চাকমা লোককাহিনী (পাঠ ৪)

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচিতি - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

247

সাধেৎ গিরি অচাই একজন বৈদ্য বা কবিরাজ। তার দুই মেয়ে- কসমতি এবং গোমতি। বাবা নিজের বৈদ্য কাজ নিয়ে গ্রাম-পাহাড়ে ঘুরে বেড়ান। দুমেয়ে বাস করে পাহাড়ের জুমে (যেখানে জুম চাষ করা হয়)। তারা অনেক কষ্ট করে সেখানে ফসল ফলায়। অথচ সেখানে থাকার মতো ভালো ঘর নেই। বড় বোন কসমতি তাই আক্ষেপ করে বলে- যে আমাকে জুমঘর বানিয়ে দেবে সে যে-ই হোক আমি তাকে বিয়ে করব। এই কথা যেই না বলা, অমনি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এলো এক বিশাল অজগর সাপ। আর অল্প সময়ের মধ্যেই সে বানিয়ে ফেলল বিশাল এক জুমঘর (চাকমা ভাষায়- গাইরিং)। সেখানে ভাত, তরকারি, আগুন, তামাক, পানি কোনো কিছুরই অভাব নেই। দু'বোন বেশ ভয়ে ভয়ে সে ঘরে ঢুকল। বড় বোন বিয়ে করল সাপকে। এ সাপ যে এক অভিশপ্ত রাজকুমার তা বিয়ের প্রথম রাতেই জানতে পারল কসমতি। অভিশাপের কারণে সে দিনে সাপ আর রাতে মানবদেহ ফিরে পায়।

চিত্র- ১.২: বড়বোন বিয়ে করলো অজগর সাপকে...

সুখেই কাটছিল তাদের জীবন। ছোট বোন গোমতি অবশ্য সাপের সঙ্গে এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। একদিন তাদের বাবা এলো জুমঘরে এবং ছোট মেয়ের কাছে সে জানল বড় বোনের বিয়ের গল্প। শুনে তো বাবা রেগে আগুন। বড়বোন ছিল পাশের গ্রামে। দুপুরে সাপরূপী কুমার খেতে এলে বুড়ো বাবা দা দিয়ে এক কোপ দিলে সাপটি দ্বি-খণ্ডিত হয়ে মারা গেল। বড় বোন কসমতি ফিরে সেই দৃশ্য দেখে বেদনায়-দুঃখে সাপের মৃতদেহ নিয়ে জঙ্গলে গেল। তারপর সেটি পুঁতে ফেললো টিলার উপর পাথরের নিচে। কদিন পর রক্তলাল ফুলে ফুলে ছেয়ে গেল সে সমাধিস্থল। আর সে টিলা থেকে নামলো দুটি জলের ধারা। একটির নাম লোগাং অন্যটির নাম পুজগাং। এই দুটি পাহাড়ি ছরা বা ছোট জলধারা পার্বত্য পানছড়ি উপজেলা সদরে এখনও রয়েছে।

অনুশীলন

কাজ- ১:

কসমতি কেন সাপটাকে বিয়ে করেছিল?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...