চরিযা পিটক (ষষ্ঠ অধ্যায়)

পদ্য - পালি - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

266
Please, contribute by adding content to চরিযা পিটক.
Content

১। অরিফ্টসবহযে নগরে সিবিনামাসি খত্তিযো নিসজ্জ পাসাদবরে এবং চিন্তেস'হং তদা।
২। যং কিঞ্চি মানুসং দানং অদিন্নং মে ন বিজ্ঞতি যোপি যাচেয্য মং চং দদেয্যং অবিকম্পিতো।
৩। মম সংকল্পং অঞঞায সক্কো দেবানং ইসরো নিসিন্নো দেব পরিসায ইদং বচনং অববি। 1
81 নিসজ্জ পাসাদবরে সিবি রাজা মহিদ্ধিকো চিন্তেন্তো বিবিধং দানং অদেয্যং সো ন পস্সতি।
৫। তথং নু বিতথং এতং হন্দ বিমংসযামি তং মুহুত্তং আগময্যাথ যাব জানামি তং মন'ন্তি।
৬। পবেধমানো ফলিতসিরো বলিতগত্তো জরাতরো অন্ধবপ্নো ব হুত্বান রাজানং উপসঙ্কমি।
৭। সো তদা পদ্গহেত্বান বামং দক্মিণবাহু চ সিরস্মিং অঞ্জলিং কত্বা ইদং বচনং অব্রবি।
৮। যাচামি তং মহারাজ ধম্মিকরঠবনং তাব দানরতা কিত্তি উগ্‌গ্নতা দেবমানুসে।
৯। উভোপি নেত্তা নযনা অন্ধা উপহতা মম একং মে নযনং দেহি ত্বং পি একেন যাপযা'তি।
১০। তত্সা'হং বচনং সুত্বা হঠো সংবিগ্‌গমানসো কতঞ্জলি বেদজাতো ইদং বচনং অব্রবিং।
১১। অহো মে মানসং সিদ্ধং সংকম্পো পরিপূরিতো অদিন্নপুর্ব্বং দানবরং অজ্জ দস্সামি যাচকে।
১২। ইদানা'হং চিন্তহিত্বান পাসাদতো ইধাগতো ত্বং মম চিত্তং অঞঞায নেত্তং যাচিতং আগতো।
১৩। এহি সিবক উঠেহি মা দন্তহি মা পবেধযি উভোপি নযনে দেহি উপাতেত্বা বনিব্বকে।
১৪। ততো সো চোদিতো মযহং সিবকো বচনং করো উদ্ধরিত্বান পাদাসি তালমিঞ্জং ব যাচকে।
১৫। দদমানস দেন্তস্স দিন্নদানস মে সতো চিত্তস অঞথা নথি বোধিযা যেব কারণা।
১৬। ন মে দেস্সা উত্তো চন্ধু অত্তান মেন দেস্সিযো সব্বতং পিষং মযহং তমা চ礫ং অদাসি হস্তি।

শব্দার্থ

অরিঠসবহযে - অরিষ্ট নামক: সিবিনামাসি - শিৰি নামক; খত্তিযো - ক্ষত্রিয়; নিসজ্জ - বসে; পাসাদবরে - উত্তম প্রাসাদে; চিন্তেস'হং - আমি চিন্তা করেছিলাম; তদা - তখন; যং কিঞ্চি - যা কিছু; দানং অদিল্লং - দান দেওয়ার আছে; মেন বিজ্ঞতি - আমার দেওয়া হয় নি; যোপি - যে কেউ; যাচেয্য - যাচনা কররে; মং চক্ষুং - আমার চক্ষু; দদেয্যং - দিব; অবিকম্পিক্কো - অবিচলিত চিত্তে; মম সংকম্পং - আমার সংকল্প; সক্কো ইন্দ্র' অংজ্ঞায় - জ্ঞাত হয়ে; দেৱানং ইসরো - দেবরাজ; বচনং - কথাঃ নিসিল্লো - বসে; দেবপরিসায - দেব পরিষদে; অব্রবি - বলেছিলেন; মহিদ্ধিকো - মহাঋদ্ধিমান; চিন্তেন্তো - চিন্তা করে; অদেয্যং - দেওয়া হয় নি; তথং - ঠিক; মুহুত্তং - মুহূর্তের মধ্যে ; বিতথং - মিথ্যা, ভ্রান্ত; বিমংসধ্যমি - পরীক্ষা করব; পবেধমানো - পক্ককেশ; অব্দ - আজ; সস্সামি - দিব; চিন্তহিত্বান - চিন্তা করে; বনিককে - প্রার্থীকে; ইধাগতো (ইধং আগতো) - এখানে এসেছি; সীবক - অসত্ত্ব চিকিৎসক; উঠেছি - উঠুন; মা পষেধমি - ভীত হয়ো না; উম্পাটেতা - উৎপাটিত করে, উপড়ে ফেলে; চোদিতো - কথামত; তালমিঞ্জং - তালের শাঁস; চিত্তস্স্স অজ্ঞথা - মনের বিরূপ ক্রিয়া: বোধিযা - বোধি লাভের জন্য; দেস্সা - ঈর্ষার পাত্র; সবভূতং - সর্বজ্ঞতা।

সারমর্ম

বোধিসত্ত্ব একসময় অরিষ্ট নগরে শিৰি নামে রাজা হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। একদিন প্রাসাদে বসে তিনি চিন্তা করছিলেন, আয় কিছু দান দেওয়ার বাকি আছে কিনা। তাঁর চক্ষু দান করার কথা ভাবলেন। দেবরাজ ইন্দ্র তা সত্য কিনা পরীক্ষা করবার জন্য মুহূর্তের মধ্যে রাজার নিকট উপস্থিত হলেন। ইন্দ্র পঞ্চকেশে জরাগ্রস্থ কুঞ্চিত দেহে এক অন্ধের বেশে শিবি রাজার একটি চক্ষু চাইলেন। দেবরাজ দুই হস্ত দ্বারা অঞ্জলিবদ্ধ হয়ে রাজার দানের প্রশংসা করলেন। দুই চক্ষু অন্ধকে একটি চক্ষু দান করে অপরটি দ্বারা তাঁকে কালযাপন করতে বললেন। রাজা প্রাসাদ থেকে নেমে এসেছিলেন কাউকে চক্ষু দান করার জন্য। তাঁর মনের বাসনা পূর্ণ হয়েছে। সংকল্প সিদ্ধ হয়েছে।

শিবিরাজ অস্ত্র চিকিৎসককে ডেকে নিয়ে এলেন। ইতস্তত না করে তাঁর চক্ষু দুটি উৎপাটন করতে আদেশ দিলেন। সিবক (অস্ত্র চিকিৎসক) তাই করল। চক্ষু দুটি দান করার সময় শিবিরাজের কোনো ভাবান্তর হয় নি। এটা কেবল বুদ্ধত্ব লাভের জন্যই করেছিলেন। চক্ষু দুটি তাঁর ঈর্ষার পাত্র নয়। তিনি চক্ষুকে ভালবাসতেন না তাও নয়। তাঁর কাছে সর্বজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছিল। সেজন্যই চক্ষু দুটি দান করেছিলেন।

