ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সাহিত্য (পাঠ ১)

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচিতি - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

196

আমরা জানি, ভাষা শুধু ভাব প্রকাশের বাহনই নয়, সেই ভাষা দিয়ে মানুষ তার সৃজনশীল কাজের দৃষ্টান্তও রেখে যায়। আর সাহিত্য হচ্ছে সেই সৃজনশীল কাজের নিদর্শন। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে প্রত্যেকের যেমন রয়েছে নিজস্ব ভাষা তেমনি রয়েছে সেই ভাষায় রচিত সাহিত্য। তবে অনেকেরই আবার লিপি না থাকার কারণে সেসব সাহিত্য শুধু মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে দীর্ঘকাল থেকে। মুখে মুখে প্রচলিত সাহিত্যের মধ্যে ছড়া যেমন প্রাচীন তেমনি রূপকথাও। এ ছাড়াও লোককাহিনী প্রাচীন সাহিত্য হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা ঐ জনগোষ্ঠীর প্রাচীন মানুষের মুখে মুখে গল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। একালে আমরা লোকসাহিত্যের নানা লিখিত রূপ পেলেও এক সময় তা ছিল না।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেরই ছড়া, রূপকথা, লোককাহিনি প্রভৃতি রয়েছে। সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, ওরাঁও, মান্দি, ত্রিপুরা, মৈতৈ, বিষ্ণুপ্রিয়া, পাঙন ও খাসিসহ সবারই নিজস্ব ঐতিহ্য এবং জীবন-ঘনিষ্ঠ সাহিত্য অর্থাৎ ছড়া, রূপকথা, লোককাহিনি, সংগীত প্রভৃতি রয়েছে। তবে চর্চার অভাবে এসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাহিত্য তেমন বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় নি। এক্ষেত্রে অবশ্য বলা যায় চাকমা ভাষায় রচিত সাহিত্য বিশেষ করে গল্প-কবিতা কিছুটা হলেও চর্চার সুযোগ পেয়েছে। এদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে যারা সংখ্যায় খুবই কম সেই খুমি, পাংখোয়া, ম্রো, লুসাই, পাত্র, পাহান, মাহালী, মালো, মুন্ডা, ডালুসহ অন্যান্যদের লোকসাহিত্য এতই সমৃদ্ধ যে, এগুলো পাঠ করলে বিস্ময় জাগে। ভাষা ও ঐতিহ্যের বিচারে প্রত্যেক ভাষার সাহিত্যই গুরুত্বপূর্ণ।

অনুশীলন

কাজ- ১ :

মানুষের সৃজনশীল কাজের নিদর্শন কী?

কাজ- ২ :

রূপকথা ও লোককাহিনি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...