প্রাচীন বাংলার জনপদ: তাম্রলিপ্ত
হরিকেলের দক্ষিণে অবস্থিত ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ । সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে। গ্রিব বীর টলেমির মানচিত্রে বাংলায় 'তমলিটিস' নামে বন্দরনগরীর উল্লেখ পাও যায়, যা বাংলার প্রাচীনতম বন্দর।
তাম্রলিপ্ত ছিল প্রাচীন বাংলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদ এবং আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মেদিনীপুর জেলার তমলুক নামক স্থানটিই ছিল এই জনপদের প্রাণকেন্দ্র। এটি রূপনারায়ণ নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। প্রাচীনকালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার ছিল এই বন্দরটি। জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থে এই জনপদের সমৃদ্ধির কথা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক ফাহিয়েন এবং হিউয়েন সাঙ দুজনেই এই জনপদ ভ্রমণ করেছিলেন এবং এর বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। সপ্তম শতকের পর থেকে পার্শ্ববর্তী নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ার ফলে এবং পলি জমে যাওয়ার কারণে এই বন্দরটি ধীরে ধীরে তার গুরুত্ব হারাতে থাকে। মূলত মৌর্য ও গুপ্ত আমলে তাম্রলিপ্ত ছিল পুরো পূর্ব ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যিক বন্দর।