শাহজাহানের স্ত্রী মমতাজ মহলের গর্ভে চারপুত্র ও দুই কন্যা জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পুত্রদের নাম দারা, সুজা, আওরঙ্গজেব ও মুরাদ। কন্যাদের নাম ছিল জাহান আরা ও রওশন আরা। ভ্রাতৃযুদ্ধে জাহান আরা দারার পক্ষ এবং রওশন আরা আওরঙ্গজেবের পক্ষ সমর্থন করে। যুদ্ধে অপর ভাইদের পরাজিত করে আওরঙ্গজেব ক্ষমতা দখল করেন। সম্রাট শাজাহান তাঁর পুত্র আওরঙ্গজেবকে যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ 'আলমগীর' নামক তরবারী প্রদান করেন। জিন্দাপীরের সম্মানে বাংলার সুবাদার মীর জুমলা ১৬৬১ খ্রি. বিনাযুদ্ধে কুচবিহার মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। এসময় কুচবিহারের নাম রাখা হয়েছিল ‘আলমগীরনগর’।
সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগীর (১৬৫৮–১৭০৭)
তিনি ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের ষষ্ঠ এবং শেষ শক্তিশালী সম্রাট। তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই মূলত মুঘলদের স্বর্ণযুগের অবসান ঘটে।
১. রাজনৈতিক অর্জন ও উপাধি
উপাধি: তিনি 'আলমগীর' (বিশ্ববিজয়ী) এবং 'জিন্দা পীর' (জীবন্ত সাধু) নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর অনাড়ম্বর জীবনযাপনের জন্য তাঁকে জিন্দা পীর বলা হতো।
সীমানা বিস্তার: তাঁর সময়ে মুঘল সাম্রাজ্য ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভৌগোলিক বিস্তার লাভ করে (কাবুল থেকে চট্টগ্রাম এবং কাশ্মীর থেকে দক্ষিণ ভারত)।
বাংলার বিজয়: তাঁর আমলে ১৬৬৬ সালে শায়েস্তা খাঁ চট্টগ্রাম জয় করেন এবং এর নাম রাখেন 'ইসলামাবাদ'।
২. বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিসমূহ
জিজিয়া কর (১৬৭৯): সম্রাট আকবর যে জিজিয়া কর রহিত করেছিলেন, আওরঙ্গজেব তা পুনরায় প্রবর্তন করেন।
ধর্মীয় নীতি: তিনি অনেক বেশি রক্ষণশীল ছিলেন এবং শরিয়াহ আইন কঠোরভাবে পালন করতেন। তিনি মদ্যপান, জুয়া এবং সঙ্গীত (রাজদরবারে) নিষিদ্ধ করেছিলেন।
শিখ বিদ্রোহ: শিখদের নবম গুরু তেগ বাহাদুরকে তিনি মৃত্যুদণ্ড দেন, যা মুঘল-শিখ সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটায়।
৩. দাক্ষিণাত্য নীতি (Deccan Policy)
আওরঙ্গজেব তাঁর জীবনের শেষ ২৫ বছর দক্ষিণ ভারত জয়ে ব্যয় করেন। একে ঐতিহাসিকরা 'দাক্ষিণাত্য ক্ষত' (Deccan Ulcer) বলেন।
এটি মুঘল রাজকোষকে শূন্য করে দেয়।
মারাঠা নেতা শিবাজীর সাথে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মুঘল শক্তির ভিত নাড়িয়ে দেয়।
৪. স্থাপত্য ও সাহিত্য
স্থাপত্য: লাহোরের বাদশাহী মসজিদ, দিল্লির লাল কেল্লার মতি মসজিদ এবং তাঁর স্ত্রীর সমাধি বিবি কা মাকবারা (দ্বিতীয় তাজমহল)।
সাহিত্য: তাঁর সময়ে ইসলামি আইনের বিখ্যাত সংকলন 'ফাতাওয়া-ই-আলমগিরি' রচিত হয়।
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | ১৬১৮ (গুজরাট) |
| পিতা ও মাতা | শাহজাহান ও মমতাজ মহল |
| রাজত্বকাল | ১৬৫৮–১৭০৭ (৪৯ বছর) |
| প্রধান সেনাপতি | মীর জুমলা ও রাজা জয়সিংহ |
| সমাধি | খুলদাবাদ (মহারাষ্ট্র) |
আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এরপরের শাসকদের 'পরবর্তী মুঘল' বলা হয়।
জেনে নিই
- সম্রাট আওরঙ্গজেব অতিশয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন।
- তাঁকে 'জিন্দাপীর' বলা হয়।
- ফতওয়া-ই-আলমগীরী রচনা করেন আওরঙ্গজেব।
- তিনি জিজিয়া কর পুনঃস্থাপন করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more