পদ্য (খ)

পালি - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

285
Please, contribute by adding content to পদ্য.
Content
Please, contribute by adding content to খুদ্দক পাঠ.
Content
নিদানং

১. যসানুভাবতো যা নেব দসেস্তি ভিংসনং, যমহি চেবানুযুঞ্জন্তো রত্তিং দিবমতন্দিতো।
২. সুখং সুপতি সুত্তো চ পাপং কিঞ্চিং ন পস্সতি, এবমাদি গুণোপেতং পরিত্তং তং ভণাম হে।

সুত্তং

১. করণীযমত্থকুসলেন যন্তং সন্তং পদং অভিসমেচ্চ, সক্কো উজু চ সুজু চ সুবচো চস্স মৃদু অনতিমানী।
২. সন্তুস্সকো চ সুভরো চ অস্পকিচেচাচসল্লহুকবুত্তি সন্তিন্দ্রিযো চ নিপকো চ অপগক্কো কুলেসু অননুগিন্ধো।
৩. ন চ খুদ্দং সমাচারে কিঞ্চি যেন বিষ্ণু পরে উপবদেয্যুং সুখিনো বা খেমিনো হোন্তু সব্বে সত্তা ভবন্তু সুখিতত্তা।
8. যে কেচি পানা ভূতথি তসা বা থাবরা বা অনবসেসা, দীঘা বা যে মহন্তা বা মঝিমা রসকানুকথুলা।
৫. দিষ্ঠা বা যেব অদিষ্ঠা যে চ দূরে বসন্তি অবিদূরে, ভূতা বা সম্ভবেসী বা সব্বে সত্তা ভবন্তু সুখিতত্তা।
৬. ন পরো পরং নিকুব্বেথ, নাতিমঞথ কথচি নং কিঞ্চি ব্যারোসনা পটিঘসঞা নাঞঞমঞঞস দুখমিচ্ছেয্য।
৭. মাতা যথা নিযং পুত্তং আযুসা একপুত্তমনুরক্সে, এবম্পি সব্বভূতেসু মানসং ভাবযে অপরিমাণং।
৮. মেত্তঞ্চ সব্বলোকস্মিং মানসং ভাবযে অপরিমাণং, উদ্ধং অধো চ তিরিযঞ্চ অসম্বাধং অবেরমসপত্তং।
৯. তিষ্ঠং চরং নিসিন্নো বা সযনো বা যাবত বিগতমিদ্ধো, এতং সতিং অধিয্যে ব্রহ্মমেতং বিহারমিধমাতুহু।
১০. দিঠিঞ্চ অনুপগম্ম সীলবা দসনেন সম্পন্নো, কামেসু বিনেয্য গেধং নহি জাতু গল্পসেয্যং পুনরেতী'তি।

শব্দার্থ

যং তং সন্তং পদং - সেই যে শান্ত নির্বাণ পদ্‌ আছে; তং অভিসমেচ্চ - সেই পদ জ্ঞাত হয়ে; অথকুসলেন করণীযং - তা লাভেচ্ছুর কর্তব্য; সক্কো - দক্ষ; উজু জ্জ ঋজু; সুজু - অকুটিল; সুবচো - মিষ্টভাষি; মুদু - মৃদু; অনতিমানী চ অসূস - নিরভিমান হবে; সন্তুস্সকো - সন্তুষ্ট চিত্ত; সুভরো - সুখপোষ্য; অপকিচ্চো - অল্পকৃত্য; সল?হ্রককুত্তি - সংলঘুক বৃত্তি, অল্পে তুষ্ট হওয়া; সন্তিন্দ্রিযো - শান্তেন্দ্রিয়; নিপকো - প্রজ্ঞাবান; অস্পগন্ধা - অপ্রগল্প; কুলেসু অননুগিন্ধো - গৃহস্থদের প্রতি অনাসক্ত; ন চ কিঞ্চি খুদ্দং সমাচরে - কোন কিছু হীন আচরণ করবে না; যেন পরে বিষ্ণু উপবদেয়্যুং - যা দ্বারা অপর বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ অপবাদ করতে পারেন; সব্বে সত্তা - সকল প্রাণী; সুখিনো - সুখি; সুখিতত্তা ভবস্তু - সুখি হোক, সন্তুষ্টচিত্ত হোক; যে কেচি অনবসেসা - যে সমুদয়; তসা - তৃষ্ণাযুক্ত; থাবরা - তৃষ্ণা ও ভয়হীন; দীঘা - দীর্ঘ; মহন্তা - মহৎ; মজঝিমা - মধ্যমাকৃতি; রসকা - হ্রষা শরীরধারী; অণুকা - ক্ষুদ্রশরীর বিশিষ্ট; থুলা - খুল; পাণা ভূত'থি - জীব আছে; যে চ দিঠা - যে সমুদয় দৃষ্ট; যে চ অদিঠা - যে সমুদয় অদৃষ্ট; যে চ দূরে অবিদুরে বা বসন্তি - যারা দুরে বা নিকটে বাস করে; ভূতা - যারা জন্মেছে; সম্ভবেসী - যারা জন্মাবে; নহিজাতু - জন্মগ্রহণ করেন না; ন পরো পরং - একে অপরকে; নিকুব্বেথ - বঞ্চনা করবে না; কথচি নং কিঞ্চি নাতিমঞেথ - কাউকে অবজ্ঞা করবে না; ব্যারোসনা পটিঘসঞা - কায়মানোবাক্যের বিকৃতিবশত ক্রোধ উৎপাদন করে; অঞো অঞস - একে অপরকে; ন ইচ্ছেয্য - ইচ্ছা করবে না; নিযং স্বীয়; একপুত্তং - একমাত্র পুত্রকে; আযুসা - আয়ু দ্বারা; অনুরত্বে - রক্ষা করে; সব্বভূতেসু - সকল জীবের প্রতি; এবম্পি - এরূপ; অপরিমাণং - অপ্রমেয়; মানসং ভাবযে - মৈত্রী ভাবনা করবে; উদ্ধং অধো চ - ওপরে ও নিচে; তিরিযঞ্চ - তির্যকভাবে; সব্বলোকসিং - সর্বত্র; অসম্বাধং ভেদজ্ঞান রহিত; অবেরং - বৈরিতাহীন, শত্রুতাহীন; তিষ্ঠং - স্থিত অবস্থায়; চরং - বিচরণ করতে করতে; নিসিন্নো বা - উপবিষ্ট অবস্থায়; সযনো বা শায়িত অবস্থায়; যাবতা - যতক্ষণ; বিগতমিদ্ধো অস - মানসিক অলসতা বিগত হয়; এতং সতিং অধিয্যে - এ স্মৃতি অধিষ্ঠান করবে; ইদং ব্রহ্মবিহারমাহ্র - একে ব্রহ্মবিহার - বলে। দিঠিঞ্চি অনুপগস্ম - মিথ্যাদৃষ্টি পরিত্যাগ পূর্বক; সীলবা দস্সনেন সম্পন্না - শীলবান ও সম্যকদৃষ্টিসম্পন্ন - আর্যশ্রাবক; কামেসু - কামের প্রতি; গেধং বিনেয্য - লিপ্সা বিদূরিত করে; গর্ভসেয্যং - গর্ভাশয়; পুনরেতি - পুনরায় আসেন না।

করণীয় মৈত্রী সূত্রের ভূমিকা

এক সময় ভগবান শ্রাবস্তীতে অবস্থান করছিলেন। তখন বর্ষাবাসের প্রাক্কালে পাঁচশত ভিক্ষু ভগবানের নিকট থেকে কর্মস্থান গ্রহণ করেন। তারপর হিমালয়ের পাদদেশে মনোরম স্থানে বর্ষাবাস আরম্ভ করেছিলেন। পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে ভিক্ষাচরণ করে তাঁরা নির্বিঘ্নে শ্রামণ্যধর্ম পালন করছিলেন। নির্মল বায়ু সেবনে ও নিয়মিত ধর্মাচরণে তাঁদের শরীর ও মন প্রফুল্ল হয়েছিল। সেখানে বহু বৃক্ষদেবতা বাস করতেন। ভিক্ষুগণের শীলতেজে তাঁরা স্ব স্ব স্থানে অবস্থান করতে পারছিলেন না। ফলে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ইতঃস্তত পরিভ্রমণ করছিলেন। ভিক্ষুগণ কখন সেই স্থান পরিত্যাগ করে যাবেন অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বর্ষাবাস শেষ না করে তাঁরা স্থান ত্যাগ করবেন না বুঝতে পেরে বৃক্ষদেবতাগণ উৎপাত শুরু করেন। তাঁরা রাতে বিরাট আকৃতি ধারণ করে ভিক্ষুদের কাছে এসে চীৎকার করতেন। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াতেন। তাঁদের উৎপাতে ভিক্ষুদের শীলের ব্যাঘাত ঘটল। মানসিক দুশ্চিন্তায় তাঁদের শরীর কৃশ হল।

অতঃপর সকল ভিক্ষু পরামর্শ করে এর প্রতিকারের জন্য শ্রাবস্তীতে ভগবান বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হলেন। বুদ্ধ তাঁদের দেখে জিজ্ঞেস করলেন-'ভিক্ষুগণ, তোমরা কেন বর্ষাবাসের মধ্যে দেশভ্রমণ করছ? বর্ষাবাসে দেশভ্রমণ বিধিবদ্ধ নয়। তখন ভিক্ষুগণ তাঁদের অসুবিধার কথা ভগবানকে জানালেন। বুদ্ধ তাঁদেরকে পুনরায় সেস্থানে যাবার জন্য আদেশ দিলেন। অতঃপর তাঁদেরকে মৈত্রীসূত্র শিক্ষা দিয়ে বললেন-'এটাই তোমাদের পরিত্রাণ ও কর্মস্থান হবে।' ভিক্ষুরা পুনরায় সেস্থানে গিয়ে সেই পরিত্রাণ ভাবনা আরম্ভ করলেন। সেই পরিত্রাণের প্রভাবে ভিক্ষুগণ পুনরায় শীলতেজ প্রাপ্ত হলেন। বৃক্ষদেবতাগণও তাঁদের প্রতি মৈত্রীভাবাপন্ন হলেন।

সেজন্য করণীয় মৈত্রী সূত্রের ভূমিকায় বলা হয়েছে:

১. যে পরিত্রাণের প্রভাবে যক্ষগণ ভয় দেখাতে পারেন না, সেই সূত্র দিন রাত আলস্যহীন হয়ে ভাবনা করবে।
২. মৈত্রী সূত্র ভাবনাকারী সুখে নিদ্রা যায়। কোন কুস্বপ্ন দেখেন না।
এরূপ গুণযুক্ত পরিত্রাণ আমি তোমাদের উদ্দেশ্যে পাঠ করব।

করণীয় মৈত্রী সূত্রের সারমর্ম

সাধকের মূল লক্ষ্য হবে নির্বাণ লাভ। তিনি সরল, শান্তস্বভাব ও অভিমানশূন্য হবেন। চঞ্চলতা পরিহার করে সাংসারিক জীবনের প্রতি অনাসক্ত হবেন। কোন পাপ কাজ করবেন না। ছোট-বড় সকল প্রাণীর প্রতি সর্বদা মৈত্রী চিত্তে অবস্থান করবেন। অল্পে তুষ্ট, শান্তেন্দ্রিয় ও প্রজ্ঞাবান হবেন।

বঞ্চনা, অবজ্ঞা, ক্রোধ ও হিংসার বশবর্তী না হয়ে সকলের সুখ কামনা করাই ভাবনাকারীর একান্ত কর্তব্য। মা যেমন তার একমাত্র ছেলেকে নিজের জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করেন, অনুরূপভাবে সাধকও শত্রু-মিত্র ভেদাভেদ না রেখে সকলের প্রতি মৈত্রীভাবনা করবেন। স্থিত অবস্থায়, হাঁটতে হাঁটতে, উপবেশন অবস্থায়, শয়নে যতক্ষণ নিদ্রা যাবে না, ততক্ষণ এ স্মৃতি করবে। এর নাম 'ব্রহ্মবিহার'। মৈত্রীভাবনার মাধ্যমে যাঁরা কমপক্ষে স্রোতাপত্তি ফল লাভ করেন; তাঁদের ভোগ ও কামলালসা বিদূরিত হয়। তাঁরা এ পৃথিবীতে পুনরায় জন্মগ্রহণ করেন না। ব্রহ্মলোকে উৎপন্ন হয়ে সেখান থেকে নির্বাণ লাভ করেন।

টীকা
খুদ্দক পাঠ

খুদ্দক নিকায়ের প্রথম গ্রন্থ হল খুদ্দকপাঠ। 'ক্ষুদ্র পাঠ', 'অল্পতর পাঠ'- এ অর্থে গ্রন্থটির নামকরণ হয়েছে। নয়টি বিষয়বস্তু নিয়ে গ্রন্থটি সংকলিত হয়। যেমন সরণত্তযং, দসসিক্যাপদং, দ্বাত্তিংসাকারো, কুমারপঞহা, মঙ্গল সুত্তং, রতন সুত্তং, তিরোকুড্ সুত্তং, নিধিকন্ড সুত্তং ও করণীয় মেত্ত সুত্তং।

ত্রিশরণ গ্রহণ ও দশশীল পালন শ্রামণদের নিত্যকর্ম। মানবদেহের ৩২টি অংশ নিয়ে 'দ্বাত্তিংসাকার'- অনিত্যভাবনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দেহের ক্ষণস্থায়িত্ব বোঝাতে এবং এর প্রতি ঘৃণার উদ্রেক করার জন্যই এই পাঠ। চতুর্থ অংশ কুমার প্রশ্নে বৌদ্ধধর্মের মূল ধর্ম-দর্শন আলোচিত হয়েছে। পরবর্তী পাঁচটি সূত্র মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠান, ত্রিরত্ন, প্রকৃত সম্পদ প্রভৃতি নিয়ে বর্ণিত। গ্রন্থটি শিক্ষানবিসদের শিক্ষার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

মেত্তা

জীবন সাধনার পরিপূর্ণতায় মেত্তা বা মৈত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৈত্রী সাধনা দ্বারা মানুষ ইহজীবনে অস্থির মনকে শান্ত করে লক্ষ্যস্থলে সহজে পৌছতে পারে। শুধু আধ্যাত্মিক জীবনে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও এর অনুশীলন একান্ত প্রয়োজন। অনাবিল সুখ-শান্তির একমাত্র পথ। মনে সর্বক্ষণ মৈত্রীভাব পোষণ করা পূর্ণ মনুষ্যত্ব বিকাশের প্রকৃষ্টতম উপায়। চিত্ত ও মনে মৈত্রীভাব পোষণ করে ভাবনা করার নাম 'ব্রহ্মবিহার'। সাধনার সেই চারটি স্তর হল মৈত্রী, করুণা, মুদিতা ও উপেক্ষা। সুতরাং, মৈত্রী হল বৌদ্ধ সাধনার প্রথম সতর। সাধক মনের উত্তেজনা ও হিংসাভাব বিদূরিত করে সুখে-শান্তিতে অবস্থান করেন।