টীকা
শিবিরাজ

শিবিরাজ চরিতে বোধিসত্ত্ব কিভাবে দান পারমী পূর্ণ করেছিলেন তাই বর্ণিত হয়েছে। বোধিসত্ত্বের এরূপ দৃষ্টান্ত বিরল ঘটনা। শিবি জাতকেও অনুরূপ কাহিনী পাওয়া যায়।

অতীতে শিবিরাজ্যে শিবি মহারাজ রাজত্ব করতেন। বোধিসত্ত্ব অরিস্টপুর নগরে তাঁর পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম রাখা হয়েছিল শিবিকুমার। তিনি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তক্ষশিলায় গিয়ে বিদ্যাশিক্ষা করেন। শিক্ষা শেষে রাজধানী অরিস্টপুর নগরে ফিরে আসেন। পিতা তাঁর পাণ্ডিত্যের পরিচয় পেয়ে ঔপরাজ্য শাসনের ভার অর্পণ করেন। কালক্রমে শিবি মহারাজের মৃত্যু হলে শিবিকুমার রাজা হন। তিনি দুর্গতিগমন পরিহারের জন্য দশবিধ রাজধর্ম প্রতিপালন করে রাজত্ব করতেন। তিনি নগরের চারদ্বারে, নগরের মধ্যে এবং রাজপ্রাসাদের সম্মুখে ছয়টি দানশালা নির্মাণ করান। সেখান থেকে প্রতিদিন ছয় লক্ষ মুদ্রা ব্যয় করে মহাদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় নিজে দানশালায় গিয়ে বিতরণ-কার্য পর্যবেক্ষণ করতেন। তিনি পার্থিব সম্পদ সমস্ত দান করেন। বাহ্যদানে সন্তুষ্ট না হয়ে শেষ পর্যন্ত চক্ষু দুটি দান করে দানের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন।

চরিযা পিটক

সুত্ত পিটকের অন্তর্গত খুদ্দক নিকায়ের শেষ গ্রন্থ চরিযাপিটক। গ্রন্থটি সম্পূর্ণ গাথায় রচিত। এতে ৩৫টি কাহিনী আছে। বোধিসত্ত্বরূপে জন্ম-জন্মান্তরে বুদ্ধ যে পারমীগুলো পূরণ করেছিলেন সেগুলোর কথাই এতে বলা হয়েছে। স্বয়ং বুদ্ধ এ কাহিনীগুলো বিবৃত করেছিলেন।

কাহিনীগুলো জাতকের অনুরূপ। কেবল পারমিতার চর্যার উদ্দেশ্যেই এগুলো পদ্যে রচিত হয়েছে। রচনারীতি ধর্মপদের মতই। অকত্তি, ধনঞ্জয়, সুদর্শন, গোবিন্দ, চন্দ্রকিন্নর, বেসান্তর, সসপণ্ডিত, ভুরিদত্ত, চম্পেয্য, চুলবোধি, মহালোমহংস প্রভৃতি কাহিনীগুলো চরিযা পিটকের অন্তর্ভুক্ত। প্রথম বিশটি কাহিনীতে দান ও শীল পারমীর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ১৫টি চরিত-নৈষ্ক্রম্য, বীর্য, প্রজ্ঞা, ক্ষান্তি, সত্য, অধিষ্ঠান, মৈত্রী ও উপেক্ষা এ আটটি নিয়ে বর্ণিত হয়েছে।

Content added By

১। পুনাপরং যথা হোমি মহাযক্কো মহিদ্ধিকো, ধম্মো নাম মহাযক্কো সব্বলোকানুকম্পকো।
২। দসকসল কম্মপথে সমাদপেন্তো মহাজনং, চরামি গামনিগমং সমিত্তো সপরিজ্জনো।
৩। পাপো কদরিযো যা দীপেন্তো দসপাবকে, সো পেথ মহিযা চরতি সমিত্তো সপরিজ্জনো।
81 ধৰ্ম্মবাদী অধম্মো চ উভো পচ্চনিকা মযং, দুরে দুরং ঘট্টযন্তা সমিম্হা পটিপথে উভো।
৫। কলহো বত্ততি অস্মা কল্যাণ পাপকস চ, মগ্‌গা ওক্কমনস্থায মহাযুদ্ধো উপঠিতো।
৬। যদি অহং তত্স পকুষ্পেয্যং যদি ভিন্দে তপোগুণং, সহ পরিজনেন তস রজভূতং করেয্য'হং।
৭: অপি চা'হং সীলরায নিব্বাপেত্নান মানসং, সহ-জনেন ওক্রমিতা পথং পাপস্স অদাসি অহং।
৮। সহ পথতো ওক্কন্তো কত্বা চিত্তস নিৰ্ব্বতিং, বিবরং অদাসী পঠবী পাপযস্স তাবদেতি।

শব্দার্থ

পুনাপরং - পুনরায়; যদা - যখন; হোমি - হয়েছিলাম; মহিন্দ্বিকো - মহাঋদিধমান; সব্বলোকানুকম্পকো - পৃথিবীর সকলের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করে; দসকুসলকক্ষপথে - দশপ্রকার কুশলকর্মপথে; সমাদপেন্তো - সম্পন্ন করার জন্য; মহাজনং - মহাপরিষদ, অনেক লোক; চরামি - বিচরণ করেছিলাম; গামনিগমং - গ্রাম ও নগর; সমিত্তো - শান্ত অবস্থা; মযং - আমরা; কদরিযো - কদর্য; দীপেন্তো - আলোকিত করতে সপরিজ্জনো - পরিজনসহ; পচ্চনিকা - পাপীদের মধ্যে; কলহো - বিবাদ; মগ্‌গ - রাস্তা; ওক্রমনথায় - ছেড়ে দেওয়ার জন্য; উপঠিতো - অবতীর্ণ হল; সীলরাম - শীল রক্ষার জন্য; নিব্বাপেতান - প্রশমিত করতে; মানসং - মনোভাব; ওক্কমিত্বা - নেমে; পাপস - অধর্মকে: অদাসি - দিয়েছিলাম; চিত্তস্স নিৰ্ব্বতিং - মনকে প্রশান্ত করে; বিবরং - বিদীর্ণ।

সারমর্ম

বোধিসত্ত্ব একসময় মহাঋদ্ধিমান দেব-পরিষদের ধর্ম নামক গুণসম্পন্ন দেবপুত্র ছিলেন। তখনও তিনি জগতবাসীর প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করেছিলেন। মানুষকে দশপ্রকার কুশলকর্মে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাঁর পরিষদ নিয়ে গ্রামে নগরে পরিভ্রমণ করেছিলেন।

