ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থ ও দর্শনীয় স্থানের পরিচিতি (পাঠ ১)

বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

359

সিদ্ধার্থ গৌতম ছয় বছর কঠোর সাধনা করে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে বুদ্ধত্ব লাভ করেন। বুদ্ধত্ব লাভ করে তিনি সর্বপ্রাণীর দুঃখমুক্তি ও কল্যাণের জন্য সুদীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর ধর্ম প্রচার করেন। ধর্ম প্রচারের জন্য তিনি অনেক স্থানে গমন করেন। তাঁর নির্দেশে তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যরাও নানা স্থানে বুদ্ধবাণী ছড়িয়ে দেন। বুদ্ধ এবং তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিহার, চৈত্য, সংঘারাম, স্তম্ভ, স্তূপ, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। কালক্রমে তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত এসব স্থান বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের মর্যাদা লাভ করে। বৌদ্ধদের নিকট এসব স্থান তীর্থস্থান হিসেবে শ্রদ্ধা লাভ করে। তীর্থস্থান ভ্রমণে পুণ্য হয়। তাই বৌদ্ধরা শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এসব স্থান ভ্রমণ করেন। ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশে এরূপ অনেক বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান আছে। ভারতে অবস্থিত বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লুম্বিনী, বুদ্ধগয়া, সারনাথ, কুশিনারা, রাজগৃহ, শ্রাবস্তী, বৈশালী, নালন্দা, বিক্রমশীলা, কপিলাবস্তু, সাঁচীস্তূপ, অজন্তা, ইলোরা, উদয়গিরি, রত্নগিরি ইত্যাদি। পাকিস্তানে অবস্থিত স্থানসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: পুরুষপুর (পেশোয়ার) ও তক্ষশীলা। আফগানিস্তানে অবস্থিত স্থানসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: গান্ধার ও বামিয়ান। বাংলাদেশে অবস্থিত দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ময়নামতির শালবন বিহার, আনন্দবিহার, ত্রিরত্ন মূড়া বিহার, কোটিলা মুড়া বিহার, রূপবান মুড়া বিহার, পাহাড়পুরের সোমপুর বিহার, ভাসু বিহার, হলুদ বিহার, মহাস্থানগড় ইত্যাদি।

ওপরে বর্ণিত স্থানগুলোর অনেক স্থানে বুদ্ধ এবং তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যগণ বসবাস করতেন। ধ্যান-সমাধি করতেন। বর্ষাবাস যাপন করতেন। ধর্মোপদেশ দান করতেন। ধর্ম-দর্শন চর্চা করতেন। তাঁদের ধর্মদেশনা শুনে অনেক লোক লোভ-দ্বেষ-মোহ ক্ষয় করে দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করেছেন। নির্বাণ সুখ উপভোগ করেছেন। আবার অনেক স্থানে বুদ্ধ বা তাঁর প্রধান শিষ্যগণ গমন করেননি। কিন্তু বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন চর্চার কেন্দ্র হিসেবে সেগুলোও প্রসিদ্ধি লাভকরে। তাই এসব স্থানের ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম।

এসব স্থান পরিভ্রমণ করলে বুদ্ধের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানা যায়। ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। মনে ধর্মীয় ভাব জাগ্রত হয়। ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপনে উৎসাহ সৃষ্টি হয়। জনহিতকর এবং কুশলকর্ম সম্পাদনে মন উদ্বুদ্ধ হয়। ধর্মচর্চায় প্রেরণা লাভ করা যায়। মন পবিত্র হয়। কলুষমুক্ত হয়। তৃষ্ণা, লোভ-দ্বেষ-মোহ প্রভৃতি ক্ষয় হয়। ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগ বাড়ে। দেশপ্রেম সৃষ্টি হয়। তাই তীর্থ ও দর্শনীয় স্থানসমূহ দর্শনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

পরবর্তী পাঠে আমরা চারটি বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানব।

অনুশীলনমূলক কাজ
দেশ অনুযায়ী বৌদ্ধ দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত কর (দলীয় কাজ)।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...