মা যেমন তাঁর একমাত্র ছেলেকে নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করেন, তদ্রুপ সকল প্রাণীর প্রতি প্রেম বিতরণের নামই মৈত্রী। এ প্রেম মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক মধুর করে এবং পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখে। মৈত্রী ভাবনা দ্বারা আত্ম-পর ভেদজ্ঞান লোপ পায়। সাধক সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী প্রসারিত করে শত্রুহীন, ভয়হীন ও বেদনাহীন হয়ে পরিপূর্ণ উদার মন নিয়ে অবস্থান করেন।

যিনি শত্রু-মিত্রের মধ্যস্থ ও আপনার মধ্যে বিভেদ দেখেন না তিনিই মৈত্রী ভাবনায় সফল হন। তিনি মনুষ্য-অমনুষ্য সকলের প্রিয়ভাজন হন। সুখে শয়ন করেন। দেবতা তাঁকে রক্ষা করেন। অগ্নি তাঁকে দহন করে না। শত্রু তাঁকে আক্রমণ করে না। তাঁর চিত্ত সমাহিত হয়। তিনি মৃত্যুকালে সজ্ঞানে মৃত্যুবরণ করেন। আর্যমার্গ ফল লাভ করে ব্রহ্মলোক প্রাপ্ত হন। পুনরায় জন্মগ্রহণ করেন না। নির্বাণ সাক্ষাৎ করে বিমুক্ত হন।

Content added By

সুজন কাণ্ড

১. সবিভরের সমাসেথ, সবিভ কুব্বেথ সম্পরং, সতং সদ্ধম্মমঞাযসেয্যো হোতি ন পাপিযো।
'২. চজ দুজন সংসগ্‌গং, ভজ সাধু সমাগমং, কর পুঞমহোরন্ডিং, সর নিচ্চমনিচ্চতং।
৩. যথা উদুম্বর পক্কা বহিরওকমেব চ, অন্তো কিমিহি সম্পূন্না এবং দুজ্জনহদযা।
8. যথা'পি পনসপক্কা বহি কণ্টকমেব চ, অন্তো অমতসম্পন্না এবং সুজনহদযা,
৫. সুক্কো'পি চন্দনতরু ন জহাতি গন্ধং, নাগো গতো রণমুখে ন জহাতি লীলং, যস্তগতো মধুরসং ন জহাতি উচ্ছৃং; দুক্কো'পি পণ্ডিজনো ন জহাতি ধম্মং।
৬. সীহো নাম জিঘচ্ছা'পি পদ্মাদীনি ন খাদতি, সীহো নাম কিসো চাপি নাগমংসং ন খাদতি।
৭. কূলজাতো কুলপুত্তো কুলবংসো সুরকতো, অত্তনা দুস্পত্তো'পি হীনকম্বং ন কারযে।
৮. চন্দনং সীতলং লোকে, ততো চন্দ'ব সীতলং; চন্দন চন্দং-সীতম্হা সাধুবাক্যং সুভাসিতং।
৯. উদেয্য ভানু পচ্ছিমে, মেরুরাজা নমেয্য'পি, সীতলো যদি নরকল্পি'পি, পব্বতগুঙ্গে চ উপলং বিকসে, ন বিপরীতং সাধুবাক্যং কুদাচনং।
১০. সুখা রুস্স ছাযা'ব, ততো জ্ঞাতি মাতা-পিতু, ততো আচরিযো রঞো ততো বুদ্ধ'নেকধা।
১১.ভমরা পুঞ্চমিচ্ছন্তি, গুণমিচ্ছন্তি সজ্জনা, মক্সিকা পূতিমিচ্ছস্তি, দোসমিচ্ছপ্তি দুজনা।
১২. মাতাহীন দুর্ভাসা, পিতাহীন দুক্কিরিযা, উভো মাতা-পিতাহীনা দুর্ভাসা চ দুক্কিরিযা।
১৩. মাতাসেফ্টস সুভাসা, পিতাসেফ্টস সুক্কিরিষা, উভো মাতা-পিতাসেফ্ট সুভাসা চ সুক্কিরিযা।
১৪. সঙ্গামে সূরমিচ্ছস্তি, মন্তীসু অকুতূহলং, পিযঞ্চ অন্ন-পানেসু, অথকিচ্চেসু পণ্ডিতং।
১৫. সুনখো সুনখং দিস্তা দন্তং দস্সেতি হিংসিতুং, দুজ্জনো সুজনং দিস্বা রোসযং হিংসমিচ্ছতি।
১৬. মা চ বেগেন কিচ্চানি কারেসি কারাপেসি বা, সহসা কারিতং কম্বং মন্দো পচ্ছানুতস্পতি।
১৭. কোধং বিহিত্বা কদাচি ন সোচতি মষ্পহানং ইসযো বগ্নযক্তি, সব্বেসং ফরুসবাচং খমেথ এতং খস্তিং উত্তমমাহু সন্তো।
১৮ দুস্থো নিবাসো সম্বাধে ঠানে অসুচিসঙ্কতে, ততো অরিহি অপিযে, ততো'পি অকতঞ্জনা।
১৯. ওবদেয্য অনুসাসেয্য চ নিবারযে, সতং হি সো পিযো হোতি, অসতং হোতি অপিযো।
২০. উত্তমত্তনিবাতেন, সুরং ভেদেন নিজ্জযে, নীচং অস্পকদানেন, বীরিযেন সমং জযে।
২১. ন বিসং বিসমিচ্চাহু ধনং সঙ্ঘস্স উচ্চতে, বিসং একং'ব হনতি সব্বং সঙ্ঘস সম্ভকং।
২২. জবেন ভদ্রং জানাতি, বলিবদ্দঞ্চ বাহনা, দুহেন ধেনুং জানাতি, ভাসমানেন পণ্ডিতং।
২৩. ধনমস্পম্পি সাধুনং কূপে বারী'ব নিযো, বহুংবাপি অসাধুনং ন চ বারী'ব অগ্নবে।
২৪. অপথেয্য ন পথেয্য, অচিন্তেয্যাং ন চিন্তযে, ধম্মমেব সুচিন্তেয্য, কালং মোঘং ন অচ্চষে।
২৫. অচিন্তিতম্পি ভবতি, চিন্তিতম্পি বিনসস্তি, ন হি চিন্তমযা ভোগা ইথিযা পুরিসস্স বা।
২৬. অসন্তস্স পিযো হোতি, সন্তং ন কুরুতে পিযং, অসতং ধম্মং রোচেতি তং পরাভবতো মুখং।
২৭. আপং পিবস্তি নো নজ্জা, রুক্কা খাদন্তি নো ফলং, বসন্তি কুচি নো মেঘা, পরখায সতং ধনং।

শব্দার্থ

সবৃভিরের - সাধুর সঙ্গে; সমাসেথ - বাস কর; কুব্বেত্থ - মিত্রতা কর; সন্ধম্মমঞায় - সত্যধর্ম জানা থাকলে; চজ - ত্যাগ কর; দুজ্জনসংসর্গং - দুর্জনের (খারাপ লোকের) সংসর্গ; ভজ - ভজনা কর, উপাসনা কর; সাধুসমাগমং - সাধু সমাগম; সর - স্মরণ কর; নিচ্চমনিচ্চতং (নিচচং অনিচ্চতং) - নিত্য ও অনিত্যকে; যথা - যেমন; উদুম্বর - ডুমুর; বহিরত্ত - বহির্ভাগ; অন্তো - ভেতরভাগ; কিমিহিসম্পূন্না - কৃমিতে পরিপূর্ণ; দুজ্জনহদযা - দুর্জনের হৃদয়; - পনসপক্কা - পাকা কাঁঠাল; কন্টকমেব - কণ্টকময়, কাঁটায় পরিপূর্ণ; অমতসম্পন্না - অমৃতময়; সুজনহদযা - সুজনের (সৎব্যক্তির) হৃদয়; সুস্থো'পি - শুকালে; চন্দনতবু - চন্দনবৃক্ষ; ন জহাতি - ত্যাগ করে না; গতো - পতিত; নাগো - হাতি; যস্তগতো - যন্ত্র দ্বারা মাড়ালে (মর্দন করলে); উচ্ছুং - ইক্ষু, আখ; জিঘচ্ছা'পি - ক্ষুধার্ত হলে; পদ্মাদীনি - তৃণপত্রাদি; ন খাদতি - খায় না; কিসো - কৃশ; নাগমংসং - হাতির মাংস; কূলজাতো - কুলীন বংশে; কুলবংসো - চন্দন - চন্দ সীতমহা - চন্দন ও চন্দ্রকিরণের চেয়েও শীতল; সুভাসিতং - সুভাষিত; উদেয্য - উদিত হয়; ভানু - সূর্য; পচ্ছিমে - পশ্চিম দিকে; নমেয্য'পি - নমিত হয়; নরকল্পি'পি - নরকাগ্নিও; পব্বতন্নে - পর্বতাগ্রে; উপলং - পদ্ম; বিকসে - প্রস্ফুটিত হয়; কুদাচনং কদাচ, কখনও; রুস্স - বৃক্ষের; জ্ঞাতি - জ্ঞাতি; রঞ্জঞো - রাজা; সুখা - সুখদায়ক; বুদ্ধ'নেকধা - বুদ্ধের শরণগ্রহণ; দুর্ভাসা - দুর্বাক, কটুভাষি; দুক্কিরিযা - দুষ্কর্মকারি, অনাচারি; মন্ত্রীসু - মন্ত্রণাদাতার; অকুতূহলং - নিরানন্দের সময়; পিযঞ্চ - প্রিয়জনের; অথকিচ্চেসু - অর্থ জানতে হলে; দন্তং দস্সতি - দাঁত দেখায়; হিংসিতুং - হিংসা প্রকাশ করতে; রোসযং - আক্রোশ; মা চ কারেসি - কখনও করবে না; কারাপেসি করাবে না; কিচ্চানি - কার্য; পচ্ছানুতস্পতি - পরে অনুতপ্ত হয়। কোধং - ক্রোধ; বিহিত্বা - ত্যাগ করে - ন সোচতি - শোক করে না; মঙ্গস্পহানং - অপরের দোষকীর্তন ত্যাগ করেছেন যাঁরা; ফরুসবাচং পরষ বাক্য ।

সংক্ষিপ্ত অনুবাদ

সাধুর সঙ্গে বাস ও মিত্রতা করাই উত্তম। সত্যধর্ম জানা থাকলেই ভাল। দুর্জনের সংসর্গ ত্যাগ, সাধুর ভজনা, দিন-রাত পুণ্যকর্ম সম্পাদন ও নিত্য-অনিত্যকে স্মরণ করাই শ্রেয়।

কাঁঠালের বাইরের অংশ কাঁটাযুক্ত। ভেতরভাগ অমৃতময়। সেরূপ সুজনের বহির্ভাগ সুন্দর না হলেও হৃদয় কিন্তু গুণময়।
চন্দন বৃক্ষ শুকালেও সুগন্ধ থাকে। হাতি রণমুখে পতিত হলেও ক্রীড়া ত্যাগ করে না। সেরূপ পণ্ডিত ব্যক্তি দুঃখে পতিত হলেও ধর্ম ত্যাগ করে না।

সিংহ ক্ষুধার্ত হলেও ঘাস খায় না। সিংহ অনাহারে দুর্বল হলেও হাতির মাংস খায় না। কুলপুত্র বংশের মর্যাদা রক্ষা করে। সে নিজে দুঃখ পেলেও হীনকর্ম করে না।
এ জগতে চন্দন শীতল। তার চেয়ে চন্দ্রের কিরণ আরও শীতল। কিন্তু চন্দন ও চন্দ্রকিরণের চেয়ে সাধুর সুভাষিত বাক্য সর্বাপেক্ষা শীতল।
কোনদিন সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হতে পারে। মেরুরাজ নমিত হতে পারে। নরকের অগ্নি শীতল হতে পারে। পর্বতের অগ্রভাগে পদ্ম ফুল ফুটতে পারে। কিন্তু যাঁরা সৎপুরুষ, তাঁদের বাক্য বিপরীত হতে পারে না।
বৃক্ষের ছায়ায় শ্রান্তের সুখ লাভ হয়। তা অপেক্ষা মাতা-পিতা ও জ্ঞাতিগণের আশ্রয় সুখকর। তার চেয়ে আচার্য ও রাজার আশ্রয় সুখদায়ক। বহুগুণে গুণান্বিত বুদ্ধের শরণ সর্বাপেক্ষা সুখকর।
ভ্রমরেরা ফুল পেতে ইচ্ছা করে। সজ্জনেরা গুণ অর্জনে ব্যাপৃত থাকে। মাছি পচাগন্ধ ভালবাসে। আর দুর্জনেরা দোষ গ্রহণ করে।
নিচকূলে জন্মজাত পুত্র কর্কশভাষি হয়। অনুরূপ পিতার পুত্রও অনাচারে রত হয়। মাতা-পিতা উভয়েই নিচকুলের হলে পুত্র মুখরা ও অনাচারি হয়।
সংগ্রামে যোদ্ধার প্রয়োজন হয়। অসময়ে মন্ত্রদাতার পরামর্শ নিতে হয়। ভোজনে প্রিয়জনকে সাথে রাখতে হয়। আর দুরূহ বিষয় জানতে হলে পণ্ডিতের সান্নিধ্য দরকার।
এক কুকুর অন্য কুকুরকে দেখলে দাঁত বের করে হিংসা করে। সেরূপ দুর্জন সুজনকে দেখে আক্রোশ ও হিংসাপরায়ণ হয়। ক্রোধ ত্যাগ করলে কখনো শোক করতে হয় না। যারা অপরের দোষকীর্তন থেকে বিরত থাকে তাদেরকে ঋষিগণ প্রশংসা করেন। কর্কশ বাক্য বলা থেকে ক্ষান্ত থাকবে। সৎপুরুষেরা ক্ষান্তিগুণকে উত্তম বলে প্রশংসা করেছেন।
সংকীর্ণ ও অপবিত্র স্থানে বাস করা দুঃখজনক। তার চেয়ে শত্রু ও অপ্রিয় লোকের সাথে বাস করা দুঃখকর। অকৃতজ্ঞ লোকের সাথে বাস করা অধিক দুঃখজনক।
যে উপদেশ দেয়, অনুশাসন করে; অন্যায় কার্য থেকে নিবারণ করে; সে সৎ-এর প্রিয়পাত্র হয় বটে, কিন্তু অসৎ-এর অপ্রিয় হয়।
আত্মাভিমান ত্যাগ করে শ্রেষ্ঠজনকে জয় কর। ভেদ ব্যবহারে বীরপুরুষকে পরাজয় কর। নীচ-হৃদয়কে দান দিয়ে পরাভূত কর। প্রচেষ্টা বলে সমজনকে পরাজিত কর।
বিষ বিষ নয়। সঙ্ঘের ধনই প্রধান বিষ। বিষ একজনকে হত্যা করে। কিন্তু সঙ্ঘ-সম্পত্তি সকলকে বিনাশ করে।
দ্রুতগতি দেখে অশ্বকে জানা যায়। ভার বহনে বৃষের শক্তি বোঝা যায়। দোহনে ধেনুর পরিচয় পাওয়া যায়। বাক্যালাপে পণ্ডিতকে বুঝতে হয়।
কূপের জলের ন্যায় সাধু ব্যক্তির অল্প ধনেও উপকার হয়। সাগরের জলের মত অসাধু ব্যক্তিরবহু ধনেও হিতসাধন হয় না।
নদী কখনো জলপান করে না। বৃক্ষ কখনো ফল খায় না। মেঘ বারি বর্ষণে মানুষের উপকার করে। সেরূপ, সাধু পরুষের ধন পরহিতার্থে ব্যয় করা হয়। অপ্রার্থিত বস্তুর চিন্তা করবে না। অচিন্তনীয় বিষয়ের চিন্তা করবে না। ধর্মচিন্তাই সুচিন্তার বিষয়। অযথা সময় কাটাবে না।

