সূত্র ও নীতিগাথা (পঞ্চম অধ্যায়)

সপ্তম শ্রেণি — মাধ্যমিক - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা | NCTB BOOK
357

'নিধিকুন্ড সূত্র' ত্রিপিটকের অন্তর্গত খুদ্দকপাঠ গ্রন্থে বর্ণিত আছে। প্রকৃত সম্পদ বলতে কী বোঝায় তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গৌতম বুদ্ধ নিধিকুন্ড সূত্রটি দেশনা করেন। অপ্রমাদ বর্গ ত্রিপিটকের ধর্মপদ গ্রন্থে পাওয়া যায়। অপ্রমাদ বর্গে কীভাবে জগতে অপ্রমত্ত বা অবিচল থেকে সৎকাজ করা যায় এবং চিত্তকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা বর্ণিত আছে। নিধিকুণ্ড সূত্র এবং অপ্রমাদ বর্গের গাথাগুলো মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে। এ অধ্যায়ের প্রথম অংশে আমরা নিধিকুন্ড সূত্র এবং দ্বিতীয় অংশে অপ্রমাদ বর্গ পড়ব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • নিধিকুন্ড সূত্রের পটভূমি বর্ণনা করতে পারব।
  • প্রকৃত নিধিসমূহ কী উল্লেখ করতে পারব।
  • সূত্রটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • অপ্রমাদের ব্যাখ্যা দিতে পারব।
  • অপ্রমত্ত থাকার সুফল মূল্যায়ন করতে পারব।
  • নিধিকুন্ড সূত্র ও অপ্রমাদ বর্গের তুলনামূলক আলোচনা করতে পারব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

সুমিত তার ছোট ভাইয়ের সাথে নির্বাণ লাভ নিয়ে আলোচনা করে। সে তার ভাইকে প্রমাদ হতে নিষেধ করে এবং সম্রাট অশোকের গল্প শোনায়।

নিধিকুণ্ড সূত্রের পটভূমি (পাঠ ১)

185

বুদ্ধের সময়ে শ্রাবস্তীতে এক ধনাঢ্য শ্রেষ্ঠী বাস করতেন। একদিন তিনি ভিক্ষুসংঘসহ বুদ্ধকে পিণ্ডদানে ব্যস্ত ছিলেন। সে সময় কোশল রাজ্যের রাজার অর্থের প্রয়োজন হয়। তিনি শ্রেষ্ঠীকে নিয়ে যাবার জন্য দূত প্রেরণ করেন। যখন শ্রেষ্ঠী বুদ্ধ ও ভিক্ষুসংঘের সেবায় ব্যস্ত ছিলেন তখন দূত এসে তাঁকে রাজার আদেশ জ্ঞাপন করেন। তখন শ্রেষ্ঠী দূতকে বলেন, 'এখন যাও, আমি ধন সঞ্চয়ে ব্যস্ত আছি।' শ্রেষ্ঠী এখানে ধন বলতে পুণ্যসম্পদকে বুঝিয়েছেন। অতঃপর ভগবান বুদ্ধ আহার সমাপ্ত করে পুণ্যসম্পদকে যথার্থ নিধি হিসেবে প্রদর্শন করতে নিধিকুণ্ড সূত্র দেশনা করেন। এ হলো নিধিকুন্ড সূত্রের পটভূমি।

অনুশীলনমূলক কাজ
বুদ্ধ নিধিকুন্ড সূত্র কেন দেশনা করেছিলেন? বর্ণনা কর।

Content added By

নিধিকুন্ড সূত্র (পালি ও বাংলা) (পাঠ ২)

362

১। নিধিং নিধেতি পুরিসো গম্ভীরে ওদকন্তিকে,
অথে কিচ্চে সমুপ্পন্নে অথায মে ভবিস্সতি।

বাংলা অনুবাদ: অর্থ কষ্ট উপস্থিত হলে 'এই অর্থ ভবিষ্যতে কাজে লাগবে' এরূপ ভেবে লোকে গভীর উদকস্পর্শী গর্তে ধন পুঁতে রাখে।

২। রাজতো বা দুরুত্তস্স চোরতো পীলিতস বা,
ইণস্স বা পমোক্কায় দুর্ভিক্সে আপদাসু বা
এতদখায় লোকস্মিং নিধি নাম নিধীযতি।

বাংলা অনুবাদ: রাজার দৌরাত্ম্য, চোরের উৎপীড়ন, ঋণ, দুর্ভিক্ষ ও আপদ থেকে মুক্তির জন্য লোকে ধন পুঁতে রাখে।

৩। তাব সুনিহিতো সন্তো গম্ভীরে ওদকন্তিকে,
ন সবেবা সববদা এব তত্স তং উপকল্পতি।

বাংলা অনুবাদ: এভাবে গভীর উদকস্পর্শী গর্তে ভালোভাবে ধন পুঁতে রাখলেও তা সব সময় ধন সঞ্চয়িতার উপকারে আসে না।

8। নিধি বা ঠানা চবতি সঞাবা'স বিমুযহতি,
নাগা বা অপনামেন্তি যা বাপি হরন্তি তং,

বাংলা অনুবাদ: ধন স্থানচ্যুত হয়, এর স্মৃতি চিহ্ন বিস্মৃত হয়ে যেতে পারে। নাগরা স্থানান্তর করতে পারে, অথবা যক্ষরা হরণ করতে পারে।

৫। অগ্নিযা বাপি দাযাদা উদ্ধরন্তি অপস্সতো,
যদা পুঞযো হোতি সববমেতং বিনস্সতি।

বাংলা অনুবাদ: অপ্রিয় উত্তরাধিকারী (মালিকের) অজ্ঞাতসারে তুলে নিতে পারে, আবার (মালিকের) পুণ্যক্ষয় হলে সমস্ত ধন নষ্ট হয়ে যায়।

৬ । যস্স দানেন সীলেন সঞমেন দমেন চ,
নিধি সুনিহিতো হোতি ইথিযা পুরিসস্স বা

বাংলা অনুবাদ: স্ত্রীলোক বা পুরুষের দান, শীল, সংযম ও দমনের (নিয়ন্ত্রণ) দ্বারা যে পুণ্যরূপ ধন উত্তমরূপে নিহিত হয়।

৭। চেতিযহি চ সঙ্ঘে বা পুগ্গলে অতিথিসু বা,
মাতরি পিতরি বাপি অথো জেঠমহি ভাতরি

বাংলা অনুবাদ: যে ধন চৈত্য নির্মাণ, ভিক্ষুসংঘ, পুদগল, অতিথি, মা, বাবা অথবা জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার সেবায় নিয়োজিত হয়।