তিনি পাপকর্মে লিপ্ত অধর্ম নামক দেবপুত্র ও যক্ষদেরকে দশপ্রকার অকুশল কর্মপথ থেকে বিরত রাখার উপদেশ দিতেন। সেজন্য সমগ্র জম্বুদ্বীপ বিচরণ করেছিলেন। অধর্মবাদীর রথ ধর্মবাদীর রথের মুখোমুখি হয়েছিল। গতিপথে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় বিবাদ উৎপন্ন হয়। শেষে মহাযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়। তিনি তাদেরকে মুহুর্তের মধ্যে ভষ্মীভূত করতে পারতেন। কিন্তু তপঃগুণ ভঙ্গ হওয়ার ভয়ে তা করেন নি। শীল রক্ষার জন্য তাঁর মনকে প্রশমিত করেছিলেন।

পারমী পূরণের জন্য তিনি পরিজন সহ রথ থেকে নেমে অধর্মবাদীদেরকে পথ ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিবাদ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর এ শীলগুণে পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে পাপীকে গ্রাস করে। শীলগুণই জগতে শ্রেষ্ঠ।

টীকা
পারমী

পারমী বা পারমিতার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল পরম স্কিন তা অর্থাৎ পরমের ভাব। এর আসল অর্থ দাঁড়ায় পূর্ণতা। 'বোধি' বা জ্ঞান লাভ হলেই পূর্ণতা লাভ করা যায়। সর্বাপেক্ষা উৎকর্ষ সাধিত হয় এমন বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলিকেই পারমী বলে। পরম নির্বাণ লাভের অভিপ্রায়ে প্রজ্ঞাময় কুশল কর্মই পারমী।

পারমী দশ প্রকার। যথা দান, শীল, নৈষ্ক্রম্য, প্রজ্ঞা, বীর্য, ক্ষান্তি, সত্য, অধিষ্ঠান, মৈত্রী ও উপেক্ষা। সম্যক সম্বোধি লাভের জন্য বুদ্ধকে বোধিসত্ত্ব অবস্থায় উক্ত দশ প্রকার পারমী পূর্ণ করতে হয়েছিল।

Content added By

ক. নিম্নের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

১। শিবিরাজ চরিতের বিষয়বস্তুর বর্ণনা দাও:
২। শিবিরাজ কিভাবে দান পারমী পূর্ণ করেছিলেন? শিবিরাজ চরিতের আলোকে লেখ।
৩। শিবিরাজের জীবনী সংক্ষেপে আলোচনা কর।
৪। 'ধম্ম দেবদূত চরিযং' এর সারমর্ম তোমার নিজের ভাষায় লেখ।
৫। বোধিসত্ত্ব ধর্ম নামক দেবপুত্র হিসেবে জগতবাসীর প্রতি যে অনুকম্পা প্রদর্শন করেছিলেন তা উল্লেখ কর।

খ. সংক্ষেপে উত্তর লেখ:

১। চরিয়া পিটকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
২। শিবিরাজ কে ছিলেন? তিনি কীভাবে মহাদান দিয়েছিলেন?
৩। 'পারমী' বলতে কী বোঝ? পারমী কয় প্রকার ও কী কী?
৪। ধর্ম নামক দেবপুত্রের প্রকৃত পরিচয় কী? ধর্মবাদী ও অধর্মবাদীর মধ্যে বিবাদ উৎপন্ন হয়েছিল কেন?

গ. শূন্যস্থান পূরণ কর:

মম সংকল্পং ____ সক্কো দেবানং_______ !

নিসিন্নো ______ ইদং _____ অব্রবি।

পাপো _______ যক্খো‌_________ দসপাবকে

সো পেথ _______ চরতি _______ সপরিজ্জনো।

ঘ. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন দাও:

১। বোধিসত্ত্ব অরিষ্ট নগরে কোন রাজা হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

ক. মগধরাজ
খ. কোশলরাজ
গ. বারাণসীরাজ
ঘ. শিবিরাজ

২। চরিযা পিটকে কয়টি কাহিনী আছে?

ক. পঁচিশটি
খ. পঁয়ত্রিশটি
গ. পঁয়তাল্লিশটি
ঘ. পঞ্চান্নটি

৩। শিবিরাজ কাকে তাঁর দুটি চক্ষু দান করেছিলেন?

ক. দুই চক্ষু অন্ধ লোকটিকে
খ. দেবরাজ ইন্দ্রকে
গ. অর্হৎ ভিক্ষুকে
ঘ. চক্ষুপাল স্থবিরকে

৪। 'পাসাদবরে' শব্দটির বাংলা অর্থ কী?

ক. প্রাসাদের ওপরে
খ. প্রাসাদের ভেতরে
গ. উত্তম প্রাসাদে
ঘ. প্রাসাদের চারদিকে

৫। 'সর্বজ্ঞতা' শব্দের পালি কোনটি?

ক. সর্বতং
খ. অনুঞতং
গ. সলাযতনং
ঘ. রূপায়তনং

৬। 'পারমী' কয় প্রকার?

ক. আট প্রকার
খ. নয় প্রকার
গ. দশ প্রকার
ঘ. বার প্রকার

৭। শিবিকুমার কোথায় বিদ্যাশিক্ষা করেছিলেন?

ক. রাজগৃহে
খ. নালন্দায়
গ. অরিস্ট নগরে
ঘ. তক্ষশিলায়

Content added By
মালুঙ্ক্যপুত্তো থেরো

মনুজম্স পমত্তচারিনো তণহা বড়তি মালুবা বিষ,
সো পল্লবতি হুরাহুরং ফলমিচ্ছং'ব বনস্মিং বানরো।
যং এসা সহতে জম্মী তণহা লোকে বিসত্তিকা,
সোকা তস পবন্তি অভিবটুং'ব বীরণং।
যো বে তং সহতে জম্মিং তহং লোকে দুরচ্চযং,
সোকা তম্হা পপতন্তি উদবিন্দু'ব পোখরা।
তং বো বদামি ভদ্দং বো যাবন্তেথ সমাগতা,
তহায মূলং খনথ উসীরখো'ব বীরণং।
মা বো নলং'ব সেতো'ব মারো ভঞ্জি পুনপুনং,
করোথ বুদ্ধবচনং খণো বো মা উপচ্চগা।
খণা তীতা হি সোচন্তি নিরযাহ সমষ্পিতা, পমাদো রজো,
পমাদানুপতিতো রজো;
অপমাদেন বিজ্ঞায অব্বহে সল্লমত্তনো'তি।

