শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে। আওরঙ্গজেবের মামা ছিলেন শায়েস্তা খান। চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি মগ জলদস্যুদের উৎখাত করেন। আরাকানি জলদস্যুদের হটিয়ে তিনি চট্টগ্রামের নাম রাখেন ইসলামাবাদ। শায়েস্তা খান বাংলা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন। টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত শায়েস্তা খানের আমলে। তাঁর আমলের স্থাপত্যশিল্প ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা, চক মসজিদ, সাত গম্বুজ মসজিদ, পরি বিবির মাজার (শায়েস্তা খানের মেয়ে), হোসেনী দালান, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, প্রভৃতি।
বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং দীর্ঘমেয়াদী মোগল সুবাদার ছিলেন শায়েস্তা খাঁ। তিনি দুই দফায় (১৬৬৪-১৬৭৮ এবং ১৬৮০-১৬৮৮) প্রায় ২৪ বছর বাংলা শাসন করেন। তাঁর আমলকে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং স্থাপত্য শিল্পের প্রসারের জন্য 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।
১. পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক
পরিচয়: তিনি ছিলেন সম্রাট শাহজাহানের পত্নী মমতাজ মহলের ভাই। অর্থাৎ, সম্রাট আওরঙ্গজেবের আপন মামা।
উপাধি: সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে 'আমীর-উল-উমারা' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
২. সামরিক সাফল্য: চট্টগ্রাম বিজয় (১৬৬৬)
শায়েস্তা খাঁর শাসনের সবচেয়ে বড় গৌরবময় অধ্যায় হলো চট্টগ্রাম জয়।
মগ ও পর্তুগিজ দমন: বাংলার দক্ষিণ উপকূলে মগ (আরাকানি) এবং পর্তুগিজ জলদস্যুদের চরম উৎপাত ছিল। শায়েস্তা খাঁ একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠন করে তাদের পরাজিত করেন।
ইসলামাবাদ: ১৬৬৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম দখল করেন এবং এর নতুন নাম রাখেন 'ইসলামাবাদ'। তিনি সন্দ্বীপও মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।
৩. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: ১ টাকায় ৮ মণ চাল
শায়েস্তা খাঁর আমল সাধারণ মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে সুলভ দ্রব্যমূল্যের জন্য।
দ্রব্যমূল্য: তাঁর আমলে বাংলায় কৃষিতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছিল। কথিত আছে, তখন মাত্র ১ টাকায় ৮ মণ চাল পাওয়া যেত।
স্মৃতিচিহ্ন: তিনি যখন ১৬৮৮ সালে চিরতরে ঢাকা ত্যাগ করেন, তখন পশ্চিম দিকের একটি তোরণ (পুরান ঢাকার চকবাজার সংলগ্ন) বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং লিখে গিয়েছিলেন— “আমার মতো সস্তায় চাল না খাওয়াতে পারলে এই দরজা কেউ খুলো না।”
৪. স্থাপত্যশৈলী ও 'শায়েস্তা খাঁ রীতি'
ঢাকাকে স্থাপত্যের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর আমলের স্থাপত্যকলাকে 'শায়েস্তা খাঁ রীতি' বলা হয়।
লালবাগ কেল্লা: এই দুর্গের কাজ শাহজাদা আজম ১৬৭৮ সালে শুরু করলেও, শায়েস্তা খাঁ এর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ অংশ (যেমন: পরী বিবির মাজার) নির্মাণ করেন।
পরী বিবির মাজার: এটি তাঁর প্রিয় কন্যা ইরান দুখত (পরী বিবি)-এর সমাধি। এটি বাংলাদেশের একমাত্র স্থাপত্য যেখানে রাজস্থানের মাকরানা মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যান্য স্থাপত্য: চকবাজার শাহী মসজিদ, সাত গম্বুজ মসজিদ, ছোট কাটরা এবং হুসেনী দালান (সংস্কার)।
একনজরে শায়েস্তা খাঁ:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পুরো নাম | মির্জা আবু তালিব (শায়েস্তা খাঁ) |
| নিযুক্তকর্তা | সম্রাট আওরঙ্গজেব |
| রাজধানী | ঢাকা (জাহাঙ্গীরনগর) |
| প্রধান সামরিক সাফল্য | চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ বিজয় |
| মৃত্যু | ১৬৯৪ সালে আগ্রায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more