৮। এসো নিধি সুনিহিতো অজেয্যো অনুগামিকো,
পহায গমনীযেসু এতং আদায গচ্ছতি।

বাংলা অনুবাদ: সেই ধনই প্রকৃত সুনিহিত, অজেয় ও অনুগামী হয়, এই ধন নিয়েই মানুষ পরলোকে গমন করে।

৯। অসাধারণমঞেসং অচোরহরণো নিধি,
কযিরাথ ধীরো পুঞানি যো নিধি আনুগামিকো।

বাংলা অনুবাদ: এই ধনে অন্যের অধিকার নেই, চোরও হরণ করতে পারে না। যে ধন মানুষের অনুগামী হয় পন্ডিত ব্যক্তির তা সঞ্চয় করা উচিত।

১০। এস দেবমনুস্সানং সববকামদদো নিধি,
যং যদেবাভিপথেন্তি সববমেতেন লতি।

বাংলা অনুবাদ: এই ধন দেবতা ও মানুষের সকল কামনা পূর্ণ করে এবং যা যা প্রার্থনা করা হয় এর দ্বারা সেসব লাভ করা যায়।

১১। সুবগ্নতা সুসরতা সুসষ্ঠানসুরূপতা
আধিপচ্চপরিবারো সববমেতেন লতি।

বাংলা অনুবাদ: সুন্দর বর্ণ, সুমিষ্ট স্বর, সুন্দর শরীর, সুরূপ, অধিপতি হওয়ার গুণ ও সুপরিবার সবই এর দ্বারা লাভ করা যায়।

১২। পদেসরজ্জং ইস্সরিযং চক্কবত্তিসুখম্পিযং,
দেবরজ্জ্বম্পি দিবেবসু সববমেতেন লতি।

বাংলা অনুবাদ: প্রদেশের রাজত্ব, ঐশ্বর্য, রাজচক্রবর্তীর সুখ, দেবরাজের দিব্য সুখ সবই এর দ্বারা লাভ করা যায়।

১৩। মানুসিকা চ সম্পত্তি দেবলোকে চ যা রতি,
যা চ নিববানসম্পত্তি সববমেতেন লতি।

বাংলা অনুবাদ: মনুষ্য লোকের সম্পত্তি, দেবলোকের আনন্দ ও পরম নির্বাণসম্পদ-সবই এর দ্বারা লাভ করা যায়।

১৪। মিত্তসম্পদং আগস্মং যোনিসো বে পযুঞ্জতো,
বিজাবিমুত্তিবসীভাবো সববমেতেন লতি।

বাংলা অনুবাদ: মিত্র সম্পদ লাভ করে যিনি সজ্ঞানে যোগসাধনা করেন, তাঁর বিদ্যা, বিমুক্তি, সম্বোধি প্রভৃতি সবকিছু এর দ্বারা লাভ করা যায়।

১৫। পটিসম্ভিদা বিমোক্সা চ যা চ সাবকপারমী,
পচ্চেকবোধি বুদ্ধভূমি সববমেতেন লতি।

বাংলা অনুবাদ: প্রতিসম্ভিদা, বিমোক্ষ, শ্রাবকপারমী (বা অর্হত্ব), প্রত্যেক বুদ্ধত্ব, সম্যক সম্বোধি প্রভৃতি সবকিছু এর দ্বারা লাভ করা যায়।

১৬। এবং মহিদ্ধিযা এসা যদিদং পুঞসম্পদা,
তস্মা ধীরা পসংসন্তি পণ্ডিতা কতপুঞতন্তি।

বাংলা অনুবাদ: এই পুণ্যসম্পদগুলো এমন মহাঋদ্ধিসম্পন্ন যে এজন্য স্থিরবুদ্ধি পন্ডিতেরা এই পুণ্যসম্পদের প্রশংসা করে থাকেন।

শব্দার্থ: নিধিং ধন: নিধেতি-পুঁতে রাখা; পুরিসো-পুরুষ: গম্ভীরে-গভীরে; ওদকন্তিকে- জলসীমা থেকে দূরে মাটির নিচে; (ওদক অর্থ জল), অথে কিচ্চে-অর্থ কষ্টে; সমুপ্পন্নে-সমুৎপন্ন হলে; অথায় মে ভবিস্সতি ভবিষ্যতে এ অর্থ আমার কাজে লাগবে: রাজতো বা দুরুত্তসস রাজার দৌরাত্ম্য হলে: চোরতো পীলিতসস বা চোরের উৎপীড়ন হলে; ইণসস বা পমোক্কায়-ঋণ উপস্থিত হলে; দুর্ভিক্সে আপদাসু বা দুর্ভিক্ষ ও আপদে; এতদখায় লোকস্মিং এজন্য লোকে; নিধি নাম নিধীয়তে ধন পুঁতে রাখে; তাব সুনিহিতো সন্তো এভাবে সুনিহিত রাখা সত্ত্বেও; সব্বো সকল; সববদা- সর্বদা; তসস-তার; উপকপ্পতি -উপকারে; ঠানা-স্থান; চবতি-চ্যুত হওয়া; সঞাবস স্মৃতিচিহ্নের; বিমূযহতি বিস্মৃত হওয়া; নাগা বা অপনামেন্তি-নাগেরা অপসারণ করে; যা -যক্ষরা; বাপি-অথবা; হরন্তি তং তা হরণ করতে পারে; অগ্নিযা-অপ্রিয়; দাযাদা- উত্তরাধিকারী; উদ্ধরন্তি-উদ্ধার করা, উত্তোলন করা; অপস্সতো -অজ্ঞাতসারে; যদা পুঞঞযো যখন পুণ্যক্ষয়; হোতি হয়; সববমেতং এসব কিছু; বিনস্সতি- বিনাশ হওয়া; যস্স যেসব; দানেন দানের দ্বারা; সীলেন শীলের দ্বারা; সঞমেন -সংযম দ্বারা; দমেন- নিয়ন্ত্রণ দ্বারা; ইথিযা স্ত্রীগণ; পুরিসা পুরুষগণ; চেতিযমিহ চৈত্য; সঙ্গে সংঘ; পুগগল পুদগল; অতিথিসু - অতিথি: অথ অতঃপর; জেঠমিহ বড়; ভাতরি ভাই: অজেয্যো অজেয়; অনুগামিকা - অনুগামী: পহায ত্যাগ করে; গমনীযেসু গমন করে; এতং আদায় এগুলো লাভ করে; অসাধারণমঞেসং-অন্যের অধিকার নেই। অচোরহরণো- চোরে হরণ করতে পারে না; কযিরাথ-করা উচিত; ধীরো-ধীর; পুঞানি পুণ্যসম্পদ; এস এই; দেবমনুস্সানং দেবতা ও মানুষ; সববকামদদো সর্ব কামনা পূর্ণ করা; যদেবাভিপথেন্তি - যা যা প্রার্থনা করা হয়; লতি- লাভ করা যায়; সুবগ্নতা সুন্দর বর্ণ; সুসরতা সুমিষ্ট স্বর; সুরূপতা-সুরূপ; সুসষ্ঠান সুন্দর শরীর; অধিপচ্চ আধিপত্য; পদেসরজ্জং প্রদেশে রাজত্ব; ইস্সরিয়ং ঐশ্বর্য; চক্কবত্তি-চক্রবর্তী; দেবরজ্জম্পি দেবরাজত্ব ও; দিবেবসু দিব্য সুখ; মানুসিকা মনুষ্যলোক; রতি আনন্দ, সুখ; মিত্তসম্পদং - মিত্রসম্পদ; আগম্ম আগমন; যোনিসো -মনোযোগ: পযুঞ্জতো যোগ-সাধন; বিজ্জা বিদ্যাঃ বিমুত্তি বিমুক্তি; বসীভাবো বশ্যতা; পটিসম্ভিদা প্রতিসম্ভিদা, সম্যকভাবে উপলব্ধি; বিমোক্সা বিমোক্ষ; সাবক শ্রাবক; পচ্চেক বোধি প্রত্যেক বুদ্ধত্ব: বুদ্ধভূমি সম্যক সম্বোধি; মহিদ্ধিযা- মহাঋদ্ধি; কতপুঞঞতং পসংসন্তি - কৃত পূণ্যের প্রশংসা করেন।
Content added By

