১। অরিফ্টসবহযে নগরে সিবিনামাসি খত্তিযো নিসজ্জ পাসাদবরে এবং চিন্তেস'হং তদা।
২। যং কিঞ্চি মানুসং দানং অদিন্নং মে ন বিজ্ঞতি যোপি যাচেয্য মং চং দদেয্যং অবিকম্পিতো।
৩। মম সংকল্পং অঞঞায সক্কো দেবানং ইসরো নিসিন্নো দেব পরিসায ইদং বচনং অববি। 1
81 নিসজ্জ পাসাদবরে সিবি রাজা মহিদ্ধিকো চিন্তেন্তো বিবিধং দানং অদেয্যং সো ন পস্সতি।
৫। তথং নু বিতথং এতং হন্দ বিমংসযামি তং মুহুত্তং আগময্যাথ যাব জানামি তং মন'ন্তি।
৬। পবেধমানো ফলিতসিরো বলিতগত্তো জরাতরো অন্ধবপ্নো ব হুত্বান রাজানং উপসঙ্কমি।
৭। সো তদা পদ্গহেত্বান বামং দক্মিণবাহু চ সিরস্মিং অঞ্জলিং কত্বা ইদং বচনং অব্রবি।
৮। যাচামি তং মহারাজ ধম্মিকরঠবনং তাব দানরতা কিত্তি উগ্গ্নতা দেবমানুসে।
৯। উভোপি নেত্তা নযনা অন্ধা উপহতা মম একং মে নযনং দেহি ত্বং পি একেন যাপযা'তি।
১০। তত্সা'হং বচনং সুত্বা হঠো সংবিগ্গমানসো কতঞ্জলি বেদজাতো ইদং বচনং অব্রবিং।
১১। অহো মে মানসং সিদ্ধং সংকম্পো পরিপূরিতো অদিন্নপুর্ব্বং দানবরং অজ্জ দস্সামি যাচকে।
১২। ইদানা'হং চিন্তহিত্বান পাসাদতো ইধাগতো ত্বং মম চিত্তং অঞঞায নেত্তং যাচিতং আগতো।
১৩। এহি সিবক উঠেহি মা দন্তহি মা পবেধযি উভোপি নযনে দেহি উপাতেত্বা বনিব্বকে।
১৪। ততো সো চোদিতো মযহং সিবকো বচনং করো উদ্ধরিত্বান পাদাসি তালমিঞ্জং ব যাচকে।
১৫। দদমানস দেন্তস্স দিন্নদানস মে সতো চিত্তস অঞথা নথি বোধিযা যেব কারণা।
১৬। ন মে দেস্সা উত্তো চন্ধু অত্তান মেন দেস্সিযো সব্বতং পিষং মযহং তমা চ礫ং অদাসি হস্তি।
শব্দার্থ
অরিঠসবহযে - অরিষ্ট নামক: সিবিনামাসি - শিৰি নামক; খত্তিযো - ক্ষত্রিয়; নিসজ্জ - বসে; পাসাদবরে - উত্তম প্রাসাদে; চিন্তেস'হং - আমি চিন্তা করেছিলাম; তদা - তখন; যং কিঞ্চি - যা কিছু; দানং অদিল্লং - দান দেওয়ার আছে; মেন বিজ্ঞতি - আমার দেওয়া হয় নি; যোপি - যে কেউ; যাচেয্য - যাচনা কররে; মং চক্ষুং - আমার চক্ষু; দদেয্যং - দিব; অবিকম্পিক্কো - অবিচলিত চিত্তে; মম সংকম্পং - আমার সংকল্প; সক্কো ইন্দ্র' অংজ্ঞায় - জ্ঞাত হয়ে; দেৱানং ইসরো - দেবরাজ; বচনং - কথাঃ নিসিল্লো - বসে; দেবপরিসায - দেব পরিষদে; অব্রবি - বলেছিলেন; মহিদ্ধিকো - মহাঋদ্ধিমান; চিন্তেন্তো - চিন্তা করে; অদেয্যং - দেওয়া হয় নি; তথং - ঠিক; মুহুত্তং - মুহূর্তের মধ্যে ; বিতথং - মিথ্যা, ভ্রান্ত; বিমংসধ্যমি - পরীক্ষা করব; পবেধমানো - পক্ককেশ; অব্দ - আজ; সস্সামি - দিব; চিন্তহিত্বান - চিন্তা করে; বনিককে - প্রার্থীকে; ইধাগতো (ইধং আগতো) - এখানে এসেছি; সীবক - অসত্ত্ব চিকিৎসক; উঠেছি - উঠুন; মা পষেধমি - ভীত হয়ো না; উম্পাটেতা - উৎপাটিত করে, উপড়ে ফেলে; চোদিতো - কথামত; তালমিঞ্জং - তালের শাঁস; চিত্তস্স্স অজ্ঞথা - মনের বিরূপ ক্রিয়া: বোধিযা - বোধি লাভের জন্য; দেস্সা - ঈর্ষার পাত্র; সবভূতং - সর্বজ্ঞতা।
সারমর্ম