শব্দার্থ

মনুজম্স - মানুষের; পমত্তচারিণো - প্রমত্তচারী; তণহা - তৃষ্ণা; মালুবা - মালুলতা, পত্রলতা (যে লতা অন্য বৃক্ষকে ধ্বংস করে); বিষ - মত, ন্যায়; বড়তি - বর্ধিত হয়; পল্লবতি - ধাবিত হয়; ফলমিচ্ছং'ব - ফলের প্রত্যাশায়; হুরাহুরং - এক স্থান থেকে অন্যস্থানে; বনস্মিং - বনে; বিসত্তিকা - বিষতুল্য; জম্মী - হীন, নিচ; সোকা - শোকসমূহ। বীরণ - বীরণতৃণ, বেণা বা খড় থেকে যে তৃণ জন্মে; সহতে - অভিভূত হয়, সহ্য হয়; উদবিন্দু'ব বৃষ্টির জলের ন্যায়; দূরচযং - দুরতিক্রম্য; অতিক্রম করা কষ্টসাধ্য; পবতি - প্রকৃষ্টরূপে বৃদ্ধি পায়; পপতন্তি - পড়ে যায়; পোখরা - পদ্ম; তং বো বদামি - সেই কারণে বলছি; যাবস্তেথ সমাগতা - যারা এখানে সমাগত হয়েছে; তহায মূলং - তৃষ্ণার মূল; খণথ - খনন কর; উসীরখো'ব বীরণং - বীরণ তৃণকে কোদাল দ্বারা; নলং'ব সেতো'ব - নদী তীরে জাত - নলবনকে নদীস্রোত যেমন; ভক্তি - ভেঙ্গে ফেলে; পুনপুনং - বারবার; করোথ - করবে; উপচ্চগা - অতিক্রম কর; খণাতীতা - সুক্ষণকে যারা অতিক্রম করে; নিরযাহ সমষ্পিতা - নিরয়ে পতিত হয়; পমাদানুপতিতো - প্রমাদের বশবর্তী হয়ে; সল্লমত্তনো - কামরাগাদি শল্যসমূহ (প্রতিবন্ধক)।

সারমর্ম

প্রমত্তচারী ব্যক্তির তৃষ্ণা মালুব লতার ন্যায় বৃদ্ধি পায়। বানর ফল লাভের আশায় বৃক্ষ থেকে বৃক্ষান্তরে গমন করে। তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিও ভব থেকে ভবান্তরে ধাবিত হয়। বিষতুল্য বিষাক্ত তৃষ্ণা যে ব্যক্তিকে অভিভূত করে তার শোক ক্রমেই বর্ধিত হয়। যিনি হীন তৃষ্ণা ধ্বংস করেন, তাঁর শোকসমূহ পদ্মপত্র থেকে জলবিন্দু পতনের ন্যায় দূরীভূত হয়।

সেই কারণে মালুঙ্ক্যপুত্র স্থবির উপস্থিত সবাইকে অপ্রমত্ত হয়ে তৃষ্ণার বিনাশসাধন করতে বলেছিলেন। কৃষকেরা বীরণ তৃণকে কোদাল দ্বারা খনন করেন। সেরূপ প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা অর্হৎমার্গরূপ প্রজ্ঞাকোদাল দিয়ে অবিদ্যাদি ক্লেশরাশিকে ছেদন করেন।

মারের রাজ্য অতিক্রম করার জন্য বুদ্ধবচন যথানিয়মে সম্পাদন করেন। যে বুদ্ধবচন রক্ষা করে না, সে সমস্ত সুক্ষণ অতিক্রম করে। তারা নিরয়ে পতিত হয়ে শোকার্ত হয়। দুঃখভোগ করে। প্রমাদ জন্মান্তর বৃদ্ধি করে। অপ্রমাদ ও মার্গফলরূপ বিদ্যা হৃদয়ে আশ্রিত কামরাগাদির মূল উৎপাটন করে।

টীকা
মালুঙ্ক্যপুত্ত থের

তিনি পূর্ববুদ্ধগণের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়ে গৌতম বুদ্ধের সময় শ্রাবস্তীর কোশলরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন অগ্রাসনিক। মাতার নাম মালুঙ্ক্যা। তাই মাতার নাম অনুসারে তিনি 'মালুঙ্ক্যপুত্র' বলে পরিচিত হন।
তিনি যৌবনে গৃহত্যাগ করে পরিব্রাজক হিসেবে ঘুরে বেড়ান। পরে বুদ্ধের ধর্ম শুনে প্রব্রজিত হন এবং সহসা ষড়াভিজ্ঞ হন। জ্ঞাতিদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তিনি তাঁদের নিকট যান। জ্ঞাতিগণ ভাল খাদ্য পরিবেশন করে ধনের প্রলোভন দেখান। তারা তাঁর সম্মুখে ধনসস্তূপ স্থাপন করেন। তাঁকে চীবর ত্যাগ করে সেই ধন দিয়ে সত্রী-পুত্র প্রতিপালন পূর্বক পুণ্যকার্য সম্পাদন করতে অনুরোধ জানান। স্থবির তাঁদের অভিপ্রায় জ্ঞাত হয়ে আকাশে উপবেশন করেন। সেই সময় তিনি যে গাথাগুলো ভাষণ করেছিলেন সেগুলোই থের গাথায় লিপিবদ্ধ হয়েছে।

থের গাথা

থের গাথা খুদ্দক নিকায়ের অষ্টম গ্রন্থ। এতে বুদ্ধের সমসাময়িক ২৬৪ জন থের কর্তৃক রচিত গাথা সংকলিত হয়েছে। জ্ঞানী ও বয়োবৃদ্ধ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের থের বা স্থবির বলা হয়। এ গ্রন্থে ১৩৬০টি গাথা আছে। গাথাগুলোকে ২১টি নিপাতে বিভক্ত করা হয়েছে: যেমনজ্জ একে নিপাত, দ্বিক নিপাত, তিক নিপাত ইত্যাদি। গাথার সংখ্যা অনুসারেই এটা করা হয়েছে। গাথাগুলোতে বৌদ্ধ স্থবিরদের অভিজ্ঞতা সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রসঙ্গে তাঁরা প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। বুদ্ধযুগে রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহের মধ্যে থেরগাথা অন্যতম। প্রব্রজ্যা জীবনের ঘটনা এবং লোকোত্তর জীবনের পূর্ণতা এতে সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে। তাছাড়া, বৌদ্ধ ধর্মের আদর্শ ও তত্ত্বগুলোর ব্যাখ্যা রয়েছে। লোভ, দ্বেষ, মোহ বর্জন করে সংসারের প্রতি অনাসক্ত হয়ে জীবনচর্চার উপদেশ রয়েছে। মেত্তা, করুণা, মুদিতা, উপেক্ষার আদর্শগুলো প্রতিপন্ন করা হয়েছে। মহাজ্ঞানী সারিপুত্র, মহাঋদ্ধিমান মৌদগল্যায়ন, আনন্দ, উপালি, বঙ্গীশ, অঙ্গুলিমাল, তালপুট প্রভৃতি স্থবিরদের জীবনের গতি ও পরিণতি সকলের চিত্ত আকর্ষণ করে।