নিধিকুন্ড সূত্রের তাৎপর্য (পাঠ ৩)

292

'নিধি' অর্থ ধন; আর 'কুন্ড' অর্থ নির্জন স্থান। অতএব, নিধিকুণ্ড শব্দের অর্থ হচ্ছে নির্জন বা গোপন স্থানে ধন সঞ্চয় করে রাখা। সাধারণত ধন বলতে টাকা পয়সা, অলংকার, জমি, গাড়ি, বাড়ি প্রভৃতি বোঝায়। মানুষ ভবিষ্যতের সুখের আশায় এসব ধন সঞ্চয় করে। রাজার দৌরাত্ম্য, চোরের উৎপীড়ন, ঋণ, দুর্ভিক্ষ ও আপদ হতে মুক্তির নিমিত্ত মানুষ এসব ধন প্রোথিত করে রাখে বা গোপন স্থানে সংরক্ষণ করে রাখে। কিন্তু এসব ধন চুরি, ছিনতাই, আগুন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি কারণে নষ্ট হতে পারে। অপ্রিয় উত্তরাধিকারীগণের হস্তগত হতে পারে। এসব ধন সব সময় অধিকারীর (মালিকের) উপকার সাধন করতে পারে না। পরলোকে গমন করে না। তা ছাড়া, এরূপ ধনের কারণে হিংসা-বিদ্বেষ-লোভ-মোহ সৃষ্টি হতে পারে। প্রাণহানি ঘটতে পারে। পারস্পরিক সুসম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। এসব ধন সুরক্ষিত নয়। তাই বুদ্ধ এগুলোকে প্রকৃত ধন হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। নিধিকুণ্ড সূত্রে বুদ্ধ প্রকৃত ধন সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদান করেন। দান, শীল, ভাবনা এবং আত্মসংযম দ্বারা অর্জিত পুণ্যসম্পদই প্রকৃত ধন। চৈত্য, সংঘ, শীলবান ব্যক্তি, অতিথি, মাতা-পিতা, বয়োজ্যেষ্ঠদের সেবায় অর্জিত পুণ্যসম্পদই প্রকৃত ধন। এসব ধন স্বয়ং সুরক্ষিত। এই ধন-সম্পদ কেউ হরণ করতে পারে না, কখনো বিনষ্ট হয় না। প্রয়োজনে উপকারে আসে এবং সবখানে অনুগমন করে। অতএব পুণ্য সম্পদই প্রকৃত এবং সুরক্ষিত ধন।

নিধি বা সম্পদ চার প্রকার:

ক. স্থাবর নিধি: ভূমি, সোনা, হীরা ও মূল্যবান রত্নরাজি, অর্থ, বস্ত্র, পানীয়, অন্ন বা এরূপ বিনিময়যোগ্য বা হস্তান্তরযোগ্য সম্পদ।

খ. জঙ্গম নিধি: দাস-দাসী, হাতি, গরু, ঘোড়া, গাধা, ছাগল, ভেড়া, কুকুর ইত্যাদি পশু।

গ. অঙ্গ সম নিধি: কর্ম, শিল্প, বিদ্যা, শাস্ত্র জ্ঞান এরূপ যা কিছু শিখে অর্জন করতে হয় এবং শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ।

ঘ. অনুগামী নিধি: দানময়, শীলময়, ভাবনাময়, ধর্ম শ্রবণময়, ধর্মদেশনাময় পুণ্য যা সবখানে সব সময় অনুগমন করে সুখ লাভের কারণ হয়।

নিধিকুণ্ড সূত্র পড়ে বোঝা যায়, ভোগসম্পদের চেয়ে পুণ্যসম্পদ অর্জন করাই শ্রেয়। সুতরাং নিধিকুন্ড সূত্রের তাৎপর্য অপরিসীম।

অনুশীলনমূলক কাজ
প্রকৃত নিধি বলতে কী বুঝায়?
শ্রেষ্ঠীর উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

Content added By

অপ্রমাদ বর্গের পটভূমি (পাঠ ৪)

232

অপ্রমাদ বর্গে ১২টি গাথা আছে। বুদ্ধ গাথাগুলো বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে ভাষণ করেছিলেন। ফলে ধারণা করা যায় যে, অপ্রমাদ বর্গের গাথাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি রয়েছে। এখন অপ্রমাদ বর্গের গাথাগুলোর পটভূমি সম্পর্কে জানব।