যা চিন্তা করা হয় না, তাও ঘটে থাকে। যা চিন্তা করে ঠিক করা হয়েছে, তাও একদিন বিফল হয়। স্ত্রী-পুরুষ চিন্তানুরূপ ফল কখনো ভোগ করতে পারে না।
যে অসাধুর প্রিয় হয়, সাধুর সেবা করে না, অধর্মকে ভালবাসে; সে সর্বদা পরাজিত হয়।

টীকা
লোকনীতি

সর্বস্তরের মানুষ যে নীতি অনুসরণ করলে সর্বপ্রকার উন্নতি সাধিত হয় তার নাম লোকনীতি। গাথাগুলোর অধিকাংশ পালি ত্রিপিটকের বিভিন্ন গ্রন্থে হুবহু মিল আছে। যেমন সুজন কান্ডের ১নং গাথা ধম্মপদ-এ, ৩নং গাথা জাতকে, ২৬ নং গাথা সেল সুত্ত-এ, ২৭ নং গাথা পরাভব সুত্ত-এ বর্ণিত হয়েছে। এরকম আরও অনেক গাথা পালিগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। তবে সস্থান বিশেষে চাণক্য শ্লোকেরও পুনরাবৃত্তি আছে। শুধু পালিতে ভাষান্তর করা হয়েছে।

লোকনীতি গ্রন্থটি ক্ষুদ্রকায়। এর বিষয়বস্তুকে সাতটি কান্ডে বা শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা ১। পণ্ডিত কাণ্ড; ২। সুজন কার্ড; ৩। বাল-দুজ্জন কার্ড; ৪। মিত্ত কান্ড, ৫। ইথি কান্ড, ৬। রাজা-কান্ড, ৭। পকিন্নক কাণ্ড।
প্রত্যেকটি কান্ডের গাথাগুলো নামের সাথে সম্পৃক্ত। বলতে গেলে, মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের চলার পথে উপদেশগুলো মনে রেখে অগ্রসর হলে প্রভৃত মঙ্গল সাধিত হয়। তাই গাথাগুলো অনুবাদসহ মুখস্থ করতে পারলে ভাল হয়।

Content added By

ক. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

১। বুদ্ধ কাদের উদ্দেশ্যে 'করণীয় মেত্ত সুত্ত' দেশনা করেছিলেন? এ সূত্রের পটভূমি সংক্ষেপে বিবৃত কর।
২। করণীয মেত্ত সুত্ত-এর সারমর্ম লেখ।
৩। করণীয মেত্ত সুত্ত-এর আলোকে 'মেত্তা' সম্বন্ধে একটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ লেখ।
৪। লোকনীতি গ্রন্থের সুজন কান্ডের যে কোন তিনটি পালি গাথা বাংলা অনুবাদসহ উদ্ধৃত কর।
৫। সুজন কাণ্ডের বিষয়বস্তুর গুরুত্ব নির্ধারণ কর।

খ. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:

১। ব্রহ্মবিহার কাকে বলে?
২। নির্বাণ লাভেচ্ছু ব্যক্তির করণীয় কী কী?
৩। 'সব্বে সত্তা ভবন্তু সুখিতত্তা'। উদ্ধৃত অংশটির তাৎপর্য বাংলায় বুঝিয়ে লেখ।

৪। অনুবাদ করঃ

মাতা যথা নিযং পুত্তং আযুসা একপুত্তমনুরক্সে,
এবম্পি সববভূতেসু মানসং ভাবযে অপরিমাণং।

৫। খুদ্দক পাঠ গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দাও।
৬। লোকনীতি কী? লোকনীতির বিষয়বস্তু কয়টি কান্ডে বিভক্ত করা হয়েছে? সেগুলোর নাম লেখ।
৭। 'কুলপুত্র দুঃখ পেলেও হীনকর্ম করেন না।'- কথাটির তাৎপর্য কী?

গ. শূন্যস্থান পূরণ কর:

মেত্তঞ্চ _____ মানসং ভাবযে ______ ।

উদ্ধং ______ -চ তিরিযঞ্চ _______ ।

অসন্তস _______ হোতি, সন্তং ন ______ পিষং

অসতং _______ রোচেতি ______ তং পরাভবতো _______ ।

ঘ. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন দাও:

১। বর্ষাবাসের পূর্বে কয় শত ভিক্ষু কর্মস্থান গ্রহণ করেছিলেন?

ক. চারশত
খ. পাঁচশত
গ. ছয়শত
ঘ. সাতশত

২। কর্মস্থান গ্রহণকারী ভিক্ষুদের সামনে কারা দুর্গন্ধ ছড়াতেন?

ক. মানুষেরা
খ. নাগকন্যারা
গ. পাগলেরা
ঘ. বৃক্ষদেবতারা

৩। 'সুভরো' শব্দের অর্থ কী?

ক. সুখপোষ্য
খ. দুগ্ধপোষ্য
গ. ঘৃতপোষ্য
ঘ. যমজপোষ্য

৪। দাঁড়ানো অবস্থায়, গমনে, শয়নে, উপবেশনে যে ভাবনা করতে হয় তার নাম কী?

ক. প্রমোদবিহার
খ. নৌবিহার
গ. ব্রহ্মবিহার
ঘ. মৈত্রীবিহার

৫। 'সক্কো' শব্দের বাংলা অর্থ কোনটি?

ক. দক্ষ
খ. অকুটিল
গ. মিষ্টভাষী
ঘ. নিরভিমান

৬। বৌদ্ধ সাধকের মূললক্ষ্য কী?
ক. মোক্ষলাভ
খ. অর্থলাভ
গ. সম্পদ লাভ
ঘ. নির্বাণ লাভ

৭। সুজন কান্ড কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?

ক. খুদ্দক পাঠ
খ. লোকনীতি
গ. সুত্তনিপাত
ঘ. বিমানবন্ধু

৮। সুজনের হৃদয় কীরূপ?

ক. ধ্যানময়
খ. প্রজ্ঞাময়
গ. গুণময়
ঘ. শ্রুতময়

৯। সাধুপুরুষের ধন কিভাবে ব্যয় করা হয়?

ক. রাষ্ট্রীয়কার্যে
খ. ব্যক্তি স্বার্থে
গ. সামাজিকতায়
ঘ. পরহিতার্থে

১০। 'জবেন' শব্দের অর্থ কী?

ক. দ্রুতগতির জন্য
খ. দুর্গতির জন্য
গ. জীবের জন্য
ঘ. জীবিকার জন্য

Content added By
Please, contribute by adding content to ধম্মপদ.
Content

১। কো ইমং পঠরিং বিজেস্সতি যমলোকঞ্চ ইমং সদেবকং? কো ধম্মপদং সুদেসিতং কুসলো পুপমিব পচেস্সতি?
২। সেখো পঠবিং বিজেসস্তি যমলোকঞ্চ ইমং সদেবকং, সেখো ধম্মপদং সুদেসিতং কুসলো পুষ্কমিব পচেস্সতি।
৩। ফেণপমং কাযমিমং বিদ্বিত্বা মরীচিধম্মং অভিসম্বুধানো, ছেত্বান মারস পপুকানি অদসনং মঞ্জুরাজস্স গচ্ছে।
৪। পুষ্কানি হেব পচিনন্তং ব্যাসত্তমনসং নরং, সুত্তং গামং মহোঘো'ব মচ্চু আদায গচ্ছতি।
৫। পুফ্ফানি হেব পচিনন্তং ব্যাসত্তমনসং নরং, অতিত্তং যেব কামেসু অন্তকো কুরুতে বসং।
৬। যথাপি ভমরো পুপল্ফং বপ্নগন্ধং অহেঠযং, পলেতি রসমাদায এবং গামে মুনী চরে।
৭। ন পরেসং বিলোমানি ন পরেসং কতাকতং, অত্তনো'ব অবেখেয্য কতানি অকতানি চ।
৮। যথাপি রুচিরং পুপং বপ্নবস্তুং অগন্ধকং, এবং সুভাসিত বাঙা অফলা হোতি অকুব্বতো।
৯। যথাপি রুচিরং পুপৃষ্ণং বগ্নবস্তুং সগন্ধকং, এবং সুভাসিতা বাচা সফলা হোতি সকুব্বতো।
১০। যথাপি পুরাসিমহা কযিরা মালাগুণে বহু, এবং জাতেন মচ্চেন কত্তববং কুসলং বহুং।
১১ । ন পুগন্ধো পটিবাতমেতি ন চন্দনং তগর মল্লিকা বা, সতঞ্চ গন্ধো পটিবাতমেতি সব্বা দিসা সপুরিসো পবাতি।
১২। চন্দনং তগরং বা'পি উত্পলং অথ বসিকী, এতেসং গন্ধ জাতানং সীলগন্ধো অনুত্তরো।
১৩। অপমত্তো অযং গন্ধো যা'যং তগরচন্দনী, যো চ সীলবতং গন্ধো বাতি দেবেসু উত্তমো।
১৪। তেসং সম্পন্নসীলানং অল্পমাদবিহারিনং, সম্মদঞঞা বিমুত্তানং মারো মগ্‌গং ন বিন্দতি।
১৫। যথা সংকারধানসিং উজঝিতস্মিং মহাপথে, পদুমং তথ জাযেথ সুচিগন্ধং মনোরমং।
১৬। এবং সংকারভূতেসু অন্ধভূতে পুথুজ্জনে, • অতিরোচতি পঞায সম্মাসম্বুদ্ধসাবকো।

শব্দার্থ

কো - কে; ইমং - এই; পঠবিং - পৃথিবী; বিজেস্সতি - জয় করবে; যমলোকঞ্চ - যমলোকসহ; সদেবকং - দেবলোকসহ; সুদেসিতং - সুদেশিত; কুসলো - দক্ষ; পুপক্ষমিব - পুষ্পের ন্যায়; পচেস্সতি - আহরণ করবে; সেখো - শিক্ষাব্রতী, শিক্ষার্থী; ফেণুপমং - ফেনপিন্ডের ন্যায়; মরীচিধম্মং - মরীচিকা বিশেষ; অভিসম্বুধানো - সম্যকরূপে উপলব্ধি করে; ছেতান - ছেদন করে; মারস পপুপঞ্চকানি - মারের ফুলশর, কামে আসক্তি; অদসনং - অদৃশ্য দৃষ্টির বাইরে; মচ্চুরাজস্র - মৃত্যুরাজের। পচিনন্তং - আহরণে নিরত; ব্যসত্তমনসং - আসক্ত চিত্ত; সুত্তং - সুপ্ত; গামং - গ্রাম; মহোঘো'ব - প্রবল স্রোতের ন্যায়; আদায গচ্ছতি - নিয়ে যায়; মঞ্জু - মৃত্যু; কামেসু - কামে; অন্তকো - মৃত্যু; অতিত্তং - অতৃপ্ত; ভমরো - ভ্রমর; যথাপি - যেমন; বন্ধুগন্ধ - বর্ণগন্ধ; বিলোমানি - বিচ্যুতি; পরেসং - পরের; কতাকতং-বৃত ও অকৃত; অবন্ধেয্য - লক্ষ্য রাখবে; রুচিরং - সুন্দর; বপ্নবস্তুং - বর্ণযুক্ত; অগন্ধকং - গন্ধহীন; অফলা - নিষ্ফল; অকুকাতো - নিরর্থক; সকুব্বতো - সার্থক; পুপ্রাসিমহা - পুষ্পরাশি থেকে; মালাগুণে - বহু - নানাবিধ মাল্য; জাতেন মচ্ছেন যে মানব জন্মগ্রহণ করেছে; কতব্বং - কর্তব্য; পটিবাতমেতি - বায়ুর প্রতিকূলে প্রবাহিত হয়; সব্বাদিসা - সকল দিক; সপুরিসো - সৎপুরুষ; পবাতি - প্রবাহিত হয়; বা'পি - কিংবা; বসিকী - চামেলী; এতেসং - এদের থেকে; অনুত্তরো - উৎকৃষ্ট, শ্রেষ্ঠ; অপমত্তো - অল্পমাত্র, অপ্রমত্ত; সম্পন্নসীলানং - শীলে পরিপূর্ণ; অল্পমাদবিহারিনং - অপ্রমাদপরায়ণ; সম্মদঞঞা - সম্যকরূপে জ্ঞাত হয়ে; বিমুত্তানং - বিমুক্ত হয়ে; ন বিন্দতি - জানতে পারে না; সংকারধানস্মিং - আবর্জনারাশিতে; উজঝিতস্মিং - পরিত্যক্ত স্থানে; পদুমং তথ জায়তে - তথায় পদ্ম জন্মে; সূচিগখং - পবিত্র সুগন্ধযুক্ত; অন্ধভূতে পুথুজ্জনে - অজ্ঞ জনসাধারণের মধ্যে ; সম্মাসম্বুদ্ধস সাবকো - সম্যক সম্বুদ্ধের শ্রাবক।

সারাংশ

উদ্যান থেকে পুষ্প চয়নের ন্যায় বুদ্ধবাণী সংগৃহীত হয়েছে। সদ্ধর্ম-শিক্ষার্থী যমলোকসহ দেব-মনুষ্যলোক জয় করতে সক্ষম। কামনা-বাসনাহীন ভিক্ষু এ দেহকে ক্ষণভঙ্গুর মনে করে মারের প্রভাব অতিক্রম করেন। কামপরায়ণ ব্যক্তি পুষ্পচয়নকারীর ন্যায় ভোগবাসনায় লিপ্ত হয়। অতৃপ্ত হৃদয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। মুক্তিকামী ভিক্ষু বত্রিশ প্রকার ঘৃণ্যবস্তুতে পরিপূর্ণ এ মরদেহের প্রতি মমত্ববোধ ত্যাগ করেন। আর্যমার্গ অনুশীলন করে নির্বাণ উপলব্ধি করেন।

