অনৈতিক কাজের ক্ষতিকর দিকসমূহ (পাঠ ৬)

শীল - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

267

অষ্টশীলের নির্দেশিত বিধি-বিধান মেনে চললে আদর্শ এবং নৈতিক জীবনযাপন করা যায়। অষ্টশীল পালন না করলে মানুষ অনৈতিক কাজের দিকে ধাবিত হয়। এই অনৈতিক কাজের কারণে মানুষ সীমাহীন দুঃখ ও নরকযন্ত্রণা ভোগ করে। অনৈতিক কাজের কিছু ক্ষতিকর দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

ক. প্রাণিহত্যা একটি অনৈতিক কাজ। বৌদ্ধমতে প্রাণিহত্যা করা অনুচিত। হত্যা প্রবণতা মনের মৈত্রীভাব নষ্ট করে। মানুষকে ক্রুদ্ধ ও প্রতিশোধপরায়ণ করে তোলে। ফলে নানা রকম সামাজিক অপরাধ সংঘটিত হয়।
খ. অদত্ত বস্তু গ্রহণ বা নিজের অধিকারে নেওয়া একটি অনৈতিক কাজ এবং সামাজিক অপরাধ। এর জন্য দণ্ডভোগ করতে হয়। পরকালেও শাস্তি পেতে হয়।
গ. অনৈতিক কামাচার একটি সামাজিক অপরাধ। ব্রহ্মচর্য পালনকারীকে সকল প্রকার কামাচার থেকে বিরত থাকতে হয়। অনৈতিক কামাচারে শারীরিক ও মানসিক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। এ কারণে মৃত্যুও হতে পারে।
ঘ. মিথ্যাকথা বলা নৈতিকতার পরিপন্থি। মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না। মিথ্যাবাদী সমাজে মর্যাদা পায় না। সর্বত্র নিন্দিত হয়।.
ঙ. নেশাদ্রব্য গ্রহণ ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ। নেশা স্বাস্থ্য নষ্ট ও মানসিক বিকারগ্রস্ত করে। নেশায় আসক্তির ফলে ধন-সম্পদ নষ্ট হয়। চরিত্র ও মানবিক মূল্যবোধের অধঃপতন হয়। নেশা সেবনকারীরা নানারকম অপরাধে লিপ্ত হয়। এরা নানারকম ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
চ. দুপুর বারোটার পর খাবার গ্রহণ করাকে বিকাল ভোজন বলা হয়। খাবারের প্রতি আসক্তি ও অপরিমিত আহার দান, শীল, ধ্যান-সমাধি ইত্যাদি ধর্মচর্চা ব্যাহত করে। ফলে নির্বাণের পথে পরিচালিত হওয়া যায় না।
ছ. নাচ, গান, বাদ্য-বাজনা, সুগন্ধি-প্রসাধন লেপন ইত্যাদিতে অনুরক্তভাব মনের একাগ্রতা নষ্ট করে। ধর্মচর্চা ব্যাহত হয়। ফলে দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব হয় না।
জ. বিলাসবহুল শয্যায় শয়ন ও উপবেশন মানুষকে আরামপ্রিয় ও অলস করে তোলে। মানসিক ও চারিত্রিক দৃঢ়তা নষ্ট হয় বলে অলস ব্যক্তি কখনোই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...