১। কো ইমং পঠরিং বিজেস্সতি যমলোকঞ্চ ইমং সদেবকং? কো ধম্মপদং সুদেসিতং কুসলো পুপমিব পচেস্সতি?
২। সেখো পঠবিং বিজেসস্তি যমলোকঞ্চ ইমং সদেবকং, সেখো ধম্মপদং সুদেসিতং কুসলো পুষ্কমিব পচেস্সতি।
৩। ফেণপমং কাযমিমং বিদ্বিত্বা মরীচিধম্মং অভিসম্বুধানো, ছেত্বান মারস পপুকানি অদসনং মঞ্জুরাজস্স গচ্ছে।
৪। পুষ্কানি হেব পচিনন্তং ব্যাসত্তমনসং নরং, সুত্তং গামং মহোঘো'ব মচ্চু আদায গচ্ছতি।
৫। পুফ্ফানি হেব পচিনন্তং ব্যাসত্তমনসং নরং, অতিত্তং যেব কামেসু অন্তকো কুরুতে বসং।
৬। যথাপি ভমরো পুপল্ফং বপ্নগন্ধং অহেঠযং, পলেতি রসমাদায এবং গামে মুনী চরে।
৭। ন পরেসং বিলোমানি ন পরেসং কতাকতং, অত্তনো'ব অবেখেয্য কতানি অকতানি চ।
৮। যথাপি রুচিরং পুপং বপ্নবস্তুং অগন্ধকং, এবং সুভাসিত বাঙা অফলা হোতি অকুব্বতো।
৯। যথাপি রুচিরং পুপৃষ্ণং বগ্নবস্তুং সগন্ধকং, এবং সুভাসিতা বাচা সফলা হোতি সকুব্বতো।
১০। যথাপি পুরাসিমহা কযিরা মালাগুণে বহু, এবং জাতেন মচ্চেন কত্তববং কুসলং বহুং।
১১ । ন পুগন্ধো পটিবাতমেতি ন চন্দনং তগর মল্লিকা বা, সতঞ্চ গন্ধো পটিবাতমেতি সব্বা দিসা সপুরিসো পবাতি।
১২। চন্দনং তগরং বা'পি উত্পলং অথ বসিকী, এতেসং গন্ধ জাতানং সীলগন্ধো অনুত্তরো।
১৩। অপমত্তো অযং গন্ধো যা'যং তগরচন্দনী, যো চ সীলবতং গন্ধো বাতি দেবেসু উত্তমো।
১৪। তেসং সম্পন্নসীলানং অল্পমাদবিহারিনং, সম্মদঞঞা বিমুত্তানং মারো মগ্গং ন বিন্দতি।
১৫। যথা সংকারধানসিং উজঝিতস্মিং মহাপথে, পদুমং তথ জাযেথ সুচিগন্ধং মনোরমং।
১৬। এবং সংকারভূতেসু অন্ধভূতে পুথুজ্জনে, • অতিরোচতি পঞায সম্মাসম্বুদ্ধসাবকো।
শব্দার্থ
কো - কে; ইমং - এই; পঠবিং - পৃথিবী; বিজেস্সতি - জয় করবে; যমলোকঞ্চ - যমলোকসহ; সদেবকং - দেবলোকসহ; সুদেসিতং - সুদেশিত; কুসলো - দক্ষ; পুপক্ষমিব - পুষ্পের ন্যায়; পচেস্সতি - আহরণ করবে; সেখো - শিক্ষাব্রতী, শিক্ষার্থী; ফেণুপমং - ফেনপিন্ডের ন্যায়; মরীচিধম্মং - মরীচিকা বিশেষ; অভিসম্বুধানো - সম্যকরূপে উপলব্ধি করে; ছেতান - ছেদন করে; মারস পপুপঞ্চকানি - মারের ফুলশর, কামে আসক্তি; অদসনং - অদৃশ্য দৃষ্টির বাইরে; মচ্চুরাজস্র - মৃত্যুরাজের। পচিনন্তং - আহরণে নিরত; ব্যসত্তমনসং - আসক্ত চিত্ত; সুত্তং - সুপ্ত; গামং - গ্রাম; মহোঘো'ব - প্রবল স্রোতের ন্যায়; আদায গচ্ছতি - নিয়ে যায়; মঞ্জু - মৃত্যু; কামেসু - কামে; অন্তকো - মৃত্যু; অতিত্তং - অতৃপ্ত; ভমরো - ভ্রমর; যথাপি - যেমন; বন্ধুগন্ধ - বর্ণগন্ধ; বিলোমানি - বিচ্যুতি; পরেসং - পরের; কতাকতং-বৃত ও অকৃত; অবন্ধেয্য - লক্ষ্য রাখবে; রুচিরং - সুন্দর; বপ্নবস্তুং - বর্ণযুক্ত; অগন্ধকং - গন্ধহীন; অফলা - নিষ্ফল; অকুকাতো - নিরর্থক; সকুব্বতো - সার্থক; পুপ্রাসিমহা - পুষ্পরাশি থেকে; মালাগুণে - বহু - নানাবিধ মাল্য; জাতেন মচ্ছেন যে মানব জন্মগ্রহণ করেছে; কতব্বং - কর্তব্য; পটিবাতমেতি - বায়ুর প্রতিকূলে প্রবাহিত হয়; সব্বাদিসা - সকল দিক; সপুরিসো - সৎপুরুষ; পবাতি - প্রবাহিত হয়; বা'পি - কিংবা; বসিকী - চামেলী; এতেসং - এদের থেকে; অনুত্তরো - উৎকৃষ্ট, শ্রেষ্ঠ; অপমত্তো - অল্পমাত্র, অপ্রমত্ত; সম্পন্নসীলানং - শীলে পরিপূর্ণ; অল্পমাদবিহারিনং - অপ্রমাদপরায়ণ; সম্মদঞঞা - সম্যকরূপে জ্ঞাত হয়ে; বিমুত্তানং - বিমুক্ত হয়ে; ন বিন্দতি - জানতে পারে না; সংকারধানস্মিং - আবর্জনারাশিতে; উজঝিতস্মিং - পরিত্যক্ত স্থানে; পদুমং তথ জায়তে - তথায় পদ্ম জন্মে; সূচিগখং - পবিত্র সুগন্ধযুক্ত; অন্ধভূতে পুথুজ্জনে - অজ্ঞ জনসাধারণের মধ্যে ; সম্মাসম্বুদ্ধস সাবকো - সম্যক সম্বুদ্ধের শ্রাবক।
