প্রাণিবিজ্ঞান ও মানবদেহ (Zoology & Anatomy)

জীববিজ্ঞান (Biology) - সাধারণ বিজ্ঞান -

4
Please, contribute by adding content to প্রাণিবিজ্ঞান ও মানবদেহ (Zoology & Anatomy).
Content

প্রকৃতির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অঞ্চলে সাফল্যমণ্ডিতভাবে বংশ বিস্তার করে টিকে থাকার উদ্দেশ্যে প্রাণী প্রজাতিগুলোর বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও আন্তঃঅঙ্গসংস্থান, আকার, আকৃতি, প্রকৃতি ইত্যাদির প্রয়োজনীয় পরিবর্তিত সাধন করে অভিযোজিত হওয়ার ফলে প্রাণিদের মধ্যে যে বৈচিত্র্যময়তার উদ্ভব ঘটেছে তাকে প্রাণি বৈচিত্র্য বলে। পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা হয় আনুমানিক ১০০ কোটি বৎসর আগে। প্রাণিজগতের প্রধান পর্ব ১০ টি। প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ পর্ব Arthropoda (আর্থোপোডা)।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস

মেরুদণ্ডী এবং অমেরুদণ্ডী প্রাণী

যে সকল প্রাণির মেরুদণ্ড আছে তাদেরকে মেরুদণ্ডী প্রাণি বলে। যেমন: মানুষ, গরু, বেজি প্রভৃতি। যে সকল প্রাণির মেরুদণ্ড নাই তাদেরকে অমেরুদণ্ডী প্রাণি বলে। যেমন: অ্যামিবা, কেঁচো, হাইড্রা, তেলাপোকা, মাছি, স্পঞ্জ প্রভৃতি।

স্তন্যপায়ী প্রাণী (ম্যামাল)

হাতী, তিমি, বাদুড়, মানুষ প্রভৃতি স্তন্যপায়ী প্রাণী। সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী নীলতিমি। প্লাটিপাস স্তন্যপায়ী জীব হলেও ডিম দেয়। মানুষ কর্ডাটা (Chordata) পর্বের অন্তর্ভুক্ত। মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens। মানুষের আবির্ভাব ঘটে ক্রিটেসাস যুগে।

অ্যানিম্যালিয়া বা প্রাণিজগতের প্রাণীদেরকে দশটি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

১) প্রোটোজোয়া (Protozoa) : এককোষী জীব। যেমন-অ্যামিবা, ম্যালেরিয়া জীবাণু।

২) পরিফেরা (Porifera) : সরলতম বহুকোষী প্রানী। যেমন- স্পনজিলা, সাকাইফা।

৩) সিলেন্টারেটা (Coellenterata) : হাইড্রা, জেলী ফিস ইত্যাদি।

৪) প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes) : ফিতাকৃমি, যকৃতকৃমি প্রভৃতি। ফিতাকৃমি অন্তঃপরজীবী।

৫) নেমাটোডা (Nematoda) : যেমন- গোলকৃমি, ফাইলেরিয়া কৃমি ইত্যাদি।

৬) অ্যানিলিডা (Annelida) : যেমন- কেঁচো, জোঁক ইত্যাদি।

৭) আর্থোপোডা (Arthopoda) : প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব। যেমন -চিংড়ি, আরশোলা, প্রজাপতি, ফড়িং, কাঁকড়া, মাকড়সা, মাছি, পিঁপড়া, মৌমাছি, রেশম পোকা ইত্যাদি।

৮) মলাস্কা (Mollusca) : যেমন – শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস ইত্যাদি।

৯) একাইনোডার্মাটা (Echinodermata) : তারা মাছ, সমুদ্র শশা, একাইনাস ইত্যাদি।

১০) কর্ডাটা (Chordata) : মানুষ, নীলতিমি, গরু, ছাগল, ব্যাঙ প্রভৃতি।

পর্ব : সিলেন্টারেটা

হাইড্রার দুটি স্বতন্ত্র চলন পদ্ধতি আছে। যথা- লুপিং বা হামাগুড়ি এবং সমারসল্টিং বা ডিগবাজি। এদের মধ্যে হামাগুড়ি ধীরে এবং ডিগবাজি দ্রুত চলনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে।

জেলিফিস সামনের দিকে সাঁতার কাটতে পারে না।

পর্ব : নেমাটোডা

ফাইলেরিয়া কৃমি গোদ রোগের জন্য দায়ী। কিউলেক্স মশার কামড়ে এ রোগের জীবাণু মানুষের দেহে প্রবেশ করে। বৃহত্তর দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে ফাইলেরিয়া রোগের প্রকোপ বেশি।

পর্ব : অ্যানিলিডা

কেঁচো (Earthworm) ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে। এরা মাটির নিচে বাস করে। কেঁচো মাটির উর্বরা শক্তির জন্য বিশাল আশীর্বাদ। এরা ফসলের জমি ওলট-পালট করে ওপরের মাটি নিচে ও নিচের মাটি ওপরে তুলে আনে। তাই কেঁচোকে ‘প্রকুতির লাঙ্গল’ বলে।

পর্ব : আর্থোপোডা

আর্থোপোডা পর্বের প্রাণীদের পাগুলো সন্ধিযুক্ত হয়। দেহে হিমোসিল থাকে।

পিঁপড়া নিজের ওজনের ৫০ গুণ বেশি ওজন বহন করতে পারে। মাকড়সা ৪ জোড়া এবং প্রজাপতি ও মাছির ৩ জোড়া পা থাকে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মাছ (Chondrichthyes + Osteichthyes)

মাছ পানিতে বাস করে। ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে মাছ অক্সিজেন নেয়। এদের পাখনা আছে। পাখনার সাহায্যে এরা সাঁতার কাঁটে। অধিকাংশ স্বাদু পানির অসটিকথিস শ্রেণিভুক্ত। যেমন- রুই, কাতলা, তেলাপিয়া প্রভৃতি।

  • সবচেয়ে দ্রুতগামী মাছ সেইল ফিশ (Sailfish)।

  • হাঙ্গর (Shark) কনড্রিকথিস শ্রেণিভূক্ত তরুণাস্থি এক ধরণের শিকারী সামুদ্রিক মাছ।

  • তেলাপিয়া মাছ মুখে ডিম রেখে বাচ্চা ফুটায়।

  • ক্যাটল ফিসের তিনটি হৃদপিন্ড থাকে।

  • পিরানহা রাক্ষুসে মাছ। পিরানহার চোয়াল ছোট হলেও ত্রিভূজাকৃতির ক্ষুরের মত দুই পাটি দাঁত থাকে যা দ্বারা শিকারকে সহজেই মেরে ফেলতে পারে।

  • লাংফিস অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় পাওয়া যায়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উভচর প্রাণী (Amphibia)

ব্যাঙ উভচর শ্রেণিভূক্ত প্রাণী। এরা জীবনের কিছু সময় ডাঙায় ও কিছু সময় পানিতে বাস করে। ব্যাঙাচি ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। ব্যাঙাচির ফুলকা ৩ জোড়া। পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। ব্যাঙের হৃদপিন্ড ৩টি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (উপরে ডান ও বাম অলিন্দ বলে এবং নিচে নিলয়। ব্যাঙ শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী। শরীরের তাপামাত্রা পরিবেশের সাথে উঠানামা করে, বলে। এজন্য ব্যাঙ (শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীরা) শীতকালে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন করে। একে শীতনিদ্রা (Hibernation) বলে। শীতনিদ্রায় যাওয়া প্রাণীর বিপাক, শ্বসন এবং রক্ত সঞ্চালন অত্রন্ত নিম্ন পর্যায়ে থাকে। এ সময় এরা খাদ্য গ্রহণ না করে প্রয়োজনীয় শক্তি দেহে সঞ্চিত স্নেহ জাতীয় পদার্থ থেকে পেয়ে থাকে। যে প্রাণীর শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের সাথে উঠানামা করে না, তাদের উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী বলে। যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল ইত্যাদি।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সরীসৃপ প্রাণী (Reptilia)

সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি রেপটিলিয়া (সরীসৃপ) শ্রেণির প্রাণী। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।

সাপ: সাপ জিহবার সাহায্যে শোনে। সাপের কান নেই।

কচ্ছপ: কচ্ছপ দীর্ঘজীবী প্রাণী। কচ্ছপ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

গিরগিটি: গিরগিটি গায়ের রঙ পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে।

