মানসিংহ

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান - | NCTB BOOK

1.4k

মানসিংহ সম্রাট আকবরের সেনাপতি ছিলেন। তিনি বাংলা দখল নেওয়ার প্রচেষ্ঠা চালান এবং বারো ভূঁইয়াদের দমন করতে ব্যর্থ হন।

মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং সম্রাট আকবরের 'নবরত্ন' সভার অন্যতম সদস্য ছিলেন রাজা মানসিংহ। বাংলার ইতিহাসে তাঁর নাম বিশেষভাবে জড়িত কারণ তিনি মোগল আধিপত্য বিস্তারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।

১. পরিচয় ও পদমর্যাদা

  • পরিচয়: তিনি ছিলেন রাজস্থানের অম্বর (বর্তমানে জয়পুর) রাজ্যের কচ্ছবাহা বংশীয় রাজা। তাঁর ফুফু ছিলেন সম্রাট আকবরের স্ত্রী যোধাবাই (মরিয়ম-উজ-জমানি)।

  • মনসবদার: তিনি মোগল দরবারের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী ছিলেন। সম্রাট আকবর তাঁকে 'ফারজান্দ' (পুত্র) উপাধি দিয়েছিলেন এবং ৭০০০ মনসবদার পদে উন্নীত করেছিলেন।

২. বাংলার সুবাদার হিসেবে মানসিংহ (১৫৯৪–১৬০৬)

সম্রাট আকবর তাঁকে তিনবার বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল অবাধ্য জমিদারদের (বারো ভূঁইয়া) দমন করা।

  • রাজধানী রাজমহল: ১৫৯৫ সালে তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে সরিয়ে রাজমহলে (বর্তমান বিহারে) স্থানান্তর করেন এবং এর নাম দেন 'আকবরনগর'

  • বারো ভূঁইয়াদের সাথে সংঘর্ষ: তিনি রাজা প্রতাপাদিত্য এবং কেদার রায়কে পরাজিত করতে সক্ষম হলেও ঈসা খাঁকে দমনে হিমশিম খেয়েছিলেন।

৩. ঈসা খাঁ ও মানসিংহের দ্বৈরথ (১৫৯৭)

বাংলার ইতিহাসে ঈসা খাঁ ও মানসিংহের লড়াই এক কিংবদন্তি হয়ে আছে।

  • এগারোসিন্দুরের যুদ্ধ: ১৫৯৭ সালে কিশোরগঞ্জের এগারোসিন্দুর নামক স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে মানসিংহের বাহিনীর সাথে ঈসা খাঁর বিশাল নৌযুদ্ধ হয়।

  • দ্বন্দ্বযুদ্ধ: লোকগাঁথা অনুযায়ী, দুই বীরের মধ্যে এক পর্যায়ে তলোয়ার নিয়ে সরাসরি দ্বন্দ্বযুদ্ধ হয়। যুদ্ধে মানসিংহের তলোয়ার ভেঙে গেলে ঈসা খাঁ তাঁকে আঘাত না করে নিজের তলোয়ার এগিয়ে দেন। ঈসা খাঁর এই মহানুভবতায় মানসিংহ মুগ্ধ হন এবং সম্রাট আকবরের কাছে ঈসা খাঁর বীরত্বের প্রশংসা করেন।

৪. স্থাপত্য ও অবদান

  • রাজমহল শহর: তিনি রাজমহলকে একটি সুরক্ষিত ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

  • মন্দির নির্মাণ: তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে অনেক হিন্দু মন্দির নির্মাণ ও সংস্কার করেন, যার মধ্যে বৃন্দাবনের গোবিন্দ দেব মন্দির অন্যতম।

Content added By
Content updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...