বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার (পাঠ ২)

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও মূল্যবোধ - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

379

সংস্কৃতি ও পরিবেশের সাথে ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে নৃবিজ্ঞান। সকল ধর্মই তিনটি মূল বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত। যথা: (১) ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাস, (২) ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও (৩) ধর্ম ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন। তাই ধর্ম সংক্রান্ত নৃবিজ্ঞানের আলোচনায় এই তিনটি দিক বিবেচনা করা হয়।

ধর্ম হলো এক ধরনের বিশ্বাস, যা নির্দিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যে কোনো সংস্কৃতিতেই ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের চারপাশের পরিচিত দৃশ্যমান জগতের বাইরের কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি ও ভাবধারা গড়ে উঠে। এই অতিপ্রাকৃত শক্তি মানুষের জীবনধারার বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে বলে বিশ্বাস করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সকল ঘটনা, যেমন: ভালো-মন্দ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রাপ্তি-হতাশা, আনন্দ-বেদনা, রোগ-বালাই ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতার অধিকারী হলো অতিপ্রাকৃত শক্তি। বিশ্বব্যাপী প্রায় সকল সংস্কৃতিতেই মনে করা হয় যে, বিভিন্ন প্রার্থনা, আচার-অনুষ্ঠান পালন এবং উৎসর্গ, বিসর্জন বা বলিদানের মাধ্যমে এই অতি প্রাকৃত শক্তিকে তুষ্ট বা খুশি করা যায়। তাই মানুষ নিজেদের মঙ্গলের জন্য এই অতিপ্রাকৃত শক্তিকে সর্বদা সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে। ফলে দেখা যায়, ব্যক্তি পর্যায়ে আচার-আচরণ থেকে শুরু করে মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রা ও সমাজ সংগঠনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

প্রতিটি ধর্মের বর্ণনা সেই ধর্মের অনুসারীদের দিক থেকে যথাযথ ও সঠিক হওয়া প্রয়োজন। কেননা ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টানসহ যে কোনো ধর্ম বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সেই ধর্মানুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি আমাদের সকলের সচেতন থাকা উচিৎ। নিরপেক্ষভাবে যে কোনো ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হলে সেটা অন্যান্য সংস্কৃতি বা ধর্মের মানুষের কাছে অর্থবহ ও সহজে বোধগম্য হয়। এক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সকল ধর্মের অনুসারীরাই তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় ভাবধারা সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্বাস করে। সুতরাং নিরপেক্ষভাবে ধর্ম নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই কেবল সকল মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো সম্ভব।

মানুষের বিশ্বাসকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠে যে কোনো সংস্কৃতির ধর্মীয় ব্যবস্থা। অনুসারীদের সংখ্যার ভিত্তিতে পৃথিবীর বড় বড় ধর্ম হলো খ্রিষ্টান, ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, তাও, শিন্টো ইত্যাদি। এসব ধর্মের পাশাপাশি ইহুদি, জৈন, শিখ, বাহাইসহ আরও অনেক ধর্মের অনুসারী পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে আছেন। আবার বর্তমান পৃথিবীর অনেকেই আছেন যারা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মবিশ্বাস অনুসরণ করেন না।

অনুশীলন

কাজ- ১:

সকল ধর্মের মূল তিনটি বিষয় কী কী?

কাজ- ২:

নৃবিজ্ঞানে কেন এবং কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ধর্ম পাঠ করা হয়?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...