ঘড়িয়াল: ঘড়িয়াল বিরল প্রজাতির মিঠাজলের কুমির বর্গের সরীসৃপ। বাংলাদেশে পদ্মা, যমুনা ও ব্রক্ষ্মপুত্রে এবং সেগুলোর শাখাপ্রশাখায় এক সময় প্রচুর ঘড়িয়াল দেখা যেত।

ডায়নোসর: ডায়নোসর ছিল মেসোজোয়িক (Mesozoic) মহাযুগের প্রাণী। কোনো কোনো বিজ্ঞানীর ধারণা, ডাইনোসর যখন পৃথিবীতে ছিল তখন পৃথিবী অনেক গরম ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পৃথিবী অনেক ঠান্ডা হয়ে যায়। ঠান্ডা সইতে না পেরে তারা সবাই মারা যায়। আবার কারো কারো মতে, যখন পৃথিবীতে অন্য প্রাণীর আবির্ভাব ঘটে, তখন তারা খাদ্য হিসেবে ডাইনোসরের ডিম খাওয়া শুরু করে। ডাইনোসর তাদের ডিম সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়। ফলে আজ থেকে ৬.৫ কোটি বছর পূর্বে তাদের বিলুপ্তি ঘটে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পাখি (Aves)

পাখি ভার্টিব্রাটার উপপর্ব এভিস শ্রেণির প্রাণী। দেহ পালক দ্বারা আবৃত। যেমন-বাজপাখি (hawk/Falcon), ঈগল (Eagle), অ্যালবাট্রস (Albatross), শকুন (Vulture), হাঁস, মুরগি, কবুতর।

  • সবচেয়ে দ্রুততম পাখি পেরেগ্রিন শাহিন ।
  • সবচেয়ে ছোট পাখি হামিং বার্ড।
  • সবচেয়ে বড় পাখি উটপাখি।
  • সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক পাখি আলবাট্রস। এরা সাধারণ পাখির তুলনায় আকারে অনেকটা বড় হয়। এদের দুই ডানার মাঝের বিস্তার ৩ মিটার এর বেশি হতে পারে যা এদের দৈহিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক বেশি।
  • গাঙচিল আকাশে দীর্ঘক্ষণ উড়তে পারে এবং এরা পাখিদের মধ্যে দীর্ঘতম পথ পাড়ি দিতে পারে।
  • কিউই (Kiwi), পেঙ্গুইন (Penguin), উটপাখি (Ostrich), এমু (Emus) প্রভৃতি পাখি উড়তে পারে না। উটপাখি ভূচর পাখিদের মধ্যে দ্রুততম।
  • পেঙ্গুইন পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুবলয়ের আশেপাশে বাস করে। পেঙ্গুইন পানিতে খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে বিধায় দারুণভাবে শিকার করতে পারে।
  • কিউই নিউজিল্যান্ডে পাওয়া যায়।
  • কাঠঠোকরা পাখির জীব কন্টকময়।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

স্তন্যপায়ী প্রাণী (Mammalia)

স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহ লোম দ্বারা আবৃত। স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। যেমন- তিমি (Whale), বাদুড় (Bat), শুশুক (Dolphin), গরু, হাতী, মানুষ, কুকুর, বানর, গরিলা, শিম্পাঞ্জী, ঘোড়া, জিরাফ, ইঁদুর প্রভৃতি স্তন্যপায়ী প্রাণী।

  • প্লাটিপাস স্তন্যপায়ী জীব হলেও ডিম দেয়।
  • সবচেয়ে বড় প্রাণী নীলতিমি।
  • সবচেয়ে বড় স্থলজ প্রাণী আফ্রিকান হাতি।
  • পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা প্রাণী জিরাফ। এর উচ্চতা প্রায় ১৮ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। জিরাফ যে শব্দ উৎপন্ন করে তার কম্পাঙ্ক ২০ হার্জের নিচে। ফলে তা মানুষ শ্রুতিগোচর হয় না। এদের ‘আফ্রিকার বোবা প্রাণী’ বলা হয়।
  • ঘোড়া দাঁড়িয়ে ঘুমায়।
  • ক্যাঙ্গারু র‌্যাট এক ধরণের ইঁদুর। এরা জীবনেও একবারও পানি পান করে না। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম মরু অঞ্চলে এদের দেখা যায়।
  • বানরের দুটি পা ও দুটি হাত আছে।
  • পূর্ণ বয়স্ক কুকুরের মুখের দাঁতের সংখ্য ৪২।
  • গরুর গড় আয়ু ১৮-২২ বছর।
  • শুশুক, তিমি প্রভৃতি মাছ নয়। মাছের মতো এদের ফুলকা থাকে না। এরা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। জলজ জীব হলেও এরা বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পেস্ট (Paste)

ক্ষতিকারক পতঙ্গকে পেস্ট বলে। যেমন- ধান ও হলুদের মাজরা পোকা ও পামরী পোকা, পাটের বিছাপোকা ও চেলে পোকা, আখের ডগার মাজরা পোকা প্রভৃতি। পামরী পোকা (শুককীট ও পূর্ণাঙ্গ পোকা) ধানপাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এতে পাতা শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের অভাবে ধানের ফলন কমে যায়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

আমাদের অন্ত্রে প্রধানত দুই পর্বের প্রাণীরা বসবাস করতে পরে। পর্ব দুইটি হল- প্লাটিহেলমিন্থেস ও নেমাটোডা
-
-
Please, contribute by adding content to কীটপতঙ্গ ও তাদের বৈশিষ্ট্য (Insects & Their Characteristics).
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Please, contribute by adding content to মানবদেহের বিভিন্ন তন্ত্র (Human Organ Systems).
Content

মানব দেহ কোটি কোটি কোষ, টিস্যু এবং অঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত একটি অত্যন্ত জটিল ও সুসংগঠিত জৈবিক কাঠামো । এটি মূলত মাথা, ঘাড়, ধড় (বক্ষ ও পেট), বাহু এবং পা নিয়ে গঠিত, যা ১০টি প্রধান তন্ত্রের (যেমন: কঙ্কাল, পেশী, স্নায়ু, সংবহন, পরিপাক, শ্বসন) মাধ্যমে সামগ্রিক কাজ সম্পন্ন করে । মানবদেহের প্রায় ৬০-৭০% হলো পানি।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রক্ত সংবহনতন্ত্র (Blood Circulatory System)

যে প্রক্রিয়ায় প্রাণিদেহে রক্ত পরিবহনের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে সংবহন প্রক্রিয়া বলে। রক্ত, হৃৎপিন্ড, ধমনি, শিরা এবং লসিকা ও লসিকাবাহী নালির সমন্বয়ে মানব দেহের সংবহনতন্ত্র গঠিত। যে তন্ত্রের মাধ্যমে দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে। হৃৎপিণ্ড, রক্ত ও রক্তবাহী নালির সমন্বয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রক্ত (Blood)

রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। রক্তের উপাদান দুইটি। যথা- রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)। রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে। রক্তে ৩ ধরনের কণিকা রয়েছে। যথা- লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অনুচক্রিকা। মানুষের শরীরের ওজনের ৭% রক্ত থাকে। পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে রক্তের পরিমাণ ৫-৬ লিটার। রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর PH ৭.৩৫-৭.৪৫।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রক্তের কাজ

রক্তরসের কাজ + রক্তকণিকার কাজ = রক্তের কাজ

ক) রক্তকণিকার কাজ

লোহিত রক্ত কণিকা (Erythrocyte or Red Blood Cell) : লোহিত রক্তকণিকা অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং বয়ঃপ্রাপ্ত হলে প্লীহায় সঞ্চিত হয় ও এক পর্যায়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। লোহিত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন (৪ মাস)। হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্ঝক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রঙ লাল হয়। মানুষের রক্তের লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন থাকে। কেঁচোর রক্তরসে হিমোগ্লোবিন থাকে। আরশোলার রক্ত সাদা বা বর্ণহীন। হিমোগ্লোবিন এর কাজ-

ক) প্রধানত অক্সিজেন এবং সামান্য পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে। খ) বাফার হিসাবে কাজ করে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে রক্তশূন্যতা (Anaemia) বলে। ভিটামিন বি১২ এবং ফোলিক এসিড লোহিত কণিকার পূর্ণতা প্রাপ্তিতে সহায়তা করে। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে প্রয়োজন হয় আমিষ এবং লৌহ। ভিটামিন বি১২ ফোলিক এসিড, আমিষ এবং লৌহ স্বল্পতা হলে রক্তশূন্যতা হয়।