ভ্রমর পুষ্পের বর্ণগন্ধ নষ্ট না করে কেবল মধু আহরণ করে। সেরূপ ধ্যানপরায়ণ ভিক্ষু কারো ক্ষতি না করে লোকালয় থেকে ভিক্ষান্ন সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরের দোষগুণ অন্বেষণ করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। নিজের দোষগুণ বিচার করাই শ্রেয়। সুন্দর পুষ্পের গন্ধ না থাকলে সমাদৃত হয় না। তদ্রুপ সুভাষিত বাক্য প্রতিপালিত না হলে নিষ্ফল হয়। সুভাষিত বুদ্ধবচন আচরণের ওপর সাফল্য নির্ভর করে। মালাকার নানা প্রকার ফুল আহরণ করে সুন্দর মালা তৈরি করে। সেরূপ পণ্ডিত ব্যক্তিও বিবিধ পুণ্য সঞ্চয় করে মুক্তির পথ সুগম করেন। চন্দন, টগর, মল্লিকা প্রভৃতি ফুলের গন্ধ বিপরীতে গমন করে না। কিন্তু শীলগন্ধের সৌরভ চারদিকে আমোদিত হয়। সৎপুরুষের ষশগুণ সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয়। বুদ্ধ শ্রাবকগণ তাঁদের শীলগন্ধে চারদিক প্রমোদিত করেন। সর্বপ্রকার গন্ধের চেয়ে শীলগন্ধই উত্তম। শীলবান ব্যক্তির খ্যাতি দেবতাদের মধ্যেও প্রসারিত হয়।

শীলবান ও উদ্যমী ভিক্ষুর গতি মারের গোচরীভূত নয়। রাজপথে পরিত্যক্ত আবর্জনার স্তূপেও মনোরম সুগন্ধযুক্ত পদ্ম প্রস্ফুটিত হয়। সেরূপ অবিদ্যাচ্ছন্ন মানব সমাজেও বুদ্ধ শিষ্যগণ তাঁদের চরিত্র ও জ্ঞান-সৌরভে প্রদীপ্ত হন।

টীকা
ধম্মপদ

খুদ্দক নিকায়ের দ্বিতীয় গ্রন্থ 'ধম্মপদ' বৌদ্ধশাস্ত্রে সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচারিত গ্রন্থ। নৈতিক মূল্য বিচারে গ্রন্থটি সর্বত্র সমাদৃত। 'ধর্মপদ'-এর 'ধর্ম' শব্দের অর্থ স্বাভাবিক, নীতি, বিষয়, পদ্ধতি, পুণ্য। আর 'পদ' বলতে কারণ, পথ, রাস্তা, উপায়, মার্গ বোঝায়। সুতরাং, ধম্মপদ বা ধর্মপদ শব্দের অর্থ করা হয়েছে 'পুণ্যের পথ', 'ধর্মের পথ', 'সত্যের পথ'।

ধর্মপদে ৪২৩টি গাথা আছে। গাথাগুলো ২৬টি বর্গে বিভক্ত। আলোচ্য বিষয়ের নাম অনুসারে বর্গগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। ধর্মপদের ২৬টি বর্গ নিম্নরূপ: যমক, অল্পমাদ, চিত্ত, পুপল্ফ, বাল, পণ্ডিত, অরহস্ত, সহস্র, পাপ, দণ্ড, জরা, অত্ত, লোক, বুদ্ধ, সুখ, পিয, কোধ, মল, ধৰ্ম্মঠ, মগ্ন, পকিপ্লক, নিরয, নাগ, তগৃহা, ভিষ্ণু ও ব্রাহ্মণ বঙ্গ।
নৈতিক উপদেশ ছাড়াও বৌদ্ধ ধর্মের তাত্ত্বিক উপদেশে ধম্মপদ সমৃদ্ধ। চতুরার্য সত্য, অষ্টাঙ্গিক মার্গ, নির্বাণ সম্বন্ধে এতে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্গগুলোর বিষয়বস্তু নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উপদেশে ভরপুর।

Content added By

১। দীঘা জাগরতো রত্তি দীঘং সন্তস্র যোজনং, দীঘো বালানং সংসারো সন্ধম্মং অবিজানতং।
২। চরংচে নাধিগচ্ছেয্য সেয্যং সদিসমত্তনো, 47 একচরিযং দহং কষিরা নথি বালে সহাযতা।
৩। পুত্তামথি ধনমথি ইতি বালো বিহঙ্ঞতি, অত্তাহি অত্তনো নথি কুতো পুত্তো কুতো ধনং।
৪। যো বালো মঞতি বাল্যং পণ্ডিতো বা'পি তেন সো, বালো চ পণ্ডিতমানী স বে বালো'তি বুচ্চতি।
৫। যাবজীবংপি চে বালো পণ্ডিতং পযিরুপাসতি, ন সো ধম্মং বিজানাতি দবী সূপরসং যথা।
৬। মুহূত্তম্পি চে বিষ্ণু পণ্ডিতং পযিরুপাসতি,. খিল্পং ধম্মং বিজানাতি জিব্‌হা সূপরসং যথা।
৭। চরন্তি বালা দুম্মেধা অমিত্তেনে'ব অত্তনা, করোস্তা পাপকং কম্মং যং হোতি কটুকপল্ফলং।
৮। ন তং কৰ্ম্মং কতং সাধু যং কত্বা অনুতপতি, যস্স অসুমুখো রোদং বিপাকং পটিসেবতি।
৯। তং চ কৰ্ম্মং কতং সাধুং যং কত্বা নানুতপতি, যসৃস পতীতো সুমনো বিপাকং পটিসেবতি।
১০। মধু'ব মঞতি বালো যাব পাপং ন পচ্চতি, যদা চ পচ্চতি পাপং অথ বালো দুগ্ধং নিগচ্ছতি।
১১। মাসে মাসে কুসঙ্গেন বালো ভুঞ্জেথ ভোজনং, ন সো সংখতধম্মানং কলং অগ্ন্যতি সোলসিং।
১২। ন হি পাপং কতং কম্মং সজ্জু খীরং'ব মুচ্চতি, ডহন্তং বালমন্বেতি ভস্মাচ্ছন্নো'ব পাবকো।
১৩। যাবদেব অনথায ঞত্তং বালস জাযতি, হস্তি বালস সুকংসং মুদ্ধমস বিপাতযং।
১৪। অসতং ভাবনমিচ্ছেয্য পুরোরঞ্চ ভিঝুসু, আবাসেসু চ ইস্সরিযং পূজা পরকুলেসু চ।
১৫। মমেব কতঞঞন্তু গিহী পব্বজিতা উভো, মমেবাতিবসা অসু কিচ্চাকিচ্চেসু কিস্মিচি। ইতি বালস সংকল্পেপ্পা ইচ্ছামানো চ বড়তি।
১৬। অঞাহি লাভূপনিসা অঞা নিব্বানগামিনী, এবমেতং অভিঞায ভিষ্ণু বুদ্ধস সাবকো সক্কারং নাভিনন্দেয্য বিবেকমনুব্রহযে।

শব্দার্থ

দীঘা - দীর্ঘ; জাগরতো - জেগে থাকে; রত্তি - রাত; সন্তস - শ্রান্ত ব্যক্তির; বালানং - অজ্ঞদের; সন্ধম্মং - সদ্ধর্ম; সংসারো - সংসার; অবিজান্তং - অনভিজ্ঞ; চরংচে - [সংসারে) বিচরণ; নাধিগচ্ছেয্য - পাওয়া যায় না; সেয্যং - উন্নত: সদিসমত্তনো - নিজের সদৃশ; একচরিযং - একাকি বিচরণ; দহং - দৃঢ়তা; সহাযতা - সাহচর্য; পুত্তামথি (পুত্তং অথি) - পুত্র আছে; ধনমথি (ধনং অথি) - ধন আছে; বিহঞতি - চিন্তা করে; অত্তাহি অত্তনো নথি - নিজেই নিজের নয়; কুতো - কিরূপ; যো যে; মঞতি - মনে করে; পণ্ডিতমানী - পণ্ডিতাভিমানী, যে নিজেকে পণ্ডিত মনে করে; ॥ - বলা হয়; কথিত হয়; যাবজীবম্পি - আজীবন; পযিরুপাসতি - সান্নিধ্যে বাস করে; বিজানাতি - সম্যকভাবে জানতে পারে; খিল্পং - শীঘ্র, মুহূর্তকাল; দব্বী - চামচ; সূপরসং - তরকারির স্বাদ; বালা দুম্মেধা - মন্দবুদ্ধিসম্পন্ন মূর্খগণ; অমিত্তো - অমিত্র, শত্রু; করোস্তা পাপকং কম্বং - পাপকর্ম করে; কটুকপল্ফলং - দুঃখময় ফল; অনুতপতি - অনুতাপ করে; যস্স - যার; অসমুখো - অশ্রুমুখে; রোদং - রোদন, কান্না; সুমনো - প্রসন্নচিত্ত; পটিসেবতি - ভোগ করে; নানুতপতি - অনুতাপ করতে হয় না; যাব পাপং ন পচচতি - যতদিন পাপ পরিণতি লাভ না করে; বালো দুগ্ধং নিগচ্ছতি - মূর্খকে দুঃখ ভোগ করতে হয়; কুসঙ্গেন - কুশাগ্র দ্বারা, তৃণ বিশেষের অগ্রভাগ দ্বারা; মমেব কতমঞঞন্তু - আমার দ্বারা কৃত মনে করুক; কিচ্চাকিচ্চেসু - কর্তব্য ও অকর্তব্যে; সংকল্পো - সংকল্প; মানো - অভিমান; বড়তি - বৃদ্ধি পায়; লাভূপনিসা - লাভের উপায়; অভিঞায - পরিজ্ঞাত হয়ে; সক্কারং - সৎকার; নাভিনন্দেয্য - কামনা করবে না।

মর্মার্থ

বাল বর্গে মূর্খ ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে। নিদ্রাহীন ব্যক্তির রাত দীর্ঘ হয়। পথশ্রান্ত ব্যক্তির অল্পপথও দীর্ঘ মনে হয়। সেরূপ সদ্ধর্মে অজ্ঞ ব্যক্তির সংসার যাত্রাও দীর্ঘ হয়। সেজন্য সংসার চলার পথে নিজের সমান অথবা উৎকৃষ্টতর সঙ্গী থাকা দরকার। নতুবা একাকী বিচরণ করাই শ্রেয়। কখনো মূর্খের সাহচর্য করবে না।

মূর্খ ব্যক্তি নিজেকে পণ্ডিত মনে করে। আসলে সে প্রকৃতই মূর্খ। সারাজীবন ধর্মচর্চা করলেও ধর্মের স্বাদ বুঝতে পারে না। বিজ্ঞ ব্যক্তি মুহূর্তকাল পণ্ডিতের সান্নিধ্য পেলে ধর্মের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পারেন। মূর্খকে চামচের সঙ্গে এবং জিহ্বাকে পণ্ডিতের সাথে তুলনা করা হয়েছে। জিহ্বা তরকারির স্বাদ সহজে বোঝে কিন্তু চামচ তা পারে না।

নির্বোধ ব্যক্তি নিজের হিতাহিত বুঝতে পারে না। নিজের প্রতি নিজেই শত্রুতাচরণ করে। এমন কার্য করবে না যার জন্য অনুশোচনা করতে হয়। যে কর্ম দ্বারা ইহ-পরকালের হিতসাধন হয় তা করা উচিত। পাপকর্মের ফল পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত মূর্খ ব্যক্তি আনন্দ পায়। ফল দিতে আরম্ভ করলে ভীষণ যন্ত্রণা ভোগ করে। মূঢ় ব্যক্তি দীর্ঘদিন কুশাগ্রে বসে আহার করলেও তপস্যা হয় না। অভিজ্ঞ ও পণ্ডিত ব্যক্তির ধর্মাচরণজনিত পুণ্যের ষোলভাগের একভাগও হয় না। শিল্পজ্ঞান ও ধনার্জন মূর্খব্যক্তিকে বিনাশের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু পন্ডিত ব্যক্তি তা যথাযথ ব্যবহারের দ্বারা সম্মান ও প্রভূত পুণ্যের অধিকারী হয়।

অজ্ঞ ভিক্ষুরাই বিহার, প্রভুত্ব, নায়কত্ব লাভের জন্য উৎকণ্ঠিত থাকে। ফলে ভাবনা ও মার্গফল লাভের অন্তরায় হয়। বুদ্ধশিষ্য শীলবান ভিক্ষুরা লাভ সৎকার পরিত্যাগ করে মুক্তিমার্গ অনুসরণ করেন।

টীকা
অভিঞঞা

অভিঞা বলতে অভিজ্ঞা বা উচ্চতর জ্ঞান বোঝায়। অভিজ্ঞা লৌকিক ও লোকোত্তর ভেদে দ্বিবিধ।
বিবিধি ঋদ্ধি, (অলৌকিক শক্তি), দিব্যশ্রোত্র, পরচিত্ত জ্ঞান, অতীত জন্মের স্মৃতি, দিব্যচক্ষু বা প্রাণিগণের জন্ম-মৃত্যু সম্বন্ধে জ্ঞানই লৌকিয় অভিজ্ঞা।
আসবক্ষয় জ্ঞান বা অকুশল মনোবৃত্তির ধ্বংসই লোকোত্তর অভিজ্ঞা। এতেই প্রকৃত দুঃখমুক্তি ঘটে। অর্হত্বফল লাভ হয়।

Content added By

ক. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

১। পুল্ফ বঙ্গ-এর সারাংশ লেখ।
২। 'এতেসং গন্ধজাতানং সীলগন্ধো অনুত্তরো' উদ্ধৃত গাথাংশের আলোকে শীলগুণ বর্ণনা কর।
৩। ধম্মপদ গ্রন্থের বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
৪। বাল বর্গের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে লেখ।
৫। বাল বর্গের উপমাগুলোর মাধ্যমে মূর্খলোকের স্বরূপ তুলে ধর।

খ. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:

১। দক্ষ মালাকারের সাথে পন্ডিত ব্যক্তির সাদৃশ্য কোথায়?
২। বুদ্ধশিষ্যগণের চরিত্র ও জ্ঞান-সৌরভ কীভাবে প্রদীপ্ত হয়?
৩। ধর্মপদের ছাব্বিশটি বর্গের নাম লেখ।
৪। বাল বর্গের আলোকে মূর্খ ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে আলোকপাত কর।
৫। ভিক্ষুদের মার্গফল লাভের অন্তরায় কী কী?
৬। 'অভিঞা' সম্পর্কে টীকা লেখ।

গ. বাংলায় অনুবাদ কর:

১। যথাপি রুচিরং পুপল্ফং বপ্নবস্তুং সুগন্ধকং, এবং সুভাসিতা বাচা সফলা হোতি সুকুব্বতো।
২। নহি পাপং কতং কম্মং সঞ্জু খীরং'ব মুচ্ছতি, ডহস্তং বালমন্বেতি ভস্মাচ্ছন্নো'ব পাবকো।

ঘ. সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দাও:

১। 'বিশ্রুতি' শব্দের অর্থ কী?

ক. বিনষ্ট করে
খ. বপন করে
গ. চিন্তা করে
ঘ. বিরাজ করে

২। 'বসিকী' শব্দের অর্থ কোনটি?

