নৈতিকতা ও শীল পালন (পাঠ ১)

গৌতম বুদ্ধের নৈতিক শিক্ষা - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

337

'নীতি' থেকে 'নৈতিকতা' শব্দের উৎপত্তি। 'নৈতিকতা' হলো নিয়মনীতি মেনে চলে সুশৃঙ্খল ও সৎ জীবনযাপন করা। বৌদ্ধধর্মে নৈতিকতার ওপর অধিক জোর দেওয়া হয়েছে। গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের সংযত, আদর্শ এবং নৈতিক জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য তিনি অনেকগুলো নিয়মনীতি বা বিধি-বিধান প্রবর্তন করেছেন। বৌদ্ধ পরিভাষায় এসব নৈতিক বিধি-বিধানকে শীল বলা হয়।

'শীল' শব্দের অর্থ হলো স্বভাব বা চরিত্র। আবার নিয়ম, শৃঙ্খলা প্রভৃতিও শীল অর্থে ব্যবহৃত হয়। শীল মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন চরিত্র গঠনে সহায়তা করে। প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ভাষণ এবং নেশাদ্রব্য গ্রহণ প্রভৃতি হতে বিরত রাখে। কায়, মন এবং বাক্য সংযত করে। মনের কলুষতা দূর করে। নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে। তাই বৌদ্ধরা শীল পালনের মাধ্যমে নিজের আচরণ সংযত করে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি চর্চা করে। যাঁরা শীল পালন করেন তাঁরা শীলবান নামে অভিহিত হন। শীলবান ব্যক্তি সর্বত্র পূজিত হন। প্রভূত যশ-খ্যাতির অধিকারী হন। বুদ্ধ বলেছেন, 'ফুলের সৌরভ কেবল বাতাসের অনুকূলে প্রবাহিত হয়। কিন্তু শীলবান ব্যক্তির যশ-খ্যাতি বাতাসের অনুকূল এবং প্রতিকূল উভয় দিকে প্রবাহিত হয়।' শীলবান ব্যক্তি দয়াশীল, ক্ষমাপরায়ণ, দানপরায়ণ, সেবাপরায়ণ এবং পরোপকারী হন। তাঁদের চিত্ত উদার হয়। তাঁরা সর্বদা কুশলকর্ম সম্পাদন করেন। তাঁরা কখনো মানুষের ক্ষতি সাধন করেন না। তাঁরা মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনের উপদেশ দেন এবং উৎসাহিত করেন। শীলবান ব্যক্তি ইহকাল এবং পরকাল উভয়কালেই সুখ লাভ করেন।

পরিশেষে বলা যায়, নৈতিকতা এবং শীল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। শীল পালন ব্যতীত নৈতিকতার বিকাশ সম্ভব নয়।

অনুশীলনমূলক কাজ
শীল ও নৈতিকতা বলতে কী বোঝ?
শীলবান ব্যক্তির জীবন কেমন হয় বর্ণনা কর।
শীলবান ব্যক্তির যশ-খ্যাতি এবং ফুলের সৌরভের মধ্যে পার্থক্য কী লেখ।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...