শ্বেত কণিকা (White Blood Cell): শ্বেত কণিকা দুই প্রকার। যথা- দানাদার (নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল, বেসোফিল) এবং অদানাদার (লিস্ফোসাইট, মনোসাইট)। শ্বেত কণিকার গড় আয়ুষ্কাল কয়েক ঘন্ট থেকে কয়েক দিন। মানুষের শরীরে শ্বেতকণিকা এবং লোহিত কণিকার অনুপাত ১:৭০০। নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। ব্লাড ক্যান্সারে (Leukemia) রক্তের শ্বেত কণিকা অস্বভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এইডস রোগে রক্তের শ্বেত কণিকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

অনুচক্রিকা (Platelets): দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর: (Easy Tec: ফুল পড়ে টুপ করে)

ক) ফিব্রিনোজেন - ফুল

খ) প্রোথ্রোম্বিন - পড়ে

গ) টিস্যু থ্রোম্বোপ্লাস্টিন - টুপ

ঘ) ক্যালসিয়াম আয়ন - করে

রক্তে হেপারিন থাকায় দেহের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে না। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর তৈরিতে সাহায্য করে।

খ) রক্তরসের কাজ

ক. ক্ষুদ্রান্ত হতে খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড) রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কলায় পৌছে।

খ. কলা হতে উৎপন্ন CO2 রক্তরসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌছায়।

গ. কলা হতে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) রেচনের জন্য বৃক্কে নিয়ে যায়।

ঘ. রক্তরসের বাইকার্বনেট, ফসফটে বাফার অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।

ঙ. অন্তক্ষরা গ্রন্থি হতে উৎপন্ন হরমোন রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে পৌছায়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রক্তের গ্রুপ (Blood group)

মানুষের রক্তের গ্রুপ ৪টি। যথা- A, B, AB, O। O গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা (Universal Donar)। O গ্রুপের রক্ত যে কোন ব্যক্তির শরীরে দেওয়া যায়। অর্থাৎ ০ গ্রুপের রক্ত O, A, B, AB যে কোন গ্রুপধারী ব্যক্তি গ্রহণ করতে পারে এবং AB গ্রুপকে সার্বজনীন গ্রহীতা (Universal Receiver) বলে। AB গ্রুপধারী ব্যক্তি যে কোনো গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে। ব্লাড গ্রুপ কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার আবিষ্কার করেন।

Rh ফ্যাক্টর: লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে রেসাস বানরের লোহিত কণিকার ঝিলির মত একটি এন্টিজেন থাকে। ঐ অ্যান্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর বলে। Rh ফ্যাক্টর বিশিষ্ট রক্তকে Rh +ve রক্ত এবং Rh বিহীন রক্তকে Rh -ve রক্ত বলে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

হৃদপিণ্ড (Heart)

মানুষসহ অধিকাংশ প্রাণির একটি হৃদপিণ্ড থাকে কিন্তু ক্যাটল ফিসের তিনটি হৃৎপিণ্ড থাকে। হৃদপিণ্ড দ্বিস্তরবিশিষ্ট পাতলা পর্দা দ্বারা ঢাকা থাকে, একে পেরিকার্ডিয়াম বলে। হৃদপিণ্ড ৩ স্তর বিশিষ্ট পেশি দ্বারা গঠিত। যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম এবং এন্ডোকার্ডিয়াম। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের হৃদপিণ্ডের ওজন ৩০০ গ্রাম। মানুষের হৃদপিণ্ড ৪টি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট [উপরে ডান ও বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচে ডান ও বাম নিলয় (Ventricle)]। ব্যাঙের হৃদপিণ্ড ৩টি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (উপরে ডান ও বাম অলিন্দ বলে এবং নিচে নিলয়)। হৃত্পিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে সিস্টোল বলে। সিস্টোলিক চাপ বলতে হৃদপিণ্ডের সংকোচন চাপকে বুঝায় এবং হৃদপিণ্ডের প্রসারণ চাপকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে। হার্ট সাউন্ড চার ধরনের।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রক্তবাহিকা তিন প্রকার। যথা: ধমনী, শিরা, কৈশিক জালিকা। ধমনী অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড হতে দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে। শিরা কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃদপিণ্ডে পরিবহন করে। ধমনীর ভিতর দিয়ে নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয়। ডাক্তার রোগীর নাড়ী দেখার সময় প্রকৃতপক্ষে ধমনীর স্পন্দন দেখেন। একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির গড় নাড়ীর স্পন্দন (Pulse rate) ৭২/ মিনিট।

প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে, তাকে রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ দুই প্রকার।

যথা-

ক) সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)

খ) ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)

চিত্র: রক্তচাপ
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

হৃদরোগ (Cardiac Diseases)

করোনারী ধমনী হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ করে। করোনারী ধমনীতে চর্বি জমাট বেধে গেলে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হৃদপিণ্ডের কিছু টিস্যু মরে যায়। এ ঘটনাকে হার্ট এটাক (Myocardial Infarction) বলে। হৃদরোগ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন: ধূমপান, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শারীরিক পরিশ্রম না করা ইত্যাদি।

হৃদরোগের পরীক্ষা

(a) Coronary Angiography

(b) Echo Cardiography: Cardiograph হলো হৃদপিণ্ডের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে হৃদপিণ্ডের গতি পরীক্ষা করার পদ্ধতিকে Echo Cardiography বলে।

(c) E.T.T (Exercise Tolerance Test): হৃদপিণ্ডের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা হয়।

হৃদরোগের চিকিৎসা

(a) Coronary angioplasty: যা হল হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো পদ্ধতির নাম হল করোনারী এনজিওপ্লাস্টি।

(b) Coronary bypass: এ পদ্ধতিতে করোনারী ধমনীর সরু অংশে ইনটারনাল ম্যামারী ধমনী বা সেপনাস শিরার দ্বারা bypass পথ তৈরি করা হয় যাতে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

লসিকা (Lymph)

লসিকা এক ধরনের ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা বাহিকার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং দেহের প্রতিটি কোষকে সিক্ত রাখে। এটি ঈষৎ ক্ষারীয় এবং এর আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০১৫১। এতে লোহিত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু প্রচুর পরিমাণে শ্বেতকণিকা বিদ্যমান। লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। লসিকা নালীর মাধ্যমে লসিকা রক্ততন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Please, contribute by adding content to রক্তচাপ ও রক্তস্বল্পতা (Blood Pressure & Anemia).
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

শ্বসনতন্ত্র (Respiratory System)

শ্বসন (Respiration)

যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ খাদ্যবস্তু (শর্করা) অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ স্থিতি শক্তি গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং উপজাত হিসাবে পানি ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয় তাকে শ্বসন বলে।

 

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

শ্বসন (Respiration)

যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ খাদ্যবস্তু (শর্করা) অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ স্থিতি শক্তি গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং উপজাত হিসাবে পানি ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয় তাকে শ্বসন বলে।

 

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

শ্বসনের প্রকারভেদ

শ্বসন দুই প্রকার। যথা- (ক) সবাত শ্বসন ও (খ) অবাত শ্বসন। যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের অংশগ্রহণ অপরিহার্য, তাকে সবাত শ্বসন বলে। সবাত শ্বসনে ১ অণু গ্লুকোজ হতে শক্তি এবং ৬ অণু পানি পাওয়া যায়। কতিপয় ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ছাড়া মানুষসহ সকল জীবে সবাত শ্বসন হয়। মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস শ্বসন। মানবকোষের অভ্যন্তরে মাইটোকন্ড্রিয়ায় শ্বসন হয়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শ্বসন অঙ্গানু বলা হয়। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে শ্বসন হয় তাকে অবাত শ্বসন বলা হয়। মানুষ ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাসকার্য সম্পন্ন হয়। ফুসফুসে বায়ুর প্রবেশকে প্রশ্বাস এবং ফুসফুসে বায়ু ত্যাগকে নিঃশ্বাস বলা হয়। মানুষ প্রশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ করে এং নিঃশ্বাসের সাথে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ২৫% এর বেশি হলে কোনো প্রাণি বাঁচতে পারে না।

 

শ্বসনতন্ত্রের অংশ

১) নাসা গহবর (Nsal Cavity)

২) গলবিল (Pharynx)

৩) স্বরযন্ত্র (Larynx)

৪) ট্রাকিয়া (Trachea)

৫) ব্রঙ্কাস (Bronchus)

৬) ফুসফুস (Lungs)

 

ফুসফুস: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার। স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি ২০ মিনিটে ১০০০ ঘনফুট নির্মল বায়ু প্রয়োজন হয়। মানুষের ডান ফুসফুসে ১০টি এবং বাম ফুসফুসে ১০টি ব্রঙ্কোপালমোনারি সেগমেন্ট থাকে। ফুসফুস হৃদপিন্ড দ্বিস্তরবিশিষ্ট পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে, একে প্লিউরা বলে।