ক. চামেলী
খ. টগর
গ. মল্লিকা
ঘ. চন্দন

৩। নির্বোধ ব্যক্তি নিজের কী বুঝতে পারে না?

ক. আত্ম-সম্মান
খ. কাজ-কর্ম
গ. হিতাহিত
ঘ. মাতাপিতা

৪। বাল বর্গে মূর্খ ব্যক্তির কী সম্বন্ধে বলা হয়েছে?

ক. চিত্ত
খ. চরিত্র
গ. ধর্ম
ঘ. বল

৫। ধর্মপদের গাথাগুলোকে কয়টি বর্গে বিভক্ত করা হয়েছে?

ক. পঁচিশ
খ. ছাব্বিশ
গ. সাতাশ
ঘ. আটাশ

৬ । বুদ্ধশিষ্য শীলবান ভিক্ষুরা কী অনুসরণ করেন?

ক. মুক্তিমার্গ
খ. যুক্তিমার্গ
গ. তীর্থমার্গ
ঘ. মোক্ষমার্গ

৭। শীলগন্ধের সৌরভ কোনদিকে আমোদিত হয়?

ক. বায়ুর অনুকূলে
খ. উত্তর দিকে
গ. দক্ষিণ দিকে
ঘ. চারদিকে

৮। 'দহং' শব্দের অর্থ কী?

ক. দৃষ্টতা
খ. দৃঢ়তা
গ. দক্ষতা
ঘ. দারিদ্রতা

৯। 'দব্বী' বলতে কী বোঝায়?

ক. দধি
খ. দড়ি
গ. চামচ
ঘ. বচন

Content added By
Please, contribute by adding content to চরিযা পিটক.
Content

১। অরিফ্টসবহযে নগরে সিবিনামাসি খত্তিযো নিসজ্জ পাসাদবরে এবং চিন্তেস'হং তদা।
২। যং কিঞ্চি মানুসং দানং অদিন্নং মে ন বিজ্ঞতি যোপি যাচেয্য মং চং দদেয্যং অবিকম্পিতো।
৩। মম সংকল্পং অঞঞায সক্কো দেবানং ইসরো নিসিন্নো দেব পরিসায ইদং বচনং অববি। 1
81 নিসজ্জ পাসাদবরে সিবি রাজা মহিদ্ধিকো চিন্তেন্তো বিবিধং দানং অদেয্যং সো ন পস্সতি।
৫। তথং নু বিতথং এতং হন্দ বিমংসযামি তং মুহুত্তং আগময্যাথ যাব জানামি তং মন'ন্তি।
৬। পবেধমানো ফলিতসিরো বলিতগত্তো জরাতরো অন্ধবপ্নো ব হুত্বান রাজানং উপসঙ্কমি।
৭। সো তদা পদ্গহেত্বান বামং দক্মিণবাহু চ সিরস্মিং অঞ্জলিং কত্বা ইদং বচনং অব্রবি।
৮। যাচামি তং মহারাজ ধম্মিকরঠবনং তাব দানরতা কিত্তি উগ্‌গ্নতা দেবমানুসে।
৯। উভোপি নেত্তা নযনা অন্ধা উপহতা মম একং মে নযনং দেহি ত্বং পি একেন যাপযা'তি।
১০। তত্সা'হং বচনং সুত্বা হঠো সংবিগ্‌গমানসো কতঞ্জলি বেদজাতো ইদং বচনং অব্রবিং।
১১। অহো মে মানসং সিদ্ধং সংকম্পো পরিপূরিতো অদিন্নপুর্ব্বং দানবরং অজ্জ দস্সামি যাচকে।
১২। ইদানা'হং চিন্তহিত্বান পাসাদতো ইধাগতো ত্বং মম চিত্তং অঞঞায নেত্তং যাচিতং আগতো।
১৩। এহি সিবক উঠেহি মা দন্তহি মা পবেধযি উভোপি নযনে দেহি উপাতেত্বা বনিব্বকে।
১৪। ততো সো চোদিতো মযহং সিবকো বচনং করো উদ্ধরিত্বান পাদাসি তালমিঞ্জং ব যাচকে।
১৫। দদমানস দেন্তস্স দিন্নদানস মে সতো চিত্তস অঞথা নথি বোধিযা যেব কারণা।
১৬। ন মে দেস্সা উত্তো চন্ধু অত্তান মেন দেস্সিযো সব্বতং পিষং মযহং তমা চ礫ং অদাসি হস্তি।

শব্দার্থ

অরিঠসবহযে - অরিষ্ট নামক: সিবিনামাসি - শিৰি নামক; খত্তিযো - ক্ষত্রিয়; নিসজ্জ - বসে; পাসাদবরে - উত্তম প্রাসাদে; চিন্তেস'হং - আমি চিন্তা করেছিলাম; তদা - তখন; যং কিঞ্চি - যা কিছু; দানং অদিল্লং - দান দেওয়ার আছে; মেন বিজ্ঞতি - আমার দেওয়া হয় নি; যোপি - যে কেউ; যাচেয্য - যাচনা কররে; মং চক্ষুং - আমার চক্ষু; দদেয্যং - দিব; অবিকম্পিক্কো - অবিচলিত চিত্তে; মম সংকম্পং - আমার সংকল্প; সক্কো ইন্দ্র' অংজ্ঞায় - জ্ঞাত হয়ে; দেৱানং ইসরো - দেবরাজ; বচনং - কথাঃ নিসিল্লো - বসে; দেবপরিসায - দেব পরিষদে; অব্রবি - বলেছিলেন; মহিদ্ধিকো - মহাঋদ্ধিমান; চিন্তেন্তো - চিন্তা করে; অদেয্যং - দেওয়া হয় নি; তথং - ঠিক; মুহুত্তং - মুহূর্তের মধ্যে ; বিতথং - মিথ্যা, ভ্রান্ত; বিমংসধ্যমি - পরীক্ষা করব; পবেধমানো - পক্ককেশ; অব্দ - আজ; সস্সামি - দিব; চিন্তহিত্বান - চিন্তা করে; বনিককে - প্রার্থীকে; ইধাগতো (ইধং আগতো) - এখানে এসেছি; সীবক - অসত্ত্ব চিকিৎসক; উঠেছি - উঠুন; মা পষেধমি - ভীত হয়ো না; উম্পাটেতা - উৎপাটিত করে, উপড়ে ফেলে; চোদিতো - কথামত; তালমিঞ্জং - তালের শাঁস; চিত্তস্স্স অজ্ঞথা - মনের বিরূপ ক্রিয়া: বোধিযা - বোধি লাভের জন্য; দেস্সা - ঈর্ষার পাত্র; সবভূতং - সর্বজ্ঞতা।

সারমর্ম

বোধিসত্ত্ব একসময় অরিষ্ট নগরে শিৰি নামে রাজা হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। একদিন প্রাসাদে বসে তিনি চিন্তা করছিলেন, আয় কিছু দান দেওয়ার বাকি আছে কিনা। তাঁর চক্ষু দান করার কথা ভাবলেন। দেবরাজ ইন্দ্র তা সত্য কিনা পরীক্ষা করবার জন্য মুহূর্তের মধ্যে রাজার নিকট উপস্থিত হলেন। ইন্দ্র পঞ্চকেশে জরাগ্রস্থ কুঞ্চিত দেহে এক অন্ধের বেশে শিবি রাজার একটি চক্ষু চাইলেন। দেবরাজ দুই হস্ত দ্বারা অঞ্জলিবদ্ধ হয়ে রাজার দানের প্রশংসা করলেন। দুই চক্ষু অন্ধকে একটি চক্ষু দান করে অপরটি দ্বারা তাঁকে কালযাপন করতে বললেন। রাজা প্রাসাদ থেকে নেমে এসেছিলেন কাউকে চক্ষু দান করার জন্য। তাঁর মনের বাসনা পূর্ণ হয়েছে। সংকল্প সিদ্ধ হয়েছে।

শিবিরাজ অস্ত্র চিকিৎসককে ডেকে নিয়ে এলেন। ইতস্তত না করে তাঁর চক্ষু দুটি উৎপাটন করতে আদেশ দিলেন। সিবক (অস্ত্র চিকিৎসক) তাই করল। চক্ষু দুটি দান করার সময় শিবিরাজের কোনো ভাবান্তর হয় নি। এটা কেবল বুদ্ধত্ব লাভের জন্যই করেছিলেন। চক্ষু দুটি তাঁর ঈর্ষার পাত্র নয়। তিনি চক্ষুকে ভালবাসতেন না তাও নয়। তাঁর কাছে সর্বজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছিল। সেজন্যই চক্ষু দুটি দান করেছিলেন।

টীকা
শিবিরাজ

শিবিরাজ চরিতে বোধিসত্ত্ব কিভাবে দান পারমী পূর্ণ করেছিলেন তাই বর্ণিত হয়েছে। বোধিসত্ত্বের এরূপ দৃষ্টান্ত বিরল ঘটনা। শিবি জাতকেও অনুরূপ কাহিনী পাওয়া যায়।

অতীতে শিবিরাজ্যে শিবি মহারাজ রাজত্ব করতেন। বোধিসত্ত্ব অরিস্টপুর নগরে তাঁর পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম রাখা হয়েছিল শিবিকুমার। তিনি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তক্ষশিলায় গিয়ে বিদ্যাশিক্ষা করেন। শিক্ষা শেষে রাজধানী অরিস্টপুর নগরে ফিরে আসেন। পিতা তাঁর পাণ্ডিত্যের পরিচয় পেয়ে ঔপরাজ্য শাসনের ভার অর্পণ করেন। কালক্রমে শিবি মহারাজের মৃত্যু হলে শিবিকুমার রাজা হন। তিনি দুর্গতিগমন পরিহারের জন্য দশবিধ রাজধর্ম প্রতিপালন করে রাজত্ব করতেন। তিনি নগরের চারদ্বারে, নগরের মধ্যে এবং রাজপ্রাসাদের সম্মুখে ছয়টি দানশালা নির্মাণ করান। সেখান থেকে প্রতিদিন ছয় লক্ষ মুদ্রা ব্যয় করে মহাদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় নিজে দানশালায় গিয়ে বিতরণ-কার্য পর্যবেক্ষণ করতেন। তিনি পার্থিব সম্পদ সমস্ত দান করেন। বাহ্যদানে সন্তুষ্ট না হয়ে শেষ পর্যন্ত চক্ষু দুটি দান করে দানের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন।

চরিযা পিটক

সুত্ত পিটকের অন্তর্গত খুদ্দক নিকায়ের শেষ গ্রন্থ চরিযাপিটক। গ্রন্থটি সম্পূর্ণ গাথায় রচিত। এতে ৩৫টি কাহিনী আছে। বোধিসত্ত্বরূপে জন্ম-জন্মান্তরে বুদ্ধ যে পারমীগুলো পূরণ করেছিলেন সেগুলোর কথাই এতে বলা হয়েছে। স্বয়ং বুদ্ধ এ কাহিনীগুলো বিবৃত করেছিলেন।

কাহিনীগুলো জাতকের অনুরূপ। কেবল পারমিতার চর্যার উদ্দেশ্যেই এগুলো পদ্যে রচিত হয়েছে। রচনারীতি ধর্মপদের মতই। অকত্তি, ধনঞ্জয়, সুদর্শন, গোবিন্দ, চন্দ্রকিন্নর, বেসান্তর, সসপণ্ডিত, ভুরিদত্ত, চম্পেয্য, চুলবোধি, মহালোমহংস প্রভৃতি কাহিনীগুলো চরিযা পিটকের অন্তর্ভুক্ত। প্রথম বিশটি কাহিনীতে দান ও শীল পারমীর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ১৫টি চরিত-নৈষ্ক্রম্য, বীর্য, প্রজ্ঞা, ক্ষান্তি, সত্য, অধিষ্ঠান, মৈত্রী ও উপেক্ষা এ আটটি নিয়ে বর্ণিত হয়েছে।

Content added By

১। পুনাপরং যথা হোমি মহাযক্কো মহিদ্ধিকো, ধম্মো নাম মহাযক্কো সব্বলোকানুকম্পকো।
২। দসকসল কম্মপথে সমাদপেন্তো মহাজনং, চরামি গামনিগমং সমিত্তো সপরিজ্জনো।
৩। পাপো কদরিযো যা দীপেন্তো দসপাবকে, সো পেথ মহিযা চরতি সমিত্তো সপরিজ্জনো।
81 ধৰ্ম্মবাদী অধম্মো চ উভো পচ্চনিকা মযং, দুরে দুরং ঘট্টযন্তা সমিম্হা পটিপথে উভো।
৫। কলহো বত্ততি অস্মা কল্যাণ পাপকস চ, মগ্‌গা ওক্কমনস্থায মহাযুদ্ধো উপঠিতো।
৬। যদি অহং তত্স পকুষ্পেয্যং যদি ভিন্দে তপোগুণং, সহ পরিজনেন তস রজভূতং করেয্য'হং।
৭: অপি চা'হং সীলরায নিব্বাপেত্নান মানসং, সহ-জনেন ওক্রমিতা পথং পাপস্স অদাসি অহং।
৮। সহ পথতো ওক্কন্তো কত্বা চিত্তস নিৰ্ব্বতিং, বিবরং অদাসী পঠবী পাপযস্স তাবদেতি।

শব্দার্থ

পুনাপরং - পুনরায়; যদা - যখন; হোমি - হয়েছিলাম; মহিন্দ্বিকো - মহাঋদিধমান; সব্বলোকানুকম্পকো - পৃথিবীর সকলের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করে; দসকুসলকক্ষপথে - দশপ্রকার কুশলকর্মপথে; সমাদপেন্তো - সম্পন্ন করার জন্য; মহাজনং - মহাপরিষদ, অনেক লোক; চরামি - বিচরণ করেছিলাম; গামনিগমং - গ্রাম ও নগর; সমিত্তো - শান্ত অবস্থা; মযং - আমরা; কদরিযো - কদর্য; দীপেন্তো - আলোকিত করতে সপরিজ্জনো - পরিজনসহ; পচ্চনিকা - পাপীদের মধ্যে; কলহো - বিবাদ; মগ্‌গ - রাস্তা; ওক্রমনথায় - ছেড়ে দেওয়ার জন্য; উপঠিতো - অবতীর্ণ হল; সীলরাম - শীল রক্ষার জন্য; নিব্বাপেতান - প্রশমিত করতে; মানসং - মনোভাব; ওক্কমিত্বা - নেমে; পাপস - অধর্মকে: অদাসি - দিয়েছিলাম; চিত্তস্স নিৰ্ব্বতিং - মনকে প্রশান্ত করে; বিবরং - বিদীর্ণ।

সারমর্ম

বোধিসত্ত্ব একসময় মহাঋদ্ধিমান দেব-পরিষদের ধর্ম নামক গুণসম্পন্ন দেবপুত্র ছিলেন। তখনও তিনি জগতবাসীর প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করেছিলেন। মানুষকে দশপ্রকার কুশলকর্মে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাঁর পরিষদ নিয়ে গ্রামে নগরে পরিভ্রমণ করেছিলেন।