বোধিসত্ত্ব একসময় অরিষ্ট নগরে শিৰি নামে রাজা হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। একদিন প্রাসাদে বসে তিনি চিন্তা করছিলেন, আয় কিছু দান দেওয়ার বাকি আছে কিনা। তাঁর চক্ষু দান করার কথা ভাবলেন। দেবরাজ ইন্দ্র তা সত্য কিনা পরীক্ষা করবার জন্য মুহূর্তের মধ্যে রাজার নিকট উপস্থিত হলেন। ইন্দ্র পঞ্চকেশে জরাগ্রস্থ কুঞ্চিত দেহে এক অন্ধের বেশে শিবি রাজার একটি চক্ষু চাইলেন। দেবরাজ দুই হস্ত দ্বারা অঞ্জলিবদ্ধ হয়ে রাজার দানের প্রশংসা করলেন। দুই চক্ষু অন্ধকে একটি চক্ষু দান করে অপরটি দ্বারা তাঁকে কালযাপন করতে বললেন। রাজা প্রাসাদ থেকে নেমে এসেছিলেন কাউকে চক্ষু দান করার জন্য। তাঁর মনের বাসনা পূর্ণ হয়েছে। সংকল্প সিদ্ধ হয়েছে।
শিবিরাজ অস্ত্র চিকিৎসককে ডেকে নিয়ে এলেন। ইতস্তত না করে তাঁর চক্ষু দুটি উৎপাটন করতে আদেশ দিলেন। সিবক (অস্ত্র চিকিৎসক) তাই করল। চক্ষু দুটি দান করার সময় শিবিরাজের কোনো ভাবান্তর হয় নি। এটা কেবল বুদ্ধত্ব লাভের জন্যই করেছিলেন। চক্ষু দুটি তাঁর ঈর্ষার পাত্র নয়। তিনি চক্ষুকে ভালবাসতেন না তাও নয়। তাঁর কাছে সর্বজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছিল। সেজন্যই চক্ষু দুটি দান করেছিলেন।
টীকা
শিবিরাজ
শিবিরাজ চরিতে বোধিসত্ত্ব কিভাবে দান পারমী পূর্ণ করেছিলেন তাই বর্ণিত হয়েছে। বোধিসত্ত্বের এরূপ দৃষ্টান্ত বিরল ঘটনা। শিবি জাতকেও অনুরূপ কাহিনী পাওয়া যায়।
অতীতে শিবিরাজ্যে শিবি মহারাজ রাজত্ব করতেন। বোধিসত্ত্ব অরিস্টপুর নগরে তাঁর পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম রাখা হয়েছিল শিবিকুমার। তিনি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তক্ষশিলায় গিয়ে বিদ্যাশিক্ষা করেন। শিক্ষা শেষে রাজধানী অরিস্টপুর নগরে ফিরে আসেন। পিতা তাঁর পাণ্ডিত্যের পরিচয় পেয়ে ঔপরাজ্য শাসনের ভার অর্পণ করেন। কালক্রমে শিবি মহারাজের মৃত্যু হলে শিবিকুমার রাজা হন। তিনি দুর্গতিগমন পরিহারের জন্য দশবিধ রাজধর্ম প্রতিপালন করে রাজত্ব করতেন। তিনি নগরের চারদ্বারে, নগরের মধ্যে এবং রাজপ্রাসাদের সম্মুখে ছয়টি দানশালা নির্মাণ করান। সেখান থেকে প্রতিদিন ছয় লক্ষ মুদ্রা ব্যয় করে মহাদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় নিজে দানশালায় গিয়ে বিতরণ-কার্য পর্যবেক্ষণ করতেন। তিনি পার্থিব সম্পদ সমস্ত দান করেন। বাহ্যদানে সন্তুষ্ট না হয়ে শেষ পর্যন্ত চক্ষু দুটি দান করে দানের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন।
চরিযা পিটক
সুত্ত পিটকের অন্তর্গত খুদ্দক নিকায়ের শেষ গ্রন্থ চরিযাপিটক। গ্রন্থটি সম্পূর্ণ গাথায় রচিত। এতে ৩৫টি কাহিনী আছে। বোধিসত্ত্বরূপে জন্ম-জন্মান্তরে বুদ্ধ যে পারমীগুলো পূরণ করেছিলেন সেগুলোর কথাই এতে বলা হয়েছে। স্বয়ং বুদ্ধ এ কাহিনীগুলো বিবৃত করেছিলেন।
কাহিনীগুলো জাতকের অনুরূপ। কেবল পারমিতার চর্যার উদ্দেশ্যেই এগুলো পদ্যে রচিত হয়েছে। রচনারীতি ধর্মপদের মতই। অকত্তি, ধনঞ্জয়, সুদর্শন, গোবিন্দ, চন্দ্রকিন্নর, বেসান্তর, সসপণ্ডিত, ভুরিদত্ত, চম্পেয্য, চুলবোধি, মহালোমহংস প্রভৃতি কাহিনীগুলো চরিযা পিটকের অন্তর্ভুক্ত। প্রথম বিশটি কাহিনীতে দান ও শীল পারমীর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ১৫টি চরিত-নৈষ্ক্রম্য, বীর্য, প্রজ্ঞা, ক্ষান্তি, সত্য, অধিষ্ঠান, মৈত্রী ও উপেক্ষা এ আটটি নিয়ে বর্ণিত হয়েছে।
Read more