 

রোগ

ফুসফুসের প্রদাহকে নিউমোনিয়া বলে।

 

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

 

শ্বসনতন্ত্রের অংশ

১) নাসা গহবর (Nsal Cavity)

২) গলবিল (Pharynx)

৩) স্বরযন্ত্র (Larynx)

৪) ট্রাকিয়া (Trachea)

৫) ব্রঙ্কাস (Bronchus)

৬) ফুসফুস (Lungs)

 

ফুসফুস: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার। স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি ২০ মিনিটে ১০০০ ঘনফুট নির্মল বায়ু প্রয়োজন হয়। মানুষের ডান ফুসফুসে ১০টি এবং বাম ফুসফুসে ১০টি ব্রঙ্কোপালমোনারি সেগমেন্ট থাকে। ফুসফুস হৃদপিন্ড দ্বিস্তরবিশিষ্ট পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে, একে প্লিউরা বলে।

 

রোগ

ফুসফুসের প্রদাহকে নিউমোনিয়া বলে।

 

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System)

স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) হলো প্রাণীদের দেহের একটি জটিল ও সমন্বিত ব্যবস্থা, যা মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড এবং স্নায়ুর সমন্বয়ে গঠিত । এটি বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে শরীরের ভেতরের ও বাইরের উদ্দীপনা গ্রহণ, বিশ্লেষণ এবং প্রতিক্রিয়া (যেমন- নড়াচড়া, অনুভূতি) নিয়ন্ত্রণ করে । এর মূল গঠনমূলক একক হলো স্নায়ুকোষ বা নিউরন ।

Content added By
Content updated By

নিউরন (Neuron)

স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে। মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ হল স্নায়ুকোষ। মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) নিউরন থাকে। নিউরন সমন্বিত যে তন্ত্রের সাহায্যে দেহ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দিপনায় সাড়া দিয়ে বিভিন্ন দৈহিক ও শারীরবৃত্তিক কাজের সামঞ্জস্য রক্ষা করে দেহকে পরিচালিত করে, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মস্তিষ্ক (Brain)

স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হল মস্তিষ্ক। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের গড় ওজন ১.৩৬ কেজি। মস্তিষ্কের আবরণীর নাম মেনিনমেস। মস্তিষ্কের সেরিব্রাম (সেরিব্রাল কর্টেক্স) মানুষের চিন্তাশক্তি, শীত-গ্রীষ্ম, লজ্জা-ক্রোধ প্রভৃতি অনুভূতিবোধ নিয়ন্ত্রণ করে। হাইপোথ্যালামাস মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ২৪ বছরে মানুষের বুদ্ধির বিকাশ সম্পন্ন হয়। স্নায়ু কোষের এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে। স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যার একটি বিস্তৃত রূপ হলো অটিজম। নিদ্রাহীনতাকে ইনসমনিয়া বলে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

হৃদপিন্ডের সংকোচন বা বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাওয়া
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও রক্ত চলাচলে বাধা
ফুসফস হটাত বিকল হয়ে যাওয়া
হৃদপিন্ডের কিছু অংশ বিকল হয়ে যাওয়া

সুষুম্নাকান্ড (Spinal Cord)

সুষুম্নাকাণ্ডের ওজন ৩০ গ্রাম। মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য ছেলেদের ৪৫ সেমি. বা ১৭.৭২ ইঞ্চি এবং মেয়েদের ৪৩ সেমি. বা ১৬.৯৩ ইঞ্চি। মানুষের সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া। মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

স্নায়ু (Nurve)

স্নায়ু (Nerve) হলো শরীরের সুতার মতো দীর্ঘ তন্তু বা অ্যাক্সনের বান্ডিল, যা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড (কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র) থেকে সংকেত শরীরের বাকি অংশে এবং উল্টোভাবে বহন করে । এগুলি বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে অনুভূতি, পেশি সঞ্চালন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করে । নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের মৌলিক কার্যকরী একক ।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

স্নায়ুতন্ত্রের রোগ

ক) স্ট্রোক (Stroke) : স্ট্রোক মস্তিষ্কের একটি রোগ। স্ট্রোকের কারণ দুইটি। যথা- মস্তিষ্কের ধমনী ছিড়ে রক্তপাত হওয়া অথবা মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহজনিত বাঁধা। এতে রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্থ (Paralysis) এবং অজ্ঞান হয়ে যায়। এমনকি এতে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

পারকিনসন রোগ (Parkinson’s disease)

পারকিনসন রোগ হলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের এক প্রকার দীর্ঘমেযাদী অধঃপতনজনিত রোগ। এর ফলে রোগীর নড়াচড়ার ক্ষমতা শ্লথ হয়ে যায় (Bradykinesia), পেশিসমূহ অনড় (Regid) ও দুর্বল হয় এবং বিশ্রামরত অবস্থায়ও হাত-পা কাঁপতে (Tremor) থাকে। এই রোগের কারণ অজ্ঞাত। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কের কৃষ্ণ অংশের (Substantia Nigra) ডোপামিন নিঃসারী স্নায়ু ব্যবস্থা রঞ্জকের পরিমাণ কসে যায়, বর্ণহীন বস্তু (Hyaline bodies) জমা হয় এবং ঐ অংশের স্নায়ুসমূহ বিনষ্ট হয়ে যায়।

গ) অটিজম

স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যার একটি বিস্তৃত রূপ হলো অটিজম।

ঘ) ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পৌষ্টিকতন্ত্র (Digestive System)

মানুষের পৌষ্টিকনালী মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত ৮-১০ মিটার লম্বা। ক্ষুদ্রান্ত্র (Small intestine) এর দৈর্ঘ্য ৬-৭ মিটার। বৃহদ্রান্ত্র (Large intestine) এর দৈর্ঘ্য ২ মিটার।

দাঁত (Teeth)

মানুষের দুধের দাঁতের সংখ্যা ২০। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দাঁতের সংখ্যা ৩২টি। কুকুরের মুখের দাঁতের সংখ্যা ৪৪। দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম এনামেল।

উৎসেচক (Enzyme)

এনজাইম আমিষ জাতীয় পদার্থ। এক ধরনের প্রোটিন যা জীবদেহে অল্প পরিমাণ বিদ্যমান থেকে বিক্রিয়ার হারকে ত্বরান্বিত করে, কিন্তু বিক্রিয়ার পর নিজেরা অপরিবর্তিত থাকে। মানুষের লালারসে টায়ালিন নামক এনজাইম থাকে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মুখবিবর (Mouth Cavity)

মুখবিবর বা মুখগহ্বর (Mouth Cavity/Oral Cavity) হলো মানুষের পরিপাকনালীর প্রথম অংশ, যা ঠোঁট থেকে শুরু করে গলার ওরোফ্যারিনক্স পর্যন্ত বিস্তৃত । এটি যান্ত্রিক (চিবানো) ও রাসায়নিক (লালা) পরিপাক শুরু করে, কথা বলা, স্বাদ গ্রহণ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করে । এর প্রধান উপাদানগুলো হলো দাঁত, জিহ্বা, তালু (শক্ত ও কোমল) এবং লালা গ্রন্থি ।

দাঁত, জিহ্বা, তালু প্রভৃতি মুখবিবরে থাকে। মানুষের দুধের দাঁতের সংখ্যা ২০। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দাঁতের সংখ্যা ৩২টি। দাঁতের এনামেল দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশ।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পাকস্থলী (Stomach)

পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত রসের পাচক রস। পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকে, যা খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়। প্যারাইটাল কোষ থেকে HCL নিঃসৃত হয়। পেপটিক আলসার হলো মানবদেহের পাচনতন্ত্রের অম্ল পরিবেশযুক্ত (অর্থাৎ পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্তের ডিওডেনাম) অংশের ক্ষতজনিত একটি রোগ। পেপটিক আলসার রোগ নির্ণয়ে এন্ডোসকপি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। জারক রস রেনিন পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়। প্রোটিন পরিপাক শুরু হয় পাকস্থলিতে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বৃহদান্ত্র (Large intestine)

বৃহদান্ত্র এর দৈর্ঘ্য ২ মিটার। বৃহদান্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- সিকাম, কোলন এবং মলাশয়। সিকাম থেকে বহির্বৃদ্ধি রূপে উত্থিত, বদ্ধভাবে সমাপ্ত কনিষ্ঠ আঙ্গুলের ন্যায় সরু থলের নাম অ্যাপেনডিক্স (Appendix)। অ্যাপেনডিক্স থাকে তলপেটে ডানদিকে। লম্বায় এটি ২-২০ সেমি. পর্যন্ত হতে পারে। অ্যপেনডিক্সের প্রদাহকে অ্যাপেনডিসাইটস (Appendicitis) বলে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

