পুরাকালে বারানসিতে ব্রহ্মদত্ত রাজত্ব করতেন। সে সময় বোধিসত্ত্ব এক ব্রাহ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করেন। ক্রমে তাঁর বয়স বাড়ল। যৌবনে পদার্পন করলে মাতাপিতা তাঁকে সংসারে আবদ্ধ করতে চাইলেন। কিন্তু তাঁর বিবাগী মন আকৃষ্ট হলো না। তিনি ঋষি প্রব্রজ্যা গ্রহণ করলেন। সাধনা করে তিনি পূর্বস্মৃতিজ্ঞান ও ধ্যানমার্গ ফল লাভ করলেন।
তাঁর অনেক শিষ্য ছিল। তিনি তাদের নিয়ে হিমবন্ত প্রদেশে ধ্যান সাধনা করে জীবনযাপন করতেন। তাঁর শিষ্যদের একজন মাতৃহীন এক হস্তীশাবক লালন পালন করত। গুরু তাকে হাতির বাচ্চা না পোষার জন্য বারবার নিষেধ করেছিলেন। কারণ হিংস্র প্রাণীকে বিশ্বাস করতে নেই। সুযোগ পেলেই তারা ছোবল মারে।
হস্তীশাবক ক্রমে বড় হলো। খাদ্য আহরণে বনে বনে ঘুরে বেড়াত। সন্ধ্যায় ফিরে আসত। একদিন ক্রুদ্ধ হয়ে সে পালককে হত্যা করে বনে পালিয়ে গেল। সেই যে গেল আর ফিরে এলো না।
অন্য ঋষিরা হস্তীশাবক পালকের মৃতদেহ দাহ করে বোধিসত্ত্বের নিকট উপস্থিত হন। উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, 'গুরু! মিত্রভাব ও শত্রুভাব নির্ণয় করার উপায় কী?'
বোধিসত্ত্ব উত্তরে বললেন, 'যে দেখা করতে এসে হাসে না। অভিনন্দনের সাড়া দেয় না। মুখ ফিরিয়ে রাখে। বলে এক, করে অন্য। এরূপ ব্যক্তিই শত্রুভাবাপন্ন।'
আর যে উপকার করে। মঙ্গল কামনা করে। মিষ্টভাষী হয়। দুর্দিনে সাহায্য করে। সে সুমিত্র নামে কথিত। যিনি অমিত্রের উক্ত দোষগুলো এবং মিত্রের গুণগুলো দেখে শুনে কাজ করেন তিনিই বুদ্ধিমান।
বোধিসত্ত্ব এরূপে মিত্র ও অমিত্রের স্বভাব সম্পর্কে ব্যাখ্যা করলেন। শিষ্যদের সত্যপথে চলতে উদ্বুদ্ধ করলেন।
উপদেশ: মিত্র-অমিত্র নির্বাচনই বুদ্ধিমানের কাজ।
অনুশীলনমূলক কাজ |