১। দীঘা জাগরতো রত্তি দীঘং সন্তস্র যোজনং, দীঘো বালানং সংসারো সন্ধম্মং অবিজানতং।
২। চরংচে নাধিগচ্ছেয্য সেয্যং সদিসমত্তনো, 47 একচরিযং দহং কষিরা নথি বালে সহাযতা।
৩। পুত্তামথি ধনমথি ইতি বালো বিহঙ্ঞতি, অত্তাহি অত্তনো নথি কুতো পুত্তো কুতো ধনং।
৪। যো বালো মঞতি বাল্যং পণ্ডিতো বা'পি তেন সো, বালো চ পণ্ডিতমানী স বে বালো'তি বুচ্চতি।
৫। যাবজীবংপি চে বালো পণ্ডিতং পযিরুপাসতি, ন সো ধম্মং বিজানাতি দবী সূপরসং যথা।
৬। মুহূত্তম্পি চে বিষ্ণু পণ্ডিতং পযিরুপাসতি,. খিল্পং ধম্মং বিজানাতি জিব্হা সূপরসং যথা।
৭। চরন্তি বালা দুম্মেধা অমিত্তেনে'ব অত্তনা, করোস্তা পাপকং কম্মং যং হোতি কটুকপল্ফলং।
৮। ন তং কৰ্ম্মং কতং সাধু যং কত্বা অনুতপতি, যস্স অসুমুখো রোদং বিপাকং পটিসেবতি।
৯। তং চ কৰ্ম্মং কতং সাধুং যং কত্বা নানুতপতি, যসৃস পতীতো সুমনো বিপাকং পটিসেবতি।
১০। মধু'ব মঞতি বালো যাব পাপং ন পচ্চতি, যদা চ পচ্চতি পাপং অথ বালো দুগ্ধং নিগচ্ছতি।
১১। মাসে মাসে কুসঙ্গেন বালো ভুঞ্জেথ ভোজনং, ন সো সংখতধম্মানং কলং অগ্ন্যতি সোলসিং।
১২। ন হি পাপং কতং কম্মং সজ্জু খীরং'ব মুচ্চতি, ডহন্তং বালমন্বেতি ভস্মাচ্ছন্নো'ব পাবকো।
১৩। যাবদেব অনথায ঞত্তং বালস জাযতি, হস্তি বালস সুকংসং মুদ্ধমস বিপাতযং।
১৪। অসতং ভাবনমিচ্ছেয্য পুরোরঞ্চ ভিঝুসু, আবাসেসু চ ইস্সরিযং পূজা পরকুলেসু চ।
১৫। মমেব কতঞঞন্তু গিহী পব্বজিতা উভো, মমেবাতিবসা অসু কিচ্চাকিচ্চেসু কিস্মিচি। ইতি বালস সংকল্পেপ্পা ইচ্ছামানো চ বড়তি।
১৬। অঞাহি লাভূপনিসা অঞা নিব্বানগামিনী, এবমেতং অভিঞায ভিষ্ণু বুদ্ধস সাবকো সক্কারং নাভিনন্দেয্য বিবেকমনুব্রহযে।
শব্দার্থ
দীঘা - দীর্ঘ; জাগরতো - জেগে থাকে; রত্তি - রাত; সন্তস - শ্রান্ত ব্যক্তির; বালানং - অজ্ঞদের; সন্ধম্মং - সদ্ধর্ম; সংসারো - সংসার; অবিজান্তং - অনভিজ্ঞ; চরংচে - [সংসারে) বিচরণ; নাধিগচ্ছেয্য - পাওয়া যায় না; সেয্যং - উন্নত: সদিসমত্তনো - নিজের সদৃশ; একচরিযং - একাকি বিচরণ; দহং - দৃঢ়তা; সহাযতা - সাহচর্য; পুত্তামথি (পুত্তং অথি) - পুত্র আছে; ধনমথি (ধনং অথি) - ধন আছে; বিহঞতি - চিন্তা করে; অত্তাহি অত্তনো নথি - নিজেই নিজের নয়; কুতো - কিরূপ; যো যে; মঞতি - মনে করে; পণ্ডিতমানী - পণ্ডিতাভিমানী, যে নিজেকে পণ্ডিত মনে করে; ॥ - বলা হয়; কথিত হয়; যাবজীবম্পি - আজীবন; পযিরুপাসতি - সান্নিধ্যে বাস করে; বিজানাতি - সম্যকভাবে জানতে পারে; খিল্পং - শীঘ্র, মুহূর্তকাল; দব্বী - চামচ; সূপরসং - তরকারির স্বাদ; বালা দুম্মেধা - মন্দবুদ্ধিসম্পন্ন মূর্খগণ; অমিত্তো - অমিত্র, শত্রু; করোস্তা পাপকং কম্বং - পাপকর্ম করে; কটুকপল্ফলং - দুঃখময় ফল; অনুতপতি - অনুতাপ করে; যস্স - যার; অসমুখো - অশ্রুমুখে; রোদং - রোদন, কান্না; সুমনো - প্রসন্নচিত্ত; পটিসেবতি - ভোগ করে; নানুতপতি - অনুতাপ করতে হয় না; যাব পাপং ন পচচতি - যতদিন পাপ পরিণতি লাভ না করে; বালো দুগ্ধং নিগচ্ছতি - মূর্খকে দুঃখ ভোগ করতে হয়; কুসঙ্গেন - কুশাগ্র দ্বারা, তৃণ বিশেষের অগ্রভাগ দ্বারা; মমেব কতমঞঞন্তু - আমার দ্বারা কৃত মনে করুক; কিচ্চাকিচ্চেসু - কর্তব্য ও অকর্তব্যে; সংকল্পো - সংকল্প; মানো - অভিমান; বড়তি - বৃদ্ধি পায়; লাভূপনিসা - লাভের উপায়; অভিঞায - পরিজ্ঞাত হয়ে; সক্কারং - সৎকার; নাভিনন্দেয্য - কামনা করবে না।
মর্মার্থ
বাল বর্গে মূর্খ ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে। নিদ্রাহীন ব্যক্তির রাত দীর্ঘ হয়। পথশ্রান্ত ব্যক্তির অল্পপথও দীর্ঘ মনে হয়। সেরূপ সদ্ধর্মে অজ্ঞ ব্যক্তির সংসার যাত্রাও দীর্ঘ হয়। সেজন্য সংসার চলার পথে নিজের সমান অথবা উৎকৃষ্টতর সঙ্গী থাকা দরকার। নতুবা একাকী বিচরণ করাই শ্রেয়। কখনো মূর্খের সাহচর্য করবে না।
মূর্খ ব্যক্তি নিজেকে পণ্ডিত মনে করে। আসলে সে প্রকৃতই মূর্খ। সারাজীবন ধর্মচর্চা করলেও ধর্মের স্বাদ বুঝতে পারে না। বিজ্ঞ ব্যক্তি মুহূর্তকাল পণ্ডিতের সান্নিধ্য পেলে ধর্মের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পারেন। মূর্খকে চামচের সঙ্গে এবং জিহ্বাকে পণ্ডিতের সাথে তুলনা করা হয়েছে। জিহ্বা তরকারির স্বাদ সহজে বোঝে কিন্তু চামচ তা পারে না।
নির্বোধ ব্যক্তি নিজের হিতাহিত বুঝতে পারে না। নিজের প্রতি নিজেই শত্রুতাচরণ করে। এমন কার্য করবে না যার জন্য অনুশোচনা করতে হয়। যে কর্ম দ্বারা ইহ-পরকালের হিতসাধন হয় তা করা উচিত। পাপকর্মের ফল পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত মূর্খ ব্যক্তি আনন্দ পায়। ফল দিতে আরম্ভ করলে ভীষণ যন্ত্রণা ভোগ করে। মূঢ় ব্যক্তি দীর্ঘদিন কুশাগ্রে বসে আহার করলেও তপস্যা হয় না। অভিজ্ঞ ও পণ্ডিত ব্যক্তির ধর্মাচরণজনিত পুণ্যের ষোলভাগের একভাগও হয় না। শিল্পজ্ঞান ও ধনার্জন মূর্খব্যক্তিকে বিনাশের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু পন্ডিত ব্যক্তি তা যথাযথ ব্যবহারের দ্বারা সম্মান ও প্রভূত পুণ্যের অধিকারী হয়।
অজ্ঞ ভিক্ষুরাই বিহার, প্রভুত্ব, নায়কত্ব লাভের জন্য উৎকণ্ঠিত থাকে। ফলে ভাবনা ও মার্গফল লাভের অন্তরায় হয়। বুদ্ধশিষ্য শীলবান ভিক্ষুরা লাভ সৎকার পরিত্যাগ করে মুক্তিমার্গ অনুসরণ করেন।
টীকা
অভিঞঞা
অভিঞা বলতে অভিজ্ঞা বা উচ্চতর জ্ঞান বোঝায়। অভিজ্ঞা লৌকিক ও লোকোত্তর ভেদে দ্বিবিধ।
বিবিধি ঋদ্ধি, (অলৌকিক শক্তি), দিব্যশ্রোত্র, পরচিত্ত জ্ঞান, অতীত জন্মের স্মৃতি, দিব্যচক্ষু বা প্রাণিগণের জন্ম-মৃত্যু সম্বন্ধে জ্ঞানই লৌকিয় অভিজ্ঞা।
আসবক্ষয় জ্ঞান বা অকুশল মনোবৃত্তির ধ্বংসই লোকোত্তর অভিজ্ঞা। এতেই প্রকৃত দুঃখমুক্তি ঘটে। অর্হত্বফল লাভ হয়।
Read more