Content added By

দিষা পাসাদছাযাযং চক্ৰমন্তং নরুত্তমং
তথ নং উপসঙ্কম্ম বন্দিসং পুরিসুত্তমং।
একংসং চীবরং কত্বা সংহরিত্বান পাণযো,
অনুচঙ্কমিং বিরজং সব্বসত্তানমুত্তমং।
ততো পহে অপুচ্ছি মং পহানং কোবিন্দো বিদু,
অচ্ছন্তী চ অভীতো চ ব্যাকাসিং সখুনো অহং।
বিস্সজ্জিতেসু পহেসু অনুমোদি তথাগতো,
ভিক্ষুসধ্বং বিলোকেড়া ইমমত্থং অভাস্থ।
লাভা অঙ্গান-মগধানং যেসাযং পরিভুঞ্জতি
চীবরং পিণ্ডপাতং চ পচ্চযং সযনাসনং।
পচ্চুট্‌ঠানং চ সামীচিং, তেসং লাভাতি চ' বুবি,
অজ্জতগৃঙ্গে মং সোপাক দস্সনাযো পসঙ্কম।
এসা চেব তে সোপাক ভবতু উপসম্পদা,
জাতিযা সত্তবসো'হং লম্বান উপসম্পদং
ধারেমি অন্তিমং দেহং' অহো ধৰ্ম্ম-সুধম্মতা'তি।

শব্দার্থ

পাসাদছাযাযং - প্রাসাদের (গন্ধকুটিরের) ছায়ায়; চঙ্কমন্ডং দিয়া - চংক্রমণ করতে দেখে; নরুত্তমং - নরোত্তম; তথ - সেখানে; উপসঙ্কম্ম - উপস্থিত হয়ে; একংসং - একাংশ; সংহরিত্বান - জোড় করে; পাণযো - হাত; অনুচঙ্কমিং - পশ্চাতে চংক্রমণ করি; সব্বসত্তানমুত্তমং - সকল প্রাণিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; পঞহং - প্রশ্ন; অপুচ্ছি - জিজ্ঞেস করলেন; কোবিদো - পারদর্শী; বিদূ জ্ঞানী; অচ্ছন্তী - অকম্পিত; অভীতো - নির্ভয়ে; ব্যাকাসিং - ব্যাখ্যা করলেন; সথুনো - শাস্তাকে; অনুমোদি - অনুমোদন করলেন; বিস্সজ্জিতেসু পহেসু - প্রশ্নোত্তরের ব্যাখ্যা; বিলোকেত্বা - দর্শন করে ইমমত্থং (ইমং + অথং) - এই অর্থ, এই বিষয়; অঙ্গান-মগধানং - অঙ্গ ও মগধবাসিদের, পরিভুঞ্জতি - পরিভোগ করে; অভাসথ - ভাষণ দেন; সযনাসনং - শয্যাসন; পড়ুট্ঠানং - প্রত্যুত্থান, আগন্তুকের সম্মানার্থ উঠে দাঁড়ানো; সামীচিং - সেবাকর্ম; লাভাতি - লাভ হয়; জাতিযা সত্তবসো'হং - সাত বছর বয়ঃক্রমকালে; ধারেমি - ধারণ করছি ; অন্তিমং দেহং - শেষ জন্ম।

টীকা
সোপাকো থেরো

সোপাক স্থবির সিদ্ধার্থ, ভগবানের সময় ব্রাহ্মণকূলে জন্মগ্রহণ করেন। কামভোগের দোষ দেখে গৃহবাস ত্যাগ করে তাপস-প্রব্রজ্যা নেন। এক পর্বতে অবস্থানের সময় তাঁর আসন্ন মৃত্যুদর্শনে ভগবান তথায় উপাস্থত হন। তিান বুদ্ধ দর্শনে প্রীত হয়ে শাস্তাকে পুষ্পাসন দান করেন। সেই পুণ্যফলে সোপাক মৃত্যুর পর দেবলোকে উৎপন্ন হন ।

গৌতম বুদ্ধের সময় বণিককূলে জন্মগ্রহণ করে সোপাক নামে অভিহিত হন। চারমাস বয়সে তাঁর পিতা মারা যান। কাকা তাঁকে লালন-পালন করেন। নিজপুত্রের সাথে ঝগড়া করায় কাকা অত্যন্ত রাগান্বিত হন। তখনি তাঁকে হাত-পা বেঁধে শ্মশানে ফেলে দেয়া হয়। পারমীপূর্ণ বালকের কেউ অনিষ্ট করল না। সে অর্ধরাতে বিলাপ করতে লাগল- 'আমার কী দুর্গতি? আমার সহায় কে হবে? আমাকে কে অভয় দেবে? আমি তো একাকী বাঁধা অবস্থায় আছি'। তখন বুদ্ধ প্রাণিদের প্রতি কৃপাদৃষ্টি দিয়ে দেখলেন। তিনি সোপাকের অর্হত্বফলের বিষয় অবগত হয়ে নিজ দেহ হতে আলো প্রজ্জ্বলিত করলেন। স্মৃতি উৎপন্ন করে বললেনজ্জ 'সোপাক, এস, ভয় কর না। তথাগতকে দর্শন কর। রাহুমুক্ত চন্দ্রের ন্যায় তোমাকে মুক্ত করব'।

বুদ্ধের প্রভাবে বালকের বন্ধন খুলে গেল। গাথা শ্রবণের পর স্রোতাপন্ন হয়ে জেতবনের গন্ধকুটিরের সম্মুখে গিয়ে দাঁড়ালেন। এদিকে ছেলেকে না দেখে তাঁর মা কাকাকে জিজ্ঞেস করলেন। সে কিছুই জানে না উত্তর দিল। পরিশেষে মা বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হন। তথাগত তাঁকে ধর্মোপদেশ দিলে সোতাপন্ন হলেন। মাকে ধর্মদেশনা করার সময় সোপাকও অর্হত্বফল লাভ করেন। তখন তাঁর বয়স সাত বছর। ভগবান তাঁকে উপসম্পদা দেয়ার ইচ্ছায় জ্ঞান পরীক্ষা করার জন্য দশটি প্রশ্ন করেছিলেন। সোপাক উত্তর প্রদানে বুদ্ধকে সন্তুষ্ট করেছিলেন। সাত বছর বয়স্ক কুমারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে এ প্রশ্নগুলো 'কুমার পঞ্জহা' (কুমার প্রশ্ন) এবং শ্রামণেরকে প্রশ্ন করেছিল বলে 'সামণের পা' বা 'শ্রাবণের প্রশ্ন' নামে অভিহিত। এখনও শ্রামণেরদেরকে এ প্রশ্নগুলো উত্তরসহ শিক্ষা করতে হয়।