তিনি পাপকর্মে লিপ্ত অধর্ম নামক দেবপুত্র ও যক্ষদেরকে দশপ্রকার অকুশল কর্মপথ থেকে বিরত রাখার উপদেশ দিতেন। সেজন্য সমগ্র জম্বুদ্বীপ বিচরণ করেছিলেন। অধর্মবাদীর রথ ধর্মবাদীর রথের মুখোমুখি হয়েছিল। গতিপথে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় বিবাদ উৎপন্ন হয়। শেষে মহাযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়। তিনি তাদেরকে মুহুর্তের মধ্যে ভষ্মীভূত করতে পারতেন। কিন্তু তপঃগুণ ভঙ্গ হওয়ার ভয়ে তা করেন নি। শীল রক্ষার জন্য তাঁর মনকে প্রশমিত করেছিলেন।

পারমী পূরণের জন্য তিনি পরিজন সহ রথ থেকে নেমে অধর্মবাদীদেরকে পথ ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিবাদ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর এ শীলগুণে পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে পাপীকে গ্রাস করে। শীলগুণই জগতে শ্রেষ্ঠ।

টীকা
পারমী

পারমী বা পারমিতার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল পরম স্কিন তা অর্থাৎ পরমের ভাব। এর আসল অর্থ দাঁড়ায় পূর্ণতা। 'বোধি' বা জ্ঞান লাভ হলেই পূর্ণতা লাভ করা যায়। সর্বাপেক্ষা উৎকর্ষ সাধিত হয় এমন বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলিকেই পারমী বলে। পরম নির্বাণ লাভের অভিপ্রায়ে প্রজ্ঞাময় কুশল কর্মই পারমী।

পারমী দশ প্রকার। যথা দান, শীল, নৈষ্ক্রম্য, প্রজ্ঞা, বীর্য, ক্ষান্তি, সত্য, অধিষ্ঠান, মৈত্রী ও উপেক্ষা। সম্যক সম্বোধি লাভের জন্য বুদ্ধকে বোধিসত্ত্ব অবস্থায় উক্ত দশ প্রকার পারমী পূর্ণ করতে হয়েছিল।

Content added By

ক. নিম্নের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

১। শিবিরাজ চরিতের বিষয়বস্তুর বর্ণনা দাও:
২। শিবিরাজ কিভাবে দান পারমী পূর্ণ করেছিলেন? শিবিরাজ চরিতের আলোকে লেখ।
৩। শিবিরাজের জীবনী সংক্ষেপে আলোচনা কর।
৪। 'ধম্ম দেবদূত চরিযং' এর সারমর্ম তোমার নিজের ভাষায় লেখ।
৫। বোধিসত্ত্ব ধর্ম নামক দেবপুত্র হিসেবে জগতবাসীর প্রতি যে অনুকম্পা প্রদর্শন করেছিলেন তা উল্লেখ কর।

খ. সংক্ষেপে উত্তর লেখ:

১। চরিয়া পিটকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
২। শিবিরাজ কে ছিলেন? তিনি কীভাবে মহাদান দিয়েছিলেন?
৩। 'পারমী' বলতে কী বোঝ? পারমী কয় প্রকার ও কী কী?
৪। ধর্ম নামক দেবপুত্রের প্রকৃত পরিচয় কী? ধর্মবাদী ও অধর্মবাদীর মধ্যে বিবাদ উৎপন্ন হয়েছিল কেন?

গ. শূন্যস্থান পূরণ কর:

মম সংকল্পং ____ সক্কো দেবানং_______ !

নিসিন্নো ______ ইদং _____ অব্রবি।

পাপো _______ যক্খো‌_________ দসপাবকে

সো পেথ _______ চরতি _______ সপরিজ্জনো।

ঘ. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন দাও:

১। বোধিসত্ত্ব অরিষ্ট নগরে কোন রাজা হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

ক. মগধরাজ
খ. কোশলরাজ
গ. বারাণসীরাজ
ঘ. শিবিরাজ

২। চরিযা পিটকে কয়টি কাহিনী আছে?

ক. পঁচিশটি
খ. পঁয়ত্রিশটি
গ. পঁয়তাল্লিশটি
ঘ. পঞ্চান্নটি

৩। শিবিরাজ কাকে তাঁর দুটি চক্ষু দান করেছিলেন?

ক. দুই চক্ষু অন্ধ লোকটিকে
খ. দেবরাজ ইন্দ্রকে
গ. অর্হৎ ভিক্ষুকে
ঘ. চক্ষুপাল স্থবিরকে

৪। 'পাসাদবরে' শব্দটির বাংলা অর্থ কী?

ক. প্রাসাদের ওপরে
খ. প্রাসাদের ভেতরে
গ. উত্তম প্রাসাদে
ঘ. প্রাসাদের চারদিকে

৫। 'সর্বজ্ঞতা' শব্দের পালি কোনটি?

ক. সর্বতং
খ. অনুঞতং
গ. সলাযতনং
ঘ. রূপায়তনং

৬। 'পারমী' কয় প্রকার?

ক. আট প্রকার
খ. নয় প্রকার
গ. দশ প্রকার
ঘ. বার প্রকার

৭। শিবিকুমার কোথায় বিদ্যাশিক্ষা করেছিলেন?

ক. রাজগৃহে
খ. নালন্দায়
গ. অরিস্ট নগরে
ঘ. তক্ষশিলায়

Content added By
মালুঙ্ক্যপুত্তো থেরো

মনুজম্স পমত্তচারিনো তণহা বড়তি মালুবা বিষ,
সো পল্লবতি হুরাহুরং ফলমিচ্ছং'ব বনস্মিং বানরো।
যং এসা সহতে জম্মী তণহা লোকে বিসত্তিকা,
সোকা তস পবন্তি অভিবটুং'ব বীরণং।
যো বে তং সহতে জম্মিং তহং লোকে দুরচ্চযং,
সোকা তম্হা পপতন্তি উদবিন্দু'ব পোখরা।
তং বো বদামি ভদ্দং বো যাবন্তেথ সমাগতা,
তহায মূলং খনথ উসীরখো'ব বীরণং।
মা বো নলং'ব সেতো'ব মারো ভঞ্জি পুনপুনং,
করোথ বুদ্ধবচনং খণো বো মা উপচ্চগা।
খণা তীতা হি সোচন্তি নিরযাহ সমষ্পিতা, পমাদো রজো,
পমাদানুপতিতো রজো;
অপমাদেন বিজ্ঞায অব্বহে সল্লমত্তনো'তি।

শব্দার্থ

মনুজম্স - মানুষের; পমত্তচারিণো - প্রমত্তচারী; তণহা - তৃষ্ণা; মালুবা - মালুলতা, পত্রলতা (যে লতা অন্য বৃক্ষকে ধ্বংস করে); বিষ - মত, ন্যায়; বড়তি - বর্ধিত হয়; পল্লবতি - ধাবিত হয়; ফলমিচ্ছং'ব - ফলের প্রত্যাশায়; হুরাহুরং - এক স্থান থেকে অন্যস্থানে; বনস্মিং - বনে; বিসত্তিকা - বিষতুল্য; জম্মী - হীন, নিচ; সোকা - শোকসমূহ। বীরণ - বীরণতৃণ, বেণা বা খড় থেকে যে তৃণ জন্মে; সহতে - অভিভূত হয়, সহ্য হয়; উদবিন্দু'ব বৃষ্টির জলের ন্যায়; দূরচযং - দুরতিক্রম্য; অতিক্রম করা কষ্টসাধ্য; পবতি - প্রকৃষ্টরূপে বৃদ্ধি পায়; পপতন্তি - পড়ে যায়; পোখরা - পদ্ম; তং বো বদামি - সেই কারণে বলছি; যাবস্তেথ সমাগতা - যারা এখানে সমাগত হয়েছে; তহায মূলং - তৃষ্ণার মূল; খণথ - খনন কর; উসীরখো'ব বীরণং - বীরণ তৃণকে কোদাল দ্বারা; নলং'ব সেতো'ব - নদী তীরে জাত - নলবনকে নদীস্রোত যেমন; ভক্তি - ভেঙ্গে ফেলে; পুনপুনং - বারবার; করোথ - করবে; উপচ্চগা - অতিক্রম কর; খণাতীতা - সুক্ষণকে যারা অতিক্রম করে; নিরযাহ সমষ্পিতা - নিরয়ে পতিত হয়; পমাদানুপতিতো - প্রমাদের বশবর্তী হয়ে; সল্লমত্তনো - কামরাগাদি শল্যসমূহ (প্রতিবন্ধক)।

সারমর্ম

প্রমত্তচারী ব্যক্তির তৃষ্ণা মালুব লতার ন্যায় বৃদ্ধি পায়। বানর ফল লাভের আশায় বৃক্ষ থেকে বৃক্ষান্তরে গমন করে। তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিও ভব থেকে ভবান্তরে ধাবিত হয়। বিষতুল্য বিষাক্ত তৃষ্ণা যে ব্যক্তিকে অভিভূত করে তার শোক ক্রমেই বর্ধিত হয়। যিনি হীন তৃষ্ণা ধ্বংস করেন, তাঁর শোকসমূহ পদ্মপত্র থেকে জলবিন্দু পতনের ন্যায় দূরীভূত হয়।

সেই কারণে মালুঙ্ক্যপুত্র স্থবির উপস্থিত সবাইকে অপ্রমত্ত হয়ে তৃষ্ণার বিনাশসাধন করতে বলেছিলেন। কৃষকেরা বীরণ তৃণকে কোদাল দ্বারা খনন করেন। সেরূপ প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা অর্হৎমার্গরূপ প্রজ্ঞাকোদাল দিয়ে অবিদ্যাদি ক্লেশরাশিকে ছেদন করেন।

মারের রাজ্য অতিক্রম করার জন্য বুদ্ধবচন যথানিয়মে সম্পাদন করেন। যে বুদ্ধবচন রক্ষা করে না, সে সমস্ত সুক্ষণ অতিক্রম করে। তারা নিরয়ে পতিত হয়ে শোকার্ত হয়। দুঃখভোগ করে। প্রমাদ জন্মান্তর বৃদ্ধি করে। অপ্রমাদ ও মার্গফলরূপ বিদ্যা হৃদয়ে আশ্রিত কামরাগাদির মূল উৎপাটন করে।

টীকা
মালুঙ্ক্যপুত্ত থের

তিনি পূর্ববুদ্ধগণের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়ে গৌতম বুদ্ধের সময় শ্রাবস্তীর কোশলরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন অগ্রাসনিক। মাতার নাম মালুঙ্ক্যা। তাই মাতার নাম অনুসারে তিনি 'মালুঙ্ক্যপুত্র' বলে পরিচিত হন।
তিনি যৌবনে গৃহত্যাগ করে পরিব্রাজক হিসেবে ঘুরে বেড়ান। পরে বুদ্ধের ধর্ম শুনে প্রব্রজিত হন এবং সহসা ষড়াভিজ্ঞ হন। জ্ঞাতিদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তিনি তাঁদের নিকট যান। জ্ঞাতিগণ ভাল খাদ্য পরিবেশন করে ধনের প্রলোভন দেখান। তারা তাঁর সম্মুখে ধনসস্তূপ স্থাপন করেন। তাঁকে চীবর ত্যাগ করে সেই ধন দিয়ে সত্রী-পুত্র প্রতিপালন পূর্বক পুণ্যকার্য সম্পাদন করতে অনুরোধ জানান। স্থবির তাঁদের অভিপ্রায় জ্ঞাত হয়ে আকাশে উপবেশন করেন। সেই সময় তিনি যে গাথাগুলো ভাষণ করেছিলেন সেগুলোই থের গাথায় লিপিবদ্ধ হয়েছে।

থের গাথা

থের গাথা খুদ্দক নিকায়ের অষ্টম গ্রন্থ। এতে বুদ্ধের সমসাময়িক ২৬৪ জন থের কর্তৃক রচিত গাথা সংকলিত হয়েছে। জ্ঞানী ও বয়োবৃদ্ধ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের থের বা স্থবির বলা হয়। এ গ্রন্থে ১৩৬০টি গাথা আছে। গাথাগুলোকে ২১টি নিপাতে বিভক্ত করা হয়েছে: যেমনজ্জ একে নিপাত, দ্বিক নিপাত, তিক নিপাত ইত্যাদি। গাথার সংখ্যা অনুসারেই এটা করা হয়েছে। গাথাগুলোতে বৌদ্ধ স্থবিরদের অভিজ্ঞতা সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রসঙ্গে তাঁরা প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। বুদ্ধযুগে রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহের মধ্যে থেরগাথা অন্যতম। প্রব্রজ্যা জীবনের ঘটনা এবং লোকোত্তর জীবনের পূর্ণতা এতে সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে। তাছাড়া, বৌদ্ধ ধর্মের আদর্শ ও তত্ত্বগুলোর ব্যাখ্যা রয়েছে। লোভ, দ্বেষ, মোহ বর্জন করে সংসারের প্রতি অনাসক্ত হয়ে জীবনচর্চার উপদেশ রয়েছে। মেত্তা, করুণা, মুদিতা, উপেক্ষার আদর্শগুলো প্রতিপন্ন করা হয়েছে। মহাজ্ঞানী সারিপুত্র, মহাঋদ্ধিমান মৌদগল্যায়ন, আনন্দ, উপালি, বঙ্গীশ, অঙ্গুলিমাল, তালপুট প্রভৃতি স্থবিরদের জীবনের গতি ও পরিণতি সকলের চিত্ত আকর্ষণ করে।

Content added By

দিষা পাসাদছাযাযং চক্ৰমন্তং নরুত্তমং
তথ নং উপসঙ্কম্ম বন্দিসং পুরিসুত্তমং।
একংসং চীবরং কত্বা সংহরিত্বান পাণযো,
অনুচঙ্কমিং বিরজং সব্বসত্তানমুত্তমং।
ততো পহে অপুচ্ছি মং পহানং কোবিন্দো বিদু,
অচ্ছন্তী চ অভীতো চ ব্যাকাসিং সখুনো অহং।
বিস্সজ্জিতেসু পহেসু অনুমোদি তথাগতো,
ভিক্ষুসধ্বং বিলোকেড়া ইমমত্থং অভাস্থ।
লাভা অঙ্গান-মগধানং যেসাযং পরিভুঞ্জতি
চীবরং পিণ্ডপাতং চ পচ্চযং সযনাসনং।
পচ্চুট্‌ঠানং চ সামীচিং, তেসং লাভাতি চ' বুবি,
অজ্জতগৃঙ্গে মং সোপাক দস্সনাযো পসঙ্কম।
এসা চেব তে সোপাক ভবতু উপসম্পদা,
জাতিযা সত্তবসো'হং লম্বান উপসম্পদং
ধারেমি অন্তিমং দেহং' অহো ধৰ্ম্ম-সুধম্মতা'তি।

