ধর্মপাল (৭৮১-৮২১)

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান - | NCTB BOOK

1.4k

পাল রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন ধর্মপাল। বাংলা ও বিহারব্যাপী তাঁর শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। তিনি পরমেশ্বর, পরমতারক মহারাজাধিরাজ উপাধি লাভ করেন। বিক্রমশীল উপাধি অনুসারে 'বিক্রমশীল বিহার' প্রতিষ্ঠা করেন। নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে ‘সোমপুর বিহার’ প্রতিষ্ঠা করেন। ধর্মপাল নেপাল পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন। 'সোমপুর বিহার' জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ১৯৮৫ সালে বিশ্বসভ্যতার নিদর্শন হিসেবে (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) স্বীকৃত হয়েছে।

ধর্মপাল (৭৮১ ৮২১ খ্রি.) ছিলেন পাল রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। বিক্রমশীল তাঁর উপাধি।

পাল সম্রাট ধর্মপাল (৭৮১–৮২১ খ্রিস্টাব্দ) গোপালের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল পাল বংশের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং তিনি ছিলেন এই বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। তাঁর ৪০ বছরের দীর্ঘ শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য উত্তর ভারতের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তিনি কনৌজের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধে (পাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকুট) অংশগ্রহণ করেন এবং সফলভাবে কনৌজ জয় করে সেখানে একটি দরবার আয়োজন করেন।

এই সাফল্যের কারণে তাঁকে 'উত্তরাপথ স্বামী' (উত্তর ভারতের প্রভু) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ধর্মপাল ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের একজন মহান পৃষ্ঠপোষক। তাঁর অমর কীর্তি হলো নওগাঁ জেলার বদলগাছিতে অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার, যা বর্তমানে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া তিনি বিক্রমশীলা বিহার এবং ওদন্তপুর বিহারসহ আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মঠ নির্মাণ করেন। তাঁর শাসনামলে বাংলায় শিল্পকলা ও শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং বাংলা রাজনৈতিকভাবে উত্তর ভারতে একটি শ্রেষ্ঠ শক্তি হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...