সারমর্ম

বুদ্ধের ঋদ্ধি প্রভাবে সোপাক বন্ধনমুক্ত হয়ে শ্মশান থেকে জেতবনের গন্ধকুটির বিহারে উপস্থিত হন। তখন বুদ্ধ চংক্রমণ করছিলেন। সোপাক তাঁকে বন্দনা করে বুদ্ধের পেছনে পেছনে চংক্রমণ করতে লাগলেন। বুদ্ধ তাঁকে দশটি প্রশ্ন করেন। সোপাক সুন্দর ও নির্ভীকভাবে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন। তথাগত তাতে সন্তুষ্ট হন। তৎপর ভিক্ষুসংঘের পরিষদে তিনি সোপাক শ্রামণের বিষয় বলতে গিয়ে অঙ্গ-মগধবাসির প্রদত্ত চীবর, পিণ্ড, শয্যাসন ও ঔষধপত্র দানের প্রশংসা করলেন। 'ভিক্ষু সোপাক তা পরিভোগ করছে, ওটাই তাদের মহালাভ।' একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সাতবছর বয়স্ক সোপাক উপসম্পদা প্রাপ্ত হলেন। এ জন্মই তাঁর অন্তিম দেহধারণ ছিল। অহো। নৈর্বাণিক ধর্মের কী প্রভাব।

Content added By
মন্দা থেরী

আতুরং অসুচিং পূতিং পল্স নন্দে সমুসযং।
অসুভায় চিত্তং ভাবেহি একগ্‌গং সুসমাহিতং।
অনিমিত্তঞ্চ ভাবেছি মানানুসযমুজ্জহ।
ততো মানাভিসমযা উপসম্ভা চরিস্সসি।

শব্দার্থ

আতুরং - আঙুর, রুগ্ন, শোকের কারণ; অসুচিং - অশুচি, অপবিত্র; পৃতিং - পূতি, পচা; পস্স - দেখ; সমুস্ল্যং - সুন্দর দেহ, শরীরপিণ্ড; অসুভাষ - অসার, অশুভ; চিত্তং ভাবেহি - চিত্তকে (ধ্যানে) মগ্ন কর; একাগ্‌গং একাগ্র; - সুসমাহিতং সুসমাহিত; অনিমিত্ত - যা অস্থায়ী পদার্থের ওপর নির্ভর করে না; মান - নিজের রূপ, শরীর, পদ ইত্যাদির অভিমান; উজ্জহ (উৎ+ জহ) - পরিত্যাগ কর; উপসস্তা - উপশম করে; চরিস্সসি - বিচরণ করবে।

সারমর্ম

নন্দা তাঁর সৌন্দর্যের অহংকার করতেন। ভিক্ষুণী হয়েও তা তিনি পরিত্যাগ করতে পারেননি। সেজন্য বুদ্ধ তাঁকে ভৎর্সনা করতেন বলে তাঁর নিকটে যেতেন না। অথচ জ্ঞান লাভের উপযুক্ত ছিলেন। বুদ্ধ মহা-প্রজাপতিকে আদেশ দিলেন যে, সমস্ত ভিক্ষুণী যেন তাঁর নিকট এসে ধর্মোপদেশ শ্রবণ করে। নন্দা নিজের পরিবর্তে অন্যজনকে পাঠালেন। ভগবান প্রতিনিধি পাঠাতে নিষেধ করলেন। এরূপে বাধ্য হয়ে নন্দাকে আসতে হল। ভগবান তাঁর অলৌকিক ক্ষমতাবলে এক সুন্দরী সত্রীলোকের মূর্তি উপস্থাপিত করলেন। তাঁর বার্ধক্য ও পরিণতি প্রদর্শন করে দেহের অসারতা দেখালেন। ঐ দৃশ্য নন্দার মর্মে আঘাত করল। বুদ্ধ সেই সময় নন্দাকে সম্বোধন করে যে উপদেশ দিয়েছিলেন তা দুটি গাথায় ঘেরী নিজেই রচনা করেন। নিম্নে তার অনুবাদ দেওয়া হল:

নন্দে! পৃতি, অশুচি ও ব্যাধির এ দেহ-সমষ্টিকে অবলোকন কর। সুসমাহিত ও একাগ্র চিত্তে অশুভভাবনায় চিত্তকে নিয়োজিত কর। অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্মরূপ অনিমিত্তের ওপর চিত্তকে প্রতিষ্ঠিত করে অহংভাব বিদূরিত কর। চিত্তকে সম্যকভাবে দমন করে শান্ত ও নির্মল অবস্থায় স্থিত হও।

টীকা
নন্দা

তিনি বিপসী বুদ্ধের সময়ে বন্ধুমতী নগরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন জনৈক ধনবান নাগরিক। নাম রাখা হয়েছিল অভিরূপ-নন্দা। ছোটকাল থেকে ধর্মে অনুরক্তা ছিলেন। বিপসী বুদ্ধ পরিনির্বাপিত হলে নন্দা তাঁর 'স্মৃতি মন্দিরে রত্ন-খচিত একটি সোনার ছাতা দান করেছিলেন। সেই পুণ্যপ্রভাবে তিনি গৌতম বুদ্ধের সময় কপিলাবস্তু নগরে শাক্য খেমকের প্রধানা সত্রীর কন্যারূপে জন্ম নেন। সুন্দর দেহ গঠনের জন্য তাঁর নাম তখনও অভিরূপ নন্দা রাখা হয়।

স্বয়ম্বর সভার দিন নন্দার ইস্পিত যুবক শাক্যকুমার চরভূতের মৃত্যু হয়। তাই তাঁর পিতামাতা তাঁর অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রব্রজ্যা গ্রহণ করার জন্য বাধ্য করেন। তিনি ভিক্ষুণীসংঘে প্রবেশ করেও নিজ দেহ-সৌন্দর্য দেখে নিজেই মুগ্ধ হতেন। বুদ্ধ জাগতিক অনিত্য-বিষয়ে দেশনা করতেন বলে তাঁর সঙ্গ এড়িয়ে চলতেন। কিন্তু ভগবান জানতেন নন্দা জ্ঞান লাভের উপযুক্ত পাত্রী।

পরে নন্দা বুদ্ধের অলৌকিক শক্তিবলে পুঁতিগন্ধময় দেহের অসারতা উপলব্ধি করেন। বুদ্ধের ধর্মদেশনাকালে নন্দা অর্হত্বফলে প্রতিষ্ঠিত হন।

থেরী গাথা

থেরীগাথা খুদ্দক নিকায়ের নবম গ্রন্থ। গ্রন্থখানিতে ৭৩ জন ঘেরী-র গাথা সংগৃহীত হয়েছে। তাতে থেরী-দের জীবন কাহিনী বর্ণিত আছে। তাঁদের রচিত গাথার সংখ্যা ৫২২। এঁদের মধ্যে ২৩ জন সম্প্রান্তবংশীয় রাজপরিবারের বধূ ও কন্যা, ১৩ জন শ্রেষ্ঠী বা বণিক সম্প্রদায়, ৭ জন ব্রাহ্মণ ও ১৫ জন পতিতা নারী।

এ গ্রন্থে ভিক্ষুণীদের ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ ও আধ্যাত্মিক উন্নতির কথা বলা হয়েছে। তাঁরা আত্মশক্তিতে বলীয়ান ছিলেন। সমাজের বহু অবহেলিত নারীকে ধর্মে স্থান দেওয়া হয়েছিল। পুত্রহারা কৃশা গৌতমী; স্বামী পরিত্যক্তা ইসিদাসী, আত্মীয়-স্বজনহারা, পাগলিনীপ্রায় পটাচারা; গণিকা আম্রপালী প্রমুখ নারী ভিক্ষুণীসংঘে যোগদান করে আত্ম-পরহিতে অবদান রেখেছিলেন।

