পরধর্মের প্রতি সহনশীলতা (পাঠ ৪)

বৌদ্ধধর্মে রাজন্যবর্গের অবদান: সম্রাট অশোক - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

208

সম্রাট অশোক মহৎ প্রাণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর সৃজনশীল প্রতিভা, দয়াপরায়ণতা ও উদারতার কারণে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করেন। তিনি অত্যন্ত পরমত সহিষ্ণু ছিলেন। তিনি শুধু বৌদ্ধধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাসম্পন্ন ছিলেন না, অন্যান্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিও ছিল তাঁর প্রগাঢ় শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি। তিনি ব্রাহ্মণ, জৈন ও আজীবকদেরও শ্রদ্ধা এবং পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। তাঁদের দান দিতেন। তিনি নৈতিক আচরণের নীতিসমূহকে সকল ধর্মের সার বলে মনে করতেন। এসব নীতিকে তিনি ভারতবর্ষের সর্বজনীন নীতি হিসেবে সকলের পালনীয় মনে করতেন। তাঁর প্রচারিত নীতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: পিতা-মাতা ও গুরুজনদের প্রতি অনুগত থাকবে, জীবিত প্রাণীদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করতে হবে, সত্য কথা বলতে হবে। নৈতিক ধর্ম হিসেবে এগুলো মানুষকে অনুসরণ করতে হবে। সে যুগে বিভিন্ন ধর্মমতের অনুসারীরা নিজ ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম মনে করতেন। ফলে তাঁদের মধ্যে বিদ্বেষভাব চরম আকার ধারণ করেছিল। সম্রাট অশোক পরমত সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ধর্মানুসারীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি পরমত সহিষ্ণুতা এবং ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে মৈত্রীময় সম্পর্ক সৃষ্টি করে সমগ্র ভারতবর্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলতেন, পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। পরধর্মের সমালোচনা করবে না।

সম্রাট অশোকের কল্যাণে ভারতবর্ষে সেদিন ধর্মীয় সম্প্রদায়সমূহের মধ্যে মিলনের যে ধারা সৃষ্টি হয়েছিল তা আজও সকল ধর্মসম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।
সম্রাট অশোক বিখ্যাত ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি শাসনতন্ত্রে বৌদ্ধধর্মকে ব্যবহার করে বিশ্বজয় করেছিলেন। তাঁর রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি ও ধর্মনীতি সত্যিকার অর্থে মানব কল্যাণে নিবেদিত ছিল। তিনি কেবল মানুষের কল্যাণ সাধনেই ব্যস্ত ছিলেন না, সকল প্রাণী ও প্রকৃতির কল্যাণের জন্যও গ্রহণ করেছিলেন নানা উদ্যোগ। পরিবেশ সুরক্ষায় এবং ওষুধের প্রয়োজনে তিনি তাঁর রাজ্যের সর্বত্র গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর রাজ্যে প্রয়োজনীয় গাছ না থাকলে তিনি অন্য রাষ্ট্র থেকে এনে রোপণের ব্যবস্থা করতেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে জনসাধারণের পিপাসা নিবারণের জন্য আট ক্রোশ অন্তর তিনি কূপ খনন করেছিলেন। সর্বজনীন কল্যাণ ও মঙ্গল সাধনাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

অনুশীলনমূলক কাজ
পরধর্মের প্রতি সম্রাট অশোকের মনোভাব কেমন ছিল?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...