যকৃত (Liver)

যকৃৎ বা লিভার (Liver) মেরুদণ্ডী ও অন্যান্য কিছু প্রাণীদেহে অবস্থিত একটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ। মানবদেহে মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। এর রং লালচে খয়েরি। একে চলতি বাংলায় কলিজা বলে সচরাচর উল্লেখ করা হয়। যকৃৎ দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি। এর ওজন দেহের মোট ওজনের (৩-৫%)। এটি ২টি খণ্ডে বিভক্ত: ডান এবং বাম। প্রাণীদেহে বিপাক ও অন্যান্য কিছু শারীরবৃত্তীয় কাজে যকৃত প্রধান ভূমিকা পালন করে। গ্লাইকোজেনের সঞ্চয়, প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষণ, ওষুধ বা অন্যান্য রাসায়নিক নির্বিষকরণে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ভেড়ার যকৃৎ: (১) ডান লোব, (২) বাম লোব, (৩) কডেট লোব, (৪) কোয়াড্রেট লোব, (৫) পোর্টাল শিরা এবং হেপাটিক ধমনী, (৬) হেপাটিক লিম্ফ নোড, (৭) পিত্তাশয়।
মানব শরীরে যকৃতের অবস্থান (লাল)

মানুষের শরীরের সর্ববৃহৎগ্রন্থি হল যকৃত (Liver)। যকৃতের প্রদাহকে হেপাটাইটিস (Hepatitis) বলে। যকৃতের প্রদাহের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস ভাইরাস। এই ভাইরাস পাঁচ ধরণের। যথা- Hepatitis A,B,C,D,E ।

ভাইরাসের নাম

ধরন

সংক্রমণের মাধ্যম

যকৃতের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি

Hepatitis ARNAদূষিত খাবার, পানিx
Hepatitis BDNAযৌন, রক্ত
Hepatitis CRNAযৌন, রক্ত
Hepatitis Dযৌন, রক্ত
Hepatitis Eদূষিত খাবার, পানিx

রক্তের লোহিত কণিকা যকৃতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয়। যকৃতে বিলিরুবিনের কনজুগেশন হয়। যকৃতে প্রদাহ হলে বিলিরুনের কনজুগেশন বাধাগ্রস্থ হয়। ফলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। একে জন্ডিস বলে। জন্ডিস কোনো রোগ নয় এটি রোগের উপসর্গ মাত্র। রক্তে বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ০.২-০.৮ মি.গ্রা./ডেসিলিটার। পিত্তের বর্ণের জন্য দায়ী বিলিরুবিন। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস থাকলে নবজাতকের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়-

ক) Hepatitis B Immunoglobulin – HBIG (১ ডোজ): জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে

খ) Hepatitis B ভ্যাকসিন (৩টি ডোজ): জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে, ১ মাস এবং ৬ মাস বয়সে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পুষ্টি ও পরিপাক (Nutrition & Digestive)

অধিকাংশ খাদ্যবস্তু বৃহৎ অণু হিসেবে গৃহীত হয়। এসব বৃহত্তর ও জটিল খাদ্যাণু পরিপাকতন্ত্রের উৎসেচক বা এনজাইম (এক ধরণের আমিষ জাতীয় পদার্থ) এর সহায়তায় দ্রবণীয়, ক্ষুদ্রতর, সরল ক্ষুদ্রাণুতে পরিণত হয়ে দেহে শোষিত ও আত্তীকরণের উপযোগী হয়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ডায়রিয়া (Diarrhoea)

বন্যার পর ডায়রিয়া অসুখের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ডয়রিয়ার মূল সমস্যা হল ঘন ঘন পাতলা পায়খানার কারনে অতি অল্প সময়ে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবন বেরিয়ে যায়। বিশেষ করে সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ঘাটতি জীবনের জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়। খাবার স্যালাইন (ORal Saline ORS) শরীরে পানি ও লবনের ঘাটতি পূরণ করে। ওর স্যালাইন হলো মুখে গ্রহনযোগ্য লবন ও গ্লোকোজ মিশ্রিত পানি। এতে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাসিয়াম ক্লোরাইড প্রভৃতি লবণ থাকে। আধা লিটার পানিতে এক প্যাকেট ওর স্যালাইন মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করা হয়। এবং এই দ্রবণ ফ্রিজে না রাখলেও প্রায় ১২ ঘন্টা নিরাপদ থাকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সোডিয়াম ক্লোরাইডের ০.৯% জলীয় দ্রবণকে নরমাল স্যালাইন (Normal Saline) বলে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

হরমোন (Hormone)

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিঃসৃত যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে দেহের দূরবর্তী স্থানে পৌছে নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী সম্পন্ন করে এবং ক্রিয়া শেষে নিজে নিঃশেষ হয়ে যায়, তাকে হরমোন বলে। হরমোন (প্রাণরস) মানবদেহে রাসায়নিক দূত হিসেবে কাজ করে। এদের রাসায়নিক প্রকৃতি স্টেরয়েড, প্রোটিন বা ফেনলধর্মী।

হরমোন

উৎস

কাজ

গ্রোথ হরমোনপিটুইটারীবায়োটেকনোলজীর মাধ্যমে এই হরমোন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
থাইরোক্যালসিটোনিন রক্তে ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণ করে।
ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনডিম্বাশয়মহিলাদের রজঃচক্র নিয়ন্ত্রণ করে।
টেসটোস্টেরনশুক্রাশয়দাড়িগোফ গজায়।
গ্লুকাগনঅগ্ন্যাশয়ের অভ্যন্তরের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সযকৃতের গ্লাইকোজেনকে ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
ইনসুলিন১৯২২ সালে জার্মানিতে ইনসুলিন আবিষ্কৃত হয়। ইনসুলিন এক ধরনের অ্যামাইনো এসিড। অতিরিক্ত শর্করা দেহে গ্লাইকোজেন রূপে জমা থাকে। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে পরিণত করে যকৃতে জমা রাখে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস পায়। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে।
অ্যাডরিনালিনঅ্যাডরেনালভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয় হরমোনের জন্য। ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয় হরমোনের জন্য। একে আপদকালীন বা সংকটকালীন হরমোন বলা হয়।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বহুমূত্র (Diabetes)

ইনসুলিন হরমোনের অভাব জনিত রোগ ডায়াবেটিস। অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি না হয় (ইনসুলিন এর অভাব হয়) তখন রক্তে শর্করার (গ্লুকোজের) পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত শর্করা বা গ্লুকোজ প্রস্রাবের সঙ্গে নির্গত হওয়ার দরুণ যে রোগ হয় তাকে বহুমূত্র (Diabetes) বলে। ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়। ঘন ঘন প্রসাব হওয়া এ রোগের লক্ষণগুলোর একটি। বহুমূত্র রোগ মানবদেহের কিডনি বিনষ্ট করে। এ রোগের চিকিৎসায় ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস রোগ হয়- কথাটি সত্য নয়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

গ্রন্হি (Gland)

গঠনগত ও কার্যগতভাবে বিশেষিত যে কোষ বা কোষগুচ্ছ দেহের বিভিন্ন জৈবনিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে, তাকে গ্রন্থি বলে। গ্রন্থি এক ধরনের রূপান্তরিত আবরণী কলা বা টিস্যু। গ্রন্থি দুই প্রকার। যথা- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এবং বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যেমন- পিটুইটারি, থাইরয়েড, থাইমাস, অ্যাড্রেনাল, শুক্রাশয়, ডিম্বাশয় ইত্যাদি। পিটুইটারী গ্রন্থিকে প্রভু গ্রন্থি বা গ্রন্থিরাজ বলা হয়। কারণ পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা বেশি এবং অন্যান্য গ্রন্থির উপর এর প্রভাব বেশি।

বহিঃক্ষরা গ্রন্থি যেমন-সিবেসিয়াস, সেরুমিনাস, স্তনগ্রন্থি, লালাগ্রন্থি, অশ্রুগ্রন্থি, যকৃত, অগ্ন্যাশয় ইত্যাদি। মানুষের শরীরের সর্ববৃহৎ গ্রন্থির হল যকৃত (Liver)। চোখের পানির উৎস ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Please, contribute by adding content to অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ও হরমোন (Endocrine Glands & Hormones).
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

