ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর খেলাধুলা (পাঠ ১২)

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচিতি - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

240

এখানে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কিছু খেলাধুলার পরিচয় পাবো। পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি সাধারণ খেলা হচ্ছে গিলা খেলা যা চাকমা, মারমা, পাংখোয়া প্রভৃতি জাতির মানুষ খেলে থাকে। খেয়াংদের মধ্যে 'পত্তবলী' বা মন্ত্রযুদ্ধ নামক একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী খেলা প্রচলিত। খুমিদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় খেলা হচ্ছে 'আথো আচ্ কে'। প্রায় ৫ফুট লম্বা একটি শক্ত বাঁশের দুপ্রান্তে দুই থেকে চার জন মানুষ দাঁড়িয়ে শক্ত করে বগলের নিচে আটকিয়ে একপক্ষ অপর পক্ষকে মাটিতে ফেলার চেষ্টাই হচ্ছে আলো আচ্ কে। যে পক্ষ মাটিতে প্রথমে পড়বে ওরা হারবে। এর আরেক নাম হলো বাঁশ আটকিয়ে শক্তি পরীক্ষা। পাংখোয়াদের উল্লেখযোগ্য খেলাধুলা হচ্ছে-পইকা (ঘিলার খেলা), সাইলেব (কাঠি খেলা), কালচেক বা বাঁশ দিয়ে হাঁটা প্রতিযোগিতা, এছাড়াও বাঁশ ঘোরানো এবং বেতের বৃত্ত বা রিং খেলা উল্লেখযোগ্য।

মারমারা গিলা খেলাকে বলে দো: কজা: বোওয়ে। এছাড়াও কুস্তি (ক্যাং লুঙ বোওয়ে:), লুকোচুরি (হোঅক্ তাই:) এবং ব্রিঃ দাই: বা দৌড় তাদের উল্লেখযোগ্য খেলা। লুসাইদের অধিকাংশ খেলাই শক্তি পরীক্ষামূলক খেলা। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ইনুসুত নর। এটি ধাক্কা দিয়ে নাড়ানো একটি খেলা, ঢেকিতে যে লাঠি দিয়ে চাল বানানো হয় তা দিয়ে একে অন্যকে ধাক্কা দিয়ে শক্তিপরীক্ষাই এই খেলার মূল।

মান্দিদের নিজস্ব খেলাধুলার মধ্যে মিসি মেংগং (ইদুর-বিড়াল খেলা), গাং গিসিক্কা (কুস্তি), থুমুয়া (লুকোচুরি), বিনবিন জারি (পা ও আঙ্গুল দিয়ে খেলা), আংখি খেপপা (কাঁকড়া প্যাচের খেলা), চাগ্রিপা (একজনকে ঘেরাও), ওয়াফোং সালা (বাঁশ টানাটানি) প্রভৃতি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বর্মণদের ঐতিহ্যবাহী খেলা হচ্ছে লাঠি খেলা এবং শক্তি পরীক্ষা খেলা। হাজং সমাজের অন্যতম খেলা হচ্ছে-কুক্ কুকু (খুঁজে বের করা) খেলা, বাঙি পাকা খেলা (পানির মধ্যে বৃত্ত হয়ে ডুব দেওয়া), কাঁকড়া মাও খেলা, নারকোয়াল খেলা (নারকেল ধরার চেষ্টা), পেক খেলা প্রভৃতি।

মৈতৈ মণিপুরীদের সবচেয়ে ঐহিহ্যবাহী খেলা হচ্ছে 'কাংচৈ' যা পরবর্তীকালে 'পোলো' নামে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে। ব্রিটিশ আমলে ইংরেজরা এটি এখান থেকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যায়। এছাড়াও কানামাছি বন্দি, কপাটি, অততপানি গুড়গুড়ানি, মাইচং, পাঞ্জা উল্লেখযোগ্য খেলা। খাসিদের খেলার মধ্যে তীর-ধনুক প্রতিযোগিতা, কুস্তি, সাইডিকুট এবং কানামাছি ও হাডুডুও প্রচলিত রয়েছে।

রাখাইন সমাজে লৌকিক খেলাধুলার মধ্যে নিজেদের ভাষায় 'খ্যেৎ-ক্যাউছি' (ডাংগুলি জাতীয় খেলা), ক্র-না:-ক্রং লাই-তেংঃ (বিড়াল-ইঁদুর খেলা)' ইত্যাদি প্রচলিত খেলা। এখানে খেৎ-ক্যাউ-ছি খেলার বিবরণ দেওয়া হলো। এটা অনেকটা ডাং গুলি খেলার মতো। দুটি দলে সম সংখ্যক খেলোয়াড় থাকে। ছেলেরাই এ খেলার খেলোয়াড়। কাঠ বা গাছের ডাল থেকে এ খেলার উপকরণ ডাং ও গুলা তৈরি করা হয়। গুলার যে কোনো প্রান্তকে ডাং দিয়ে মৃদু স্পর্শ করার সাথে সাথেই উড়ন্ত গুলাকে প্রতিজন তিন বার করে খেলে। ডাং এর সাহায্যে দূরত্ব পরিমাপ করে নিজ দলের খেলোয়াড়দের দূরত্ব সমষ্টি করা হয়। যে দলে দূরত্ব বেশি হবে সে দল বিজয়ী হয়। বিজিত দলের খেলোয়াড়দেরকে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়রা কান ধরে বা পিঠে উঠে জয়ের স্বাদ গ্রহণ করে। রাখাইন গ্রামে এ খেলা খুব জনপ্রিয়।

অনুশীলন
কাজ- ১ :'আথো আচ্ কে' কাদের খেলা? এ খেলার বিবরণ দাও।
কাজ- ২ :কোন খেলা 'পোলো' নামে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...