সেই যুগের সমাজে স্ত্রীলোকের স্থান নির্ণয় করার পক্ষে এই সংকলন গ্রন্থটির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীন ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থার অনেক তথ্যে গ্রন্থটি সমৃদ্ধ। গ্রন্থটিকে ভারতীয় গীতিকাব্য সাহিত্যে প্রথম সারিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্ম-দর্শন, শিক্ষা-দীক্ষার আলোচনাও এতে সংক্ষেপে উল্লেখ আছে।

এতে বৈষয়িক বর্ণনা বেশি থাকলেও ভিক্ষুণীদের নির্বাণ-সাধনাও কম নেই। সংঘমধ্যে তাঁরা মর্যাদা পেতেন। মুক্তিলাভের আশাই ছিল তাঁদের সংসার ত্যাগের মূল উদ্দেশ্য।

Content added By
Please, contribute by adding content to নন্দা থেরী.
Content

১। দহরাহং সুদ্ধবসনা যং পুরে ধম্মমসুণিং। তত্সা মে অপমত্তায সচ্চাভিসমযো অহ্।
২। ততো'হং সব্বকামেসু ভূসং অরতিমঝগং। সক্কাযস্মিং ভযং দিয়া নেক্সমং যেব পিহযো।
৩। হিত্বান'হং ঞাতিগণং দাসকম্মকরানি চ। গামখেত্তানি ফীতানি রমণীযে পমোদিতে। পহায'হং পব্বজিতা সাপতেয্যং অনস্পকং।
8। এবং সদ্ধাষ নিম্ম সদ্ধম্মে সুস্পবেদিতে। ন মে তং অস্স পতিরূপং আকিঞ্চঞংহি পথযে। যা জাতরূপরজতং ঠপেত্বা পুনরাগমে।
৫। রজতং জাতরূপং বা ন বোধায ন সম্ভযে। ন এতং সমণসারুপং ন এতং অরিযধনং।
৬। লোভনং মদনং চেতং মোহনং রজবজ্ঞনং। সাসঙ্কং বহু আযাসং নথি চেখ ধুবং ঠিতি।
৭। এখরত্তা পমত্তা চ সংকিলিঠমনা নরা। অঞমঞেন ব্যারুদ্ধা পুথুকুব্বস্তি মেধগং।
৮। বধো বন্ধো পরিকিলেসো জানি সোকপরিদ্দবো। কামেসু অধিপন্নানং দিস্সতে ব্যসনং বহুং।
৯। তং মঞঞাতী অমিত্তা ব কিং মং কামেসু যুঞ্জথ। জানাথ মং পব্বজিতং কামেসু ভযদসিনিং।
১০। ন হিরঞসুবপ্নেন পরিক্সীযন্তি আসবা। অমিত্তা বধকা কামা সপত্তা সল্পবন্ধনা।
১১। তং মঞঞাতী অমিত্তা ব কিং মং কামেবসু যুঞ্জথ। জানথ মং পব্বজিতং মুত্তং সংঘাটিপারুতং।
১২। উত্তিষ্ঠপিণ্ডো উঞ্চো চ পংসুকূলঞ্চ চীবরং। এতং খো মম সারুপমং অনগারুপনিস্সযো॥
১৩। বস্তা মহেসিনা কামা যে দিব্বা যে চ মানুসা। খেমটানে বিমুক্তা তে পত্তা তে অচলং সুখং।॥
১৪। মাহং কামেহি সংগচ্ছিং বেসু তাণং ন বিজ্জতি। অমিত্তা বধকা কামা অগ্নিরূপমা দুগ্ধা।
১৫। পরিপন্থো এসো সভযো সবিঘাতো সকণ্টকো। গেধো সুবিসমো চেসো মহস্তো মোহনামুখো॥
১৬। উপসর্গো ভীমরূপো চ কামা সম্পসিরূপমা। যে বালা অভিনন্দন্তি অন্ধভূতা পুথুজ্জনা।
১৭। কামপঙ্কসত্তা হি জনা বহু লোকে অবিন্দসূ। পরিযন্তং নাভিজানন্তি জাতিযা মরণস্স চঃ
১৮। দুর্গতিগমনং মগ্‌গং মনুস্সা কামহেতুকং। বহু বে পটিপজ্জন্তি অত্তনো রোগমাবহং॥
১৯। এবং অমিত্তজননা তাপনা সংকিলেসিকা। লোকামিসা বন্ধনীযা কামা মরণবন্ধনা।
২০। উম্মাদনা উল?পনা কামা চিত্তপমাথিনো। সত্তানং সংকিলেসায খিল্পং মারেন ওডিতং।
২১। অনন্তাদীনবা কামা বহুদুগ্ধা মহাবিসা। অস্পস্সাদা রণকরা সুরূপ বিসোসনা।
২২। সাহং এতাদিসং কত্বা ব্যসনং কামহেতুকং। নতং পচ্চাগমিসামি নিব্বানাভিরতা সদা।
২৩। রণং করিত্বা কামানং সীতভাবাভিকঙ্খিনী। অপমত্তা বিহিস্স্সামি তেসং সংযোজনক যে।
২৪। অসোকং বিরজং খেমং অরিযঙ্গিকং উজুং। * তং মগ্‌গং অনুগচ্ছামি যেন তিন্না মহেসিনো।
২৫। ইমং পথ ধৰ্ম্মষ্ঠং সুভং কম্মারধীতরং। অনেজং উপসম্পজ্জ রুক্মমূলংহি ঝাযতি।
২৬। অজ্জমী পব্বজিতা সদবা সদ্ধম্মসোভণা। বিনীতা উপলবন্নায় ভেবিজ্ঞা মচচুহাযিনী।
২৭। সাযং ভুজিত্সা অনণা ভিক্ষুণী ভাবিতিন্দ্রিযা। সব্বযোগবিসংযুত্তা কতকিচ্চা অনাসবা।
২৮। তং সক্কো দেবসঙ্ঘেন উপসংগম্ম ইদ্ধিযা। নমস্সতি ভূতপতি সুভং কম্মার ধীতরং

