প্রাচীন বাংলার জনপদ:সমতট
বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত অঞ্চলকে বলা হতো সমতট। সমতটের রাজধানী- বড় কামতা, কুমিল্লা শহর থেকে দূরত্ব- ১২ মাইল। এর সীমানা বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী। কুমিল্লার ময়নামতিতে শালবন বিহার অবস্থিত। হিউয়েন সাং-এর বিবরণ অনুসারে কামরূপে সমতট নামে জনপদ ছিল।
প্রাচীন বাংলার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাংশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আর্দ্র জনপদ ছিল সমতট। বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিল। মেঘনা নদীর মোহনা থেকে শুরু করে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ছিল। সমতটের রাজধানী ছিল বড়কামতা, যা বর্তমান কুমিল্লার ১২ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত। তবে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, কুমিল্লার ময়নামতী ও লালমাই অঞ্চলই ছিল এর প্রধান কেন্দ্র। সমতটকে সাধারণত 'বঙ্গ' জনপদের প্রতিবেশী হিসেবে গণ্য করা হয়। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতট ভ্রমণ করেন এবং তাঁর বর্ণনায় এই অঞ্চলটিকে একটি সমৃদ্ধ শিক্ষা ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেন। এই জনপদটি তার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত, যার প্রমাণ পাওয়া যায় ময়নামতীর শালবন বিহার ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষে। সমতট অঞ্চলের ভূমি ছিল সমতল এবং সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার প্রভাবে সিক্ত, যার ফলে এটি কৃষি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত অনুকূল ছিল।