জানা যায়, বুদ্ধ অপ্রমাদ বর্গের ১ নং গাথা থেকে ৩ নং গাথা ভাষণ করেছিলেন কৌশাম্বীর অন্তর্গত ঘোষিতারামে অবস্থানকালে। সে সময় মহারাজা উদয়নের প্রধান মহিষী ছিলেন শ্যামাবতী। তিনি ছিলেন বুদ্ধভক্ত। তিনি প্রতিদিন বুদ্ধের ধর্ম শ্রবণের জন্য ঘোষিতারামে যেতেন। রাজার অপর রানি ছিলেন মাগন্ধিয়া। কিন্তু তিনি ছিলেন বুদ্ধ বিদ্বেষী। তিনি রানি শ্যামাবতীর বুদ্ধভক্তি একবারেই সহ্য করতে পারতেন না। তাই তিনি রাজাকে রানি শ্যামাবতীর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু তাঁর সমস্ত চেষ্টা বিফল হলো। কোনো ক্ষতি করতে না পেরে অবশেষে রানি মাগন্ধিয়া রানি শ্যামাবতীর প্রাসাদে আগুন লাগালেন। পাঁচশ সহচরীসহ রানি শ্যামাবতী আগুনে পুড়ে মারা গেলেন। ষড়যন্ত্র প্রকাশ পেয়ে গেলে রাজা উদয়ন রানি মাগন্ধিয়াকে প্রাণদণ্ডের বিধান দিলেন। এ কাহিনি শুনে বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের উপদেশচ্ছলে প্রথম তিনটি গাথা ভাষণ করেছিলেন।

কুম্ভঘোষক নামে রাজগৃহে এক ধনী গৃহস্থ ছিলেন। পিতৃ-মাতৃহীন কুম্ভঘোষক অনেক সম্পত্তির অধিকারী ছিলেন। কিন্তু তিনি কখনো বিলাসিতা করতেন না। তিনি সৎভাবে কঠিন পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এজন্য রাজা বিম্বিসার তাঁকে শ্রেষ্ঠী উপাধি দিয়ে পুরস্কৃত করেন এবং তাঁর কন্যার সঙ্গে বিবাহ দেন। একদিন রাজা বিম্বিসার কন্যা এবং জামাতাকে বুদ্ধের কাছে নিয়ে গেলেন এবং তাঁদের সব কথা খুলে বলেন। বুদ্ধ তা শুনে পরিশ্রমী আর উদ্যোগী ব্যক্তিদের প্রশংসা করে ৪নং গাথাটি ভাষণ করেন।

রাজগৃহের অধিবাসী মহাপন্থক ভিক্ষুব্রত গ্রহণ করার অল্প সময়ের মধ্যেই অর্হত্ব লাভ করেন। তখন তিনি তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা চুল্লপন্থককে ভিক্ষুব্রতে দীক্ষা প্রদান করেন এবং ভাবলেন সহজে তাঁরও মুক্তি লাভ হবে। চূল্লপন্থক কিন্তু মেধাবী ছিলেন না। দীর্ঘ চার মাস চেষ্টা করেও তিনি একটি গাথা মুখস্থ করতে পারেন নি। ভাইয়ের বুদ্ধির জড়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে মহাপ্যক তাঁকে ভিক্ষুসংঘ ছেড়ে চলে যেতে আদেশ দিলেন। ভাইয়ের নির্দেশে তিনি খুব ভোরে যখন বিহার ত্যাগ করে চলে যাচ্ছিলেন তখন বুদ্ধ তাঁকে দেখতে পেলেন। চলে যাবার কারণ শুনে বুদ্ধ তাঁকে একখন্ড কাপড় দিয়ে বললেন, সূর্য উঠলে সূর্যের দিকে তাকিয়ে কাপড়টি নাড়বে। তিনি তা করতে লাগলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে হাতের ঘাম লেগে কাপড়টি ময়লা হয়ে গেল। চোখের সামনে ক্ষণিকের মধ্যে কাপড়টির অবস্থার পরিবর্তন দেখে তিনি জীবনের অনিত্যতা উপলব্ধি করলেন। তারপর অপ্রমত্ত হয়ে সাধনায় অর্হত্বফল লাভ করেন। বুদ্ধ তাঁর প্রশংসা করে ৫ নং থেকে ৭ নং গাথা ভাষণ করেছিলেন।

বুদ্ধ যখন শ্রাবস্তীর জেতবনে অবস্থান করছিলেন তখন তাঁর প্রধান শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম মহাকশ্যপ থের পিপ্পলী গুহায় ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। সে সময় তাঁর মানসপটে বুদ্ধের এই বাণী, ফুটে উঠল জীবগণের উৎপত্তি আর বিনাশ দুর্জেয়। মাতৃগর্ভে জন্মলাভ করার পর মাতা-পিতার অজ্ঞাতেই কত জীবের মৃত্যু ঘটছে তা একমাত্র সম্যক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি জানেন। এ প্রসঙ্গে বুদ্ধ ৮ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন।

বুদ্ধের উপদেশ শুনে দুই ভিক্ষু ধ্যান সাধনার জন্য বনে গেলেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্রমাদ এবং আলস্যের কারণে ধ্যান সাধনায় বেশি দূর অগ্রসর হতে পারলেন না। অন্যজন অপ্রমত্ত থেকে অবিচল নিষ্ঠার সঙ্গে ধ্যান সাধনা করতে লাগলেন এবং অর্হত্ব লাভ করলেন। সাধনা শেষ হলে উভয়ে বুদ্ধের কাছে ফিরে এসে যাঁর যেমন ফল লাভ হয়েছে তা বললেন। তাঁদের কথা শুনে বুদ্ধ ৯ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন।

বৈশালীর কূটাগারশালায় একদিন বুদ্ধ মহালি লিচ্ছবীকে দেবরাজ ইন্দ্রের পূর্ব জন্মকথা শোনাচ্ছিলেন। পূর্বের এক জন্মে ইন্দ্র তেত্রিশজন যুবক নিয়ে এক স্বেচ্ছাসেবক দল গড়েন। তাঁরা মাতা-পিতা ও গুরুজনের সেবা, নগরে ও গ্রামে আবর্জনা পরিষ্কার, সর্বসাধারণের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ ইত্যাদি কল্যাণকর্মে রত থাকতেন। মৃত্যুর পর তাঁরা সকলে স্বর্গ লাভ করেন এবং ইন্দ্র দেবরাজ হন। এই কাহিনির সূত্র ধরে বুদ্ধ ১০ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন।

বুদ্ধ জেতবনে অবস্থানকালে এক ভিক্ষু তাঁর নিকট ধ্যান শিক্ষা করে বনে গিয়ে ধ্যান অভ্যাস করতে লাগলেন। কিন্তু অনেক চেষ্টায়ও ফল লাভ না হওয়ায় তিনি বুদ্ধের নিকট ফিরে যাচ্ছিলেন। পথে এক বিরাট দাবাগ্নি তাঁর গতিরোধ করল। তিনি দেখলেন ভীষণ আগুন তাঁর সমস্ত কিছুকে পুড়িয়ে ধবংস করতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে আসছে। এই দৃশ্য তাঁর মনে নতুন উৎসাহ ও প্রেরণা এনে দিল। ঐ আগুনের মতোই তিনি সমস্ত বাধাবিঘ্নকে জয় করে সাধন পথে এগিয়ে যাবার সংকল্প করলেন। তাঁর সংকল্পের কথা জানতে পেরে বুদ্ধ ১১ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন।

