বৌদ্ধধর্মে দানের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। দান দেওয়া মানুষের একটি মহৎ গুণ। এই গুণটি বিকশিত করার ক্ষেত্রে দানানুষ্ঠান বিরাট ভূমিকা রাখে। দানানুষ্ঠানের মাধ্যমে দানের অভ্যাস গড়ে উঠে। অহংকার, কৃপণতা, লোভ-দ্বেষ-মোহ প্রভৃতি দূর হয়। চিত্তের উদারতা বাড়ে। পরোপকারী মনোভাব সৃষ্টি হয়। অন্যের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রেরণা সৃষ্টি হয়। দয়া, নিঃস্বার্থপরতা, মৈত্রী, প্রেম প্রভৃতি মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে। দান, শীল এবং ভাবনার অনুশীলন মানুষকে দুঃখ থেকে মুক্তি দেয়। দান পারমী পূর্ণ না করলে নির্বাণ পথে অগ্রসর হওয়া যায় না। তাই দশ পারমীর মধ্যে দান পারমীকে প্রথমে স্থান দেওয়া হয়েছে। দানানুষ্ঠান দান ও পারমী পূরণপূর্বক মানুষকে নির্বাণ পথে পরিচালিত হতে সাহায্য করে।
দান কাহিনি পড়ে আমরা জেনেছি উদার চিত্তে এবং শীলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দান করলে তা উৎকৃষ্ট দান হিসেবে বিবেচিত হয়। সৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দান করলে অধিক ফল অর্জন হয়। বৌদ্ধধর্মে দাতা ও গ্রহীতা উভয়কে শীলবান হতে হয়। দানানুষ্ঠান শীলবান ও নীতিপরায়ণ হতে সাহায্য করে।
দানানুষ্ঠানে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী অংশ গ্রহণ করে। ফলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভাব বিনিময় হয়। এতে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়। ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। দান দ্বারা সমাজে অনেক মহৎ কাজ করা যায়। যেমন: শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, অনাথালয় স্থাপন, রাস্তাঘাট, সেতু, জলাধার তৈরি ইত্যাদি। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও রক্ত দান করা যায়। এ দানের ফলে অনেক মানুষ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়। দৃষ্টিহীন ব্যক্তি দৃষ্টি ফিরে পায়। ফলে বলা যায়, দানানুষ্ঠান নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্যে সকলের দানানুষ্ঠানের আয়োজন এবং দানানুষ্ঠানে যোগদান করা উচিত।
অনুশীলনমূলক কাজ |
Read more