বিন্দুসার মৌর্য বংশের দ্বিতীয় শাসক এবং রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পুত্র। পিতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে পিতৃ-রাজত্ব লাভ করেন বিন্দুসার। সিংহাসন আরোহণকালে তিনি অমিত্রঘাত' অর্থাৎ শত্রু নিধনকারী উপাধি লাভ করেন। বিন্দুসারের রাজত্বকালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল তক্ষশীলার বিদ্রোহ (পাকিস্তান)। তক্ষশীলার এই বিদ্রোহ দমন করেছিলেন যুবরাজ অশোক। বিন্দুসারের রাজত্বকালে একমাত্র শ্রেষ্ঠ অর্জন ছিল- কলিঙ্গ জয়। সম্রাট অশোকও উত্তরাধিকার সূত্রে সিংহাসনের অধিকারী হয়েছিলেন।
অমিত্রঘাত উপাধি
বিন্দুসারের সবচেয়ে পরিচিত উপাধি হলো অমিত্রঘাত। এটি একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হলো শত্রু হননকারী। গ্রিক ঐতিহাসিকরা তাকে অমিত্রোকেটস নামে ডাকতেন।
আজীবক সম্প্রদায়ের পৃষ্ঠপোষকতা
বিন্দুসার আজীবক নামক একটি বিশেষ দার্শনিক বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুসারী ছিলেন। সেই সময়ে এই সম্প্রদায়ের জ্যোতিষী পিঙ্গলবৎস তাঁর রাজসভায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন।
বৈদেশিক কূটনৈতিক যোগাযোগ
সিরিয়ার তৎকালীন রাজা প্রথম অ্যান্টিওকাসের সাথে বিন্দুসারের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিন্দুসার সিরিয়ার রাজার কাছে শুকনো ডুমুর, আঙ্গুর থেকে তৈরি মিষ্টি মদ এবং একজন সোফিস্ট বা গ্রিক দার্শনিক চেয়েছিলেন। অ্যান্টিওকাস দার্শনিক বাদে বাকি দুটি দ্রব্য পাঠিয়েছিলেন।
ডাইমেকাস ও ডায়োনিসিয়াস
বিন্দুসারের রাজসভায় মেগাস্থিনিসের উত্তরসূরি হিসেবে গ্রিক দূত ডাইমেকাস নিযুক্ত ছিলেন। এছাড়া মিশরের রাজা দ্বিতীয় টলেমি ফিলাডেলফাস ডায়োনিসিয়াস নামক একজন দূতকে তাঁর দরবারে প্রেরণ করেছিলেন।
তক্ষশিলার বিদ্রোহ
তাঁর শাসনামলে তক্ষশিলায় বিশাল গণবিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল। এই বিদ্রোহ দমনের জন্য তিনি প্রথমে তাঁর পুত্র সুসীমকে পাঠিয়ে ব্যর্থ হন এবং পরবর্তীতে বড় পুত্র অশোককে পাঠান। অশোক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই বিদ্রোহ দমন করেছিলেন।
সাম্রাজ্য রক্ষা ও কৌটিল্য
বিন্দুসারের রাজত্বকালের শুরুর দিকেও চাণক্য বা কৌটিল্য প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল ছিলেন। তাঁর প্রধান কাজ ছিল চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের গড়ে তোলা বিশাল সাম্রাজ্যের ঐক্য বজায় রাখা। তিনি দক্ষিণ ভারতের দাক্ষিণাত্য পর্যন্ত সাম্রাজ্য বিস্তারে বিন্দুসারকে সহায়তা করেছিলেন বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন।
Read more