প্রতিবেশ-ব্যবস্থার সহায়তার উপরই মানুষের বেঁচে থাকা নির্ভর করে। বাংলাদেশে কৃষক, মৎসজীবী, বনজীবী, হস্তশিল্পীসহ সকলেই জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে প্রকৃতি বা স্থানীয় প্রতিবেশ-ব্যবস্থা থেকে। সুতরাং বাংলাদেশে জীবিকার নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপেই জীববৈচিত্র্যের উপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের কল্যাণের জন্যই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে সযত্নে রক্ষা করা প্রয়োজন। বিজ্ঞানের চরম উন্নতির এই যুগেও প্রকৃতির উদার সান্নিধ্য ও অনুদান ছাড়া মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণী এক মুহূর্তও বাঁচতে পারবে না। জীবন রক্ষাকারী ঔষধপত্র থেকে শুরু করে জ্বালানি, বসতবাড়ি নির্মাণ পর্যন্ত জীবনধারণের উপকরণগুলোর অধিকাংশ এখনও প্রকৃতি থেকেই আসে। তাই প্রকৃতিকে ধ্বংস না করা এবং তার জীববৈচিত্র্যকে সযত্নে রক্ষা করা মানুষের দায়িত্ব। মানুষ প্রকৃতি কিংবা জীববৈচিত্র্যকে সৃষ্টি করেনি, সে নিজেই অন্য সব জীবের মতো প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের অংশ। অথচ মানুষই প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের বেশি ক্ষতি সাধন করছে। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এখানে উল্লেখ করা হলো:
- জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। আমাদের জীবিকার নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপেই আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর নির্ভরশীল।
- জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মানুষকে খাদ্য, পানি, দূষণমুক্ত বায়ু, আলো, অক্সিজেন, জ্বালানি প্রভৃতি প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক উপকরণ সরবরাহ করে থাকে।
- পৃথিবীর উপরিভাগের এক চতুর্থাংশ ভূমি চাষাবাদের উপযোগী এবং খাদ্য শস্যের অন্যতম উৎস। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বাঁচলে এই বিশাল ভূমির উর্বরতা ও গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকবে।
- মানুষের পোষাক পরিচ্ছদ, ঔষধপত্র এবং ঔষধ তৈরির অধিকাংশ উপকরণ এখনও প্রকৃতি থেকেই সংগ্রহ করা হয়। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
- পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, খরা, বন্যা, শৈত্যপ্রবাহ প্রভৃতি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে পারে।
- পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বাঁচলে কৃত্রিম সার এবং রাসায়নিক কীটনাশকের উপর মানুষের নির্ভরশীলতা কমবে। ফলে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জৈবসারসহ নানা প্রয়োজনীয় জৈব উপকরণ উৎপাদন সম্ভব হবে।
- প্রকৃতিতে এখনও লক্ষ লক্ষ উদ্ভিদ ও লতাগুল্ম রয়ে গেছে যাদের রাসায়নিক বা ঔষধি গুণাগুণ এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বাঁচলে এসব উদ্ভিদও টিকে থাকবে। ফলে মানব সমাজের স্বাস্থ্য এবং উন্নয়নের জন্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এসব উদ্ভিদকে ভবিষ্যতে কাজে লাগানো যাবে।
- পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মানুষের বিনোদন, শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠন এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। বর্তমানে প্রকৃতি বান্ধব পর্যটন (ইকোট্যুরিজম) সারা পৃথিবী জুড়ে বিনোদন ও পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির উপায় হিসাবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
- সবশেষে, একটি সুন্দর, সুখী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
| অনুশীলন | |
| কাজ- ১: | জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করো। |
| কাজ- ২: | জীববৈচিত্র্যের প্রয়োজনীয়তাসমূহের গুরুত্ব বিবেচনা করে ক্রমানুসারে সাজাও। |
Read more