'নিধিকুন্ড সূত্র' এবং 'অপ্রমাদ বর্গের' তুলনামূলক আলোচনা (পাঠ ৭)

সূত্র ও নীতিগাথা - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

277

সূত্র ও নীতিগাথাসমূহ থেকে বুদ্ধের উপদেশ ও নৈতিক জীবন গঠনের নির্দেশনা পাওয়া যায়। এই অধ্যায়ে আমরা ত্রিপিটকের অন্যতম অংশ সূত্রপিটকের 'খুদ্দকপাঠ' ও 'ধর্মপদ' গ্রন্থ হতে সংকলিত 'নিধিকুণ্ড সূত্র' এবং 'অপ্রমাদ বর্গ' পাঠ করেছি। এই সূত্র ও নীতিগাথা দুটি তুলনামূলক আলোচনা করলে দেখা যায় উভয়ই আমাদের নৈতিক জীবন গঠনের নির্দেশনা দেয়। যেমন-খুদ্দকপাঠ গ্রন্থে বর্ণিত 'নিধিকুণ্ড সূত্র' প্রকৃত ধন-সম্পদ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জনের শিক্ষা দেয়। এতে কুশলকর্মের দ্বারা অর্জিত পুণ্যরাশিকে প্রকৃত সম্পদ বলা হয়েছে। প্রকৃত সম্পদ বা পুণ্যরাশি দান, শীল, ভাবনা, আত্মসংযম দ্বারা অর্জন করতে হয়। সৎ কাজের মাধ্যমে পুণ্যফল অর্জিত হয়। সৎকাজ বা কুশলকর্ম সম্পাদনের জন্য সব সময়ই মনোযোগী ও অপ্রমত্ত হতে হয়।

ধর্মপদে বর্ণিত 'অপ্রমাদ বর্গে' বুদ্ধ অপ্রমত্ত হয়ে কুশলকর্ম সম্পাদনের নির্দেশ দিয়েছেন। ধীর-স্থির, প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষেই কুশলকর্ম সম্পাদন সম্ভব। তিনিই কুশলকর্ম সম্পাদন করে প্রকৃত নিধি বা সম্পদ অর্জন করতে পারেন।

'নিধিকুণ্ড সূত্র' পাঠ করে আমরা প্রকৃত সম্পদ কী তার ধারণা অর্জন করি। অপ্রমাদ বর্গ পাঠ করে ঐ প্রকৃত সম্পদ বা পুণ্যরাশি কীভাবে অর্জন করা যায় তা জানতে পারি। প্রমত্ত ব্যক্তি কুশলকাজ করতে পারেনা। ফলে পুণ্যফলও লাভ করতে পারে না।

নিধিকুন্ড সূত্র ও অপ্রমাদ বর্গ পাঠ করে আমরা নৈতিক জীবনযাপন বলতে কী বোঝায় এবং নৈতিক জীবন গঠন কীভাবে করতে পারি তার দিক নির্দেশনা পাই। নিধিকুণ্ড সূত্রে বর্ণিত সকল কাজই নৈতিক জীবন গঠনের উপাদান আর অপ্রমাদ বর্গে ঐ কাজগুলি সম্পাদন করতে যেরূপ আচরণ অনুশীলন করতে হয় অর্থাৎ রাগ, দ্বেষ, ঈর্ষা, লোভ ও মোহমুক্ত হয়ে সংযম চর্চা করতে বলা হয়েছে। এভাবেই অপ্রমত্ত হয়ে কুশলকাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিধিকুন্ড সূত্র ও অপ্রমাদ বর্গের শিক্ষা জীবনে অনুসরণ করলে কুশলকর্ম সম্পাদনপূর্বক পুণ্যসম্পদ সঞ্চয় করা সম্ভব। এভাবেই বৌদ্ধধর্মের চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্বাণ পথে অগ্রসর হওয়া যায়।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...