নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ (১৫১৯-১৫৩২)

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান -

2.4k

গৌড়ের বিখ্যাত বড় সোনা মসজিদ (বারদুয়ারি মসজিদ) নির্মাণ করে। সুলতান নাসির উদ্দিন নুসরাত শাহের অমরকীর্তি- কদম রসুল। তার সময়ে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

আলাউদ্দিন হোসেন শাহের সুযোগ্য পুত্র নাসিরুদ্দিন নুসরাত শাহ ছিলেন হোসেন শাহী বংশের দ্বিতীয় এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী সুলতান। তাঁর শাসনামল (১৫১৯–১৫৩২ খ্রি.) শিল্পকলা, স্থাপত্য এবং কূটনৈতিক দূরদর্শিতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

১. স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন: বড় সোনা মসজিদ

নুসরাত শাহের নাম বাংলার স্থাপত্য ইতিহাসে অমর হয়ে আছে তাঁর নির্মিত বিশাল ও রাজকীয় স্থাপনাগুলোর জন্য।

  • বড় সোনা মসজিদ (গৌড়): ১৫২৬ সালে তিনি গৌড়ে এই বিশাল মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি তৎকালীন বাংলার বৃহত্তম মসজিদগুলোর মধ্যে একটি এবং এর বিশালত্বের কারণে একে 'বারোদুয়ারী' মসজিদও বলা হয়।

  • কদম রসূল: তিনি গৌড়ে 'কদম রসূল' নামক একটি ভবন নির্মাণ করেন, যেখানে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পদচিহ্ন সংবলিত একটি পাথর সংরক্ষিত ছিল।

  • অন্যান্য স্থাপত্য: তিনি তাঁর পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে গৌড়ে একটি চমৎকার সমাধি এবং বাঘায় (রাজশাহী) একটি বিশাল মসজিদ ও দিঘি নির্মাণ করেন।

২. মুঘল ও আফগানদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক

নুসরাত শাহের শাসনামল ছিল ভারতীয় ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ, যখন দিল্লিতে মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটছে (পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, ১৫২৬)।

  • বাবরের সাথে চুক্তি: মুঘল সম্রাট বাবর যখন ভারত আক্রমণ করেন, নুসরাত শাহ তখন অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন। পরবর্তীতে বাবরের সাথে তাঁর একটি মৈত্রী চুক্তি হয়, যার ফলে বাংলা মুঘল আক্রমণের হাত থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা পায়।

  • আফগানদের আশ্রয়: তিনি মুঘলদের ভয়ে পালিয়ে আসা আফগান নেতাদের বাংলায় আশ্রয় দিয়েছিলেন, যা বাংলার সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল।

৩. সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা

পিতার মতো তিনিও বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ অনুরাগী ছিলেন।

  • মহাভারত অনুবাদ: তাঁরই নির্দেশে কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারতের একটি অংশ বাংলা অনুবাদ করেন।

  • লৌকিক উৎসব: তাঁর সময়ে গ্রামীণ ও লোকজ মেলা ও উৎসবগুলো রাজকীয় সমর্থন লাভ করত।

Content added By
Content updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...