চাণক্য

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান -

2.1k

চাণক্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ে একজন দিকপাল ছিলেন। চাণক্য ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও বিন্দুসারের প্রধানমন্ত্রী ও উপদেষ্টা। চাণক্যের ছদ্মনাম 'কৌটিল্য' আর উপাধি- ‘বিষ্ণুখণ্ড’। কৌটিল্য রচিত গ্রন্থের নাম- 'অর্থশাস্ত্র' । ভারত চলে চাণক্য নীতিতে।

তার একটি উক্তিঃ “যে রাজা শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা করতে পারে না এবং শুধু অভিযোগ করে যে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তাকে সিংহাসনচ্যুত করাই উচিত।"

পরিচয় ও নাম
চাণক্যের প্রকৃত নাম ছিল বিষ্ণুগুপ্ত। তাঁর পিতার নাম চণক ছিল বলে তাঁকে চাণক্য বলা হয়। এছাড়া কূটনীতিতে পারদর্শী হওয়ায় তিনি কৌটিল্য নামেও পরিচিত। তাঁকে 'ভারতের ম্যাকিয়াভেলি' বলা হয়।

তক্ষশিলার শিক্ষক
তিনি প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত শিক্ষা কেন্দ্র তক্ষশিলা মহাবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন।

মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা
চাণক্য ছিলেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী। তিনি নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন।

অর্থশাস্ত্র
তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো 'অর্থশাস্ত্র', যা সংস্কৃত ভাষায় লেখা। এটি মূলত রাষ্ট্রশাসন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক কৌশল বিষয়ক একটি আকর গ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৫টি অধিকরণ বা খণ্ডে বিভক্ত।

সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব
কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্রে রাষ্ট্রের সাতটি উপাদানের কথা বলেছেন, যা 'সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব' নামে পরিচিত। এই উপাদানগুলো হলো— স্বামী (রাজা), আমাত্য (মন্ত্রী), জনপদ (ভূমি ও জনসংখ্যা), দুর্গ, কোষ (রাজস্ব), দণ্ড (সৈন্যবাহিনী) ও মিত্র।

গুপ্তচর ব্যবস্থা
তিনিই প্রথম রাষ্ট্রশাসনে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী গুপ্তচর ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তাঁর গ্রন্থে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

শামশাস্ত্রী ও অর্থশাস্ত্র আবিষ্কার
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০৫ সালে) আর. শামশাস্ত্রী প্রথম কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন এবং ১৯০৯ সালে এটি প্রকাশ করেন।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...