গৌতম বুদ্ধ জাতকের কাহিনির মাধ্যমে ধর্মের গভীর মর্মবাণী সাবলীল ভাষায় বর্ণনা করেছেন। এজন্য জাতক শুধুমাত্র কাহিনি নয়, এগুলো ভগবান বুদ্ধের উপদেশও। প্রতিটি জাতকে তিনি একেকটি নৈতিক শিক্ষণীয় বিষয় তুলে ধরেছেন। তাই জাতক পাঠ করে নৈতিক শিক্ষা লাভ করা যায়।
জাতক প্রাচীন ইতিহাসের এক অফুরন্ত ভান্ডার। জাতকে বুদ্ধের সমকালীন সমাজ ব্যবস্থা, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, ধর্ম-দর্শন, পুরাতত্ত্ব, ইতিহাস প্রভৃতি সম্পর্কে প্রচুর তথ্য পাওয়া যায়। তাই প্রাচীন ভারতের ইতিহাস জানার জন্য জাতক পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।
বৌদ্ধরা কর্মফল বিশ্বাস করে। জাতকে কর্মফল সম্পর্কে প্রচুর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। জাতক পাঠ করে সৎ ও অসৎ কর্মের পরিণতি সম্পর্কে জানা যায়। ফলে মানুষ অসৎ কর্ম বর্জন এবং সৎ কর্ম করতে উৎসাহী হয়। জাতক পাঠে কুসংস্কার দূর হয়। নক্ষত্র জাতকে কুসংস্কারের ফলে গ্রামবাসীরা দুরবস্থার সম্মুখীন হয়েছিল। জাতকে কুশলকর্মের দ্বারা কুশল ফল এবং অকুশলকর্মের দ্বারা অকুশল ফল লাভের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 'কালকর্ণী জাতক' থেকে আমরা বিপদের দিনে বন্ধুকে কীভাবে সাহায্য করতে হয় তা শিক্ষা লাভকরতে পারি। বোধিসত্ত্বের অবর্তমানে তার বাল্যবন্ধু কালকর্ণী ডাকাতদলের হাত থেকে বোধিসত্ত্বের সমস্ত সম্পত্তি রক্ষা করেছিলেন।
জাতকের কাহিনিগুলোতে সদাচরণ, জীবে দয়া, সংযম, দানের মহিমা, নৈতিক জীবনের উৎকর্ষ সাধন ও উপকারিতা প্রভৃতি বিষয়ে হিতোপদেশ রয়েছে। এগুলো বুদ্ধের জন্ম-জন্মান্তরের পারমী পূরণের কথা। এসব গুণাবলি নৈতিক ও আদর্শ জীবন গঠনে সহায়ক। বন্ধু-বান্ধব কেউ বিপথগামী হলে তাকে জাতকের শিক্ষার মাধ্যমে সৎপথে ফিরিয়ে আনা যায়। তাই সুস্থ পারিবারিক ও সমাজজীবন গঠন এবং ব্যক্তি জীবনের উৎকর্ষ সাধনের জন্য জাতকের গল্পগুলো পড়া উচিত।
এখানে কয়েকটি জাতকের কাহিনি বর্ণনা করা হলো।
অনুশীলনমূলক কাজ |