নির্দিষ্ট কোষের ইনসুলিন প্রতিরোধিতা
বিটা কোষগুলির অটো-ইমিউন ধ্বংসের কারণে অগ্ন্যাশয় অপর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে
অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ দ্বারা গ্লুকাগনের অতিরিক্ত উৎপাদন
প্রো-ইনসুলিন থেকে ইনসুলিনে রূপান্তরে ত্রুটি

রেচনতন্ত্র (Excretory System)

যে শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণিকোষে বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন) দেহ থেকে দ্রুত ও নিয়মিত নিষ্কাশিত হয়, তাকে রেচন বলে। বৃক্ক (Kidney), ইউরেটার (Ureter), মুত্রথলি (Bladder), মুত্রনালী (Urethra) নিয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত। মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক বা কিডনি। বৃক্কে মুত্র তৈরি হয়। পূর্ণবয়স্ক মানুষের কিডনির ওজন ১৫০ গ্রাম। বৃক্কের কার্যকরী একক বলা হয় নেফ্রন। একজন স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন ১৫০০ মিলি. মূত্র ত্যাগ করে।

মানব রেচনতন্ত্র
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

প্রজননতন্ত্র (Reproductive System)

প্রজননতন্ত্র (Reproductive System) হলো মানবদেহের একটি জৈবিক অঙ্গসংস্থানিক সিস্টেম যা যৌন প্রজনন, বংশবৃদ্ধি এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টিতে সরাসরি কাজ করে । এটি নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন (স্ত্রী ও পুরুষ প্রজননতন্ত্র) এবং উভয়েরই অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গ, হরমোন ও তরল পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত ।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

নিষেক (Fertilization)

পুরুষ ও স্ত্রী জননকোষ একীভবনের পর এগুলোর নিউক্লিয়াসের পরস্পর মিলনকে নিষেক বলে। নিষেকের পর ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে সংস্থাপিত হয়, তাকে ইমপ্লেনটেশন বল।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পুরুষ্যত্বহীনতা (Erectile dysfjunction)

পুরুষত্বহীনতা হলো একজন পুরুষের যৌন মিলন করতে তার পুরুষাঙ্গের উত্থান রাখতে অসমর্থতা। পুরুষত্বহীনতার চিকিৎসায় একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ঔষধ’ ভায়াগ্রাম। এর মূল উপাদান সিলডেনাফিল সাইট্রেট। ভায়াগ্রায় রয়েছে এক বিশেষ রাসায়নিক উপাদান যা পুরুষাঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এর ফলে পুরুষত্বহীন রোগী যৌন উত্তেজনা অনুভব করে এবং তাদের পুরুষাঙ্গ উত্থিত হয়। পুরুষত্বহীনতায় ঔষধটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হলেও এর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। হার্ট ফেইলর, হার্ট অ্যাটাক, উচ্ছ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই ঔষধটি ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ।

Content added By
Content updated By

টেস্ট টিউব শিশু (Test Tube Baby)

যে সকল দম্পতি কোন কারনে সন্তান জন্ম দিতে পারে না, সেই দম্পতির স্ত্রীর ডিম্বাণু শরীর থেকে বের করে এনে স্বামীর শুক্রাণুর সাথে টেস্ট টিউবের মধ্যে রেখে নিষিক্ত করে ২/৩ দিন পর নিষিক্ত ডিম্বাণু ও শুক্রাণু স্ত্রীর জরায়ুতে স্থান করা হলে যে ‍শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাকে টেস্টটিউব বেবি বলে। বিশ্বের প্রথম টেস্ট টিউব বেবি লুইস ব্রাউন ইংল্যান্ডের ওল্ডহেম শহরের কারশো নামক হাসপাতালে ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই জন্মগ্রহন করে। টেস্ট টিউব বেবি’ পদ্ধতির জনা রবার্ট এডওয়ার্ডস। বাংলাদেশে প্রথম টেস্ট টিউব শিশু জন্ম হয় ৩০মে, ২০০১ রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে।বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী প্রথম টেস্ট টিউব শিশু তিনটির নাম হিরা, মনি ও মুক্তা। টেস্ট টিউব শিশুত্রয়ের পিতা মাতা মো. আবু হানিফ ও ফিরোজা বেগম। টেস্ট টিউবের শিশুত্রয়ের জন্মদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ডা. পারভন ফাতেমা।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

হিমায়িত ভ্রুণ শিশু

বাংলাদেশের প্রথম হিমায়িত ভ্রুণ শিশু অপ্সরা। অপ্সরা জন্ম হয় ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাজধানীর মডার্ন হাসপাতালে। হিমায়িত ভ্রুণ শিশু অপ্সরার রূপকার ডা. রাশিদা বেগম। ভ্রণ শিশু অপ্সরার বাবা ও মা যথাক্রমে আফজাল হোসেন এবং সালমা বেগম।

Content added By
Content updated By

জন্ম নিয়ন্ত্রণ

জন্ম নিয়ন্ত্রণ পরিবার পরিকল্পনার একটি অন্যতম বিভাগ। জন্ম বা গর্ভ ব্যাহত করার উপায়গুলোকে মূলত তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা- শুক্রানু ও ডিম্বানুর মিলন ব্যাহত করা, ভ্রুণ সঞ্চারণ ব্যাহত করা এবং ঔষধ অথবা অস্ত্রপচারের মাধ্যমে ভ্রুণ অপসারণ করা। ধারণা করা হয় যে, যৌন মিলন ও গর্ভ ধরনের সরাসরি সংযোগ উপলব্ধির পরই জন্ম নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কার হয়। প্রাচীনকালে বিঘ্নিত যৌন মিলন ও বিবিধ প্রকার প্রাকৃতিক ঔষধি (যা গর্ভনিরোধক হিসেবে প্রচলিত ছিল) সেবনের মাধ্যমে জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা করা হত। মিশরীয় সভ্যতায় সর্বপ্রথম গর্ভনিরোধক ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মহিলাদের দুই পার্শ্বের ডিম্বাশয় ফেলে দেওয়া হয়
মহিলাদের দুই পার্শ্বের ইউটেরাইন টিউব কেটে দেওয়া হয়
মহিলা ও পুরুষ উভয়ের অপারেশন করা হয়
জরায়ু ফেলে দেওয়া হয়

গর্ভবর্তী মায়ের পরিচর্যা

বিশ্বস্বাস্হ্য সংস্থা (WHO) এর মতে, গর্ভকালীন সময়ে প্রত্যেক মায়ের কমপক্ষে ৪ বার প্রসূতিকালীন পরিচর্যা (Antenatal Care – ANC) গ্রহণ করা উচিত। যথা: প্রথমবার গর্ভধারণের ১৬ সপ্তাহে, দ্বিতীয়বার ২৪-২৮ সপ্তাহের মধ্যে, তৃতীয়বার ৩২ সপ্তাহে এবং চতুর্থবার ৩৬ সপ্তাহে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য

মা ও শিশুর বিদ্যালয় পূর্ব বয়স পর্যন্ত প্রদেয় উন্নয়নমূলক, প্রতিরোধমূলক, আরোগ্য সহায়ক এবং পুনর্বাসনমূলক স্বাস্থ্য সেবাকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা বলে। মা ও শিশুর বিদ্যালয় পূর্ব বয়স পর্যন্ত শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগজনিত সুস্থতা রক্ষার জন্য প্রদত্ত স্বাস্থ্য সেবাকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা বলে।

উদ্দেশ্যঃ

> মাতৃ মৃত্যু, নবজাতক মৃত্যু হার হ্রাস করা;

> প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নয়ন;

> পরিবারে শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ।

> মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উপাদান সমূহঃ

> মাতৃ স্বাস্থ্য;

> পরিবার পরিকল্পনা;

> শিশু স্বাস্থ্য;

> স্কুল স্বাস্থ্য;

> প্রতিবন্ধী শিশুর যত্ন;

> বিশেষ স্থানে শিশুর যত্ন যেমন, ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুর যত্ন।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কঙ্কালতন্ত্র (SKeletal System)

