ষিণ-বঙ্গ বা ভাটি অঞ্চল জয় ও শাসন করার জন্য প্রেরিত হন। তিনি মূলত ১৫শ শতাব্দীতে বর্তমান বাগেরহাট অঞ্চল শাসন করেছিলেন।

২. খলিফাতাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা

তিনি দক্ষিণ-বঙ্গে সুন্দরবনের কাছাকাছি একটি সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তোলেন, যার প্রশাসনিক নাম ছিল 'খলিফাতাবাদ'। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলা। তিনি এই দুর্গম এলাকাকে পরিষ্কার করে চাষযোগ্য ভূমি এবং বসবাসের উপযোগী করে তোলেন।

৩. স্থাপত্য শিল্প ও ইউনেস্কো স্বীকৃতি

খান জাহান আলী তাঁর স্থাপত্যশৈলীর জন্য অমর হয়ে আছেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত নির্মাণ হলো বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ

  • ষাট গম্বুজ মসজিদ: এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহত্তম মসজিদ। মজার বিষয় হলো, এর নাম 'ষাট গম্বুজ' হলেও এতে মোট গম্বুজ আছে ৮১টি (৭৭টি মূল গম্বুজ এবং ৪টি কর্নার টাওয়ারের গম্বুজ)।

  • ইউনেস্কো মর্যাদা: ১৯৮৫ সালে বাগেরহাটের এই মসজিদ শহরকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

৪. জনহিতকর কাজ (রাস্তা ও দিঘি)

তিনি কেবল শাসনকর্তা ছিলেন না, বরং একজন দক্ষ প্রকৌশলীও ছিলেন। তাঁর আমলে তৈরি হওয়া কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ:

  • খান জাহান আলী রোড: তিনি খুলনা থেকে বাগেরহাট পর্যন্ত একটি দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন।

  • দিঘি: সুপেয় পানির অভাব মেটাতে তিনি অসংখ্য দিঘি খনন করেন। এর মধ্যে বিখ্যাত হলো খাঁজালি দিঘি এবং ঘোড়া দিঘি। খাঁজালি দিঘিতে 'কালাপাহাড়' ও 'ধলাপাহাড়' নামে দুটি কুমির ছিল বলে লোককথা প্রচলিত আছে।

৫. মৃত্যু ও মাজার

১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে এই মহান সাধক মৃত্যুবরণ করেন। বাগেরহাটে তাঁর সমাধি বা মাজার অবস্থিত। তাঁর কবরের গায়ে খোদাই করা লিপি থেকে তাঁর জীবনকাল ও শাসন সম্পর্কে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

১৫২৬ সালে পানি পথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের নিকট দিল্লির লোদী বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীর পরাজয়ের মাধ্যমে দিল্লি সালতানাতের ৩২০ বছরের অবসান ঘটার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় মুঘল শাসনামল।

ইব্রাহীম লোদী (১৫১৭-১৫২৬ খ্রি.) ছিলেন দিল্লী সালতানাতের সর্বশেষ সুলতান।।

সৈয়দ বংশের পতনের পর বাহলুল লোদী এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। লোদী শাসনামল ছিল দিল্লি সালতানাতের শেষ অধ্যায়, যা প্রায় ৭৫ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এই বংশের শাসনামলেই ভারতের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে অনেক পরিবর্তন আসে এবং শেষ পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থানের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে।

১. বাহলুল লোদী (১৪৫১–১৪৮৯ খ্রি.)

  • প্রতিষ্ঠাতা: তিনি লোদী বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং দিল্লির সিংহাসনে আরোহণকারী প্রথম আফগান সুলতান।

  • সাফল্য: তিনি জৌনপুরের শক্তিশালী 'শার্কি সুলতানদের' পরাজিত করে দিল্লি সালতানাতের সীমানা পুনরায় বৃদ্ধি করেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন এবং আফগান আমিরদের তুষ্ট রাখার জন্য রাজদরবারে সিংহাসনে না বসে তাদের সাথে কার্পেটের ওপর বসতেন।

২. সিকান্দার লোদী (১৪৮৯–১৫১৭ খ্রি.)

  • শ্রেষ্ঠ শাসক: তিনি ছিলেন লোদী বংশের সবচেয়ে সফল এবং শক্তিশালী সুলতান।

  • আগ্রা শহর প্রতিষ্ঠা: ১৫০৪ সালে তিনি আগ্রা শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৫০৬ সালে রাজধানী দিল্লি থেকে আগ্রাতে স্থানান্তর করেন।

  • পরিমাপ পদ্ধতি: তিনি ভূমি পরিমাপের জন্য 'গজ-ই-সিকান্দারি' নামক একটি নতুন পদ্ধতি চালু করেন।

  • সাংস্কৃতিক অবদান: তিনি 'গুলরুখি' ছদ্মনামে ফার্সি ভাষায় কবিতা লিখতেন। তাঁর সময়েই পবিত্র আয়ুর্বেদ শাস্ত্র ফার্সি ভাষায় 'ফারহাঙ্গ-ই-সিকান্দারি' নামে অনুবাদ করা হয়।

৩. ইব্রাহিম লোদী (১৫১৭–১৫২৬ খ্রি.)

  • সর্বশেষ সুলতান: তিনি ছিলেন লোদী বংশ তথা দিল্লি সালতানাতের সর্বশেষ সুলতান।

  • উদ্ধত স্বভাব: সিকান্দার লোদীর মতো দূরদর্শী না হওয়ায় এবং আফগান আমিরদের সাথে কঠোর ব্যবহার করায় তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। তাঁর নিজের চাচা আলম খাঁ এবং পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খাঁ লোদী সম্রাট বাবরকে ভারত আক্রমণের আমন্ত্রণ জানান।

  • পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬): ১৫২৬ সালের ২১শে এপ্রিল পানিপথের প্রান্তরে বাবরের মুঘল বাহিনীর সাথে ইব্রাহিম লোদীর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে কামানের ব্যবহারের কারণে বাবরের ছোট বাহিনীর কাছে ইব্রাহিম লোদীর বিশাল বাহিনী পরাজিত হয়। ইব্রাহিম লোদী যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন, যার ফলে দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটে এবং ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা হয়।

Content added By
Content updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...