প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ প্রাচীন জনপদ ছিল- পুন্ড্র। এর রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর/পুণ্ড্রবর্ধন। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। এর সীমানা রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া (শর্টকাট- রংরাদিব)। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি (প্রাচীনতম) পাওয়া যায়- পুণ্ড্রতে। পুন্ড্র জাতির উল্লেখ পাওয়া যায় বৈদিক সাহিত্য ও মহাভারতে। প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীন সত্তা হারায় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে।
১. মৌলিক পরিচিতি
মর্যাদা: এটি বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ।
জাতি: ‘পুন্ড্র’ নামক এক জাতি এই জনপদ গড়ে তুলেছিল।
রাজধানী: পুন্ড্রনগর (পরবর্তীতে এর নাম হয় মহাস্থানগড়)।
অবস্থান: বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলা।
২. ভৌগোলিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য
প্রধান নদী: পুন্ড্রবর্ধন বা পুন্ড্রনগর করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত ছিল।
বর্তমান পরিচয়: বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৮ কিমি উত্তরে অবস্থিত মহাস্থানগড়ই প্রাচীন পুন্ড্রনগর।
শিলালিপি: মহাস্থানগড়ে বাংলার প্রাচীনতম ব্রাহ্মী শিলালিপি পাওয়া গেছে (মৌর্য আমলের)।
৩. ঐতিহাসিক গুরুত্ব
বৈদিক সাহিত্য: ঋগ্বেদ ও ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে পুন্ড্র জাতির উল্লেখ পাওয়া যায়।
মৌর্য শাসন: সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে পুন্ড্রনগর মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চীনা পরিব্রাজক: পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৬৩৯ সালে পুন্ড্রবর্ধন ভ্রমণ করেন এবং এখানকার সমৃদ্ধির বর্ণনা দেন। তিনি একে 'প্যান-না-ফা-তান-না' নামে অভিহিত করেন।
বৌদ্ধ শিক্ষা: হিউয়েন সাঙের বর্ণনা মতে, এখানে ২০টি বৌদ্ধ বিহার ছিল। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভাসু বিহার (যাকে পাঁচ পীরের দরগাহ বলা হয়)।
৪. অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য
বিখ্যাত পণ্য: প্রাচীন পুন্ড্র অঞ্চল উন্নত মানের আখ (চিনি) এবং মসলিন বস্ত্রের জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাত ছিল।
মাটি: এই অঞ্চলের মাটি ছিল বরেন্দ্র প্রকৃতির (লাল মাটি), যা কৃষি ও স্থায়ী বসতি স্থাপনের জন্য উপযোগী ছিল।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সোনারগাঁও
বিক্রমপুর
পুণ্ড্র
চন্দ্রদ্বীপ