বিশেষ ধরনের যোজক কলা বা টিস্যু নির্মিত অস্থি ও তরুনাস্থির সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো নির্মাণ করে, নরম অঙ্গগুলোকে সংরক্ষণ করে, দেহের ভার বহন করে এবং পেশী সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে। মানবদেহ (মানুষের কঙ্কাল) ২০৬ খানা হাড় বা অস্থি নিয়ে গঠিত। মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত। যথা- (১) অক্ষীয় কঙ্কাল, (২) উপাঙ্গীয় কঙ্কাল। অক্ষীয় কঙ্কালে দুটি অংশ আছে, যথা- (ক) করোটি, (খ) দেহকান্ড। করোটি ২৯টি অস্থির নিয়ে গঠিত। মেরুদন্ড ও বক্ষপিঞ্জর এই দুটির সমন্বয়ে দেহকান্ড গঠিত হয়। ৩৩ টি অনিয়ত আকৃতির অস্থিখণ্ড বা কশেরুকা নিয়ে মানুষের মেরুদণ্ড গঠিত। কঙ্কালের সবচেয়ে বড় অস্থি হলো ফিমার (উরুর অস্থি) যা মানুষের উর্দ্ধ পা এর অস্থি। ফিমার এবং টিবিয়া মাঝখানে প্যাটেলা নামে একটি প্রায় ত্রিকোণকৃতি অস্থি অবস্থিত। যা হাটুর হাড়ের একটি অংশ। মানুষের দেহে সবচেয়ে ছোট হলো কানের ভেতরের অস্থি স্টেপিস (কানের অস্থি)।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অস্থি (Bone)

বিশেষ ধরনের যোজক কলা বা টিস্যু নির্মিত অস্থি ও তরুনাস্থির সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো নির্মাণ করে, নরম অঙ্গগুলোকে সংরক্ষণ করে, দেহের ভার বহন করে এবং পেশী সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে কঙ্কালের সবচেয়ে বড় অস্থি হলো ফিমার (উরুর অস্থি)। মেরুদণ্ডের প্রত্যেকটি অস্থিখণ্ডককে কশেরুকা বলে। প্যাটেলা হাঁটুতে অবস্থিত একটি ত্রিকোণকৃতি

মানুষের চলনে পেশি এবং অস্থি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানবদেহে কঙ্কালতন্ত্রের কাঠামোর উপরে আচ্ছাদন হিসেবে পেশীতন্ত্র থাকে।

টেন্ডন: পেশীকে অস্থির সাথে দিয়ে যুক্ত রাখে।

লিগামেন্ট: এক অস্থিকে অন্য অস্থির সাথে সংযুক্ত রাখে।

কারোটির অস্থির সংখ্যা ২২টি হলেও মধ্যকর্ণে ৬টি এবং মুখমগুলের ১টি এথময়েড অস্থি অতিরিক্তি গণনা করে অনেকে করোটির আস্থি সংক্ষা ২৯টি বলে থাকেন।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অস্থিসন্ধি (Bone joints)

দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে। অস্থিগুলো পরস্পরের সাথে যোজক কলা দিয়ে এমনভাবে যুক্ত থাকে যাতে সংলগ্ন অস্থিগুলো বিভিন্ন মাত্রায় সঞ্চালিত হতে পারে অস্থিসন্ধি সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা- তন্ত্তময় সন্ধি, তরুণাস্থিময় সন্ধি এবং সাইনোডিয়াল সন্ধি।

 

Content added By

পঞ্চইন্দ্রিয় (5 Senses)

যে অঙ্গের সাহায্যে আমরা বাহিরের জগতকে অনুভব করতে পারি, তাকে সংবেদী অঙ্গ বলে। চোখ, কান, নাক, জিহবা ও ত্বক- এ পাঁচটি হচ্ছে মানুষের সংবেদী অঙ্গ। সাধারণ ভাসায় এদের পঞ্চ-ইন্দ্রিয় বলে।

ত্বক: মানব দেহের সর্ববৃহৎ অঙ্গ। মেলানিন নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে। মানুষের গায়ের রঙ মেলানিনের উপর রির্ভর করে।

কান: শ্রবণ ও দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা কানের কাজ। মানুষের কান ৩টি অংশে বিভক্ত। যথা-

ক) বহিঃকর্ণ: কানে শব্দ তরঙ্গ প্রবেশ করলে প্রথম কানপর্দা কেঁপে উঠে।

খ) মধ্যকর্ণ: তিনটি হাড় থাকে। যথা- ম্যালিয়াস, ইনকাম এবং স্টেপিস। ‘স্টেপিস’ মানুষের দেহে সবচেয়ে ছোট অস্থি।

গ) অন্তঃকর্ণ: পাতলা পর্দা জাতীয় মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্হ নামক জটিল অঙ্গ দ্বারা অন্তঃকর্ন গঠিত। মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্হ দুটো প্রধান অংশের সমন্বয়ে গঠিত-

(১) ইউট্রিকুলাস (ভেরসাম্য অঙ্গ)

(২) স্রাকুলাস (শ্রবণ অঙঙ্গ): এর অঙ্কীয় দেশ হতে প্রলম্বিত এবং শামুকের ন্যায় প্যাঁচানো ‘ককলিয়া’ নামক নালী বের হয়। ককলিয়ার অন্তঃপ্রাচিরে থাকে শ্রবণ সংবেদী কোষ ‘অর্গান অফ কর্টি’।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Please, contribute by adding content to চোখের ত্রুটি ও লেন্সের ব্যবহার (Eye Defects & Use of Lenses).
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune System)

মানবদেহে রোগ জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা বিদ্যমান। যথা-

ক) প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তর (First line of defense): ত্বক, মিউকাস মেমব্রেন, সিলিয়া, লালারস, পাকস্থলী রস (Gastric Juice), আশ্রু, মূত্র প্রবাহ, Friendly ব্যাকটেরিয়া এবং নিউট্রোফিল। ত্বক দেহের অভ্যন্তরে রোগ জীবাণু ঢুকতে বাধা দেয়। ত্বকগ্রন্হি ও ঘর্মগ্রন্হি হতে নিঃসৃত ফ্যাটি এসিড, ল্যাকটিক এসিড ভিবিন্ন রোগ জীবাণু মেরে ফেলে। মিউকাস মেমব্রেন থেকে নিঃসৃত হয় পিচ্ছিল মিউকাস। রোগ জীবাণু মিউকাসের পিচ্ছিল রসে আটকে যায়। পরবর্তীতে দেহ এসব রোগ জীবাণু বিশেষ পদ্ধতিতে বের করে দেয়। প্রশ্বাসের মাধ্যমে বাহির থেকে অগনিত রোগ জীবাণু নাকে ঢোকে। নাকের ভিতর অনেক ছোট ছোট লোম থাকে। যাদের বলা হয় সিলিয়া। এরা এসব রোগ জীবাণুকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দেয়। নাকের মতো শ্বাসনালীতে অনেক সিলিয়া থাকে যারা বাহিরের রোগ জীবাণু ফুসফুসে যেতে বাধাঁ দেয়। লালারসে লাইসোজাইম নামক এনজাইম থাকে যা ক্ষতিকর অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া এর কোষপ্রাচীর ভাঙ্গতে সাহায্য করে। পাকস্থলী রসে হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকে যা খাদ্যদ্রব্যে থাকা ব্যকটেরিয়া ও পরজীবী ধ্বংস করে।

খ) দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাস্তর (Second line of defense): লিম্ফোসাইট (T কোষ & B কোষ), মনোসাইট-ম্যাক্রোফেজ সিস্টেম।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid)

প্রাথমিক প্রতিবিধান হলো চিকিৎসা শাস্ত্রের অন্তর্গত একটি প্রাথমিক বিভাগ। এই বিদ্যায় অবিজ্ঞ একজন প্রতিবিধানকারী কেউ দুর্ঘটনা বা অসুস্থ হলে তাকে সঠিক পদ্ধতিতে ও যত্ন সহকারে প্রাথমিক প্রতিবিধান দিতে পারে। পুরো চিকিৎসা করা প্রতিবিধানের উদ্দেশ্য নয় কারন প্রতিবিধানকারী চিকিৎসক নন। প্রতিবিধানকারী ডাক্তার আসার আগ পর্যন্ত বা হাসপাালে স্থানান্তর করার আগ পর্যন্ত অসুস্থ ব্যক্তির প্রাণ রক্ষা করা, রোগীর অবস্থা যেন আরও খারাপ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

১. শরীরের কোন স্থান পুড়ে গেলে তৎক্ষণাৎ পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা।

২. শরীরের কোনো স্থান ভেঙ্গে গেলে ভাঙ্গা স্থান নড়াচড়া করলে ভাঙ্গা স্থানে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। এ জন্য ভাঙ্গা স্থান যাতে নড়াচড়া করতে না পারে সেজন্য ভাঙ্গা স্থান কাঠ বা বাঁশ দিয়ে বেধে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট নিয়েযেতে হবে।

ক) চামরা ছড়ে যাওয়া

হাতুড়ি, পাথর বা কোনো ভোঁতা জিনিসের আঘাতে বা খেলার সময় ছড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে করনীয়-

