তক্ষশীলা পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি শহরের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এটি ছিল গান্ধার রাজ্যের রাজধানী। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে রাজকুমার অশোক পিতা সম্রাট বিন্দুসারের প্রতিনিধি হয়ে তক্ষশীলা শাসন করতেন। এখানে তিনি অনেক সংঘারাম নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর সময়ে এখানে অনেক স্তূপ ও স্তম্ভও নির্মাণ করা হয়েছিল।
তক্ষশীলা ছিল তখন জ্ঞান ও বিজ্ঞান চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। অনেক জাতক কাহিনিতে শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তক্ষশীলার উল্লেখ পাওয়া যায়। বৌদ্ধযুগে তক্ষশীলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। কোশলরাজ প্রসেনজিৎ, লিচ্ছবি প্রধান মহালি, মল্লরাজপুত্র বন্ধুল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। আরও জানা যায়, অবন্তীর ধর্মপাল, অঙ্গুলিমাল, চিকিৎসক জীবক, কাশীভরদ্বাজ এবং যশোদত্তের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

তক্ষশীলা
দেশ বিদেশ থেকে বহু শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্য আসতেন। এখানে ত্রিবেদসহ অষ্টাদশ বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া হতো। এ অষ্টাদশ বিদ্যার মধ্যে ধনুর্বিদ্যা ও ভেষজবিদ্যা ছিল অন্যতম। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ যখন তক্ষশীলায় আসেন তখন এর চতুর্দিকের পরিধি ছিল প্রায় চারশ মাইল। তিনি এখানে অনেকগুলো সংঘারাম দেখতে পেয়েছিলেন। তখন সেগুলোর প্রায়ই ছিল জনশূন্য ও ধ্বংসপ্রাপ্ত। তবে কিছু সংঘারামে তিনি অল্পসংখ্যক মহাযানী বৌদ্ধ ভিক্ষু দেখতে পান। 'হুন' জাতির আক্রমণে এ নগরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
খননকাজের ফলে এখানে বৌদ্ধযুগের বহু স্তূপ ও বিহারের নিদর্শন পাওয়া গেছে। প্রাচীনকালের অনেক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। পাকিস্তান সরকার এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
অনুশীলনমূলক কাজ |
Read more