শাহ সুজা

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান -

2.5k

সম্রাট শাহজাহানের ২য় পুত্র শাহ সুজা ২০ বছর বাংলায় সুবাদারি করেন। তিনি ইংরেজদের বিনা শুল্কে বানিজ্য করার সুযোগ নেন। শাহজাদা সুজা ঢাকার চক বাজারে 'বড় কাটরা মসজিদ নির্মাণ করেন। সুজা তার ভ্রাতা আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।

বাংলার ইতিহাসে মুঘল সুবাদারদের মধ্যে অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী এবং প্রভাবশালী শাসক ছিলেন শাহজাদা মোহাম্মদ সুজা। তিনি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র এবং মমতাজ মহলের সন্তান ছিলেন। ১৬৩৯ থেকে ১৬৬০ সাল পর্যন্ত (মাঝখানে সামান্য বিরতিসহ) প্রায় ২১ বছর তিনি বাংলার সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১. দীর্ঘমেয়াদী শাসন ও স্থিতিশীলতা

শাহ সুজার শাসনামল ছিল তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ এবং বাংলার অর্থনৈতিক উন্নতির সময়।

  • রাজধানী স্থানান্তর: সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে সরিয়ে পুনরায় রাজমহলে (বর্তমান বিহার) স্থানান্তর করেন। তবে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে ঢাকায় তাঁর প্রতিনিধি থাকতেন।

  • ইউরোপীয় বণিকদের সুবিধা: তাঁর সময়ে ইংরেজ, ওলন্দাজ (ডাচ) এবং ফরাসি বণিকরা বাংলায় বাণিজ্য প্রসারের বিশেষ সুযোগ পায়। বিশেষ করে ১৬৫১ সালে তিনি ইংরেজদের মাত্র ৩০০০ টাকার বিনিময়ে বাংলায় বিনাশুল্কে বাণিজ্যের অনুমতি বা 'নিশান' প্রদান করেন।

২. স্থাপত্যশৈলী ও অবদান

শাহ সুজার শাসনামলে নির্মিত স্থাপত্যগুলো আজও ঢাকার ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে:

  • বড় কাটরা (Bara Katra): ১৬৪৪ সালে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এটি নির্মিত হয়। এটি মূলত একটি সরাইখানা বা কাফেলা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এর বিশালতা এবং কারুকার্য মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।

  • চুড়িহাট্টা মসজিদ: পুরান ঢাকার চকবাজারে তিনি এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করেন।

  • ঈদগাহ (ধানমন্ডি): ১৬৪০ সালে তাঁর নির্দেশে ধানমন্ডিতে বিখ্যাত মুঘল ঈদগাহ নির্মিত হয়।

৩. উত্তরসূরি যুদ্ধ ও করুণ পরিণতি

শাহ সুজার জীবনের শেষ অধ্যায় ছিল অত্যন্ত বিয়োগান্তক।

  • সিংহাসনের লড়াই: ১৬৫৭ সালে সম্রাট শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর চার পুত্রের (দারা শিকোহ, সুজা, আওরঙ্গজেব ও মুরাদ) মধ্যে সিংহাসন নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়।

  • খাজোয়ার যুদ্ধ (১৬৫৯): এলাহাবাদের কাছে খাজোয়ার যুদ্ধে শাহ সুজা তাঁর ভাই আওরঙ্গজেবের কাছে পরাজিত হন।

  • আরাকানে পলায়ন: পরাজয়ের পর মীর জুমলার তাড়া খেয়ে তিনি সপরিবারে বাংলার দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে আরাকানে (বর্তমান মিয়ানমার) আশ্রয় নেন। ১৬৬০ বা ১৬৬১ সালে আরাকান রাজের সাথে বিরোধের জেরে তিনি সপরিবারে সেখানে নির্মমভাবে নিহত হন।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...