প্রথম মহীপাল (৯৯৫-১০৪৩ খ্রি.) এর সময়ে তালপাতায় অঙ্কিত চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ 'অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা' পাণ্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন।
মহীপালের রাজত্বকাল ছিল ৫০ বছর। তিনি দিনাজপুরের মহীপাল দীঘি ও মুর্শিদাবাদের মহীপালের সাগরদীঘি নির্মাণ করে। তাঁর উপাধি ছিল 'পরমেশ্বর পরম ভট্টারক মহারাজাধিরাজ'। মহীপালের নামানুসারে বগুড়ার মহীপুর, রংপুরের মাহিগঞ্জ, দিনাজপুরের মাহীসন্তোষ ইত্যাদি অঞ্চলের নামকরণ করা হয়।
প্রথম মহীপাল (৯৯৫–১০৪৩ খ্রিস্টাব্দ) পাল রাজবংশের গৌরব যখন প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছিল, তখন প্রথম মহীপাল সিংহাসনে আরোহণ করে এক নবযুগের সূচনা করেন। নারায়ণপালের পরবর্তী দুর্বল শাসকদের সময়ে পাল সাম্রাজ্য উত্তরবঙ্গের 'বরেন্দ্র' অঞ্চলসহ অধিকাংশ এলাকা হারিয়েছিল। প্রথম মহীপাল তাঁর অদম্য সাহসিকতায় কম্বোজ রাজাদের পরাজিত করে বরেন্দ্রভূমি পুনরুদ্ধার করেন এবং পূর্ববঙ্গ ব্যতীত সমগ্র বাংলায় পাল শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই বিশাল সাফল্যের কারণেই তাকে পাল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁর রাজত্বকালেই দক্ষিণ ভারতের শক্তিশালী চোল রাজা রাজেন্দ্র চোল এবং চেদীরাজ গাঙ্গেয় দেব বাংলা আক্রমণ করেছিলেন, যা তিনি সফলভাবে মোকাবিলা করেন। ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত উদার ছিলেন এবং সারনাথসহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য বৌদ্ধ ও হিন্দু মন্দির সংস্কার ও নির্মাণ করেন। তাঁর জনহিতকর কাজের স্মৃতি হিসেবে আজও উত্তর ও পশ্চিম বঙ্গে 'মহীপালের দীঘি' এবং অনেক লোকগাথা বা গান (মহীপালের গীত) প্রচলিত আছে।