নৈতিকতা অনুশীলনের সুফল (পাঠ ৪)

গৌতম বুদ্ধের নৈতিক শিক্ষা - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

301

নৈতিকতা অনুশীলনের মাধ্যমে অনেক সুফল অর্জন করা যায়। নৈতিকতা অনুশীলনে মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয়। নীতিবান ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল, পরোপকারী, সেবাপরায়ণ, সহনশীল, নির্লোভ, সংযমী, ক্ষমাপরায়ণ, মৈত্রীপরায়ণ, সত্যবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী হন। এসব নৈতিক গুণের অভাবেই সমাজে অন্যায় অশান্তি বিরাজ করে। সকল পেশার লোক নীতিবান হলে সমাজ থেকে অন্যায় ও অশান্তি দূর হবে। সমাজে সুখ, শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে। নীতিবান ব্যক্তি ব্যভিচার, অধিকারহীন অর্থ বিত্ত, নেশাদ্রব্য, সঙ্গী, মূর্খ সঙ্গী ইত্যাদি বর্জন করেন। তিনি সর্বদা কুশলকর্ম সম্পাদন করেন। পরের মঙ্গল সাধনে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন। তাঁর দ্বারা পরিবার, সমাজ ও দেশ উপকৃত হয়। তাই সকলে নীতিবান ব্যক্তিকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস করে। সকলে তাঁর প্রশংসা করে। তিনি সর্বত্র পূজিত হন। তাঁর যশ-খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

নীতিবানকে বৌদ্ধ পরিভাষায় শীলবান বলা হয়। বুদ্ধ শীলবান ব্যক্তির অনেক প্রশংসা করেছেন।
নৈতিকতা বা শীলপালনের সুফল অনেক। যেমন:
১. শীল পালনের ফলে শীলবান ব্যক্তি প্রভূত ধন সম্পদ অর্জন করেন;
২. তাঁর সুকীর্তি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে;
৩. তিনি নিঃসঙ্কোচে ও নির্ভয়ে সর্বত্র উপস্থিত হতে পারেন;
৪. মৃত্যুকালে তাঁর চিত্ত ভ্রম না হয়ে সজ্ঞানে মৃত্যু হয় এবং
৫. তিনি মৃত্যুর পর স্বর্গ ও নির্বাণ লাভ করেন।
তাই নৈতিকতার সুফল বিবেচনা করে সকলের তা অনুশীলন করা উচিত।

অনুশীলনমূলক কাজ
নৈতিকতা অনুশীলনকারী ব্যক্তির মানবিক গুণাবলি বর্ণনা কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...