শব্দার্থ

পাসাদছাযাযং - প্রাসাদের (গন্ধকুটিরের) ছায়ায়; চঙ্কমন্ডং দিয়া - চংক্রমণ করতে দেখে; নরুত্তমং - নরোত্তম; তথ - সেখানে; উপসঙ্কম্ম - উপস্থিত হয়ে; একংসং - একাংশ; সংহরিত্বান - জোড় করে; পাণযো - হাত; অনুচঙ্কমিং - পশ্চাতে চংক্রমণ করি; সব্বসত্তানমুত্তমং - সকল প্রাণিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; পঞহং - প্রশ্ন; অপুচ্ছি - জিজ্ঞেস করলেন; কোবিদো - পারদর্শী; বিদূ জ্ঞানী; অচ্ছন্তী - অকম্পিত; অভীতো - নির্ভয়ে; ব্যাকাসিং - ব্যাখ্যা করলেন; সথুনো - শাস্তাকে; অনুমোদি - অনুমোদন করলেন; বিস্সজ্জিতেসু পহেসু - প্রশ্নোত্তরের ব্যাখ্যা; বিলোকেত্বা - দর্শন করে ইমমত্থং (ইমং + অথং) - এই অর্থ, এই বিষয়; অঙ্গান-মগধানং - অঙ্গ ও মগধবাসিদের, পরিভুঞ্জতি - পরিভোগ করে; অভাসথ - ভাষণ দেন; সযনাসনং - শয্যাসন; পড়ুট্ঠানং - প্রত্যুত্থান, আগন্তুকের সম্মানার্থ উঠে দাঁড়ানো; সামীচিং - সেবাকর্ম; লাভাতি - লাভ হয়; জাতিযা সত্তবসো'হং - সাত বছর বয়ঃক্রমকালে; ধারেমি - ধারণ করছি ; অন্তিমং দেহং - শেষ জন্ম।

টীকা
সোপাকো থেরো

সোপাক স্থবির সিদ্ধার্থ, ভগবানের সময় ব্রাহ্মণকূলে জন্মগ্রহণ করেন। কামভোগের দোষ দেখে গৃহবাস ত্যাগ করে তাপস-প্রব্রজ্যা নেন। এক পর্বতে অবস্থানের সময় তাঁর আসন্ন মৃত্যুদর্শনে ভগবান তথায় উপাস্থত হন। তিান বুদ্ধ দর্শনে প্রীত হয়ে শাস্তাকে পুষ্পাসন দান করেন। সেই পুণ্যফলে সোপাক মৃত্যুর পর দেবলোকে উৎপন্ন হন ।

গৌতম বুদ্ধের সময় বণিককূলে জন্মগ্রহণ করে সোপাক নামে অভিহিত হন। চারমাস বয়সে তাঁর পিতা মারা যান। কাকা তাঁকে লালন-পালন করেন। নিজপুত্রের সাথে ঝগড়া করায় কাকা অত্যন্ত রাগান্বিত হন। তখনি তাঁকে হাত-পা বেঁধে শ্মশানে ফেলে দেয়া হয়। পারমীপূর্ণ বালকের কেউ অনিষ্ট করল না। সে অর্ধরাতে বিলাপ করতে লাগল- 'আমার কী দুর্গতি? আমার সহায় কে হবে? আমাকে কে অভয় দেবে? আমি তো একাকী বাঁধা অবস্থায় আছি'। তখন বুদ্ধ প্রাণিদের প্রতি কৃপাদৃষ্টি দিয়ে দেখলেন। তিনি সোপাকের অর্হত্বফলের বিষয় অবগত হয়ে নিজ দেহ হতে আলো প্রজ্জ্বলিত করলেন। স্মৃতি উৎপন্ন করে বললেনজ্জ 'সোপাক, এস, ভয় কর না। তথাগতকে দর্শন কর। রাহুমুক্ত চন্দ্রের ন্যায় তোমাকে মুক্ত করব'।

বুদ্ধের প্রভাবে বালকের বন্ধন খুলে গেল। গাথা শ্রবণের পর স্রোতাপন্ন হয়ে জেতবনের গন্ধকুটিরের সম্মুখে গিয়ে দাঁড়ালেন। এদিকে ছেলেকে না দেখে তাঁর মা কাকাকে জিজ্ঞেস করলেন। সে কিছুই জানে না উত্তর দিল। পরিশেষে মা বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হন। তথাগত তাঁকে ধর্মোপদেশ দিলে সোতাপন্ন হলেন। মাকে ধর্মদেশনা করার সময় সোপাকও অর্হত্বফল লাভ করেন। তখন তাঁর বয়স সাত বছর। ভগবান তাঁকে উপসম্পদা দেয়ার ইচ্ছায় জ্ঞান পরীক্ষা করার জন্য দশটি প্রশ্ন করেছিলেন। সোপাক উত্তর প্রদানে বুদ্ধকে সন্তুষ্ট করেছিলেন। সাত বছর বয়স্ক কুমারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে এ প্রশ্নগুলো 'কুমার পঞ্জহা' (কুমার প্রশ্ন) এবং শ্রামণেরকে প্রশ্ন করেছিল বলে 'সামণের পা' বা 'শ্রাবণের প্রশ্ন' নামে অভিহিত। এখনও শ্রামণেরদেরকে এ প্রশ্নগুলো উত্তরসহ শিক্ষা করতে হয়।

সারমর্ম

বুদ্ধের ঋদ্ধি প্রভাবে সোপাক বন্ধনমুক্ত হয়ে শ্মশান থেকে জেতবনের গন্ধকুটির বিহারে উপস্থিত হন। তখন বুদ্ধ চংক্রমণ করছিলেন। সোপাক তাঁকে বন্দনা করে বুদ্ধের পেছনে পেছনে চংক্রমণ করতে লাগলেন। বুদ্ধ তাঁকে দশটি প্রশ্ন করেন। সোপাক সুন্দর ও নির্ভীকভাবে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন। তথাগত তাতে সন্তুষ্ট হন। তৎপর ভিক্ষুসংঘের পরিষদে তিনি সোপাক শ্রামণের বিষয় বলতে গিয়ে অঙ্গ-মগধবাসির প্রদত্ত চীবর, পিণ্ড, শয্যাসন ও ঔষধপত্র দানের প্রশংসা করলেন। 'ভিক্ষু সোপাক তা পরিভোগ করছে, ওটাই তাদের মহালাভ।' একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সাতবছর বয়স্ক সোপাক উপসম্পদা প্রাপ্ত হলেন। এ জন্মই তাঁর অন্তিম দেহধারণ ছিল। অহো। নৈর্বাণিক ধর্মের কী প্রভাব।

Content added By
মন্দা থেরী

আতুরং অসুচিং পূতিং পল্স নন্দে সমুসযং।
অসুভায় চিত্তং ভাবেহি একগ্‌গং সুসমাহিতং।
অনিমিত্তঞ্চ ভাবেছি মানানুসযমুজ্জহ।
ততো মানাভিসমযা উপসম্ভা চরিস্সসি।

শব্দার্থ

আতুরং - আঙুর, রুগ্ন, শোকের কারণ; অসুচিং - অশুচি, অপবিত্র; পৃতিং - পূতি, পচা; পস্স - দেখ; সমুস্ল্যং - সুন্দর দেহ, শরীরপিণ্ড; অসুভাষ - অসার, অশুভ; চিত্তং ভাবেহি - চিত্তকে (ধ্যানে) মগ্ন কর; একাগ্‌গং একাগ্র; - সুসমাহিতং সুসমাহিত; অনিমিত্ত - যা অস্থায়ী পদার্থের ওপর নির্ভর করে না; মান - নিজের রূপ, শরীর, পদ ইত্যাদির অভিমান; উজ্জহ (উৎ+ জহ) - পরিত্যাগ কর; উপসস্তা - উপশম করে; চরিস্সসি - বিচরণ করবে।

সারমর্ম

নন্দা তাঁর সৌন্দর্যের অহংকার করতেন। ভিক্ষুণী হয়েও তা তিনি পরিত্যাগ করতে পারেননি। সেজন্য বুদ্ধ তাঁকে ভৎর্সনা করতেন বলে তাঁর নিকটে যেতেন না। অথচ জ্ঞান লাভের উপযুক্ত ছিলেন। বুদ্ধ মহা-প্রজাপতিকে আদেশ দিলেন যে, সমস্ত ভিক্ষুণী যেন তাঁর নিকট এসে ধর্মোপদেশ শ্রবণ করে। নন্দা নিজের পরিবর্তে অন্যজনকে পাঠালেন। ভগবান প্রতিনিধি পাঠাতে নিষেধ করলেন। এরূপে বাধ্য হয়ে নন্দাকে আসতে হল। ভগবান তাঁর অলৌকিক ক্ষমতাবলে এক সুন্দরী সত্রীলোকের মূর্তি উপস্থাপিত করলেন। তাঁর বার্ধক্য ও পরিণতি প্রদর্শন করে দেহের অসারতা দেখালেন। ঐ দৃশ্য নন্দার মর্মে আঘাত করল। বুদ্ধ সেই সময় নন্দাকে সম্বোধন করে যে উপদেশ দিয়েছিলেন তা দুটি গাথায় ঘেরী নিজেই রচনা করেন। নিম্নে তার অনুবাদ দেওয়া হল:

নন্দে! পৃতি, অশুচি ও ব্যাধির এ দেহ-সমষ্টিকে অবলোকন কর। সুসমাহিত ও একাগ্র চিত্তে অশুভভাবনায় চিত্তকে নিয়োজিত কর। অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্মরূপ অনিমিত্তের ওপর চিত্তকে প্রতিষ্ঠিত করে অহংভাব বিদূরিত কর। চিত্তকে সম্যকভাবে দমন করে শান্ত ও নির্মল অবস্থায় স্থিত হও।

টীকা
নন্দা

তিনি বিপসী বুদ্ধের সময়ে বন্ধুমতী নগরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন জনৈক ধনবান নাগরিক। নাম রাখা হয়েছিল অভিরূপ-নন্দা। ছোটকাল থেকে ধর্মে অনুরক্তা ছিলেন। বিপসী বুদ্ধ পরিনির্বাপিত হলে নন্দা তাঁর 'স্মৃতি মন্দিরে রত্ন-খচিত একটি সোনার ছাতা দান করেছিলেন। সেই পুণ্যপ্রভাবে তিনি গৌতম বুদ্ধের সময় কপিলাবস্তু নগরে শাক্য খেমকের প্রধানা সত্রীর কন্যারূপে জন্ম নেন। সুন্দর দেহ গঠনের জন্য তাঁর নাম তখনও অভিরূপ নন্দা রাখা হয়।

স্বয়ম্বর সভার দিন নন্দার ইস্পিত যুবক শাক্যকুমার চরভূতের মৃত্যু হয়। তাই তাঁর পিতামাতা তাঁর অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রব্রজ্যা গ্রহণ করার জন্য বাধ্য করেন। তিনি ভিক্ষুণীসংঘে প্রবেশ করেও নিজ দেহ-সৌন্দর্য দেখে নিজেই মুগ্ধ হতেন। বুদ্ধ জাগতিক অনিত্য-বিষয়ে দেশনা করতেন বলে তাঁর সঙ্গ এড়িয়ে চলতেন। কিন্তু ভগবান জানতেন নন্দা জ্ঞান লাভের উপযুক্ত পাত্রী।

পরে নন্দা বুদ্ধের অলৌকিক শক্তিবলে পুঁতিগন্ধময় দেহের অসারতা উপলব্ধি করেন। বুদ্ধের ধর্মদেশনাকালে নন্দা অর্হত্বফলে প্রতিষ্ঠিত হন।

থেরী গাথা

থেরীগাথা খুদ্দক নিকায়ের নবম গ্রন্থ। গ্রন্থখানিতে ৭৩ জন ঘেরী-র গাথা সংগৃহীত হয়েছে। তাতে থেরী-দের জীবন কাহিনী বর্ণিত আছে। তাঁদের রচিত গাথার সংখ্যা ৫২২। এঁদের মধ্যে ২৩ জন সম্প্রান্তবংশীয় রাজপরিবারের বধূ ও কন্যা, ১৩ জন শ্রেষ্ঠী বা বণিক সম্প্রদায়, ৭ জন ব্রাহ্মণ ও ১৫ জন পতিতা নারী।

এ গ্রন্থে ভিক্ষুণীদের ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ ও আধ্যাত্মিক উন্নতির কথা বলা হয়েছে। তাঁরা আত্মশক্তিতে বলীয়ান ছিলেন। সমাজের বহু অবহেলিত নারীকে ধর্মে স্থান দেওয়া হয়েছিল। পুত্রহারা কৃশা গৌতমী; স্বামী পরিত্যক্তা ইসিদাসী, আত্মীয়-স্বজনহারা, পাগলিনীপ্রায় পটাচারা; গণিকা আম্রপালী প্রমুখ নারী ভিক্ষুণীসংঘে যোগদান করে আত্ম-পরহিতে অবদান রেখেছিলেন।

সেই যুগের সমাজে স্ত্রীলোকের স্থান নির্ণয় করার পক্ষে এই সংকলন গ্রন্থটির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীন ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থার অনেক তথ্যে গ্রন্থটি সমৃদ্ধ। গ্রন্থটিকে ভারতীয় গীতিকাব্য সাহিত্যে প্রথম সারিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্ম-দর্শন, শিক্ষা-দীক্ষার আলোচনাও এতে সংক্ষেপে উল্লেখ আছে।

এতে বৈষয়িক বর্ণনা বেশি থাকলেও ভিক্ষুণীদের নির্বাণ-সাধনাও কম নেই। সংঘমধ্যে তাঁরা মর্যাদা পেতেন। মুক্তিলাভের আশাই ছিল তাঁদের সংসার ত্যাগের মূল উদ্দেশ্য।