সারাংশ
উদ্যান থেকে পুষ্প চয়নের ন্যায় বুদ্ধবাণী সংগৃহীত হয়েছে। সদ্ধর্ম-শিক্ষার্থী যমলোকসহ দেব-মনুষ্যলোক জয় করতে সক্ষম। কামনা-বাসনাহীন ভিক্ষু এ দেহকে ক্ষণভঙ্গুর মনে করে মারের প্রভাব অতিক্রম করেন। কামপরায়ণ ব্যক্তি পুষ্পচয়নকারীর ন্যায় ভোগবাসনায় লিপ্ত হয়। অতৃপ্ত হৃদয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। মুক্তিকামী ভিক্ষু বত্রিশ প্রকার ঘৃণ্যবস্তুতে পরিপূর্ণ এ মরদেহের প্রতি মমত্ববোধ ত্যাগ করেন। আর্যমার্গ অনুশীলন করে নির্বাণ উপলব্ধি করেন।
ভ্রমর পুষ্পের বর্ণগন্ধ নষ্ট না করে কেবল মধু আহরণ করে। সেরূপ ধ্যানপরায়ণ ভিক্ষু কারো ক্ষতি না করে লোকালয় থেকে ভিক্ষান্ন সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরের দোষগুণ অন্বেষণ করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। নিজের দোষগুণ বিচার করাই শ্রেয়। সুন্দর পুষ্পের গন্ধ না থাকলে সমাদৃত হয় না। তদ্রুপ সুভাষিত বাক্য প্রতিপালিত না হলে নিষ্ফল হয়। সুভাষিত বুদ্ধবচন আচরণের ওপর সাফল্য নির্ভর করে। মালাকার নানা প্রকার ফুল আহরণ করে সুন্দর মালা তৈরি করে। সেরূপ পণ্ডিত ব্যক্তিও বিবিধ পুণ্য সঞ্চয় করে মুক্তির পথ সুগম করেন। চন্দন, টগর, মল্লিকা প্রভৃতি ফুলের গন্ধ বিপরীতে গমন করে না। কিন্তু শীলগন্ধের সৌরভ চারদিকে আমোদিত হয়। সৎপুরুষের ষশগুণ সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয়। বুদ্ধ শ্রাবকগণ তাঁদের শীলগন্ধে চারদিক প্রমোদিত করেন। সর্বপ্রকার গন্ধের চেয়ে শীলগন্ধই উত্তম। শীলবান ব্যক্তির খ্যাতি দেবতাদের মধ্যেও প্রসারিত হয়।
শীলবান ও উদ্যমী ভিক্ষুর গতি মারের গোচরীভূত নয়। রাজপথে পরিত্যক্ত আবর্জনার স্তূপেও মনোরম সুগন্ধযুক্ত পদ্ম প্রস্ফুটিত হয়। সেরূপ অবিদ্যাচ্ছন্ন মানব সমাজেও বুদ্ধ শিষ্যগণ তাঁদের চরিত্র ও জ্ঞান-সৌরভে প্রদীপ্ত হন।
টীকা
ধম্মপদ
খুদ্দক নিকায়ের দ্বিতীয় গ্রন্থ 'ধম্মপদ' বৌদ্ধশাস্ত্রে সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচারিত গ্রন্থ। নৈতিক মূল্য বিচারে গ্রন্থটি সর্বত্র সমাদৃত। 'ধর্মপদ'-এর 'ধর্ম' শব্দের অর্থ স্বাভাবিক, নীতি, বিষয়, পদ্ধতি, পুণ্য। আর 'পদ' বলতে কারণ, পথ, রাস্তা, উপায়, মার্গ বোঝায়। সুতরাং, ধম্মপদ বা ধর্মপদ শব্দের অর্থ করা হয়েছে 'পুণ্যের পথ', 'ধর্মের পথ', 'সত্যের পথ'।
ধর্মপদে ৪২৩টি গাথা আছে। গাথাগুলো ২৬টি বর্গে বিভক্ত। আলোচ্য বিষয়ের নাম অনুসারে বর্গগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। ধর্মপদের ২৬টি বর্গ নিম্নরূপ: যমক, অল্পমাদ, চিত্ত, পুপল্ফ, বাল, পণ্ডিত, অরহস্ত, সহস্র, পাপ, দণ্ড, জরা, অত্ত, লোক, বুদ্ধ, সুখ, পিয, কোধ, মল, ধৰ্ম্মঠ, মগ্ন, পকিপ্লক, নিরয, নাগ, তগৃহা, ভিষ্ণু ও ব্রাহ্মণ বঙ্গ।
নৈতিক উপদেশ ছাড়াও বৌদ্ধ ধর্মের তাত্ত্বিক উপদেশে ধম্মপদ সমৃদ্ধ। চতুরার্য সত্য, অষ্টাঙ্গিক মার্গ, নির্বাণ সম্বন্ধে এতে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্গগুলোর বিষয়বস্তু নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উপদেশে ভরপুর।