ভিক্ষু তিষ্য শ্রাবস্তীর কাছেই নিগম গ্রামে বাস করতেন। বাইরের জগতের সঙ্গে তাঁর কোনো সংস্রব ছিল না, বললেই হয়। নিজের কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের কাছে ভিক্ষা করে যা পেতেন তাতেই তাঁর প্রয়োজন মিটত। এর বেশি কিছুর আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছিল না। তাই অনাথপিণ্ডিকের মতো শ্রেষ্ঠীদের মহাদান বা কোশলরাজ প্রসেনজিতের আরও বড় দান- উৎসবে তিষ্যকে কখনো দেখা যায়নি। এ নিয়ে লোকে তাঁকে নিন্দা করত এবং বলত তিষ্য শুধু তাঁর স্বজনদেরই ভালোবাসেন। বুদ্ধ তিষ্যের এই অল্পে তুষ্টি আর লোভহীনতার কথা শুনে তাঁর অনেক প্রশংসা করে অপ্রমাদ বর্গের ১২ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন।

অনুশীলনমূলক কাজ
অপ্রমাদ বর্গের ১নং থেকে ৩ নং গাথা বুদ্ধ কাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ করেছিলেন?
এবং কেন করেছিলেন বল।
৫ নং থেকে ৭ নং গাথার পটভূমি বর্ণনা কর।

Content added By

অপ্রমাদ বর্গ (পালি ও বাংলা) (পাঠ ৫)

336

১. অল্পমাদো অমতং পদং পমাদো মচ্চুনো পদং
অপ্রমত্তা ন মীয়ন্তি যে পমত্তা যথা মতা।

বাংলা অনুবাদ: অপ্রমাদ অমৃতের পথ, প্রমাদ মৃত্যুর পথ। অপ্রমত্ত ব্যক্তিরা অমরত্ব লাভ করেন, কিন্তু যারা প্রমত্ত তারা বেঁচে থেকেও মৃতবৎ।

২. এতং বিসেসতো ঞতা অল্পমাদহি পন্ডিতা,
অল্পমাদে পমোদন্তি অরিযানং গোচরে রতা।

বাংলা অনুবাদ: এ সত্য বিশেষরূপে জেনে পণ্ডিতগণ অপ্রমত্ত হয়ে আর্যদের (বা শ্রেষ্ঠদের) পথ অনুসরণ করে থাকেন এবং অপ্রমাদে প্রমোদিত হন।\

৩. তে ঝাযিনো সাততিকা নিচ্চং দলহ্ পরক্কমা,
ফুসন্তি ধীরা নিববানং যোগমেং অনুত্তরং।

বাংলা অনুবাদ: যাঁরা ধ্যানপরায়ণ, সব সময় উদ্যোগী ও নিত্য দৃঢ় পরাক্রমশালী সেই ধীর ব্যক্তিগণ সর্বশ্রেষ্ঠ যোগক্ষেম নির্বাণ প্রত্যক্ষ করেন।

৪. উঠানবতো সতিমতো সুচিকম্মস্স নিসম্মকারিনো,
সঞতস্ চ ধম্ম জীবিনো অগ্নমত্ত যসোহভি বঙ্গতি।

বাংলা অনুবাদ: যিনি উৎসাহী, স্মৃতিমান ও সুবিবেচক, যিনি সংযত ইন্দ্রিয়, ধর্মপরায়ণ ও উদ্যমশীল তাঁর যশ ক্রমশই বাড়ে।

৫. উঠানেন'প্রমাদেন সঞমেন দমেন চ,
দীপং কযিরাথ মেধাবী যং ওঘো নাভিকীরতি।

বাংলা অনুবাদ: উদ্যোগ, অপ্রমাদ, সংযম এবং (ইন্দ্রিয়) দমন দ্বারা মেধাবী ব্যক্তি যে দ্বীপ রচনা করেন প্লাবণ তাকে ধবংস করতে পারে না।

৬. পমাদ মনুযুজন্তি বালা দুম্মেধিনো জনা,
অল্পমাদঞ্চ মেধাবী ধনং সেটঠং'ব রতি।

বাংলা অনুবাদ: অজ্ঞ ও দুর্মতি লোকেরা প্রমাদযুক্ত (অনবধান, আলস্যপরায়ণ) হয়। কিন্তু যিনি মেধাবী তিনি অপ্রমাদকে (অবধান, তৎপরতা) শ্রেষ্ঠ ধনের মতো রক্ষা করেন।

৭. মা পমাদং অনুযুঞজেথ, মা কামরতি সন্ধঘং,
অপমত্তোহি ঝায়ন্তো পাপ্পোতি বিপুলং সুখং।

বাংলা অনুবাদ: প্রমাদে অনুরক্ত হয়ো না, কামাসক্ত হয়ো না। অপ্রমত্তভাবে যিনি ধ্যান করেন তিনি বিপুল সুখ লাভ করেন।

৮. পমাদং অপমাদেন যদানুদতি পণ্ডিতো,
পঞা পাসাদ মারুযহ অসোকো সোকিনিং পজং পববতঠোর ভুম্মঠো ধীরো বালে অবেস্তৃতি।

বাংলা অনুবাদ: যখন পণ্ডিত ব্যক্তি অপ্রমাদ দ্বারা প্রমাদকে দূর করেন, তখন তিনি প্রজ্ঞারূপ প্রাসাদে আরোহণ করেন, নিজে শোকহীন হয়ে শোকগ্রস্ত লোকদের অবলোকন করেন, যেমন পর্বত শিখরস্থ ধীর ব্যক্তি ভূমিতে স্থিত সব লোকদের দেখেন।

৯. অল্পমত্তো পমত্তেসু সুত্তেসু বহু জাগরো,
অবলসসংব সীঘসো হিত্বা যাতি সুমেধসো।

বাংলা অনুবাদ: বেগবান ঘোড়া যেমন দুর্বল ঘোড়াকে পিছনে ফেলে যায়, মেধাবী ব্যক্তিও তেমনি প্রমত্তদের মধ্যে অপ্রমত্ত এবং নিদ্রিতদের মধ্যে জাগ্রত থেকে ধর্মপথে এগিয়ে চলেন।

১০. অল্পমাদেন মঘবা দেবানং সেঠতং গতো,
অল্পমাদং পসংসন্তি পমাদো গরহিতো সদা।

বাংলা অনুবাদ: ইন্দ্র অপ্রমাদ অর্থাৎ কর্তব্যকর্মে অবিচল নিষ্ঠা দ্বারা দেবতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব লাভকরেছেন। তাই পণ্ডিতগণ অপ্রমাদের প্রশংসা করেন। প্রমাদ সব সময় গর্হিত বা নিন্দনীয়।