Content added By
Please, contribute by adding content to নন্দা থেরী.
Content

১। দহরাহং সুদ্ধবসনা যং পুরে ধম্মমসুণিং। তত্সা মে অপমত্তায সচ্চাভিসমযো অহ্।
২। ততো'হং সব্বকামেসু ভূসং অরতিমঝগং। সক্কাযস্মিং ভযং দিয়া নেক্সমং যেব পিহযো।
৩। হিত্বান'হং ঞাতিগণং দাসকম্মকরানি চ। গামখেত্তানি ফীতানি রমণীযে পমোদিতে। পহায'হং পব্বজিতা সাপতেয্যং অনস্পকং।
8। এবং সদ্ধাষ নিম্ম সদ্ধম্মে সুস্পবেদিতে। ন মে তং অস্স পতিরূপং আকিঞ্চঞংহি পথযে। যা জাতরূপরজতং ঠপেত্বা পুনরাগমে।
৫। রজতং জাতরূপং বা ন বোধায ন সম্ভযে। ন এতং সমণসারুপং ন এতং অরিযধনং।
৬। লোভনং মদনং চেতং মোহনং রজবজ্ঞনং। সাসঙ্কং বহু আযাসং নথি চেখ ধুবং ঠিতি।
৭। এখরত্তা পমত্তা চ সংকিলিঠমনা নরা। অঞমঞেন ব্যারুদ্ধা পুথুকুব্বস্তি মেধগং।
৮। বধো বন্ধো পরিকিলেসো জানি সোকপরিদ্দবো। কামেসু অধিপন্নানং দিস্সতে ব্যসনং বহুং।
৯। তং মঞঞাতী অমিত্তা ব কিং মং কামেসু যুঞ্জথ। জানাথ মং পব্বজিতং কামেসু ভযদসিনিং।
১০। ন হিরঞসুবপ্নেন পরিক্সীযন্তি আসবা। অমিত্তা বধকা কামা সপত্তা সল্পবন্ধনা।
১১। তং মঞঞাতী অমিত্তা ব কিং মং কামেবসু যুঞ্জথ। জানথ মং পব্বজিতং মুত্তং সংঘাটিপারুতং।
১২। উত্তিষ্ঠপিণ্ডো উঞ্চো চ পংসুকূলঞ্চ চীবরং। এতং খো মম সারুপমং অনগারুপনিস্সযো॥
১৩। বস্তা মহেসিনা কামা যে দিব্বা যে চ মানুসা। খেমটানে বিমুক্তা তে পত্তা তে অচলং সুখং।॥
১৪। মাহং কামেহি সংগচ্ছিং বেসু তাণং ন বিজ্জতি। অমিত্তা বধকা কামা অগ্নিরূপমা দুগ্ধা।
১৫। পরিপন্থো এসো সভযো সবিঘাতো সকণ্টকো। গেধো সুবিসমো চেসো মহস্তো মোহনামুখো॥
১৬। উপসর্গো ভীমরূপো চ কামা সম্পসিরূপমা। যে বালা অভিনন্দন্তি অন্ধভূতা পুথুজ্জনা।
১৭। কামপঙ্কসত্তা হি জনা বহু লোকে অবিন্দসূ। পরিযন্তং নাভিজানন্তি জাতিযা মরণস্স চঃ
১৮। দুর্গতিগমনং মগ্‌গং মনুস্সা কামহেতুকং। বহু বে পটিপজ্জন্তি অত্তনো রোগমাবহং॥
১৯। এবং অমিত্তজননা তাপনা সংকিলেসিকা। লোকামিসা বন্ধনীযা কামা মরণবন্ধনা।
২০। উম্মাদনা উল?পনা কামা চিত্তপমাথিনো। সত্তানং সংকিলেসায খিল্পং মারেন ওডিতং।
২১। অনন্তাদীনবা কামা বহুদুগ্ধা মহাবিসা। অস্পস্সাদা রণকরা সুরূপ বিসোসনা।
২২। সাহং এতাদিসং কত্বা ব্যসনং কামহেতুকং। নতং পচ্চাগমিসামি নিব্বানাভিরতা সদা।
২৩। রণং করিত্বা কামানং সীতভাবাভিকঙ্খিনী। অপমত্তা বিহিস্স্সামি তেসং সংযোজনক যে।
২৪। অসোকং বিরজং খেমং অরিযঙ্গিকং উজুং। * তং মগ্‌গং অনুগচ্ছামি যেন তিন্না মহেসিনো।
২৫। ইমং পথ ধৰ্ম্মষ্ঠং সুভং কম্মারধীতরং। অনেজং উপসম্পজ্জ রুক্মমূলংহি ঝাযতি।
২৬। অজ্জমী পব্বজিতা সদবা সদ্ধম্মসোভণা। বিনীতা উপলবন্নায় ভেবিজ্ঞা মচচুহাযিনী।
২৭। সাযং ভুজিত্সা অনণা ভিক্ষুণী ভাবিতিন্দ্রিযা। সব্বযোগবিসংযুত্তা কতকিচ্চা অনাসবা।
২৮। তং সক্কো দেবসঙ্ঘেন উপসংগম্ম ইদ্ধিযা। নমস্সতি ভূতপতি সুভং কম্মার ধীতরং

শব্দার্থ

দহরাহং - তরুণ বয়সে; সুদ্ধবসনা - নির্মল বসত্র; ধম্মমসুণিং - ধর্মোপদেশ শুনলাম; তত্সা - সেদিন; অল্পমত্তায - অপ্রমত্তভাবে; সচ্চাভিসমযো - সত্যের প্রকৃত জ্ঞান; অহ্র - লাভ করেছিলাম; ততোহং - সেদিন থেকে; সব্বকামেসু - সর্বপ্রকার ভোগসুখে; অরতিমঋগং - অনাসক্তি জন্মাল; সক্কাযস্মিং - সৎকায়ে; ভযং দিষা - ভয় দেখে; নেক্সমং - পরিত্যাগ; জ্ঞাতিগণং - জ্ঞাতিগণ; গামখেত্তানি - গ্রামের ক্ষেত; কম্মকারা - কর্মকারগণ; পহাযহং - নিঃক্ষেপ করে; পব্বজিতা - প্রব্রজিত হলাম; সাপতেয্যং - ঐশ্বর্য, ধন-সম্পদ; অনস্পকং (ন অল্পকং) বিশাল; এবং সদধায - পূর্ণ শ্রদ্ধায়; সদধম্মে সুষ্পবেদিতে - সদ্ধর্মে যথার্থ জ্ঞান লাভ করে; যা যেগুলো; জাতরূপরজতং - সোনা-রূপা; ঠপেত্বা - রেখে; পুনরাগমে - পুনরায় আসতে পারি না; ন বোধায় - বোধিও নয়; ন সন্তযে - শাক্তিও নেই; পংসুকূলঞ্চ চীবরং - ধূলিম্লান চীবর; অনাগারূপনিস্সযো - গৃহহীন জীবন; মহেসিনা - মহর্ষিগণ, মহাপুরুষগণ; অচলং - নিরবচ্ছিন্ন; মা'হং সংগচ্ছিং - আমি লিপ্ত নই; ন বিজ্ঞতি পরিত্রাণ নেই; অগ্নিদ্ধষ্ণুপমা - অগ্নিকুণ্ডের ন্যায়; সবিঘাতো - বিরক্তিকর উপসর্গ - উপসর্গ; সপ্নসিরূপমা - সর্পের ন্যায়; পুথুজ্জনা - পৃথকজন, অজ্ঞানান্ধ; কামহেতুকং - ভোগতৃষ্ণা; পটিপজ্জস্তি - নিজেই উৎপন্ন হয়; রণং করিতা - সংগ্রাম করে; সংযোজনক যে - সংযোজন ছিন্ন করে, শৃক্সখল ছেদন করে; ঝাযতি - ধ্যান করে; তেবিজ্জা - ত্রিবিদ্যা; সক্কো - ইন্দ্র।

সারমর্ম

শুভা তরুণ বয়সে একদিন নির্মল বসত্র পরিধান করে ধর্মশ্রবণ করেছিলেন। সেদিনই তিনি প্রকৃত জ্ঞান লাভ করেছিলেন।-ঐদিন থেকে ভোগসুখে অনাসক্ত হলেন। দেহের অনিত্যতা উপলব্ধি করলেন। দাস-দাসী, জ্ঞাতিগণ পরিত্যাগ করে প্রব্রজ্যা অবলম্বন করেন। সুবিশাল ঐশ্বর্য পেছনে পড়ে রইল।

তিনি শ্রদ্ধায় সংসার ত্যাগ করে ভিক্ষুণী হয়েছিলেন। তাই স্বর্ণ, রৌপ্য, ভোগ্যবস্তুর প্রতি তাঁর আকর্ষণ থাকতে পারে না। এগুলো শ্রমণের উপযুক্ত নয়। মোহ ও কামের জনক। এগুলো স্থিতিহীন, আশঙ্কা ও উদ্বেগে পরিপূর্ণ। প্রমত্ত ব্যক্তিরা এতে আসক্ত হয়ে পরস্পর শত্রুতা করে।

হত্যা, বন্ধন, নির্যাতন, বিত্তনাশ, শোক, বিলাপই কামাসক্ত মানুষের পরিণতি। তবু তাঁর জ্ঞাতিগণ পুনরায় সংসার বন্ধনে আবদ্ধ করতে চায়। ভোগতৃষ্ণা ত নির্দয়, প্রাণনাশী শত্রু। মানুষকে শরবিদ্ধ করে। জ্ঞাতিগণ জেনে রাখ, শুভা এখন মুণ্ডিত মস্তক, পীতবসনা, প্রব্রজিতা এক ভিক্ষুণী।

তিনি পার্থিব ভোগ্যবস্তুতে লিপ্ত নন। সংসার ত প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের ন্যায়। কণ্টকাকীর্ণ, দুর্গম গহ্বর বিশেষ। যারা অজ্ঞানান্ধ ও আসক্তিযুক্ত তাদের কাছেই সংসার প্রীতিপ্রদ। ভোগতৃষ্ণাই দুর্গতির কারণ। তা মানুষকে পার্থিব প্রলোভনেই রাখে। তৃষ্ণা থেকেই উন্মত্ততা ও প্রলাপের উৎপত্তি। অনন্ত দুর্দশার কারণ। মানবজীবনের আলোর শোষণকারী।

তিনি এতদূর অগ্রসর হয়ে তৃষ্ণার ধ্বংস অবশ্য করবেন। নির্বাণের অনুসরণই তাঁর আনন্দ। এখন পরম শান্তি নির্বাণের অপেক্ষায় আছেন। যে মার্গে শোক নেই, নির্বাণ প্রত্যক্ষকরণীয়, মহর্ষিরা যদ্বারা ভবসাগর উত্তীর্ণ হয়েছেন, তিনি সেই আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গই অনুসরণ করছেন।

পরবর্তী তিনটি গাথা বুদ্ধভাষিত। শুভার দীক্ষার অষ্টম দিনে তিনি অর্হত্বফল লাভ করলে বুদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যার মমার্থ নিম্নরূপঃ

যেদিন শুভা শ্রদ্ধাবতী হয়ে প্রব্রজিতা হন, সেই থেকে অষ্টম দিনে উৎপলবর্ণা কর্তৃক উপদিষ্ট হয়ে অর্হত্বফলে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি ত্রিবিদ্যায় সিদ্ধ; মৃত্যুঞ্জয়ী। তিনি মুক্ত, অঋণী ও সর্ববন্ধন ছিন্ন। তাঁর সমুদয় কর্তব্য সম্পন্ন হয়েছে; তিনি অনাসক্ত।

টীকা
শুভা

জন্ম-জন্মান্তরে পুণ্য সঞ্চয় করে ইনি গৌতম বুদ্ধের সময় রাজগৃহে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন একজন ধনী স্বর্ণকার। অতীব সুন্দরী ছিলেন বলে কন্যার নাম রাখা হয় 'শুভা'। বয়ঃপ্রাপ্তা হলে শুভা বুদ্ধের উপদেশ শুনে স্রোতাপন্না হন। পরবর্তীকালে তিনি গৃহত্যাগ করে মহাপ্রজাপতির নিকট প্রব্রজিতা হন।

আত্মীয়বর্গ তাঁকে পুনরায় গৃহে প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করেন। তিনি তাদের সাংসারিক জীবনের দুঃখ-দুর্দশার কথা বিবৃত করে উপদেশ দান করেন। অহর্ভু প্রাপ্তির পর তিনি তাঁর গৃহীজীবনও অনাগারিক জীবনের বিমুক্তির বিষয় ঘোষণা করেন। তাঁর বর্ণিত সেই বিষয় গাথাকারে থেরী গাথায় সংকলিত হয়েছে।

Content added By

ক. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

১। মালুঙ্ক্যপুত্তো ঘেরে'র গাথাগুলোর সারাংশ লিপিবদ্ধ কর।
২। 'তণহায মূলং খন্থ উসীরখো'ব বীরণং'। উক্ত গাথাংশে তৃষ্ণাকে বীরণ তৃণের সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন? মালুঙ্ক্যপুত্ত থেরো-র গাথাগুলোর আলোকে গাথাংশটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান কর।
৩। থের গাথার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দাও।
৪। সোপাকো থেরো'র জীবনী সংক্ষেপে আলোচনা কর।
৫। নন্দা থেরী'র জীবনী সংক্ষেপে বর্ণনা করে বুদ্ধ দেশিত অনিত্য গাথাটির ভাবার্থ লেখ।
৬। থেরী গাথার বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
৭। সুভা ঘেরী'র গাথাগুলোর সারমর্ম লেখ।

খ. সংক্ষেপে উত্তর দাও:

১। জ্ঞাতিগণ মালুজ্জ্যপুত্ত থেরকে সংসারে ফিরে যাবার জন্য কিভাবে প্রলুব্ধ করেছিলেন?
২। সোপকো থেরো কে ছিলেন?
৩। সোপাকো থেরোর গৃহীজীবনে যে ঘটনাটি ঘটেছিল তা সংক্ষেপে লেখ।
৪। থেরী নন্দা কিসের অহংকার করেছিলেন? তিনি বুদ্ধের নিকট যেতে চাইতেন না কেন?
৫। থেরী সুভা কে ছিলেন? বুদ্ধ তাঁকে কীভাবে প্রশংসা করেছিলেন?

গ. শূন্যস্থান পূরণ কর:

মা বো নলং'ব ______ মারো ভঞ্জি __________

করোথ ______ মং পঞানং _______ বিদু,

অচ্ছষ্ঠী চ ______ চ ব্যাকাসিং _______ অহং।

ঘ. সঠিক উত্তরে টিক (খ) চিহ্ন দাও:

১। প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা অর্হৎ মার্গরূপ প্রজ্ঞাকোদাল দিয়ে কী ছেদন করেন?

ক. তৃণরাশি
খ. মৃত্তিকারাশি
গ. ক্লেশরাশি
ঘ. বৃক্ষরাজি

২। থের গাথায় কতজন থের'র গাথা সংকলিত হয়েছে?

ক. ২৬৩
খ. ২৬৪
গ. ২৬৫
ঘ. ২৬৬

৩। বুদ্ধ শিষ্যদের মধ্যে কে মহাঋদ্ধিমান ছিলেন?

ক. আনন্দ
খ. উপালি
গ. সারিপুত্র
ঘ. মৌদগল্যায়ন

৪। 'কোবিদো' শব্দের অর্থ কী?

ক. পারদর্শী
খ. অর্থদর্শী
গ. অন্তদর্শী
ঘ. কায়ানুদর্শী

৫। সোপাকো থেরো কত বছর বয়সে অর্হত্ব প্রাপ্ত হন?

ক. দশ
খ. বিশ
গ. ত্রিশ
ঘ. চল্লিশ

৬। নন্দা থেরী কিসের অহংকার করতেন?

ক. ধনের
খ. বিদ্যার
গ. সৌন্দর্যের
ঘ. স্বর্ণ-রৌপ্যর

৭। থেরী গাথায় কতজন খেরী-র গাথা সংগৃহীত আছে?

ক. ৭২
খ. ৭৩
গ. ৭৪
ঘ. ৭৫

৮। 'মেধগং' বলতে কী বোঝায়?

ক. মিত্রতা
খ. মলিনতা
গ. শত্রুতা
ঘ. তিক্ততা

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...