১) ছড়ে যাওয়া থেতলানো জায়গায় ঠাণ্ডা পানি বা বরফ লাগাতে হবে। পরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত স্থান বেঁধে রাখতে হবে। শুকিয়ে গেলে পুনরায় ভিজিয়ে দিতে হব।

২) রক্ত বের হলে তা বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। জীবাণুমুক্ত তুলা দিয়ে জমাট রক্ত মুছে অ্যান্টিসেপ্টিক মলম লাগাতে হবে।

খ) মাংসপেশিতে টান ধরা

খেলাধুলা করার সময় বা ভারী কোন জিনিস তোলার সময় মাংস পেশিতে টান লেগে মাংশপেশির আঁশ ছিড়ে ব্যথা অনুভূত হয় এবং চলতে গেলে কষ্ট হয়। এরূপ হলে আহত স্থানটিকে বিশ্রাম দিয়ে বরফ লাগাতে হবে। ২৪ ঘন্টা পর গরম পানিতে বোরিক এসিড পাউডারের কমপ্রেস প্রয়োগ করতে হবে।

গ) ফুলে যাওয়া

ফুটবল খেলার সময় বুটের আগাতে বক্সিং খেলার সময় মুষ্টির আঘাতে বা পড়ে গিয়ে আঘাত লাগলে ফোলা আস্তে আস্তে কমে যাবে।

ঘ) পুড়ে যাওয়া

সরাসরি আগুন বা পেট্রোল-এসিডের মতো রাসায়নিক পদার্থে পুড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা হবে নিম্নরূপ-

১) আক্রান্ত স্থান শীতল পানির প্রবাহমান ধারার (যেমন-ট্যাপের পানি) নিচে ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখতে হবে। গা পুড়ে গেলে শাওয়ার বা গোছলের ঝরনার পানির নিচে দাঁড়াতে হবে। যদি সম্ভব না হয় তবে আক্রান্ত স্থান বালতির পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। সেটাও সম্ভব না হলে আক্রান্ত স্থানে পর্যাপ্ত পানি (গরম বা ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি নয়, সাধারণ তাপমাত্রার) ঢালতে হবে।

২) পোড়া অংশ শুকনো জীবাণুমুক্ত গজ বা ব্যান্ডেজ (তুলা নয়) দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, যাতে জীবাণুর সংক্রমণ না হয়।

৩) ব্যথানাশক ঔষধ দিতে হবে। যেমন- প্যারাসিটামল।

৪) জ্ঞন থাকলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে খাবার স্যালাইন বা শরবত বা ডাবের পানি খেতে দিতে হবে।

৫) ডিম, টুথপেস্ট, মাখন এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের মলম ব্যবহার করা যাবে না।

৬) পোড়ার মাত্রার রোগীর পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তাই অল্প পুড়লেও একবার ডাক্তার দেখানো উচিত।

ঙ) হাড় ভাঙ্গা

১) হাত বা পায়ের হাড় ভেঙ্গে গেলে বাঁশের চটা বা কাঠের টুকরা বা স্প্রীন্ট দিয়ে ভাঙ্গা জায়গাটি ব্যান্ডেজ বা এক টুকরা কাপড় দিয়ে বেঁধে দিতে হবে যাতে ভাঙ্গা অংশ নড়াচড়া করতে না পারে।

২) হাতের হাড় ভেঙ্গে গেলে স্প্রীন্ট দেয়ার পর ব্যান্ডেজ বা কাপরের সাহায্যে হাতকে গলার সাথে ঝুলিয়ে দিতে হবে।

৩) কোমর বা মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙ্গে গেলে আহত ব্যক্তির শরীরের নিচে সাবধানে একটি কাঠের তক্তা স্থাপন করতে হবে এবং ব্যক্তিটিকে কাঠের তক্তার সাথে ব্যান্ডেজ বা কাপড়ের টুকরা দিয়ে বেঁধে ফেলতে হবে (মাথা, বুক, কোমর, হাটু ও পায়ের পাতা বরাবর বাঁধন দিতে হবে) অতঃপর তক্তার দুইদিকে দড়ি ও বাঁশ বা কাঠের টুকরার সাহায্যে স্ট্রেচারের মত তৈরি করে রোগীকে দ্রুত অর্থোপেডিক্স (হাড় সংক্রান্ত) ডাক্তারের নিকট নিতে হবে।

চ) সাপের কামড়

সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ কিং কোবরা। বিষধর সাপের কামড়ে ক্ষতস্থানে পাশাপাশি দুটো দাঁতের দাগ থাকে। বিষধর সাপ কাটলে প্রাথমিক করণীয়:

ক) কামড়ের স্থান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা।

খ) উক্ত অঙ্গ যথাসম্ভব নিশ্চল রাখা কারণ বেশি নড়াচড়া করে বিষ তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে।

গ) কামড়ের স্থান হাতে বা পায়ে হলে কামড়ের স্থানের উপরে দড়ি বা কাপড় দিয়ে বাঁধা। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে বাধন যেন এত শক্ত না হয় যা পায়ে রক্ত সরবরাহে বাঁধা দেয়।
ঘ) দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

ছ) ওর স্যালাইন (Orsaline)

বন্যার পর ডায়রিয়া অসুখের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ডায়রিয়ার মূল সমস্যা হল দেহ হতে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। এতে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ জন্য ডায়রিয়া রোগীকে ওর-স্যালাইন (ORS) খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওর স্যালাইনের (ORS) উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড ১.৩০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ক্লোরাইড ০.৭৫ মিলিগ্রাম। নরমান স্যালাইন সোডিয়াম ক্লোরোইডের ০.৯% জলীয় দ্রবণ।

বিবিধ:

১. আকুপাংচার হলো চীন দেশীয় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি।

২. খোস-পাঁচড়া একটি চর্ম ও খুবই ছোঁয়াচে রোগ।

৩. ভায়াগ্রা একটি যৌন উত্তেজক ঔষধ। এর প্রকৃত নাম সিলডেনাফিল।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রোগীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া
রোগীকে সুস্থ করে তোলা
রোগীকে পরামর্শ দেওয়া
রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া

ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy)

ফিজিও (শারীরিক) এবং থেরাপি (চিকিৎসা) শব্দ দুটি মিলে ফিজিওথেরাপি বা শারীরিা চিকিৎসার সৃষ্টি। প্রাচীন গ্রিসে হিপোক্রোটাস ম্যাসেজ ও ম্যানুয়াল থেরাপি দ্বারা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সূচনা করেছিলেন। এটি বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি অন্যতম এবং অপরিহার্য শাখা। বাত ব্যথা, কোমর ব্যথা, ঘাড়-হাটু-গোড়ালি ব্যথা, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, সেরিব্রাল পলসি (প্রতিবন্ধী শিশু), বার্ধক্য জনিত চিকিৎসা ক্ষেত্রে এবং পুনর্বাসন সেবায় ফিজিওথেরাপির ভূমিকা অপরিসীম।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

আকুপাংচার (Acupuncture)

আকুপাংচার ব্যথা ও রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত প্রচীন চৈনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। ল্যাটিন শব্দ ‘আকুশ’ মানে সুঁচা, ‘পাংচার’ মানে ফোটানো। এই পদ্ধতিতে দেহের বিভিন্ন আকু-বিন্দুতে বিশেষ এক ধরনের সুঁচ, ভেদ করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রেখে চিকিৎসা করা হয়। বিশেষ সুঁচালো আসলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে নিউরোট্রান্সমিটার নামের বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ও হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়। এটি প্রথমে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে আবিষ্কৃত হলেও পরে তা বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পায় নি।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

জাপানের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি

মিশরের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি

চীনের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি

ভারতের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি

চিকিৎসা পরিভাষা হলো এমন ভাষা যা মানবদেহের উপাদান , প্রক্রিয়া , অবস্থা , চিকিৎসা পদ্ধতি এবং চিকিৎসা বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় ।

বিজ্ঞানের শাখা

আলোচ্য বিষয়

Osteologyহাড় বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান
Opthalmologyচোখ বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান
Oncologyটিউমার বা ক্যান্সার সংক্রান্ত বিজ্ঞান
Paediatricsশিশুদের (Children) চিকিৎসা বিজ্ঞান
Psychologyমনো বিজ্ঞান। অবসেশন শব্দটি এই শাখার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত
Neurologyস্নায়ু সম্পর্কিত চিকিৎসা বিজ্ঞান
Dermatologyচর্ম বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান
Radiologyরঞ্জন রশ্মি সম্পর্কিত বিজ্ঞান
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...