রামপাল(১০৮২-১১২৪)

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান - | NCTB BOOK

1.3k

পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক ছিলেন রামপাল। শাসক রামপাল দিব্যকে পরাজিত করে বরেন্দ্র পুনরুদ্ধার করেন। তিনি রাজধানী স্থাপন করেন 'রামাবতী' (মালদহে)। দিনাজপুর শহরের নিকট যে রামসাগর রয়েছে তা রামপালের কীর্তি। তাঁর সভাকবি ছিলেন’ রামচরিত' এর রচয়িতা কবি সন্ধ্যাকর নন্দী।

পাল সম্রাট রামপাল (১০৮২–১১২৪ খ্রিস্টাব্দ) প্রথম মহীপালের পর পাল বংশ পুনরায় দুর্বল হয়ে পড়লে এবং দ্বিতীয় মহীপালের সময় 'কৈবর্ত বিদ্রোহের' ফলে পালরা তাদের পিতৃভূমি বরেন্দ্র হারায়। এই চরম সংকটের মুহূর্তে সিংহাসনে আরোহণ করেন রামপাল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী ও কুশলী শাসক। তিনি তাঁর মামা মথনদেব এবং বিভিন্ন সামন্ত রাজাদের সহায়তায় একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করেন এবং কৈবর্ত শাসক ভীমকে পরাজিত ও হত্যা করে বরেন্দ্রভূমি পুনরুদ্ধার করেন। তাঁর এই বীরত্বগাথা ও জীবন নিয়ে কবি সন্ধাকর নন্দী বিখ্যাত 'রামচরিতম' কাব্য রচনা করেন। রামপাল কেবল বরেন্দ্র পুনরুদ্ধারই করেননি, বরং কামরূপ (আসাম) এবং ওড়িশাতেও পালদের আধিপত্য বিস্তার করেন। তাঁর শাসনামলে বাংলায় শেষবারের মতো পাল সাম্রাজ্যের স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরে এসেছিল।

রামাবতী ও সাংস্কৃতিক অবদান

রামপাল তাঁর নতুন রাজধানী হিসেবে 'রামাবতী' নগরী প্রতিষ্ঠা করেন (যা বর্তমানে মালদহের কাছাকাছি অবস্থিত ছিল)। তিনি প্রজাবৎসল শাসক ছিলেন এবং কৃষির উন্নতির জন্য অনেক দীঘি ও খাল খনন করেন। তাঁর সময়ে বৌদ্ধ ধর্মের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের প্রতিও বিশেষ অনুরাগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ১১২৪ সালে তাঁর প্রিয় মামা মথনদেবের মৃত্যুতে শোকাতুর হয়ে তিনি গঙ্গায় আত্মবিসর্জন দেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ আছে। তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই পাল বংশের কেন্দ্রীয় শক্তি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং সেন রাজবংশের উত্থানের পথ প্রশস্ত হয়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...