১১. অল্পমাদরতো ভিষ্ণু পমাদে ভয দসি বা,
সঞঞোজনং অনুং থুলং ডহং অগ্‌গীব গচ্ছতি।

বাংলা অনুবাদ: যে ভিক্ষু অপ্রমাদে রত বা প্রমাদে ভয়দর্শী, তিনি সূক্ষ্ম ও স্থূল ছোট বড় সমস্ত সংযোজনকে (বা বন্ধনকে) আগুনের মত দগ্ধ করতে করতে এগিয়ে যান।

১২. অল্পমাদ রতো ভিষ্ণু পমাদে ভয দস্স্সি বা,
অভবেবা পরিহানায নিববানসেব সন্তিকে।

বাংলা অনুবাদ: যে ভিক্ষু অপ্রমাদে রত থেকে প্রমাদকে সযত্নে পরিহার করেন, তিনি ধর্মের পথ থেকে ভ্রষ্ট হন না। তিনি নির্বাণের কাছেই অবস্থান করেন।

শব্দার্থ: অল্পমাদো অপ্রমাদ; অমতপদং- অমৃতের পথ; পমাদো প্রমাদ; মচ্চুনো পদং মৃত্যুর পথ: যে পমত্তা-যারা প্রমত্ত; তে যথামতা তারা মৃতের মতো; অপ্রমত্তা ন মীয়ন্তি অপ্রমত্ত ব্যক্তিগণ মরেন না; অল্পমাদহ-অপ্রমাদে; বিসেসতো ঞত্বা-এর বিশেষত্ব জেনে; পন্ডিতা অরিযানং গোচরে রতা পন্ডিতগণ আর্যদের আচরিত ধর্মে রত থাকেন; অল্পমাদে পমোদন্তি অপ্রমাদে প্রমোদিত হন; দলহপরমা দৃঢ় পরাক্রম; তে ধীরা সেই ধীর ব্যক্তিগণ; অনুত্তং সর্বশ্রেষ্ঠ; যোগক্সেমং নিববানং- যোগক্ষেম নির্বাণ; কুস্সনি স্পর্শ করেন, লাভ করেন; উঠানবতো-উত্থানশীল; সতিমতো- স্মৃতিমান; সুচিকম্মস্স- শুচিকর্মযুক্ত; নিসম্মকারিনো- বিশেষ বিবেচনা সহকারে কর্ম সম্পাদনকারী; সঞতস সংযত; ধম্মজীবিনো-ধর্মপরায়ণ; অল্পমত্তস চ এবং অপ্রমত্ত ব্যক্তির; বসো ভিবডচতি - যশ বর্ধিত হয়; উঠানেন উত্থান, জাগরণ দ্বারা; অপ্পামদেন অপ্রমাদ দ্বারা; সঙ্ঞমেন সংযম দ্বারা: দমনে চ এবং দমন দ্বারা; মেধাবী মেধাবী; দীপং কবিরাথ দ্বীপ নির্মাণ করেন; যৎ যাকে; ওঘো প্লাবন; ন অভিকীরতি-বিদ্ধস্ত করতে পারে না; দুম্মেধিনো জনা অজ্ঞ ও দুর্বুদ্ধি লোকেরা; পমাদং অনুযুঞ্জন্তি-প্রমাদে অনুরক্ত হয়; অপ্রমাদঞ্চ মেধাবী ধনং সেফ্টংধ আর জ্ঞানী অপ্রমাদকে শ্রেষ্ঠ ধনের ন্যায়; রভৃতি রক্ষা করে: পমাদং মা অনুযজ্ঞজেথ প্রমাদে অনুরক্ত হবে না; কামরতিসন্থবং মা কামরতি সম্ভোগে আসক্ত হবে না; অপমত্ত হি ঝায়ন্তো- অপ্রমত্তভাবে যিনি ধ্যান করেন; বিপুলং সুখং পপোতি তিনি বিপুল সুখ লাভ করেন; যদা পণ্ডিতো যখন পণ্ডিত ব্যক্তি; অল্পমাদেন পমাদং নুদতি অপ্রমাদ দ্বারা প্রমাদকে দূর করেন; অসোকো শোকহীন; পঞাপাসাদমারুযহ প্রজ্ঞারূপ প্রাসাদে আরোহণ করে; ভুস্মটঠে ভূমিস্থিত; সোকিনিং বালে পজং (শোকসন্তপ্ত মূর্খ প্রজাদের; পববতঠো'ব পর্বতে অবস্থিত; ধীরো ইব ধীর ব্যক্তির ন্যায়; অবেস্তৃতি অবলোকন করন; সুমেধসো মেধাবী ব্যক্তি; পমত্তেসু অল্পমত্তো প্রমত্তদের মধ্যে অপ্রমত্ত থেকে; সুত্তেসু বহুজাগরো সুপ্তদের মধ্যে সদাজাগ্রত থেকে; অবলম্সং হিত্বা দুর্বল অশ্বকে অতিক্রমকারী: সীঘস সো ইব দ্রুতগামী অশ্বের ন্যায়; যাতি যান বা অগ্রসর হন; মঘবা ইন্দ্র; অল্পমাদেন অপ্রমাদ দ্বারা; দেবানং দেবতাদের মধ্যে; সেঠতং গতো- শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন; অল্পমাদং পসংসন্তি অপ্রমাদকে প্রশংসা করেন; পমাদো সদা গরহিতো প্রমাদ সর্বদা নিন্দনীয় বা গর্হিত; অল্পমাদরতো অপ্রমাদপরায়ণ; পমাদে ভয়দসি বা বা প্রমাদে ভয়দর্শী: ভিষ্ণু ভিক্ষু: অগ্নি ইব অগ্নির মত; অণুং থুলং সূক্ষ্ম ও স্থূল; সঞোজনং সংযোজন, বন্ধন; গচ্ছতি অগ্রসর হন; পরিহানায় অভবো ধর্মপথ পরিহার না করে; নিববানসেব সন্তিকে নির্বাণের নিকটবর্তী হন।
Content added By

অপ্রমাদ বর্গের তাৎপর্য (পাঠ ৬)

