আদর্শ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের দ্বারাই মানুষ নিজের এবং অন্যের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, ঠিক-বেঠিক বিচার করে এবং সে অনুযায়ী আচরণ করতে চেষ্টা করে। সাধারণভাবে আদর্শ ও মূল্যবোধ ব্যক্তির নিজস্ব বিষয় বলে মনে হলেও তা প্রকৃতপক্ষে কোনো না কোনোভাবে সংস্কৃতি থেকে পাওয়া। প্রতিটি সংস্কৃতিই তার নিজস্ব মূল্যবোধের ভিত্তিতে সেই সংস্কৃতির সদস্যদের শৈশব থেকে গড়ে তোলে। মানুষ সে অনুযায়ী আচরণ করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে। শৈশবকাল থেকে দীর্ঘ দিনের অভ্যাসের কারণে যে কোনো সংস্কৃতির সদস্যদের কাছে এসব আচরণকে স্বাভাবিক মনে হয়।
আদর্শ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে আলাদা হয়ে থাকে। যেমন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিতে বিবাহিত সন্তানেরা বাবা-মায়ের সাথে থাকে; কারণ এসব সংস্কৃতির মূল্যবোধে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানেরা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে বসবাস করে। তাই বলা যায় যে, সামাজিক আদর্শ ও মূল্যবোধ এমন কিছু রীতিনীতি, যা বিভিন্ন সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে বা কী ধরনের আচরণ করবে তা নির্ধারণ করে দেয়। মূলত সামাজিক শৃঙ্খলা বা ভারসাম্য রক্ষার জন্য সামাজিক আদর্শ ও মূল্যবোধ ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ মানুষকে নির্দিষ্ট ধরনের কিছু আচরণ থেকে বিরত রাখে। যেমন, প্রায় সব সংস্কৃতিতেই চুরি করা বা মিথ্যা বলা অন্যায় বলে বিবেচিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে আবার সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা যায়। যেমন ইসলামি মূল্যবোধে মুসলিমদের জন্য পশু কোরবানি দেওয়া কর্তব্য, আবার বৌদ্ধদের মাঝে সব ধরনের প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ। সুতরাং, একটি সমাজের মূল্যবোধ দিয়ে অন্য সমাজের মূল্যবোধকে বিচার করা যায় না। তাই মানুষের জীবন-বিধান ও আচরণের বিষয়গুলোকে বুঝতে হলে ঐ সংস্কৃতির আলোকে বুঝতে হবে।
মানুষ নানাভাবে মূল্যবোধ অর্জন করতে পারে। আমাদের জীবনে মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা হয় পরিবার থেকে। পরিবারের সদস্যরা শিশুকে ভালো-মন্দ বিষয় এবং সঠিক আচরণ সম্পর্কে নানাভাবে শিক্ষাদান করে। বিদ্যালয়ে বা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও মানুষ নানা ধরনের আদর্শ ও মূল্যবোধ শেখে। তবে সব ধর্মের অনুসারীরা কম-বেশি নিজ নিজ ধর্মের আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ ও লালন করে।
অনুশীলন | |
কাজ- ১ : | আদর্শ ও মূল্যবোধ কী? |
কাজ- ২ : | সমাজে মূল্যবোধের ভূমিকা কী? |
Read more