ঐতিহাসিক মুন্ডা বিদ্রোহ উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ শাসন বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে স্মরণীয়। এই বিদ্রোহ বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে শুরু হয়, যিনি নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতার জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন। বিরসা ১৮৭৫ সালের এক মুন্ডা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি মিশন পরিচালিত স্কুলে সামান্য শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেই সময় নৃগোষ্ঠীদের শিক্ষিত করার জন্য কোনো স্কুল ছিল না। কারণ তারা মনে করত নৃগোষ্ঠীদের শিক্ষিত হওয়া উচিত নয়। মুন্ডা জনগণ বিরসাকে ভগবান হিসাবে গণ্য করত। যদিও তিনি সাধারণ মুন্ডাদের মতো বঞ্চনা, ক্ষুধা, অপুষ্টির শিকার ছিলেন। বিরসার যুদ্ধ শুধু ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধেই ছিল না, ছিল ভারতীয় মহাজন, পুরোহিত, ভূ-স্বামী, চা বাগান মালিক-যারা ব্রিটিশ শাসনের ছত্রছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করত তাদের বিরুদ্ধে। বিরসা সিদ্ধান্ত নিলেন সুশাসন ও নীতির ভিত্তিতে নৃগোষ্ঠীদের জন্য একটা রাজ্য গঠন করবেন এবং ব্রিটিশদের বিতাড়িত করতে নৃগোষ্ঠীদের সঙ্ঘবদ্ধ করতে থাকেন। ১৮৯৯-১৯০০ সালে বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে ভারতের রাঁচির দক্ষিণ অঞ্চলে এ বিদ্রোহ পরিচালিত হয়। দুই বছর কারাবাসের পর ১৮৯৭ সালে মুন্ডা ছাড়া পেয়ে জায়গীরদার ঠিকাদারদের শোষণ অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে একটি প্রবল বিদ্রোহ বা "উলগুলান" এর জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। মূলত হারানো জমির অধিকার ফিরে পেতেই এ বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল। ১৮৯৯ সালের ২৪শে ডিসেম্বর সিংভূম, তামার এবং বাসিয়ার মধ্যে যত সরকারি অফিস, পুলিশ স্টেশন, মিশন হাউস ছিল সেখানে বিরসা ও তার অনুসারীরা তীরের মাথায় আগুন জ্বালিয়ে তীর ছুড়ে যুদ্ধ করেন। কিন্তু সরকারি বাহিনীর কাছে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেন নি। ৯ই জানুয়ারি ১৯০০ সালে তিনি গ্রেফতার হন। কিছুদিন পর রাচি কারাগারে বিরসার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। বিরসা মুন্ডা মারা গেলেও মুন্ডাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেমে থাকেনি।
| অনুশীলন | |
| কাজ- ১: | প্রথম মুন্ডা বিদ্রোহ ঘটেছিল কেন? কে নেতৃত্ব দিয়েছিল? |
| কাজ- ২: | বিরসার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছিল কত সালে এবং কোথায়? |
Read more