বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের নিজস্ব প্রথাগত আইন রয়েছে। নৃগোষ্ঠী ভেদে প্রথাগত আইনগুলোর মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্যও দেখা যায়। যেমন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের প্রথাগত আইন প্রায় ক্ষেত্রে অভিন্ন হলেও সমতল অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীসমূহের প্রথাগত আইনের সাথে সেগুলোর যথেষ্ট ভিন্নতা রয়েছে। এখানে আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতল অঞ্চলের কিছু কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রথাগত আইন সম্পর্কে আলোচনা করব।
প্রথাগত আইন: প্রথাগত আইন হলো জনগণের জীবনধারা এবং জীবনের নানাবিধ প্রয়োজনীয়তা থেকে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক নিয়মে গড়ে উঠা চিরকালীন রীতি-নীতি ও নিয়ম-কানুনের একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা বা পদ্ধতি। এসব চিরকালীন রীতি-নীতি বা নিয়মের মূলে আছে জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমষ্টিগত জ্ঞান এবং কোন সমস্যায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে সম্পর্কে স্মরণাতীত কাল থেকে সমাজে চালু থাকা দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ। সাধারণত জনগোষ্ঠীর প্রধানগণ, তাদের পারিষদবর্গ, তাদের সন্তান এবং এই সন্তানদেরও পরবর্তী সন্তানেরা এসব দৃষ্টান্ত ও নিয়মকানুন বংশ পরম্পরায় নিজেদের স্মৃতিতে লালন করে চলেন। যুগের পর যুগ ধরে বয়ে নিয়ে আসার ফলে এসব দৃষ্টান্ত বা রীতি-নীতির কিছু কিছু হয়তো তাদের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়। আর অবশিষ্ট যা থাকে সেগুলো চিরকালের নিয়ম বা বিধানে পরিণত হয়। এভাবে জনগোষ্ঠীর মাঝে সুপ্রতিষ্ঠিত চিরকালীন নিয়ম বা বিধানই হলো প্রথাগত আইন।
তবে প্রথাগত আইন হতে হলে তাকে অনেক প্রাচীন আমলের হতে হবে কিংবা গোষ্ঠী প্রধানকে সেগুলো পরিচালিত করতে হবে এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। একটি প্রথাগত আইন সমসাময়িক কালেরও হতে পারে এবং জনগোষ্ঠীর সাধারণ সদস্যরাও এই আইন বাস্তবায়ন করতে পারে।
| অনুশীলন | |
| কাজ- ১: | প্রথাগত আইন বলতে কী বোঝায়? |
| কাজ- ২: | তোমার সমাজে কী ধরনের প্রথাগত আইন রয়েছে? খুঁজে বের করো। |
Read more