শব্দার্থ

দহরাহং - তরুণ বয়সে; সুদ্ধবসনা - নির্মল বসত্র; ধম্মমসুণিং - ধর্মোপদেশ শুনলাম; তত্সা - সেদিন; অল্পমত্তায - অপ্রমত্তভাবে; সচ্চাভিসমযো - সত্যের প্রকৃত জ্ঞান; অহ্র - লাভ করেছিলাম; ততোহং - সেদিন থেকে; সব্বকামেসু - সর্বপ্রকার ভোগসুখে; অরতিমঋগং - অনাসক্তি জন্মাল; সক্কাযস্মিং - সৎকায়ে; ভযং দিষা - ভয় দেখে; নেক্সমং - পরিত্যাগ; জ্ঞাতিগণং - জ্ঞাতিগণ; গামখেত্তানি - গ্রামের ক্ষেত; কম্মকারা - কর্মকারগণ; পহাযহং - নিঃক্ষেপ করে; পব্বজিতা - প্রব্রজিত হলাম; সাপতেয্যং - ঐশ্বর্য, ধন-সম্পদ; অনস্পকং (ন অল্পকং) বিশাল; এবং সদধায - পূর্ণ শ্রদ্ধায়; সদধম্মে সুষ্পবেদিতে - সদ্ধর্মে যথার্থ জ্ঞান লাভ করে; যা যেগুলো; জাতরূপরজতং - সোনা-রূপা; ঠপেত্বা - রেখে; পুনরাগমে - পুনরায় আসতে পারি না; ন বোধায় - বোধিও নয়; ন সন্তযে - শাক্তিও নেই; পংসুকূলঞ্চ চীবরং - ধূলিম্লান চীবর; অনাগারূপনিস্সযো - গৃহহীন জীবন; মহেসিনা - মহর্ষিগণ, মহাপুরুষগণ; অচলং - নিরবচ্ছিন্ন; মা'হং সংগচ্ছিং - আমি লিপ্ত নই; ন বিজ্ঞতি পরিত্রাণ নেই; অগ্নিদ্ধষ্ণুপমা - অগ্নিকুণ্ডের ন্যায়; সবিঘাতো - বিরক্তিকর উপসর্গ - উপসর্গ; সপ্নসিরূপমা - সর্পের ন্যায়; পুথুজ্জনা - পৃথকজন, অজ্ঞানান্ধ; কামহেতুকং - ভোগতৃষ্ণা; পটিপজ্জস্তি - নিজেই উৎপন্ন হয়; রণং করিতা - সংগ্রাম করে; সংযোজনক যে - সংযোজন ছিন্ন করে, শৃক্সখল ছেদন করে; ঝাযতি - ধ্যান করে; তেবিজ্জা - ত্রিবিদ্যা; সক্কো - ইন্দ্র।

সারমর্ম

শুভা তরুণ বয়সে একদিন নির্মল বসত্র পরিধান করে ধর্মশ্রবণ করেছিলেন। সেদিনই তিনি প্রকৃত জ্ঞান লাভ করেছিলেন।-ঐদিন থেকে ভোগসুখে অনাসক্ত হলেন। দেহের অনিত্যতা উপলব্ধি করলেন। দাস-দাসী, জ্ঞাতিগণ পরিত্যাগ করে প্রব্রজ্যা অবলম্বন করেন। সুবিশাল ঐশ্বর্য পেছনে পড়ে রইল।

তিনি শ্রদ্ধায় সংসার ত্যাগ করে ভিক্ষুণী হয়েছিলেন। তাই স্বর্ণ, রৌপ্য, ভোগ্যবস্তুর প্রতি তাঁর আকর্ষণ থাকতে পারে না। এগুলো শ্রমণের উপযুক্ত নয়। মোহ ও কামের জনক। এগুলো স্থিতিহীন, আশঙ্কা ও উদ্বেগে পরিপূর্ণ। প্রমত্ত ব্যক্তিরা এতে আসক্ত হয়ে পরস্পর শত্রুতা করে।

হত্যা, বন্ধন, নির্যাতন, বিত্তনাশ, শোক, বিলাপই কামাসক্ত মানুষের পরিণতি। তবু তাঁর জ্ঞাতিগণ পুনরায় সংসার বন্ধনে আবদ্ধ করতে চায়। ভোগতৃষ্ণা ত নির্দয়, প্রাণনাশী শত্রু। মানুষকে শরবিদ্ধ করে। জ্ঞাতিগণ জেনে রাখ, শুভা এখন মুণ্ডিত মস্তক, পীতবসনা, প্রব্রজিতা এক ভিক্ষুণী।

তিনি পার্থিব ভোগ্যবস্তুতে লিপ্ত নন। সংসার ত প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের ন্যায়। কণ্টকাকীর্ণ, দুর্গম গহ্বর বিশেষ। যারা অজ্ঞানান্ধ ও আসক্তিযুক্ত তাদের কাছেই সংসার প্রীতিপ্রদ। ভোগতৃষ্ণাই দুর্গতির কারণ। তা মানুষকে পার্থিব প্রলোভনেই রাখে। তৃষ্ণা থেকেই উন্মত্ততা ও প্রলাপের উৎপত্তি। অনন্ত দুর্দশার কারণ। মানবজীবনের আলোর শোষণকারী।

তিনি এতদূর অগ্রসর হয়ে তৃষ্ণার ধ্বংস অবশ্য করবেন। নির্বাণের অনুসরণই তাঁর আনন্দ। এখন পরম শান্তি নির্বাণের অপেক্ষায় আছেন। যে মার্গে শোক নেই, নির্বাণ প্রত্যক্ষকরণীয়, মহর্ষিরা যদ্বারা ভবসাগর উত্তীর্ণ হয়েছেন, তিনি সেই আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গই অনুসরণ করছেন।

পরবর্তী তিনটি গাথা বুদ্ধভাষিত। শুভার দীক্ষার অষ্টম দিনে তিনি অর্হত্বফল লাভ করলে বুদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যার মমার্থ নিম্নরূপঃ

যেদিন শুভা শ্রদ্ধাবতী হয়ে প্রব্রজিতা হন, সেই থেকে অষ্টম দিনে উৎপলবর্ণা কর্তৃক উপদিষ্ট হয়ে অর্হত্বফলে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি ত্রিবিদ্যায় সিদ্ধ; মৃত্যুঞ্জয়ী। তিনি মুক্ত, অঋণী ও সর্ববন্ধন ছিন্ন। তাঁর সমুদয় কর্তব্য সম্পন্ন হয়েছে; তিনি অনাসক্ত।

টীকা
শুভা

জন্ম-জন্মান্তরে পুণ্য সঞ্চয় করে ইনি গৌতম বুদ্ধের সময় রাজগৃহে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন একজন ধনী স্বর্ণকার। অতীব সুন্দরী ছিলেন বলে কন্যার নাম রাখা হয় 'শুভা'। বয়ঃপ্রাপ্তা হলে শুভা বুদ্ধের উপদেশ শুনে স্রোতাপন্না হন। পরবর্তীকালে তিনি গৃহত্যাগ করে মহাপ্রজাপতির নিকট প্রব্রজিতা হন।

আত্মীয়বর্গ তাঁকে পুনরায় গৃহে প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করেন। তিনি তাদের সাংসারিক জীবনের দুঃখ-দুর্দশার কথা বিবৃত করে উপদেশ দান করেন। অহর্ভু প্রাপ্তির পর তিনি তাঁর গৃহীজীবনও অনাগারিক জীবনের বিমুক্তির বিষয় ঘোষণা করেন। তাঁর বর্ণিত সেই বিষয় গাথাকারে থেরী গাথায় সংকলিত হয়েছে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...