260

'অপ্রমাদ' শব্দের অর্থ হচ্ছে উদ্যম, উৎসাহ, উত্থানশীলতা, পরাক্রম, জাগ্রতভাব, স্মৃতিমান, সংযমশীলতা ইত্যাদি। অপ্রমাদ বুদ্ধের সমস্ত শিক্ষার ভিত্তি ও মূলনীতি। নির্বাণ লাভের জন্য অপ্রমাদ অত্যাবশ্যক। 'ধর্মচক্র প্রবর্তন' সূত্রে অপ্রমাদকে জ্ঞান মার্গ লাভের সোপান বলে অভিহিত করা হয়েছে। মহাপরিনির্বাণ সূত্রে বর্ণিত বুদ্ধের অন্তিম উপদেশসমূহের সারকথাই হচ্ছে অপ্রমাদ। বুদ্ধ বলেছেন, 'যত প্রকার সবল প্রাণীর পদচিহ্ন আছে তার মধ্যে হাতির পদচিহ্ন সর্বাপেক্ষা বৃহৎ। এরূপ কুশল কর্মের মধ্যে অপ্রমাদই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।' অপ্রমাদ ব্যতীত স্মৃতির অনুশীলন সম্ভব নয়। অপ্রমাদ স্মৃতিকে জাগ্রত করে। যাঁরা স্মৃতিকে জাগ্রত রাখেন তাঁরা নির্বাণ লাভ করেন।

অপ্রমাদ বর্গে অপ্রমত্ত এবং প্রমত্ত ব্যক্তির স্বরূপ সম্পর্কে বর্ণনা পাওয়া যায়। যিনি অবিচল থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে সৎকাজ করেন তিনি অপ্রমত্ত ব্যক্তি। অপ্রমত্ত ব্যক্তি রাগ-দ্বেষ-মোহ দ্বারা বশীভূত হন না। তিনি সর্বদা জাগ্রত থাকেন। ধর্মাচরণে তৎপর থাকেন। কর্তব্যকর্মে অবিচল থাকেন এবং সর্বদা কুশলকর্ম সম্পাদন করেন। তিনি সংযত, শান্ত, অচঞ্চল, ধীর এবং প্রজ্ঞাবান হন। তিনি জন্ম-মৃত্যুর শৃঙ্খল ছিন্ন করে নির্বাণ লাভ করতে সক্ষম হন। এজন্য তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী। অপরদিকে, প্রমত্ত ব্যক্তি অসংযত, অস্থির এবং আলস্যপরায়ণ হন। সে রাগ-দ্বেষ-মোহ দ্বারা বশীভূত হয়। সে হিংসা ও আক্রোশের বশে অন্যের ক্ষতি করে। প্রমাদ তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

তার পক্ষে জন্ম-মৃত্যুর শৃঙ্খল ছিন্ন করা সম্ভব নয়। সে নির্বাণ লাভ করতে পারেন না। প্রমত্ত ব্যক্তির অবর্ণ, অকীর্তি, দুর্নাম দৈনন্দিন বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। এজন্য প্রমত্ত ব্যক্তি জীবিত থেকেও মৃতবৎ। বুদ্ধগণ প্রমাদকে সর্বদা নিন্দা করেন। অপ্রমাদকে সর্বদা প্রশংসা করেন।

অপ্রমাদ বর্গের সঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত আছে। কথিত আছে, নিগ্রোধ শ্রমণের মুখে অপ্রমাদ বর্গের গাথা শুনে সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পরামর্শে সম্রাট অশোক প্রতিদিন ষাট হাজার ভিক্ষুর নিত্য আহার ও পথ্যের ব্যবস্থা করেছিলেন। বৌদ্ধধর্মের প্রচার প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন দেশে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য ধর্মদূত প্রেরণ করেছিলেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় অসংখ্য বৌদ্ধ বিহার, স্তূপ, স্তম্ভনির্মিত হয়েছিল। তিনি অনুশাসন আকারে বুদ্ধবাণী পর্বতগাত্রে এবং স্তম্ভে লিখে রাখতেন। সম্রাট অশোকের অনুশাসনের মূলকথাও ছিল অপ্রমাদ। এতে বোঝা যায়, অপ্রমাদ বর্গের গুরুত্ব অপরিসীম। অতএব সকলের অপ্রমাদপরায়ণ হওয়া উচিত।

অনুশীলনমূলক কাজ
'অপ্রমাদ' শব্দের অর্থ কী?
অপ্রমাদ ও প্রমাদের মধ্যে পার্থক্যসমূহ চিহ্নিত কর (দলীয় কাজ)।

Content added By

'নিধিকুন্ড সূত্র' এবং 'অপ্রমাদ বর্গের' তুলনামূলক আলোচনা (পাঠ ৭)

243

সূত্র ও নীতিগাথাসমূহ থেকে বুদ্ধের উপদেশ ও নৈতিক জীবন গঠনের নির্দেশনা পাওয়া যায়। এই অধ্যায়ে আমরা ত্রিপিটকের অন্যতম অংশ সূত্রপিটকের 'খুদ্দকপাঠ' ও 'ধর্মপদ' গ্রন্থ হতে সংকলিত 'নিধিকুণ্ড সূত্র' এবং 'অপ্রমাদ বর্গ' পাঠ করেছি। এই সূত্র ও নীতিগাথা দুটি তুলনামূলক আলোচনা করলে দেখা যায় উভয়ই আমাদের নৈতিক জীবন গঠনের নির্দেশনা দেয়। যেমন-খুদ্দকপাঠ গ্রন্থে বর্ণিত 'নিধিকুণ্ড সূত্র' প্রকৃত ধন-সম্পদ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জনের শিক্ষা দেয়। এতে কুশলকর্মের দ্বারা অর্জিত পুণ্যরাশিকে প্রকৃত সম্পদ বলা হয়েছে। প্রকৃত সম্পদ বা পুণ্যরাশি দান, শীল, ভাবনা, আত্মসংযম দ্বারা অর্জন করতে হয়। সৎ কাজের মাধ্যমে পুণ্যফল অর্জিত হয়। সৎকাজ বা কুশলকর্ম সম্পাদনের জন্য সব সময়ই মনোযোগী ও অপ্রমত্ত হতে হয়।

ধর্মপদে বর্ণিত 'অপ্রমাদ বর্গে' বুদ্ধ অপ্রমত্ত হয়ে কুশলকর্ম সম্পাদনের নির্দেশ দিয়েছেন। ধীর-স্থির, প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষেই কুশলকর্ম সম্পাদন সম্ভব। তিনিই কুশলকর্ম সম্পাদন করে প্রকৃত নিধি বা সম্পদ অর্জন করতে পারেন।

'নিধিকুণ্ড সূত্র' পাঠ করে আমরা প্রকৃত সম্পদ কী তার ধারণা অর্জন করি। অপ্রমাদ বর্গ পাঠ করে ঐ প্রকৃত সম্পদ বা পুণ্যরাশি কীভাবে অর্জন করা যায় তা জানতে পারি। প্রমত্ত ব্যক্তি কুশলকাজ করতে পারেনা। ফলে পুণ্যফলও লাভ করতে পারে না।

