সবচেয়ে জনপ্রিয় সুলতান ছিলেন গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। আজম শাহ বাংলা ভাষার পরম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর সময়ে ইউসুফ জোলেখা রচনা করেন কবি শাহ মুহম্মদ সগীর । এ সময় কৃত্তিবাসের রামায়ণ বাংলা অনুবাদ করা হয়। পারস্যের কবি হাফিজের সাথে তিনি পত্রালাপ করতেন।
বাংলার ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতানদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়, ন্যায়পরায়ণ এবং বিদগ্ধ শাসক ছিলেন গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। তাঁর শাসনামল (১৩৯০–১৪১১ খ্রি.) যুদ্ধবিগ্রহের চেয়ে সাহিত্য, কূটনীতি এবং ন্যায়বিচারের জন্য বেশি পরিচিত।
১. ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ তাঁর প্রখর ন্যায়বিচারের জন্য ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। এ বিষয়ে একটি বিখ্যাত কাহিনী প্রচলিত আছে:
একবার সুলতানের নিক্ষিপ্ত তীরে এক বিধবার পুত্র মারা গেলে, ওই বিধবা কাজী সিরাজুদ্দিনের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন।
কাজী সুলতানকে আদালতে তলব করেন। সুলতান সাধারণ নাগরিকের মতো আদালতে হাজিরা দেন এবং কাজীর দণ্ডাদেশ মেনে নিয়ে বিধবাকে ক্ষতিপূরণ দেন।
বিচার শেষে সুলতান কাজীকে বলেছিলেন, "আপনি যদি বিচারে শিথিলতা করতেন তবে আমি তলোয়ার দিয়ে আপনার মাথা কেটে ফেলতাম।" কাজীও তাঁর লাঠি দেখিয়ে বলেছিলেন, "আপনি যদি আইন অমান্য করতেন তবে আমি এই লাঠি দিয়ে আপনার পিঠ ভেঙে দিতাম।"
২. সাহিত্য ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা
তিনি কেবল একজন শাসকই ছিলেন না, বরং সাহিত্যের সমঝদার ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
পারস্যের মহাকবি হাফিজ: সুলতান আজম শাহ পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজ শিরাজিকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। হাফিজ আসতে না পারলেও সুলতানের পাঠানো কবিতার চরণের জবাবে একটি বিখ্যাত গজল লিখে পাঠিয়েছিলেন।
শাহ মুহাম্মদ সগীর: তাঁর রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কবি শাহ মুহাম্মদ সগীর বিখ্যাত কাব্য 'ইউসুফ-জুলেখা' রচনা করেন। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
৩. কূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক
তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিলেন।
চীনের সাথে সম্পর্ক: তাঁর আমলে চীনের মিং রাজবংশের সম্রাট ইয়ং লো-এর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। চীনের দূত মা হুয়ান তাঁর দরবারে এসেছিলেন এবং বাংলার রেশম, মসলিন ও সমৃদ্ধির প্রশংসা করেছিলেন।
মক্কা-মদিনায় অনুদান: তিনি পবিত্র মক্কা ও মদিনায় দুটি মাদরাসা নির্মাণ করেন এবং সেখানে পানির নহর বা কূপ খননের জন্য প্রচুর অর্থ দান করেছিলেন, যা 'মাদরাসা-ই-গিয়াসিয়া' নামে পরিচিত ছিল।
Quick Notes:
উপাধি: গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করলেও তিনি অত্যন্ত সফল শাসক ছিলেন)।
রাজধানী: তাঁর রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।
ইবনে বতুতা না মা হুয়ান? — মনে রাখবেন, ইবনে বতুতা এসেছিলেন ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের আমলে, আর মা হুয়ান এসেছিলেন গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের আমলে।
বিখ্যাত বন্ধু: পারস্যের কবি হাফিজ।
বিচারক: তাঁর সময়কার বিখ্যাত কাজীর নাম ছিল সিরাজুদ্দিন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more