নিধিকুন্ড সূত্র ও অপ্রমাদ বর্গ পাঠ করে আমরা নৈতিক জীবনযাপন বলতে কী বোঝায় এবং নৈতিক জীবন গঠন কীভাবে করতে পারি তার দিক নির্দেশনা পাই। নিধিকুণ্ড সূত্রে বর্ণিত সকল কাজই নৈতিক জীবন গঠনের উপাদান আর অপ্রমাদ বর্গে ঐ কাজগুলি সম্পাদন করতে যেরূপ আচরণ অনুশীলন করতে হয় অর্থাৎ রাগ, দ্বেষ, ঈর্ষা, লোভ ও মোহমুক্ত হয়ে সংযম চর্চা করতে বলা হয়েছে। এভাবেই অপ্রমত্ত হয়ে কুশলকাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিধিকুন্ড সূত্র ও অপ্রমাদ বর্গের শিক্ষা জীবনে অনুসরণ করলে কুশলকর্ম সম্পাদনপূর্বক পুণ্যসম্পদ সঞ্চয় করা সম্ভব। এভাবেই বৌদ্ধধর্মের চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্বাণ পথে অগ্রসর হওয়া যায়।

Content added By

অনুশীলনী

183

শূন্যস্থান পূরণ কর

১. শ্রেষ্ঠী এখানে ধন বলতে _____ বুঝিয়েছেন।

২. _____ হলে সমস্ত ধন নষ্ট হয়ে যায়।

৩. পুণ্য সম্পদই প্রকৃত এবং _____ ধন।

৪. নিধি বা সম্পদ ____ প্রকার।

৫. অপ্রমাদ বর্গে _____ টি গাথা আছে।

৬. মহা রাজা উদয়নের প্রধান মহিষী ছিলেন _______ ।

মিলকরণ

বামডান
১. পুণ্য সম্পদই প্রকৃতপ্রশংসা করেন
২. নিধি অর্থশ্রেয়
৩. ভোগসম্পদের চেয়ে পুণ্যসম্পদ অর্জনইধন
৪. অপ্রমাদকে সর্বদাদুর্জেয়
৫. জীবগণের উৎপত্তি আর বিনাশসম্পদ

সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
১. নিধিকুন্ড সূত্রের শিক্ষা কী?
২. অনুগামী নিধি কী?
৩. ভিক্ষু তিষ্য সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. নিধিকুন্ড সূত্র অনুযায়ী প্রকৃত ধন কী তা ব্যাখ্যা কর।
২. অপ্রমাদ বর্গের ৫ নং ও ৭ নং গাথার পটভূমি বর্ণনা কর।
৩. প্রমত্ত ব্যক্তির কী পরিণাম ভোগ করতে হয় ব্যাখ্যা কর।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. নিধিকুন্ড সূত্র ত্রিপিটকের কোন গ্রন্থে বর্ণিত?

ক. মঝিম নিকায়
খ. সংযুক্ত নিকায়
গ. খুদ্দকপাঠ
ঘ. অঙ্গুত্তর নিকায়

২. সূত্র পাঠ করার মাধ্যমে লাভ করা যায় -
i. পুণ্য সম্পদ
ii. ধন সম্পদ
iii. বিপদ থেকে পরিত্রাণ
নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii

নিচের উদ্দীপকটি পড় ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও -

মধুপুর বিহারের ভিক্ষুরা প্রায়ই ধ্যান সাধনার জন্য গভীর বনে অবস্থান করতেন। তাদের মধ্যে অনেকেই তৃষ্ণার কারণে সাধনা পূর্ণ করতে পারেননি। কিন্তু শীলভদ্র ভিক্ষু শীল অনুশীলন ও মনের তীব্র ইচ্ছায় ধ্যান সাধনা দ্বারা ইন্দ্রিয়কে জয় করলেন।

৩. শীলভদ্র ভিক্ষুর ধ্যান সাধনায় সূত্র ও নীতিগাথার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে?

ক. প্রমত্ত ভাব
খ. আলস্যভাব
গ. অপ্রমত্ত ভাব
ঘ. নিষ্ঠাভাব

৪. উক্ত কর্মের প্রভাবে শীলভদ্র কী লাভ করবেন?

ক. স্রোতাপত্তি ফল
খ. অনাগামীফল
গ. সকৃদাগামী ফল
ঘ. অর্হত্ব ফল

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. ঘটনা-১ মিতা ও শিল্পী মুৎসুদ্দী দুই সহপাঠি। মিতা অত্যন্ত ধর্মাপরায়ণ ছিল। অপরদিকে শিল্পী মোটেও মিতার ধর্মপরায়ণতা সহ্য করতে পারত না। তাই মিতাকে সব সময় অত্যাচার নির্যাতন করত। এত সবের পরও সে শিল্পীকে কোনো কষ্ট দিত না। একদিন শিল্পী মিতার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাকে পুড়িয়ে মারল। এমন কাজের জন্য শিল্পীকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হলো।

ঘটনা-২ ফুলতলী গ্রামের নিঝুম অরণ্যে বিকাশ চাকমা ধর্মকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। বাইরের জগতের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখতেন না। তাঁর আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। তাঁরা সাহায্য সহযোগিতা করে তাঁর প্রয়োজন মেটাত। তাঁর আচরণে এলাকাবাসী সন্তুষ্ট ছিল না।

ক. অপ্রমাদ বর্গে কতটি গাথার উল্লেখ আছে?
খ. অপ্রমাদ বর্গের গাথাগুলোর মাধ্যমে কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা যায়, ব্যাখ্যা কর।
গ. ঘটনা-১ অপ্রমাদ বর্গের কোন গাথার ইঙ্গিত বহন করে।
ঘ. ঘটনা-২ অপ্রমাদ বর্গের ১২ নম্বর গাথার প্রতিচ্ছবি তুমি কি বক্তব্যটির সাথে একমত? যুক্তি দাও।

২. মনিকা চাকমা স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে তিনি বিহারে ভিক্ষুদের সেবায় নিয়োজিত হন। তিনি কোনো প্রকার শীল ভঙ্গ না করে পুণ্য সঞ্চয় করেন।

ক. নিধি কত প্রকার?
খ. অনুগামী নিধি কীভাবে লাভ করা যায়?
গ. মনিকা চাকমার সন্তানরা কীভাবে পুণ্য সঞ্চয় করতে সক্ষম হবে? নিধিকুণ্ড সূত্রের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. মনিকা চাকমার ঘটনা নিধিকুন্ড সূত্রের প্রতিফলন- এর যথার্থতা ব্যাখ্যা কর।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...